কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়?

কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয় তা না জানলে বাংলা, ইংরেজী বা, যেকোন ভাষার দক্ষতা থাকলেও তা কাজে লাগবে না(আর্টিকেল লেখার জন্য)। একাডেমিক আর্টিকেলের সাথে ব্লগ বা, ওয়েবসাইটের আর্টিকেলের সুনির্দিষ্ট কিছু পার্থক্য আছে। আপনাকে এই পার্থক্যটাও জানতে হবে।

অন্যথায়, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকলে ভালো আর্টিকেল লিখতে পারবেন বটে, কিন্তু তা পাঠকের কাছে না ও পৌছাতে পারে।প্রথমে বলে রাখি, আমার এই লেখাটি কেন পড়বেন–  আমি একজন ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ৫০/৬০ জন ক্লায়েন্টের জন্য আর্টিকেল লিখে দিয়েছি এবং তারা মার্কেটপ্লেসে আমাকে ৫ স্টার রেটিং দিয়েছে।

এছাড়া,  Alison এ একটি ছোট কোর্স করেছি, Neil Patel, Brian Dean, Julia Mccoy, Rand Fishkin এদের ভিডিও দেখেও অনেক কিছু শিখেছি(এই ব্লগে আমার কিছু লেখা র‍্যাংক করেছে)। আপনাদের সাথে অভিজ্ঞতা থেকে কিছু জিনিস শেয়ার করছি(আমি বিশেষজ্ঞ নই, তবে প্রাথমিক ধারণা আছে)।

আর্টিকেল কি

বাংলায় যেটিকে প্রবন্ধ বলা হয়, ইংরেজীতে সেটিকেই আর্টিকেল বলা যায়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রবন্ধ লিখে সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন, যার ফলে বিধবা বিবাহ প্রচলন করা সম্ভব হয়েছিল। তার আর্টিকেলের শিরোনাম ছিল, “বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব“।

এখানে আমরা বলবো ব্লগের(বা, ওয়েবসাইটের) আর্টিকেলের কথা। ঈশ্বরবাবুর মতো আর্টিকেল লিখতে পারলে এখানেও কাজে লাগবে, কারণ তিনি প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন। আপনাকেও পাঠকের মনে প্রভাব বিস্তার করতে হবে। তবে, প্রথাগত একাডেমিক আর্টিকেলের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ব্লগ রাইটিং কি

ব্লগের জন্য যেসব আর্টিকেল লেখা হয় সেই লেখাগুলোকেই ব্লগ রাইটিং বলে। সাধারণ লেখার সাথে এগুলোর পার্থক্য হচ্ছে, এটি এমনভাবে লেখা হয় যাতে পাঠক পুরো লেখাটা শেষ করে। অথবা, ঐ লেখা থেকে অন্য কোন লিংকে প্রবেশ করে। মূল উদ্দেশ্য পাঠককে ধরে রাখা বা, কোন কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করা।

এই লেখাটি লক্ষ্য করলে দেখবেন, আমি ছোট ছোট বাক্য ব্যবহারের চেষ্টা করেছি। লেখার প্রাঞ্জলতা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। এমনভাবে লিখবেন যাতে সবার কাছে বোধগম্য হয়। বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করে এমন গোষ্ঠীর জন্য পেশাদার ব্লগারেরা লেখেন না, জনসাধারণের জন্য লেখেন।

কনটেন্ট রাইটিং টিপস

চেষ্টা করবো এমন কিছু টিপস দিতে যা অনুসরণ করলে আপনার লেখা আকর্ষণীয় হবে, এবং দুই দিক দিয়ে উপকৃত হবেন। একটি হচ্ছে Bounce Rate কমবে এবং View Duration বাড়বে।

বাউন্স রেটঃ একটি আর্টিকেল পড়তে গিয়ে অনাগ্রহবসত যদি পাঠক চলে যায় তাহলে বাউন্স রেট বাড়ে। অন্য কিছুতে ক্লিক করা বা, নতুন লেখা পড়লে সেটি কমে।

ভিউ ডিউরেশনঃ লেখা কত সময় ধরে পড়লো এটির মাধ্যমে বোঝা যায় পাঠক লেখা পড়তে আগ্রহী কি না। এটি বাড়াতে পারলে গুগোলে আপনার লেখার র‍্যাংকে উন্নতি ঘটবে।

চলুন কিছু সাধারণ বিষয় দেখে নেই। এটি মানলে হয়তো আপনার লেখার ক্ষেত্রে ২৫%-১০০% উন্নতি ঘটবে(মানে বাউন্স রেট অর্ধেক এবং ভিউ ডিউরেশন ডাবল হবে)। তবে, লেখার মাণ ভালো করার জন্য পড়ার কোন বিকল্প নেই।

১০ পাতা পড়লে হয়তো ১ পাতা লিখতে পারবেন। সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেবেন লেখার মাণের দিকে। চলুন দেখে নেই কি করলে (কারো কারো ক্ষেত্রে) ১০০% উন্নতি ঘটানো যাবে

  • ছোট বাক্যে সহজভাবে টার্গেট গ্রুপের জন্য লিখবেন, কম জানা লোকেরাও যাতে বুঝতে পারে
  • গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বোল্ড বা, ইটালিক করে দেবেন
  • h1, h2, h3, h4 এবং কোটেশন(blockquote) ব্যবহার করবেন
  • বুলেট পয়েন্ট দিয়ে লিখবেন, দরকারমতো নাম্বারড লিস্টও ব্যবহার করবেন
  • ছবি ব্যবহার করবেন, ইনফোগ্রাফিক ব্যবহার করবেন
  • বিভিন্ন পরিসংখ্যান ব্যবহার করবেন এবং রেফারেন্স দেবেন
  • চেষ্টা করবেন ঐ বিষয়ে পাঠকের আগ্রহের সবকিছু একটি আর্টিকেলের মাঝে দিয়ে দিতে

আপনি নিজের বাংলা ব্লগে লেখালেখি করেন বা, ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসবে যেকোন ভাষায় লিখে আয় করতে চান না কেন এই ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখবেন। আরো অনেক বিষয় আছে যা ধীরে ধীরে শিখে নিতে পারবেন। মনে রাখবেন, লেখার মাণ ভালো না হলে যেখানেই লিখুন, ভালো ফল পাবেন না।

কোন কিছুই জোর করে ব্যবহার করা যাবে না। যেমনঃ অনেকে জোর করে ইনফোগ্রাফিক ব্যবহার করে। প্রয়োজন মনে না হলে ব্যবহার করা যাবে না। নিজেকে পাঠকের জায়গায় রেখে ভাবুন- ছবি, ভিডিও বা, ইনফোগ্রাফিকের প্রয়োজন আছে কি না। দরকার হলে নিশ্চয়ই দেবেন।

ফ্রিল্যান্সিং আর্টিকেল রাইটিং

যদি আপনি আর্টিকেল লিখে আয় করতে চান, তাহলে এমন কিছু লিখতে হবে যা পাঠকদের কাজে লাগবে। যদি কোন পণ্য বিক্রি করতে পারেন, তাহলে আপনি লাভবান হবে। বিভিন্নভাবে পণ্য বিক্রি করা যায়- আপনি যদি খুব বড় কোন লেখক হোন তাহলে আপনার পাঠকদের আগ্রহ আছে এমন বিজ্ঞাপন দেখালেই পণ্য বিক্রি হবে। তাই বাংলা লেখাকেও পেশা হিসেবে নিতে পারেন

নিজেকে যদি তেমন পাঠকপ্রিয় মনে না করেন, তাহলে আপনার উচিত হবে পাঠকের আগ্রহ আছে কিন্তু পর্যাপ্ত কনটেন্ট অনলাইনে নেই সেই বিষয়ে লেখা। কোন ব্লগের জন্য বা, কোন কোম্পানির ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লিখতে হলে আপনাকে এমন কিছু লিখতে হবে যাতে তাদের পণ্য বা, সেবা বিক্রি হয়।

Upwork বা, Fiverr এর মতো মার্কেটপ্লেসে অনেকেই তাদের ক্লায়েন্টদের জন্য আর্টিকেল লিখে দেন। Topcontent, iWriter সহ আরো অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে যেখানে আপনি চাইলে লিখতে পারবেন। তারা আপনার লেখার মাণ যাচাই করে আপনাকে সুযোগ দেবে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির ব্লগে লেখার জন্য তাদের কাছে ইমেইলও করতে পারেন।

আপনার প্রথম কাজ ক্লায়েন্ট খোজা না, কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয় সেটি শেখা। এর জন্য বিখ্যাত ব্লগারদের ভিডিও দেখুন, ব্লগ পড়ুন। নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে আগ্রহ থাকলে সেই বিষয়ে একটি ব্লগ তৈরি করে লেখা শুরুও করে দিতে পারেন। এমন না যে ক্লায়েন্টের জন্যই লিখতে হবে, নিজের ব্লগে লিখেও তো লোকে অনেক টাকা আয় করছে।

কন্টেন্ট লেখার নিয়ম

অন পেজ এস ই ও সম্পর্কে ধারণা থাকলে খুব সহজেই ভালো মাণের লেখা লিখতে পারবেন। একজন আর্টিকেল রাইটারের প্রথম কাজ আর্টিকেলটাকে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌছে দেয়া। সাথে সাথে এটাও নিশ্চিত করা যে তারা সেটি পড়ে আকৃষ্ট ও উপকৃত হবে। এস ই ও না জানলে লেখা পৌছাবে না(সাধারণত)।

আগে বেশ কিছু টিপস দিয়েছি। এখানে আরো কিছু বিষয় লিখে দিচ্ছি যেটির মাধ্যমে আপনি পাঠকের কাছে সহজে পৌছাতে পারবেন। গুগোলের কাছে আপনাকে এই মেসেজ পৌছাতে হবে যে এই এই কিওয়ার্ডের জন্য এই লেখাটি র‍্যাংক করো- এটাই এস ই ও। বাকিটা হচ্ছে পাঠকের আগ্রহ। চলুন দেখে নেই কি করলে পাঠক লেখাটি পড়বে

  • নিজের ব্লগের লেখার ক্ষেত্রে ভিজিটর আছে এমন কিওয়ার্ড খুজে বের করতে হবে
  • একটি ফোকাস কিওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করে পুরো লেখাটি লিখবেন
  • গুগোলে সার্চ দিলে যে সাজেশন দিবে সেগুলোকে সাব কিওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, পাঠক ঐগুলোও চায়
  • মূল কিওয়ার্ড টাইটেলে, হেডিং এ, প্রথম প্যারায় এবং শেষ প্যারায় ব্যবহার করবেন
  • ছবি ব্যবহার করবেন এবং alt ট্যাগের মাধ্যমে কিওয়ার্ড সেখানে ব্যবহার করবেন
  • ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ লিখবেন, একাডেমিক লেখার মতো বড় করবেন না

Julia Mccoy এর একটি কথা আমার ভালো লেগেছে। তিনি ২৫০০+ শব্দের নিচে কোন আর্টিকেল লেখেন না। এরকম বড় আর্টিকেল লেখার সুবিধা হচ্ছে সেটি ভালো মাণের হলে গুগোলে অনেকগুলো কিওয়ার্ডের জন্য র‍্যাংক করে। একই সাথে মনে রাখবেন, প্রয়োজন হলে ১০০ শব্দেও আর্টিকেল হতে পারে। জোর করে লেখা বড় করায় কোন ফায়দা নাই।

বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করুন

ফেসবুকে কিছু গ্রুপ আছে যেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল এবং ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লেখার অফার পাওয়া যায়। আপনি চাইলে সেইসব গ্রুপে জয়েন করতে পারেন। ভালো লিখতে পারলে কাজের অভাব হবে না। তাই, আগে প্র্যাকটিস করুন(এখানে করতে পারেন, নিজের ব্লগে করতে পারেন, অন্য ব্লগে করতে পারেন)। লিখে দেখুন পাঠকের কাছে পৌছায় কি না

গুগোলে সার্চ দিলে অনেক ওয়েবসাইটে খুঁজে পাবেন যারা লেখার জন্য টাকা দেয়। আমাদের এই ওয়েবসাইটের জন্যও ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে কনটেন্ট রাইটার ভাড়া করা হতে পারে। ঐসব ওয়েবসাইটে কনটেন্ট সাবমিট করেও কিছু টাকা আয় করতে পারবেন। তবে, আমি পরামর্শ দেবো ইংরেজীতে লেখার জন্য। বাংলায় লিখে আয় হয় না বললেই চলে। ইংরেজীতে অন্তত ১০ গুণ হবে।  আগে শিখতে হবে, এখনেও কিছু রিসোর্স পাবেন।

প্রয়োজন হলে নিজেই ব্লগ খুলে নিতে পারেনব্লগস্পটে ফ্রিতে ব্লগ তৈরি করা যায়। তবে, আমার মনে হয় ওয়ার্ডপ্রেসে হোস্টিং নিয়ে খোলাটাই ভালো। ওয়েবসাইটের ডিজাইন নিয়ে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। কম্পিউটার এবং মোবাইলে দেখা যায় এমন থিম হলেই চলবে। বাকিটা আপনার লেখার মাণ, সংখ্যা এস ই ও ইত্যাদির উপর নির্ভর করবে।

কয়েকটি ভালো লেখা থাকলে খুব সহজেই এডসেন্স পেয়ে যাবেন। এডসেন্স পাওয়াটা বড় ব্যাপার না, ভিজিটর পাওয়াটাই বরং বেশী কঠিন। নিয়ম মেনে চেষ্টা করলে ব্লগিং করে ভালো এমাউন্ট আয় করতে পারবেন। বাংলা ব্লগে সাধারণত(ওয়েবমাস্টার অনুযায়ী) ১০০০ ভিজিটে ১ ডলারের মতো পাওয়া যায়।

এটি নিশভেদে(টপিক অনুসারে) আলাদা হয়। চটকদার ইউটিউব ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। ওরা বেশীরভাগই জানে না কিভাবে ব্লগিং করতে হয়। বাংলা ব্লগ সম্পর্কেও ধারণা নাই। বাস্তব অভজ্ঞতা আছে এমন লোকেদের কাছ থেকে তাদের অভিজ্ঞতা শুনে নিতে পারেন।

কন্টেন্ট রাইটিং PDF

বাংলায় এরকম রিসোর্স কতটা পাওয়া যায় আমি জানি না। তবে, আপনারা ইউটিউবে কিছু ভিডিও হয়তো পাবেন। তবে, আমি পছন্দ করি র‍্যান্ড ফিশকিন, নিল প্যাটেল, জুলিয়া ম্যাককয়দের ভিডিও। আপনিও চাইলে ওদের ভিডিও ইউটিউবে ফ্রিতে দেখতে পাবেন। কিছু কোর্সও পাওয়া যায় Udemy, Edx এইসব অনলাইন লার্নিং সাইটে।

আমার মনে হয়, আপনার কার্ডে কিছু টাকা থাকলে এরকম একটি কোর্স করে নিতে পারেন। খুজলে হয়তো কিছু ফ্রি কোর্সও পাবেন। মূল বিষয়টা সম্পর্কে জানতে কোর্স করাটা আবশ্যক নয়, তবে কাজে লাগে। আর, যে বিষয় নিয়ে লিখতে চান, সেই বিষয়ে জানাটা জরুরি। আমি University of Bristol এর একটি pdf পেয়েছি। আপনাদের সাথে সেটি শেয়ার করছি-

Writing Effective And Accessible Web Content- pdf

 

সারাংশঃ

আপনাকে ব্লগের আর্টিকেল কিভাবে লিখতে হয় সেই মূল বিষয়গুলো জানতেই হবে। এরপর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যতো বাড়াবেন ততো ভালো লিখতে পারবেন। এস ই ও এর যে ব্যাপারটা সম্পর্কে আমাদের ভুল ধারণা আছে। পাঠকদের জন্য অপটিমাইজ করাই এস ই ও, সার্চ ইঞ্জিনের জন্য নয়। তাই, কনটেন্টের মাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

তথ্যসূত্রঃ

(Visited 27 times, 2 visits today)

Author: admin

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

পদ্মফুল

ফুলের ছবি- পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দশটি ফুলের ছবি দেখে নিন

দেখে নিন সুন্দর দশটি ফুলের ছবি যারা ছবিগুলো তুলেছেন তাদের নামসহ কিছু ফুলের ছবি আপনাদের দেখাতে যাচ্ছি। আপনারা চাইলে ডাউনলোডও

অভিলাষী জীবন

উচ্চবিত্তের বিকৃত অভিলাষে সমাজের সাধারণ মানুষ নিষ্পেষিত হতে থাকে। নিন্মবিত্তেরা সেইসব সাধ্যাতীত অভিলাষ পূরণে ধ্বংসের পথে পরিচালিত করে তাদের সাধারণ

ব্যাকলিংক কি ও কিভাবে কাজ করে? ফ্রি ১২০০+ রিসোর্স নিয়ে নিন

ব্যাকলিংক ছাড়া এস ই কল্পনাও করা যায় না, আর ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য চাই রিসোর্স। অর্থাৎ, কোন ওয়েবসাইটে আপনি চাইলেই

Leave a Reply