গল্প স্মার্ট ফোন হবো আফছানা খানম অথৈ

0

স্মার্ট ফোন হবো

আফছানা খানম অথৈ

আফরুজা লাবন্য সরকারী প্রাইমারী স্কুল টিচার।স্বামী একটা বেসরকারী কোম্পানিতে চাকরী করেন।একদিন বাচ্চাদের পরীক্ষার পেপার দেখছেন আফরুজা লাবন্য।দেখা শেষ হতে না হতে তার চোখ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে।তখনি তার স্বামী জিজ্ঞেস করলেন,
প্রিয়তমা কাঁদছ কেনো?
তিনি উত্তর দিলেন,
তৃতীয় শ্রেণির একটা বাচ্চা রচনা লিখেছে।
তার জন্য কাঁদতে হয় নাকি?
না মানে রচনাটা এমনভাবে লিখেছে তা পড়ার পর চোখের পানিরও বাঁধ মানল না।
বলো কী!
পড়তো দেখি।
পড়ছি শুন,রচনার নাম,
আমার ইচ্ছে
আমি বড় হয়ে স্মার্ট ফোন হব।কারণ আমার আব্বু-আম্মু স্মার্ট ফোনকে খুব ভালোবাসে,আমাকে ভালোবাসে না।আমি যখন খাবার খেতে আম্মুকে ডাকি, আম্মু রেগে উঠে বলে, দেখছিস না আমি এখন স্মার্ট ফোনে সিরিয়াল নাটক দেখছি,তবুও ডিস্টার্ব দিচ্ছিস কেনো?আবার আম্মু যখন বাবার সাথে ফোনে কথা বলে তখন আব্বুকে আদর দেয়,কিন্তু আমাকে একটুও আদর করে না।যদি কখনো স্মার্ট ফোনে ময়লা কিংবা পানি পড়েছে আম্মু দেখেছে তো সেরেছে,আম্মু ধুলা বালি পরিষ্কার করে খুব যত্ন করে ডেকে রাখে।কিন্তু আমাকে একটুও যত্ন করে না। আমি যখন পড়া দেখিয়ে দিতে বলি আব্বু তখন স্মার্ট ফোনে মুভি দেখে।রাতে ঘুমানোর সময় আম্মু স্মার্ট ফোনকে বালিশের নিচে রেখে ঘুমায়।আমাকে কখনো জড়িয়ে ধরে ঘুমায় না।একদিন আম্মু দেখল স্মার্ট ফোনের কাভার ময়লা হয়ে গেছে,তখনি আম্মু এটা ফেলে দিয়ে আবার নিউ মার্কেট থেকে নতুন কাভার এনে স্মার্ট ফোনে লাগালেন। যাতে ময়লা না হয়।অথচ আমার জামা কাপড় ময়লা হয়ে গেলেও তা পরিষ্কার করার কথা আম্মুর মনে থাকে না।একদিন আমি ভুল করে স্মার্ট ফোনকে টেবিলের উপর হালকা পানির মধ্যে রেখেছিলাম তখনি আম্মু আমাকে মেরে মেরে বলে,
আমার এত টাকার স্মার্ট ফোন তুই পানির মধ্যে রাখলি? নষ্ট হয়ে যাবে ন?
আহা!আহারে।
তখনি আম্মু কাপড় দিয়ে মুছে তা রেখে দিলেন।কিন্তু আমি যখন স্কুল থেকে ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজে আসি আম্মু আমাকে মুছেও দেয় না,আফসোসও করে না। এখন বুঝলাম আম্মু শুধু স্মার্ট ফোনকে ভালোবাসে, আমাকে না।অনুরুপ বাবা ও তাই করেন।চব্বিশ ঘন্টা স্মার্ট ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।স্মার্ট ফোনের খুব টেককেয়ার করেন ,খুব খুব ভালোবাসেন।আমার টেককেয়ার ও করেন না, আমাকে ভালো ও বাসেন না।তাই আমার ইচ্ছে বড় হয়ে “স্মার্ট ফোন হবো” তবে আম্মু আব্বু আমাকে ভালোবাসবে, শুধু তাই নয় স্মার্ট ফোনের মতো আমার টেককেয়ার করবে এবং চব্বিশ ঘন্টা আম্মু আব্বুর কাছা কাছি থাকতে পারবো।
শুনার পর স্বামী জিজ্ঞেস করলো,
কেগো লিখেছ এমন রচনা?
আমাদের সন্তান।
স্বামীর বলার মতো কোন ভাষা মুখ দিয়ে বের হলো না।দুজন দুজনের ভুল বুঝতে পারল এবং স্মার্ট ফোন রেখে সন্তানকে ভালোবাসতে শুরু করলো।
ঃ সমাপ্তঃ


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

Afsana Khanam

Author: Afsana Khanam

লেখক

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

প্রতি দান

রাতে থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো, কিছুক্ষণ,বৃষ্টি থেমেছে সবে। সকাল কখন হয়েছে চম্পা জানে না। চম্পা শুনেছে, ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র

অ্যাথেনার অলৌকিক হার্প

অনেক অনেক বছর আগে, প্রাচীন গ্রিসের এক ছোট্ট গ্রামে বাস করত এক কিশোরী মেয়ে—নাইরা। সে দরিদ্র ছিল, কিন্তু তার গলায়

নীলচোখা জলপরী

শঙ্খনদী গ্রামের সকাল সবসময় সমুদ্রের শব্দ দিয়ে শুরু হয়। মাটির ঘরগুলোর চালের ফাঁক দিয়ে বাতাস ঢোকে, আর বাতাসের সাথে ভেসে

সময়ের দরজা

মেঘে ঢাকা এক বিকেল। পুরান ঢাকার সরু গলির ভেতরে, ধুলো ধরা এক প্রাচীন বইয়ের দোকানে ঢুকল আরসোহা। ইতিহাসের ছাত্রী সে,

Leave a Reply