2020 Kenneth Kaunda

কেনেথ কাউন্ডা- জাম্বিয়ার ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নায়ক

0

কেনেথ কাউন্ডা তার অহিংস নীতির জন্য আফ্রিকার গান্ধী নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাম্বিয়া এক সময় ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল। সেই উপনিবেশ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রামে কেনেথের অবদান অনস্বীকার্য।

প্রাথমিক জীবন ও বেড়ে ওঠা

বেম্বা নামে একটি ক্ষুদ্র ণৃ-গোষ্ঠীতে তার জন্ম। কেনেথের বাবা ও মা দুজনেই ছিলেন শিক্ষক। অল্প বয়সেই তার বাবা মারা যান। ১৯৪০ সালে তিনি তার মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ঔপনিবেশিক জাম্বিয়ার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের মতো তিনিও শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। তিনি দক্ষিণ রোডেশিয়াতেও(বর্তমান জাম্বিয়া হচ্ছে ঐ সময়ের উত্তর রোডেশিয়া) কাজ করেছেন।

উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াই

১৯৪৯ সালে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, গঠন করেন উত্তর রোডেশিয়া আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস। কাউন্ডা এবং তার লিডার এনকুম্বুলা কয়েক মাস জেলও খেটেছেন। তিনি নানারকম আন্দোলন, সংগ্রাম করেন। এর মাঝে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সাথে দেখাও করেন। চা-চা-চা ক্যাম্পেইন আমে পরিচিত একটি অসহযোগ আন্দোলনও করেছেন। ১৯৬৪ সালে যখন তার দেশ স্বাধীন হয় তখন তিনি UNIP দলের প্রধান হিসবে প্রথম প্রসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।

জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে জীবনযাপন

সাধারণত আফ্রিকার সদ্য স্বাধীন দেশগুলোতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গোষ্ঠীগত সংঘাত দেখা যায়। কাউন্ডা এই সংঘাত অনেকটাই নির্মূল করতে সক্ষম হন। ১৯৭২ সালে তিনি তার দেশে নতুন সংবিধানের মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র চালু করেন। এক সময় বেকারত্ব বেড়ে যায়, দেশের উন্নতির বদলে অবনতি দেখা যায়। তিনি বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপও নেন। ১৯৭৮ এবং ১৯৮৩ সালেও তিনি নির্বাচনে জয়ী হন। ১৯৯১ সালে বহুদলীয় পার্টি(MMD) জয়ী হয়, এবং কাউন্ডা পরাজিত হন।

প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অব্যাহতি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত

নতুন চিলুবা সরকারের সাথে কাউন্ডা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৭ সালে তাকে ক্যু করার চেষ্টার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অবশ্য ছেড়েও দেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে অভিযোগ থেকে মুক্তি পান এবং তার রাজনৈতিক পদও পরে ছেড়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ২০০০ সালেও পদ ছাড়েন না,তবে আদালতের রায়ে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয় এই বলে যে তার বাবা মা এই দেশের ছিলেন না। পরে অবশ্য সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।

২০০২ সালের পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে আফ্রিকান প্রেসিডেন্ট হিসবে একটি পদ পান এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দির পরে যিনি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি তাকে Grand Order of the Eagle in Zambia পদক দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন। ২০২১ সালে অসুস্থ হয়ে মারা যান, কি অসুখ ছিল তা সবাইকে বলা হয় নি। এখন ভদ্রলোকের গোটা ত্রিশেক নাতিপুতি জীবিত আছে।

(কাউন্ডার রাজনৈতিক দর্শন, পররাষ্ট্র নীতি, অর্থনৈতিক নীতি ইত্যাদি নিয়ে আরো লিখলে ভালো হতো, ধৈর্য্য নাই তাই সংক্ষেপে শেষ করছি। আপনাদের কারো ইচ্ছা হলে তাকে বা, অন্য কাউকে নিয়ে বিস্তারিত লিখতে পারেন।)

আরো কিছু প্রশ্নের উত্তরঃ

কেনেথ কাউন্ডা কি এখনো জীবিত?

না, উনি সম্প্রতি মারা গেছেন। আল্লাহর রহমতে অনেক বছর বেচে ছিলেন, ৯৭ বছর। তার দীর্ঘ জীবনের অবসান ঘটে ২০২১ সালে। এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামী ব্যক্তিটি জীবনের অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়েছেন, তা সত্ত্বেও ৯৭ বছর বেচে থাকাটাও একটি আনন্দদায়ক ব্যাপার। সেঞ্চুরি হলে আরো ভালো লাগতো।

কেনেথ কাউন্ডা সাহেবের বউ কয়টা?

আফ্রিকার কিংবদন্তি নেলসন মেন্ডেলার তো কয়েকটা বউ ছিল। বাঙালিদের একাধিক বিয়ে অস্বাভাবিক মনে হলেও কিছু কিছু সমাজে এটা একেবারে স্বাভাবিক। Betty Kaunda হচ্ছেন কেনেথ কাউন্ডার বউয়ের নাম। ওনার একজন বউয়ের নামই খুজে পাওয়া যাচ্ছে।

জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বেতন পায় কত টাকা?

৩৬ মিলিয়ন জাম্বিয়ান কোয়াচা হচ্ছে ওদের দেশের প্রেসিডেন্টের বেতন। বাংলাদেশী ৫ টাকার সমমানের হচ্ছে ১ কোয়াচা। প্রতি মাসে এই বেতন খুব একটা খারাপ না, কি বলেন…

জাম্বিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে?

Hakainde Hichilema হচ্ছে জাম্বিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। সংক্ষেপে তাকে HH নামেও ডাকা হয়। যেমনঃ Kenneth Kaunda কেও কিন্তু KK নামে ডাকা হয়। ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক HH এর নিজের সম্পত্তি বলতে মাত্র ১০০ টি ফার্ম এবং ৪০ টি এয়ারপোর্ট আছে। বিশ্বাস নাও করতে পারেন, গরু ও অন্যান্য পশু পালন করে সে এই পরিমাণ টাকা আয় করেছে।

 

The featured image file is licensed under the Creative Commons Attribution 4.0 International license.
Attribution: Council.gov.ru
0

admin

Author: admin

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি

Related Posts

Huzur Me scaled

একজন প্রফেসর মীর হাসান আলি (নিভৃতে ইসলাম এর সেবায় নিয়োজিত এবং মানুষ ও জাতি গড়ার একজন পথপ্রদর্শকের নাম)

একজন প্রফেসর মীর হাসান আলি (নিভৃতে ইসলাম এর সেবায় নিয়োজিত এবং মানুষ ও জাতি গড়ার একজন পথপ্রদর্শকের নাম) -------------------------------------------------- #
দক্ষিণী বিদ্যাসাগর

কান্দুকুরি বীরসালিঙ্গম পানতুলু

বীরসালিঙ্গম পানতুলুকে বলা হয় দক্ষিণী বিদ্যাসাগর। কেন তাকে তেলেগু রেনেসাঁর জনক বলা হয় সেটা পরে বলছি। রায়বাহাদুর কান্দুকুরি বীরসালিঙ্গম পানতুলু
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়। তবে, তিনি স্বাক্ষর করতেন ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামে। বিদ্যাসাগর উপাধিটি সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে
আরজ আলী মাতুব্বরের লাইব্রেরী

আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত দার্শনিক

আরজ আলী মাতুব্বর বরিশালের একজন কৃষক এবং একজন মাতুব্বর ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশোনা করে

Leave a Reply