images 5

আমাকে দিয়ে হবে না !

play icon Listen to this article
0

আমাকে দিয়ে হবে না ,আমি পারবোনা, এই কাজ খুব কঠিন, আমার এই কাজ ভালো লাগে না! কিংবা আমি এইটা পারি, আমার এইটাই ভালো লাগে, আমি এইটাই করবো ,এই কাজই আমার পছন্দ ! এমন পারা না পারার কথা আমাদের সবার শুনা, কিন্তু আমরা কি জানি আমরা কেনো কোনো কাজ পারি আর কেনো কোনো কাজ একদমই পারিনা?

আসলে আমরা চাইলেই সব কাজই পারি! হ্যা আমরা চাইলেই পারি। এই ব্যাপারটার সম্পূর্ণ মনস্তাত্বিক।

উদাহরণ দিয়ে বলি, কিছু অঙ্ক আমরা বেছে নেই, ধরুন যেকোনো ১০ টা অঙ্ক। এর মধ্যে ৫ টা অঙ্ক এমন ভাবে করতে হবে যেনো আয়ত্তে আসে আর বাকি ৫ টা একবার করে করতে হবে। এখন যে পাঁচটা বেশি বেশি করেছি সেইগুলো আপনার কাছে সহজ আর যেইগুলো ১বার করে করা হলো সেইগুলো কঠিন! ঠিক তাইতো?

এখন একটা পরীক্ষা নিলে আপনাকে যদি শুধু পাঁচটা অঙ্ক করতে বলা হয় কোনগুলো করবেন ? নিশ্চই যেগুলো পারেন? তাহলে অন্য পাঁচটা কেন করবেন না? সহজ উত্তর ঐগুলা পারিনা! কিন্তু কেন পারেন আর কেন পারেন না এইটার উত্তর কি জানা আছে?

এইটা আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক করে, ঠিক শুনেছেন পারা না পারার এই ব্যাবধান ঠিক করে মস্তিষ্ক।

আপনার কাছে কিছু সহজ লাগলে আপনার ব্রেইন ওই একই কাজকে বার বার সহজ বলতে থাকে আর কোনো কাজ যদি কঠিন লাগে তাহলে ব্রেইন নিজেই তাকে কঠিন বলতে থাকে।

তার মানে আপনি চাইলেই কঠিন জিনিষটাকে সহজ বলতে পারেন, তাহলে আমার ব্রেইন নিজেই সহজ ভাবা শুরু করবে!

আরেকটু স্পষ্ট করে বলতে গেলে আপনি যখন একটি কাজ একাধিক বার করবেন, তা আপনার মস্তিষ্ক মুখস্ত রাখে। কাজটি যখন করতে যাবেন আপনি অভ্যাবসত খুব সহজে আর কম সময়ে করতে পারবেন। কিন্তু এতে আপনার মস্তিষ্ক কোনো কাজ করবে না, অচল হয়ে পড়ে থাকবে, বলতে গেলে মরে যাবে!

মস্তিষ্ক মরে যাবে! তাহলে আমরা কিভাবে বাঁচবো বা বেচেঁ আছি! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আপাত দৃষ্টিতে মস্তিষ্ক মরে যাবে, শরীর ঠিকই বেচেঁ থাকবে। কিন্তু একই কাজ করতে পারাটা ভালো লাগা হয়ে গেলেও নতুন কোনো তথ্য মস্তিষ্ক পাবে না। আর যখন অভ্যাসের কারণে কাজ সম্পন্ন হবে মস্তিষ্ক সেইখানে আরাম-প্রিয় হবে এইটাই স্বাভাবিক। আর একটা সময় আমাদের কাছে অন্যান্য সব কাজই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

আমরা কম বেশি সবাই শুনেছি “A sound mind lives in a sound body ” আবার এইটাও জানি, “ মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের ইঞ্জিন সরূপ”। তাহলে শরীর ঠিক রাখতে যেমন ব্যায়াম প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ক সচল রাখতেও ব্যায়াম প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক তো নিজ থেকে ব্যায়াম করতে পারে না! তাহলে ব্যায়াম হবে কি করে? এই ব্যায়ামটা হলো নতুন নতুন তথ্য শিখা, কঠিন কোনো সমস্যার সহজ সমাধান বের করা, সৃজনশীল কোনো কাজ নিয়ে নতুন উদ্ভাবনা।

আমাদের মস্তিষ্কে নিউরন থাকে যা স্টিমুলেট করতে হয়। আমরা শব্দ ভান্ডার নামক খেলার সাথে কম বেশি পরিচিত! একটি শব্দের সাথে আরেকটির মিল বসাতে আমাদের শারীরিক কাজের প্রয়োজন পরে না, কিন্তু আমাদের ভাবতে হয় গভীর ভাবে। আর এই গভীর ভাবনাই আমাদের মস্তিষ্কে থাকা ঘুমন্ত নিউরনগুলোকে জাগিয়ে তুলে। এইক্ষেত্রে প্রথম দিকে যেই কাজ কঠিন থাকে আস্তে আস্তে তা সহজ হয়ে আয়ত্তে আসে আর আমরা বলি, এই কাজটা আমি পারি।

সহজ অর্থে বললে, প্রথমে যেকোনো কাজই কঠিন। কিন্তু আমরা কঠিন বলে যদি ছেড়ে দেই তাহলে নতুন কিছু শিখব না, আমাদের কাছে কঠিন লাগবে, কাজটি মাঝ পথে ছেড়ে বসে থাকবো, না পারার বোঝা আটকে থাকবে মনে। ভাবতে থাকবো, ইসস! যদি পারতাম আমিও? আর শেষে আমরা অবসাদ নামের চার দেয়ালে বন্দী হবো!

তাহলে এই বন্দী জীবন থেকে ছাড়া পেতে কী করা যায় ?

আমাদের শুধু সাহস লাগবে, আরেকবার চেষ্টা করতে হবে ,ঘুরে দাঁড়াতে হবে নিজের জন্য, নিজের সত্ত্বার কাছে হেরে যাওয়া যাবেনা। প্রথম দিকে সবই কঠিন। একটু ভয় লাগবে, হেরে যাওয়ার ভীতি কাজ করবে, না পারার কষ্ট অনুভব হবে। কিন্তু আমরা কি জানি কষ্টের পরই সস্তি আছে?

ইংরিজিতে একটা প্রবাদ আছে “ No Pain No Gain ”

আমরা যখন নতুন নতুন তথ্য শিখি আমাদের ব্রেইন কাজ করা শুরু করে, নিজেদের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসতে একটু ভয় লাগে, কিন্তু ধীরে ধীরে এই ভীতি আমাদের জয়ের রাস্তা সহজ করে দেয়।

আমাকে দিয়ে হবে না কথাটা এক সেকেন্ডে ঘুরে যায়- আমাকে দিয়েই হবে !

শুনেছি হাজার বার হারতে হয় একবার জিততে ।।

আমি বলি “আমাদের শুধু একবার হারতে হয়, হাজারবার জিততে “।

 

লেখক: আয়শা আক্তার

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়

জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ

ক্যাটাগরিঃ আত্মোন্নয়ন ও প্রেরণা

 

0

Aysha ahnan

Author: Aysha ahnan

Related Posts

বর্তমান প্রজন্মের অবক্ষয়

পৃথিবী সৃষ্টির পর নানা বিপর্যয় নানা আবর্তন বিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল মানব জাতির। তারপর কেটে গেছে যুগের পর যুগ। এখন

আশা

আচ্ছা! মানুষ আশাহত হয় কেন? এত আশাই বা করে কেন অন্যের কাছ থেকে কিংবা মানুষ কেন অন্য একজন নৃকে কেনই
106210120 150895546608397 3217571511384176693 n

মানসিক প্রতিবন্ধিতা নির্মূল করতে চাই – পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও উপযুক্ত ভালোবাসা

মানসিক প্রতিবন্ধিতা নির্মূল করতে চাই - পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও উপযুক্ত ভালোবাসা -----ম্যাকি ওয়াদুদ আদিকাল থেকেই আমরা মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বাস
কোরআন অনুবাদের ইতিহাস

গিরিশচন্দ্র সেন বিতর্ক

পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন- এই তথ্যটি আমাদের সবার জানা। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে প্রথম অনুবাদক

Leave a Reply