ইউটিউব কি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

ইউটিউব কি- আশ্চর্যজনক হলেও অনেকেরই ভুল ধারণা আছে

ইউটিউব কি?

ইউটিউব কি- একবাক্যে যদি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তাহলে বলতে হবে এটি একটি অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে জনপ্রিয়তার বিনিময়ে টাকা আয় করাও সম্ভব। এই মুহুর্তে এটি সম্ভবত বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম(আমি টেলিভিশনের চেয়ে এটাকে এগিয়ে রাখছি- আপনাদের দ্বিমত থাকতেই পারে)। বাংলাদেশের ইন্টারনেটের স্পিড আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়াতে ইউটিউবের দর্শকদের সংখ্যাটাও বেড়ে গিয়েছে।

ইউটিউবে কি ভিডিও দেখবেন?

কথাটা শুনে আপনি অবাক হলেও বেশীরভাগ ভিজিটরই ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত হন। যেমনঃ মোশাররফ করিমের নতুন নাটক লিখে সার্চ দিয়ে সিলেক্ট করে দিলেন This Week- আর আপনার ৫ বছর আগে দেখা নাটকটি চলে আসলো। এখানে আপনি বা, ইউটিউব কেউই ভুল করেনি।কিছু প্রতারক আছে যারা টাকার লোভে চ্যানেল খুলে সেখানে অন্যদের জনপ্রিয় ভিডিও আপলোড দেয়। Youtube যেসব চ্যানেলের কারসাজি ধরতে পারে, সেইসব চ্যানেল বন্ধ করে দেয়- এগুলো বেশীদিন থাকে না।

তাই এইসব চ্যানেল না দেখে ভেরিফাইড ব্যাজ আছে এরকম চ্যানেলগুলো সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন। তাহলে, আসল চ্যানেলের সঠিক কনটেন্ট দেখতে পাবেন। যেমনঃ ইত্যাদি দেখতে চাইলে Fagun Audio Vision ছাড়া অন্য কোন চ্যানেল দেখার কোন প্রয়োজন নেই। জনপ্রিয় উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সেন্স অফ হিউমার দেখতে তার ভেরিফাইড চ্যানেলেই যাবেন- Shahriar Nazim Joy Show. আশা করা যায় আপনার পছন্দের সব চ্যানেলই খুঁজে পাবেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, মিউজিক চ্যানেল, বিখ্যাত ব্যক্তি এদের ভেরিফাইড চ্যানেল খুজে পাবেন।

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আয়ের পদ্ধতি কি?

এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত বলা যেতে পারে। আপাতত সংক্ষেপে বলি। প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান বা, চ্যানেল যেমন ইউটিউবে নিজেদের চ্যানেল খুলতে পারে- তেমনি কিন্তু আমি বা, আপনিও একটি চ্যানেল খুলে সেখানে যা ইচ্ছা(নিজে তৈরি করে- কপি না করে) আপলোড করতে পারি। সাবিনা ইয়াসমিনের গানের ভিডিও বা, আবু হেনা রনির কমেডি প্রচার করে আয় করার অধিকার শুধু তাদেরই আছে। মনে করুন আপনি ভালো গান করেন বা, বাঁশি বাজাতে পারেন- সেটা আপলোড করে দিতে পারেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন- ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়- ভিউয়ার থাকলেই আয় হবে

ইউটিউব ভিডিও মনিটাইজেশন

ইউটিউবের বর্তমান শর্ত অনুযায়ী ১ বছরে ৪ হাজার ঘন্টা Watch Time এবং ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকলে আপনি সেই ভিডিওতে এড দেখিয়ে আয় করতে পারবেন। এই শর্ত কোন অযৌক্তিক শর্ত না- এর কম ভিউ হলে আপনার যা আয় হত তা পেতে ২০ বছর লেগে যেত। মাণই আসল- সেটা লেখা বা, ভিডিও যাই হোক না কেন। ইউটিউবিং করার ইচ্ছা থাকলে যা করতে ভালোবাসেন সেই বিষয় নিয়ে করুন(টাকা/সাবস্ক্রাইবার নিয়ে ভাবতে হবে না)। এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখানোর কাজটা করে, ভিডিও মনিটাইজেশন হলে এডসেন্স বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকার একটা অংশ ইউটিউবারদের দেয়। ভিডিও ভিউতে এই টাকা পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় এড কতজন দেখলো, কতজন ক্লিক করলো এবং এর জন্য বিজ্ঞাপনদাতা কত খরচ করছে তার উপর নির্ভর করে।

টাকা পাবো কিভাবে- গাছে কাঠাল গোফে তেল

যারা এই প্রশ্ন করেন তাদেরকেই বলছি। এটা জনপ্রিয়তার বিনিময়ে টাকা আয়ের মাধ্যম- সেটা না চাইলে বিনোদন নেয়ার মাধ্যম। জনপ্রিয়তা থাকলে এডসেন্স, এড, টাকা সব পাবেন(এগুলো বড় ব্যাপার না)। মানুষের পছন্দের কনটেন্ট আর জনপ্রিয়তাই আসল(মানেন বা, না মানেন মাণটা গুরুত্বপূর্ণ)। ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেট একাউন্ট বা, যেকোন ব্যাংক একাউন্ট থাকলেই টাকা পাওয়া যায়। যখন জনপ্রিয়তা পাবেন, তখন টাকা পেতে কষ্ট করতে হবে না। সাবস্ক্রাইবারের পাশাপাশি ওয়াচ টাইম কেমন সেটিও দেখবেন। কত মিনিটের ভিডিও গড়ে কত মিনিট দেখা হয়েছে সেটি আপনার চ্যানেলের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়।


ইউটিউব চ্যানেলের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় খেয়াল রাখাটা জরুরি। অন্য কারো সাথে মেলে না অর্থাৎ ইউনিক, ছোট নাম, আপনার চ্যানেলকে ঠিকমতো তুলে ধরে এমন নাম নির্বাচন করবেন। একটি চ্যানেলে বিভিন্ন ধরণের ভিডিও আপলোড না করাটাই ভালো, একই ধরণের ভিডিও একটি চ্যানেলে থাকলে ভিউ বেশী পাবেন, ওয়াচ টাইম বেশী পাবেন।

(Visited 24 times, 1 visits today)
0
likeheartlaughterwowsadangry
0

Author

admin@lekhok.me
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

বলোনা.....

September 27, 2020