অন-পেজ-এস-ই-ও-কি

অন পেজ এস ই ও গাইড- ২০২০

অন পেজ এস ই ও কি? 

উত্তরঃ অন পেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলতে সার্চ ইঞ্জিনে কোন একটি ওয়েব পেজকে দেখানোর জন্য যে কাজগুলো করতে হয় সেগুলোকে বুঝায়। এটিই এস ই ও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন যেমনঃ গুগোল, বিং ইত্যাদিকে পরোক্ষভাবে এই মেসেজ দেয়া হয় যে এই সার্চ টার্মের জন্য এই পেজকে র‍্যাংক করো। এস ই ও এর মাধ্যমে একটি সাইটকে দ্রুত সার্চে দেখানো যাবে, তবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে ভালো কন্টেন্টের বিকল্প নেই।

নিস সাইটের অন পেজ এস ই ও করার পদ্ধতি

মাত্র একটি পদ্ধতি অবলম্বন করে এটি করা যাবে না, তবে একটি আর্টিকেল পড়লে পারফেক্টভাবে অন পেজ এস ই ও করতে পারবেন। আমরা ৭টি বিষয় আলোচনা করব-

১. টাইটেল এবং মেটা ট্যাগ

টাইটেল হচ্ছে ওয়েবপেজের শিরোনাম। h1, h2,h3 ইত্যাদি ট্যাগের মাধ্যমে প্রধান হেডিং এবং সাব হেডিং বুঝায়। ব্লগস্পটে বা, ওয়ার্ডপ্রেসে নতুন আর্টিকেল লেখার সময় প্রয়োজনমতো এগুলো যোগ করা যায়। টাইটেল এবং হেডিং এ কি ওয়ার্ড দেয়ার চেষ্টা করবেন।

মেটা ট্যাগ বলতে ছোট বর্ণনা বুঝায় যেটা গুগোলে সার্চ দিলে ব্যবহারকারী দেখতে পাবে। ১৫৫-১৬০ শব্দে লেখাটাই সবচেয়ে ভালো। লেখার শুরুতেই কি ওয়ার্ড রাখবেন।

২. কি ওয়ার্ড রিসার্চ

অনেকে অন পেজ এস ই ও বলতে শুধু কি ওয়ার্ড রিসার্চকে বুঝে থাকেন যা ঠিক নয়, তবে এটি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটি শতভাগ সত্যি। কি ওয়ার্ড হচ্ছে সেই শব্দগুলো যা লিখে ভিজিটর আপনার ওয়েব পেজ সার্চ করতে আসবে। গুগোলে সার্চ দিলে যে সাজেশ্নগুলো দেখায় সেগুলো থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।  কিছু টুল ব্যবহার করে এটি সহজে খুজে বের করা যায়, কতবার সার্চ হয়েছে সেটিও বোঝা যায়।  আমি কিছু টুল ব্যবহার করি-

আরো পড়ুন- বাংলা ব্লগের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ পদ্ধতি

  • keywordtools.io
  • Google Keyword Planner
  • SEMscoop
  • Ubbersuggest
  • Google Keywords Planner

এইসব টুল ব্যবহার করে দেখতে হবে কোন টার্মগুলোর জন্য মাসে কতবার সার্চ হয়। Ubbersuggest এবং SEMscoop এর মাধ্যমে দেখতে পাবেন ঐ কি ওয়ার্ডের SEO Difficulty কত আর কতগুলো ব্যাকলিংক লাগবে র‍্যাংক করতে। আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্ট করুন। পরে এই বিষয় নিয়ে আরো লেখার চেষ্টা করবো, আরো লেখা দরকার।

৩. আর্টিকেলে কি ওয়ার্ড কিভাবে দেবো

ভুলভাবে কি ওয়ার্ড দিলে সার্চ ইঞ্জিন বুঝতেই পারবে না এই আর্টিকেল কি নিয়ে লেখা। ওয়ার্ডপ্রেসে Yoast SEO Tools, Rankmath এবং আরো কিছু টুল এইসব সাজেশন দেয়। সংক্ষেপে বলে দেই- টাইটেলের প্রথমে, প্রথম প্যারাগ্রাফের প্রথমে, সাবহেডিং এর প্রথমে।

কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে ন্যাচারালি, জোর করে ব্যবহার করার চেয়ে না করাই ভালো । আর খেয়াল রাখবেন কি ওয়ার্ড যেন পুরো আর্টিকেলের ২%-৩% এর বেশী না  হয়। অর্থাৎ, বার বার লেখা যাবে না। অনেক বড় আর্টিকেল লিখলে কয়েকবার লিখতে পারবেন। মনে রাখবেন, ভিজিটরের জন্য লিখছেন, গুগলের জন্য না।

আরো পড়ুন- বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা আয়ের সেরা পদ্ধতি

এর মাধ্যমে গুগল বা, বিং এর কাছে এই আর্টিকেল কি নিয়ে লেখা সেই সম্পর্কে মেসেজ যাবে। খারাপ মাণের লেখা হলে সার্চে একবার প্রথম পেজে দেখিয়ে পরে অবস্থান পেছাবে, আর ভালো লেখা হলে উল্টোটা হবে।

৪. ইন্টারনাল হাইপারলিংক তৈরি

ব্যাকলিংক

যে টেক্সট এর মাধ্যমে অন্য পেজের সাথে লিঙ্ক করা হয় সেটিকে বলা হয় এংকর টেক্সট। এংকর টেক্সট এর মাধ্যমে নিজের সাইটের অন্যান্য লেখাগুলোর লিংক দিয়ে দেবেন। যে লেখার জন্য যে লিংক ব্যবহার করবেন।

একই শব্দ বা, শব্দগুচ্ছ লিখে গুগোলে সার্চ দিলে ঐ লিংকের লেখা দেখানোর সম্ভাবনা তাতে বাড়বে। নিজের পেজে  ভালো লেখা থাকলে বাইরের ব্যাকলিংকের প্রয়োজন পড়ে না, উইকিপিডিয়াকে দেখুন।

৫. ছবির জন্য Alt ট্যাগ ব্যবহার

গুগোল কিন্তু ছবি চেনে না। তাই তালগাছের ছবি দিলে গুগোলকে বুঝিয়ে দিতে হবে এটি তালগাছের ছবি। এজন্য ছবিতে টাইটেল এবং alt ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। নিচের কোড দেখুন-

<img src=“image.jpg” alt=“তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে” title=“তালগাছ”>

এর মাধ্যমে ছবিগুলোও গুগোল ইমেজ সার্চে চলে আসবে। এমনিতেও আসবে, তবে সেক্ষেত্রে আমগাছ লিখলে তালগাছ চলে আসতে পারে যা নেগেটিভ ইফেক্ট ফেলবে।

আরো কিছু বিষয় সম্পর্কে ১/২ বাক্যে লিখছি-

নিস সাইটঃ  Niche বলতে ওয়েবসাইটের মূল টপিক বুঝায়। আপনি যেকোন একটি বিষয় বেছে নেবেন, এবং কখনো ঐ ব্লগে অন্য বিষয়ে লিখবেন না। যেমনঃ  সাকিব খানের নতুন সিনেমা নিয়ে এস ই ও ব্লগে লেখা যাবে না। একই সাইটে অনেক বিষয় নিয়ে লেখার চেয়ে ভালো হবে একটি বিষয় নিয়ে লিখলে। গুগল ব্লগকে ক্যাটাগরাইজ করে।

অরফান পেজঃ এতিম পেজ, অন্য কোন পেজ থেকে যে পেজকে কোন লিংক দেয়া হয় নি। এমন পেজ না থাকলেই ভালো। নিজের সাইটের যত বেশী পেজকে লিংক দিয়ে যুক্ত করা যায় ততোই ভালো। অরফান পেজের র‍্যাংকিং ভালো হয় না, কারণ অথরিটি কম থাকে।

পেজ র‍্যাংকঃ ওয়েব পেজের গুরুত্ব অনুসারে গুগোল বিভিন্ন পেজকে যে র‍্যাংক করে সেটাকে বলে পেজ র‍্যাংক(১-১০)। এছাড়া Moz এর ডোমেইন অথরিটি(১-১০০) এবং পেজ অথরিটি (১-১০০)গুরুত্বপূর্ণ।

মনে করুন প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পেজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশী এটির র‍্যাংক সবচেয়ে বেশী হবে, আর যে পাতা কেউ পড়ে না এর গুরুত্ব কম। সব ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়। গুগোল সার্চে পেজের অবস্থান এর উপর নির্ভর করে। ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স ভালো থাকলে ধীরে ধীরে অথরিটি বাড়ে।

ওয়েবসাইটের স্পিডঃ সাইট লোডিং স্পিড কম থাকলে গুগোল সেই সাইটকে কম গুরুত্ব দেয়। বাজে হোস্টিং নিলে এমনটা হতে পারে, ব্লগস্পটে সাধারণত এমনটা হয় না। অনেক সময় টেমপ্লেট বা, থীম এর কারণে হতে পারে। এটি সমাধানযোগ্য। টেস্ট করার জন্য গুগোলের একটা টুল আছে- pagespeed insights

টেক্সট টু কোড রেশিওঃ  কোড যত কম রাখা যায় আর টেক্সট বেশী রাখা যায় ততই ভালো। আপনার সাইট যদি এমন হয় যে সেটাতে শুধু কোডই আছে,টেক্সট অনেক কম(কিন্তু এটি ব্লগ) তাহলে সার্চে নেগেটিভ ইফেক্ট পড়বে। ধরে নেয়া হবে এখানে আর্টিকেল নেই, কোড আছে।

রেসপনসিভনেসঃ কিছু ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে দেখা যায় পিসিতে খুব ভালো দেখাচ্ছে, কিন্তু মোবাইলে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। মোবাইল ইউজাররা বিরক্ত হচ্ছে। এমন হলে এটি নেগেটিভ ইফেক্ট ফেলবে। রেসপনসিভ ওয়েবসাইটের কোন বিকল্প নেই।

সাইট লিংক আর্কিটেকচার

সাইট লিংক আর্কিটেকচার

একটি ওয়েবসাইটের দুই ধরণের লিংক আর্কিটেকচার হয়-

  • ফ্ল্যাট লিংক আর্কিটেকচার
  • ডিপ লিংক আর্কিটেকচার

যেসব ওয়েবসাইটের হোমপেজ থেকে ২/৩ ক্লিকে সবচেয়ে গভীরের পেজটিও ভিজিট করা যায় সেই ধরণের সাইট আর্কিটেকচারকে বলা হয় ফ্ল্যাট। এবং বড় বড় অনেক সাইট আছে যেগুলোতে অনেকগুলো ধাপ পার করে সব শেষ আর্টিকেল পড়তে হয়। এই ধরণের আর্কিটেকচার হচ্ছে ডিপ।

যেসব সাইটে হোমপেজ থেকে একবারেই আর্টিকেল পড়া যায় সেই আর্টিকেলগুলো বা, যেকোন ধরণের কনটেন্টই থাকুক না কেন ঐ পেজগুলো সহজে গুগল খুজে পায় এবং র‍্যাংকিং এ আসে। ছোট ওয়েবসাইটের জন্য এটা কার্যকর।

যখন, এক পেজে ১০০ আর্টিকেল রাখবেন সেটি আর কার্যকর থাকবে না, তখন আপনাকে আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে আলাদা পেজে রাখতে হবে, ব্লগস্পটে Label এবং ওয়ার্ডপ্রেসে ক্যাটাগরি এবং ট্যাগ নামে অপশন আছে এই ধরণের পেজ তৈরি করার জন্য। বড় সাইটে ডিপ আর্কিটেকচার কার্যকর।

কিওয়ার্ড ক্যানিবালিজেশন

কিওয়ার্ড-ক্যানিবালাইজেশন

বড় মাছ ছোট মাছকে যেভাবে খেয়ে ফেলে এরকম আপনার ওয়েবসাইটের একটি পেজ আরেকটি পেজের এস ই ও ভ্যালু খেয়ে ফেলতে পারে। এটিকে বলা হয় কিওয়ার্ড ক্যানিবালাইজেশন।

একই সাইটের একাধিক পেজ কখনোই একই কিওয়ার্ডের জন্য অপটিমাইজ করবেন না। করলে সার্চ ইঞ্জিন একটিকে দেখাবে না, আরেকটিকে দেখাবে। এতে একটি পেজ কাজেই আসবে না, কিন্তু অথরিটি কমে যাবে। অনেকে অকারণে ট্যাগ আর, কিওয়ার্ড ব্যবহার করে- এটা ক্ষতিকর।

গুগলের কাছে প্রতিটি পেজই একই রকম, ট্যাগ, ক্যাটাগরি, আর্টিকেল যাই থাকুক না কেন।  কাজে লাগে না এমন পেজ তৈরি করবেন না, করলেও সেই পেজ ডিলিট করে যে পেজকে সার্চে দেখাতে চান সেই পেজে রিডিরেক্ট করে দিন। এই কারণে অনেকেই ঠিকমতো এস ই ও করার পরেও আশানুরূপ ফল পান না।

অনেক কিছু বাদ পড়তে পারে। অনেক বিষয়ের আরো বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে। সেই বিষয়ে আপনার কমেন্ট আশা করছি।

 

(Visited 23 times, 1 visits today)
1
likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

ব্লগের জন্য ফ্রি টেমপ্লেট

সেরা ১০ টি ফ্রি ব্লগস্পট টেমপ্লেট

ব্লগার বা, ব্লগস্পট টেমপ্লেট একটি সাধারণ ব্লগকে অসাধারণ করে তুলতে পারে। ভালো মাণের কাস্টম টেমপ্লেট যোগ করলে ওয়েবসাইটের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি

বাংলা ব্লগের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ পদ্ধতি

কিওয়ার্ড রিসার্চ কি? উত্তরঃ  কিওয়ার্ড রিসার্চ ব্লগিং এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলা ব্লগ যারা লেখেন তারা অনেক সময় কিওয়ার্ড

বাংলা আর্টিকেল রাইটিং পেশা হতে পারে!

অনলাইনে বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার নানারকম পদ্ধতি আছে। বিভিন্ন সাইট থেকে গল্প, কবিতা লিখেও আয় করা যায়। আবার, নিজের
জনপ্রিয় ওয়েবসাইট

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গুলোর নাম

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর নামের কোন তালিকা অনলাইনে পাওয়া যায় না যেখানে সবগুলো সাইট এখন ভিজিট করতে পারবেন। এখানে আমি

2 Replies to “অন পেজ এস ই ও গাইড- ২০২০”

  1. thanks for effective suggestion but I have need on page SEO guideline for working in the Upwork I have no enough money for learn paid course. Kindly help me for learn SEO full course

    1. আমরা কোন অনলাইন কোর্স চালু করিনি, তবে আপনি যেকোন প্রশ্ন করলে সম্পূর্ণ ফ্রিতে এখান থেকে সাহায্য পাবেন। এই সাইটের আর্টিকেলগুলো পড়ুন, উপকার পাবেন।

Leave a Reply