উপদেশ দেওয়ার সঠিক নিয়ম

0
মানুষকে সৎকর্মশীল হওয়ার উপদেশ দেওয়া আজ একটি পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ সাহিত্যের মাধ্যমে উপদেশ দেয়, কেউ উপদেশ দেয় বক্তৃতার মাধ্যমে। মসজিদের মেম্বারে উপদেশ যেমন হয় তেমন উপদেশ হয় সাধারণ হাটে বাজারে। আলেম-ওলামা থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই একে অপরকে উপদেশ দিতে ব্যস্ত কিন্তু নিজের বেলায় মানুষের চিন্তা চেতনা চলে যায় ভিন্ন দিকে।

 

উপদেশ দিতে ভালবাসি অনেকেই কিন্তু সেই উপদেশের আলোকে সুন্দর জীবন গঠন করতে পারা যে বড়ই কঠিন। আর এই কঠিন কে কঠিন হিসেবে রেখে দিয়ে অনেকেই শুধু উপদেশ দিয়ে যায় কিন্তু নিজের বেলায় তার আমল করে না।

 

উপদেশ দানকারীকে সবসময় জ্ঞানী হিসেবে ধরা হয়। জ্ঞানের কথা সব সময় সুকৌশলী হয়। এজন্য আল্লাহ তা’আলা যখন উপদেশ দানকারীদের ব্যাপারে কথা বলেছেন তিনিও কৌশল অবলম্বন করে কথা বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন তাদের ব্যাপারে যারা উপদেশ দেয়।

 

মধ্যমপন্থী আলেম বা মধ্যমপন্থী বক্তৃতা যারা দেয় তারা একটি বিষয়ের সকল দিক বর্ণনা করে। এরপরে উপস্থিত শ্রোতাদের কাছেই সে বিষয়ে প্রশ্ন রাখে এর মধ্যে আপনারা কোনটা বেছে নিবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার। যারা জ্ঞানী তারা সত্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। উপদেশ দানকারীরা যেহেতু জ্ঞানী সেহেতু আল্লাহ তাআলা উপদেশ দানকারীদের কে ঠিক এভাবেই উপদেশ ও সুপরামর্শ দান করেছেন।

 

আল্লাহ-তাআলা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন,

 

اَتَاْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَ تَنْسَوْنَ اَنْفُسَكُمْ وَ اَنْتُمْ تَتْلُوْنَ الْكِتٰبَ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ

 

তোমরা অন্যদের সৎকর্মশীলতার পথ অবলম্বন করতে বলো কিন্তু নিজেদের কথা ভুলে যাও। অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করে থাকো। তোমরা কি জ্ঞান বুদ্ধি একটুও কাজে লাগাও না?

[সুরা আল বাক্বারা, আয়াত: ৪৪]

 

সুতরাং নিজের বুদ্ধির সঠিক ব্যবহার করতে এবং সুন্দর জীবন গঠন করতে আমাদের উচিত আল কুরআনের উপদেশগুলো অন্যের কাছে প্রচার করা। অন্যকে সৎ কাজের পরামর্শ ও উপদেশ দেওয়া এবং নিজেকে সৎকর্মশীলদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু আমরা কি আসলেই সঠিকভাবে উপদেশ মেনে চলতে পারছি? আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।

 

লেখক: ফারুক আব্দুল্লাহ

তারিখ: ১৪-০১-২০২৩


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

ফারুক আব্দুল্লাহ

Author: ফারুক আব্দুল্লাহ

শৈশব গ্রামে কাটলেও কৈশোরকাল থেকেই শহুরে জীবনে অভ্যস্ত। গাঁয়ের মক্তবেই মূলত পড়ালেখার হাতেখড়ি। দেশসেরা মাদরাসায় পড়ার সৌভাগ্যও হয়েছে। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত একজন তরুণ। ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক কয়েকটি সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি লেখালেখিতে মনোযোগ দিয়েছি। আরব পূর্বযুগ থেকেই সাহিত্যে চির উন্নত। দেশে ইসলামী সাহিত্যের অবহেলিত করুণ অবস্থা দেখে বুক কষ্ট হয়। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে লিখছি ইসলামী আদর্শ পৌছেঁ দিবো প্রতিটি সেক্টরে। আমাদের সকল আয়োজন যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়। আমিন।

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

ChatGPT দিয়ে ব্লগ লেখা কিভাবে শুরু করবেন (২০২৬ সম্পূর্ণ গাইড)

ডিজিটাল যুগে ব্লগিং এখন আর কঠিন কিছু নয়; বরং সঠিক টুল ব্যবহার করতে পারলে যে কেউ খুব সহজেই একটি সফল

AI দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায় (২০২৬ সালের সম্পূর্ণ গাইড)

বর্তমান ডিজিটাল যুগে Artificial Intelligence (AI) শুধু প্রযুক্তির একটি অংশ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী আয়ের মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়েছে।

হযরত আলী (রা:) এর জীবনী

হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি সাহস, জ্ঞান, ন্যায়বিচার এবং তাকওয়ার জন্য সুপরিচিত।

খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের নসিহত : একটি চিরন্তন আদর্শ ও বর্তমান উম্মাহর বাস্তবতা

ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ একটি যুদ্ধের প্রাক্কালে তার সেনাপতি মানসুর বিন গালিবের উদ্দেশ্যে একটি উপদেশপূর্ণ

2 Replies to “উপদেশ দেওয়ার সঠিক নিয়ম”

Leave a Reply