জেন্দাবেস্তা(জেন্ট এভেস্টা)- পারস্যের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ

জেন্দাবেস্তা হচ্ছে ইরানের প্রাচীন জরুথ্রুষ্টীয় ধর্মের(বা, পারসিকদের) প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম। এটিকে অনেক সময় এভেস্তাও বলা হয় যা লেখা হয়েছে এভেস্তিয়ান ভাষায়। এই ভাষাটি বেদের ভাষা সংস্কৃতের মতই পুরনো।

জেন্দাবেস্তা সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য

এভেস্তা অর্থ মূলনীতি বা, ভিত্তি। হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের মতো জরুথ্রুষ্টীয় ধর্মাবলম্বীরাও দাবি করে যে এটিই সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম। এই লেখাগুলো ইউরোপের গবেষকদের কাছে আসে অনেক পরে, আঠারশ শতাব্দীর দিকে

জেন্দাবেস্তা ভালো, মন্দ, স্বর্গ, নরকের ধারণা আর মুসলিমদের মতো পুনরুত্থানের ধারণাও দিয়েছিলো। যাদের এই বইটি পড়ার আগ্রহ আছে তারা এখান থেকে পড়তে পারেন। ২২৪-৬৫১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লেখা মূল বইয়ের রূপটি এখনও পাওয়া যায়।আমরা ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) এর মিরাজ গমনের কথা জানি। এভেস্তা পড়লে আপনি আরদা ভিরাফের স্বর্গ, নরক দর্শনের কথাও জানতে পারবেন

এই বইয়ের শুরুতে একটি কথা লেখা থাকে। সেটি হচ্ছে- “সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করছি” . এই  বইয়ের লেখক নিজেকে মাজদার উপাসক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই বইয়ের একটি বাক্য আপনাদের সাথে শেয়ার করি-

I praise good thoughts, good words, and good deeds and those that are to be thought, spoken, and done. I do accept all good thoughts, good words, and good deeds. I do renounce all evil thoughts, evil words, and evil deeds

 

পার্সি ধর্ম কি?

পার্সি ধর্ম

পারসিক ধর্ম, পার্সিয়ান ধর্ম বা, পার্সি ধর্ম বলতে পারস্যের মানুষদের প্রাচীন ধর্মকে বুঝায়। এটিকে জরুথ্রুষ্ট ধর্মও বলতে পারেন। এই ধর্মটি প্রাচীন পারস্যের অফিসিয়াল ধর্ম ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৬৫০অব্দের দিকে এটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে পারস্যে ইহুদি ও খ্রিস্ট ধর্মের আগমন ঘটে। চলুন তাদের সম্পর্কে আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেই-

প্রশ্নঃ পারসিকরা কি আরব?

উত্তরঃ অনেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ব্যাপারটিকে গুলিয়ে ফেলেন। ইতিহাস আমাদের যা জানাচ্ছে তাতে পারসিয়ানরা মোটেও আরব ছিল না। তারা ছিল আলাদা একটি জাতি। যারা এমন ধারণা করেন তাদের ধারণা ভুল, তারা আরব নয়।

প্রশ্নঃ পার্সিয়ানরা আসলে কি বিশ্বাস করতো?

উত্তরঃ তাদের মূল বিশ্বাস একেশ্বরবাদ, এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা জরুথ্রুষ্ট বা, জরুয়েস্টার। এদের ধর্মগ্রন্থে অনেক গাঁথা আছে যা এভেস্তিয়ান ভাষায় লেখা জেন্ট এভেস্টায় পাওয়া যায়। বিভিন্ন আচার আচরণ এই বইকেন্দ্রীক।

প্রশ্নঃ কোন দেশগুলোকে পার্সিয়ান বলা হয়?

উত্তরঃ পার্সিয়ান আর ইরানী এক নয়, তবে পার্সিয়ান বলতে যাদের বুঝানো হয় তারা বেশীরভাগই ইরানি। এছাড়া আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কি, ইরাক এবং আরো কিছু অঞ্চলের দেশগুলোকে পার্সিয়ান বলা হয়। এই অঞ্চলের মানুষগুলো কিছুটা আলাদা জাতিসত্ত্বার হলেও তাদের মাঝে পারসিয়ান যোগসূত্র আছে।

প্রশ্নঃ পার্সিয়ানরা কোন ভাষায় কথা বলতো?

উত্তরঃ ফারসি বা, ফার্সি হচ্ছে পার্সিয়ানদের ভাষা। ইন্দো ইউরোপীয় এবং ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে এই ভাষাটি এসেছে। এই ভাষাগোষ্ঠীর মাঝে সবচেয়ে বেশী প্রচলিত এই ভাষাটি। ভাষা নিয়ে আগ্রহ থাকলে পড়তে পারেন- হিন্দি ভাষার উৎপত্তি কিভাবে হয়?

প্রশ্নঃ পার্সি ধর্মের সৃষ্টিকর্তা কে?

উত্তরঃ পার্সি ধর্মের সৃষ্টিকর্তাকে বলা হয় অহুরা মাজদা। তারা এই একজন সৃষ্টিকর্তাকেই বিশ্বাস করে। এই ধর্মে সৃষ্টিকর্তার পাশাপাশি ধ্বংসের আত্মা বা, শয়তানের আত্মার ধারণাও আছে। শয়তানের আত্মাকে বলা হয় আংরা মাইন্যু।

ভারতে পার্সি ধর্মের অনুসারী

বাংলাদেশে এই ধর্মের অনুসারী দেখা যায় কি না জানি না, তবে ভারতে দেখা যায়। জার্মান সংবাদমাধ্যমে ডয়েচে ভেলের একটি প্রতিবেদনে দেখলাম কলকাতায় পার্সি সম্প্রদায়ের জীবন, সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনী হয়েছে যেটির নাম- বহমান ঐতিহ্যের ধারা

ধারণা করা হয়, ইরান থেকে তারা পালতোলা জাহাজে করে নিজেদের ধর্ম ও ঐতিহ্য রক্ষার্থে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। এরা অগ্নি উপাসক হিসেবেও পরিচিত। অগ্নি মন্দিরে তারা ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ নিষেধ।

 

তথ্যসূত্রঃ 

  1. ইংরেজি উইকিপিডিয়া
  2. জরুথ্রুষ্টীয় আর্কাইভ
(Visited 182 times, 1 visits today)
1
likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

ইসলাম ধর্ম

নবীজির অঙ্গীকারনামা

খ্রিস্টান সন্যাসীদের প্রতি নবীজির অঙ্গীকারনামা একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সমাদৃত। পৃথিবীর প্রাচীনতম গীর্জাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সেইন্ট ক্যাথরিনের গীর্জা। সিনাই
যিশু খ্রিস্ট

যিশু খ্রিস্টের জন্ম ও অন্যান্য

যিশুকে বলা হয় নাজারাথের যিশু। খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা তাকে ঈশ্বরের পুত্ররূপী ঈশ্বর এবং মেসিয়াহ মনে করেন। তিনিই খ্রিস্ট ধর্মের কেন্দ্রীয়

নাস্তিকতাবাদ, অজ্ঞেয়বাদ এবং অন্যান্য মতবাদ

নাস্তিকতাবাদ বলতে আমরা এমন মতবাদকে বুঝি যেখানে ঈশ্বরের বা, কোন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না। এর বাইরে আরো কতগুলো

শিন্টো ধর্ম- জাপানের মানুষের ধর্মবিশ্বাস

শিন্টো ধর্ম বহুঈশ্বরবাদী একটি ধর্ম। শিন্টো শব্দের অর্থ দেবতার পথ। এই ধর্মে সৃষ্টিকর্তাকে বলা হয় কামি। অসংখ্য স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে

Leave a Reply