অফ পেজ এস ই ও গাইড ২০২১

অফ পেজ এস ই ও গাইড ২০২১

0

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে অফ পেজ এস ই ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। না বুঝে বাজে ব্যাকলিংক তৈরি করার কারণে ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং ভালো হওয়া দূরে থাক আরো খারাপ হয়ে যেতে পারে। সুতরাং, এই বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়াটা আবশ্যক। 

ব্যাকলিংক ছাড়া কি কিওয়ার্ড র‍্যাংক করে?

হ্যাঁ, করে। সেক্ষেত্রে যেসব কিওয়ার্ডে কম্পিটিশন কম সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আর্টিকেল লিখতে হবে। কেউ অতীতে লেখে নাই এমন বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে আপনার ব্লগের গুরুত্ব গুগলের কাছে বাড়বে। অন্যথায়, ৫/৭ মাস পরে কিছু আর্টিকেল র‍্যাংক করতে পারে। এমনিতেই গুগল  একটু সময় নিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে একটি ব্লগের অথরিটি কেমন হবে তা নির্ধারণ করে।

অফ পেজ এস ই ও কি? 

অফ পেজ এস ই ও বলতে সেই কাজগুলোকে বুঝায় যেগুলো নিজের ওয়েবসাইটের বাইরে করা হয়। অনেকে অফ পেজ এস ই ও বলতে শুধু ব্যাকলিংক তৈরি করাকে বোঝায়। শুধু লিংক দিলেই হবে না, এগুলোর প্রাসঙ্গিকতা, বিশ্বস্ততা আর, অথরিটি বাড়াতে হবে। শুধু ব্যাকলিংক তৈরি করা ছাড়াও ওয়েবসাইটের ব্রান্ড ভ্যালু বাড়ানো যায়। 

ব্রান্ড মেনশন অনেক উপকারি। যদি আপনার ব্লগের নাম অন্য সব সোস্যাল মিডিয়া এবং নো ফলো লিংক দেয় এমন সব সাইটেও বারবার লেখা হয়, তাহলে ভ্যালু বাড়ে। ঐ কিওয়ার্ডের ভ্যালু বাড়ার অর্থ আপনার ব্লগের অথরিটি বাড়া। তাই, শুধু ডু ফলো লিংক না, অফ পেজে নিজের সাইটের নামের প্রচার, নো ফলো লিংক সব কিছুর প্রয়োজন আছে। 

গুগলের মতে, নো ফলো লিংক শুধুই একটি সিগনাল। সেখানে অথরিটি যায় না। এরপরেও এটা কিন্ত সিগনাল, গুগল ওয়েবমাস্টারে এই লিংকগুলোও দেখায়। ডু ফলো লিংকের ক্ষেত্রে যেটা দরকারি সেটি হচ্ছে এমন সাইট থেকে লিংক নেয়া যেখানে সত্যি সত্যি ভিজিটর আছে এবং আপনার ব্লগে তারা আগ্রহী হয়। স্প্যামিং এর কারণে লিংক ডিলিট হলে কিন্তু নেগেটিভ ফল পাবেন, তাই সাবধান। 

ম্যানুয়াল লিংক বিল্ডিং

প্রফাইল পেজ , ফোরাম সিগনেচার, ওয়েব ২.০ ব্লগ, প্রশ্নোত্তর সাইট, পিবিএন ইত্যাদি থেকে ডু ফলো অথরিটি ব্যাকলিংক নেয়া ম্যানুয়াল লিংক বিল্ডিং এর অংশ। ডোমেইন অথিরিটি ও পেজ অথিরিটি বেশী আছে এমন সাইট থেকে লিংক নিলে বেশী উপকার পাবেন। 

মনে করুন, একটি ওয়েব পেজকে আরো পাঁচটি ওয়েব পেজ রেফার করেছে। ঐ পেজ থেকে একটি লিংক পেলে আপনি পাচটির সমান গুরুত্ব পাবেন। আবার পাঁচটি থেকে আলাদা করে ৫ টি লিংক পেলেও সেটি হবে ঐ একটি লিংক এর সমান।

এই কারণেই, বেশী অথরিটির সাইটের গুরুত্ব বেশী। Moz DA, PA, Majestic CF, TF বা, Ahref DR, UR এর কোন গুরুত্ব গুগলের কাছে নেই। গুগলের নিজস্ব পদ্ধতি আছে। তবে, এইসব সাইট ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে গবেষণা করে এবং এই রেটিং তাঁর ফল। তাই, এগুলোকে গুরুত্ব দিতে পারেন।

এংকর টেক্সট এর টেক্সট হিসেবে কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। কিছু  পদ্ধতি সম্পর্কে বলি-

সোস্যাল শেয়ার 

ফেসবুক, টুইটার, পিনটারেস্ট, রেডিট, লিংকড ইন এগুলো থেকে লিংক নিলেও কাজে লাগবে। ফেসবুক বিজনেস পেজ এবং টুইটারে যদি আপনার জনপ্রিয়তা থাকে তাহলে আপনার ব্রান্ডের পরিচিতি বাড়বে আর, গুগোল এগুলোকেও গুরুত্ব দেয়। চেষ্টা করুন ফেসবুক পেজের পরিচিতি বাড়াতে, এটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে।

অর্গানিক লিংক বিল্ডিং

এই শব্দটা কম শুনবেন, কিন্তু এই ন্যাচারাল লিংক বিল্ডিং কিন্তু খুবই কার্যকর পদ্ধতি। আপনার নিজেকে কিছু করতে হবে না অন্যেরা আপনার জন্য প্রতিদিন লিংক তৈরি করবে। কিভাবে সম্ভব? মনে করুন, হিরো আলম নতুন একটি গান প্রকাশ করেছে, বাবা তোমার দরবারে সব পাগলেরই খেলা বা, ও বেবি কাম কাম কাম টু মি।এইগুলো এমনিতেই লোকে শেয়ার করে।

উইকিপিডিয়ার লিংক, গুগল ম্যাপের লিংক, প্রথম আলোর লিংক এমনিতেই শেয়ার করে।  আপনি যদি এমন কিছু আপনার সাইটের মাধ্যমে সবার কাছে উপস্থাপন করতে পারেন যা শুধু আপনার সাইটেই আছে। একই সাথে সেটাই সবার দরকার। তাহলে অর্গানিক লিংকও পাবেন। 

রিসোর্স শেয়ার করে

এমন রিসোর্স শেয়ার করুন যা কেউ ফ্রিতে দিতে চায় না। আপনার কাছ থেকে যারা উপকার পাবে, তারা তাদের বন্ধুদের সাথে এই রিসোর্সের লিংক শেয়ার করবে
ইনফোগ্রাফিক তৈরি করেঃ আপনাদের আগ্রহ থাকলে এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখা যাবে। বিভিন্ন দরকারী তথ্য দিয়ে যে ছবিতে একটি বিষয় বুঝিয়ে বলা হয় সেগুলোকে বলে ইনফোগ্রাফিক। অনেক ওয়েবসাইটে এগুলো ফ্রিতে বা, টাকা দিয়ে তৈরি করা যায়। এগুলো অন্য ব্লগাররা তাদের ব্লগ পোস্টে শেয়ার করে। আপনার সাইটে ইনফোগ্রাফিক দিয়ে নিচে Embed Code দিয়ে দেবেন, সেই কোডের মাঝে আপনার সাইটের ব্যাকলিংক থাকবে। 

রিসার্চ শেয়ার করে

আপনি রিসার্চ করে এমন তথ্য বের করবেন যা কোথাও নেই। এরপর সেটি আপনার সাইটে শেয়ার করবেন। লোকজন তাদের ব্লগে এই তথ্য শেয়ার করে লিখবে এখান থেকে পেয়েছি। Moz ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এস ই ও এর অনেক কিছু সম্পর্কে নিজেদের গবেষণার ফল তাদের ব্লগে প্রকাশ করে। সেখান থেকে অনেকেই সেটি লিখে সোর্স হিসেবে লিংক দেয়। 

গেস্ট পোস্ট

বাংলা এবং ইংরেজী অনেক সাইট আছে যেগুলোতে গেস্ট পোস্ট করা যায়। আপনি যে বিষয়ে লেখেন সেই বিষয়ে নিশ্চয়ই আপনার জ্ঞান আছে। সেই বিষয় নিয়ে খুব ভালো একটি লেখা অন্য কারো সাইটে লিখবেন, আর সেখান থেকে আপনার সাইটের একটি লিংক এংকর টেক্সট এর মাধ্যমে নিয়ে নেবেন। 

অনলাইন ডিরেক্টরি লিস্টিং

অনেক অনলাইন ডিরেক্টরি আছে যেগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট এবং বিজনেসের তালিকা তৈরি করা থাকে। আপনার বিজনেস বা, সাইটের ধরণ অনুযায়ী এইসব লিস্টে আপনার সাইটকে যুক্ত করে দেবেন। অথরিটি বাড়বে। 

ব্রান্ড পরিচিতি

লিংক ছাড়াও আপনার অফ পেজ এস ই ও হতে পারে ব্রান্ড মেনশনের মাধ্যমে। যখন আপনার ব্রান্ড বিখ্যাত হয়ে যাবে তখন ঐ নাম করে লোকেরা তথ্য শেয়ার করবে। যেমনঃ প্রথম আলো পত্রিকায় দেখলাম সাকিবের রেস্টুরেন্টে তেলাপোকা পাওয়া গেছে, সত্যি নাকি? 

অফ পেজ এস ই ও করতে হলে জানতে হবে

এংকর টেক্সটঃ খুব কমন একটি প্রাকটিস। টেক্সট এ ক্লিক করলে অন্য ঠিকানায় চলে যায় এরকম টেক্সটকে এংকর টেক্সট বলে। HTML এর ক্ষেত্রে- <a href=”link”>লেখা</a> এরকম কোড ব্যবহার করলে হাইপারলিংক তৈরি হবে। বেশীরভাগ সাইটেই এটা কাজ করবে। আর, BB Forum এর ক্ষেত্রে- [url=link]Text[/url] এটা কাজ করবে। কোন সাইটে কাজ না করলে কমেন্ট করে জানান, সাহায্য করার চেষ্টা করবো। 

ডু ফলো এবং নো ফলোঃ ডু ফলো হচ্ছে সেই লিংকগুলো যা সার্চ ইঞ্জিনকে এই মেসেজ দেয় যে এই পেজকে র‍্যাংক করো, আর নো ফলো বলে ঐ লিংকে যে যাচ্ছে যা ঐটাতে অথরিটি যোগ করো না। নো ফলো লিংক থেকেও উপকার পাওয়া যাবে যদি ভিজিটর আসে। 

বাউন্স রেটঃ ভিজিটর আপনার সাইটে আসলো আর এক পলক দেখেই চলে গেলো। কত পার্সেন্ট ভিজিটর এমন করছে সেটাকে বলে বাউন্স রেট। ৭০% এর উপরে হলে মনে করবেন আপনার সাইটে সিরিয়াস সমস্যা আছে। অথবা, সময় নিয়ে পড়েও কোন লিংকে প্রবেশ করলো না, তাহলে সেটি বাউন্স হিসেবে গণ্য হবে। 

ক্লিক থ্রো রেটঃ  CTR বলতে বুঝায় গুগোল সার্চে রেজাল্ট দেখে কত % লোকে সেটাতে ক্লিক করে লেখাটা পড়লো। এটি অন পেজ এস ই ও এর অংশ। গুগোল ওয়েবমাস্টারে যদি দেখেন CTR কমে গেছে, তাহলে সাইটের শিরোনাম বা, ফিচার্ড ছবি কিংবা, মেটা ডেসক্রিপশনে কোন পরিবর্তন আনতে হবে। 

নিচের দুইটা কি?

নিচে যে দুইটা বললাম- ক্লিক থ্রো রেট আর, বাউন্স রেট- এই দুইটা কাজে লাগবে ভিজিটর আসা শুরু হলে, এগুলোকে অন পেজ এস ই ও এর অন্তর্ভুক্ত ভাবতে পারেন। একই সাথে ভিউ ডিউরেশন। যখন একটি আর্টিকেল প্রথম পেজে আসে এবং কিছু ভিজিটর ভিজিট করে, তখন আর ব্যাকলিংক দিয়ে খুব একটা কাজ হয় না। বেশী কাজে লাগে বেশী ভিউ ডিউরেশন, কম বাউন্স রেট। 

বলা যায়, ভিজিটর কি পছন্দ করে সেটিই দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোন অসদুপায় অবলম্বন না করতে চান, তাহলে অফ পেজ এস ই ও এর জন্য হাই অথরিটি সাইটকে বেছে নিন। নিজের সাইটের মতো সুন্দরভাবে সেখানেও আর্টিকেল লিখুন। লেখার মাঝে ন্যাচারালি লিংক ব্যবহার করুন যেটা পাঠকদের কাজে লাগবে। তাহলে আপনার সাইটেরও অথরিটি বাড়বে।

আরো পড়ুন-

0
(Visited 40 times, 1 visits today)

এডমিন

Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

Related Posts

গুগল এডসেন্স টিপস

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় [ ২০২১ আপডেট]

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় হচ্ছে এডসেন্স এর নিয়মগুলো মেনে চলা এবং ব্লগ/ ওয়েবসাইটের জন্য অর্গানিক ভিজিটর নিয়ে আসা। গুগল আপনার
এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়ঃ মিথ এবং বাস্তবতা

নতুন যারা ব্লগিং বা, ইউটিউবিং করে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এই লেখাটি লিখছি। অনেক
এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার প্রধান কারণ

আপনি যদি ব্লগার হয়ে থাকেন, আর আপনার একটি ব্লগ থাকে থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। বাংলায়, ইংরেজীতে বা, যেকোন
আর্টিকেল লেখার নিয়ম গুলো

আর্টিকেল লেখার নিয়ম- অবশ্যপাঠ্য

আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে যদি আপনি যদি প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। অথবা, যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং

Leave a Reply