দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ এবং আধুনিক করতে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ‘ফুয়েল পাস’ (Fuel Pass) নামক কিউআর কোড ভিত্তিক একটি ডিজিটাল সিস্টেম চালু করেছে। গত ৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পাইলট প্রজেক্টের উদ্বোধন করা হয়।
১. পাইলট প্রজেক্টের বর্তমান অবস্থা (এপ্রিল ২০২৬-এর নিউজ আপডেট)
প্রাথমিকভাবে এই সিস্টেমটি ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে:
-
ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও।
-
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন, আসাদগেট।
বর্তমানে শুধুমাত্র মোটরসাইকেল চালকরা এই সুবিধার আওতায় নিবন্ধিত হতে পারছেন। পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে খুব দ্রুত এটি সারাদেশে সকল প্রকার যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
২. কেন এই ফুয়েল পাস সিস্টেম?
সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং কৃত্রিম সংকট রোধে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
-
কৃত্রিম সংকট রোধ: একই ব্যক্তি যাতে বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে না পারে।
-
রিয়েল-টাইম মনিটরিং: একটি সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সারা দেশের তেলের মজুত ও বিতরণ পর্যবেক্ষণ করা।
-
বিআরটিএ ইন্টিগ্রেশন: সরাসরি বিআরটিএ-র কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সাথে যুক্ত থাকায় ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গাড়ি তেল নিতে পারবে না।
৩. নিবন্ধনের বিস্তারিত ধাপ (ধাপে ধাপে নিয়ম)
নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার জন্য আপনার কাছে NID, গাড়ির ব্লু-বুক (রেজিস্ট্রেশন পেপার), ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
ধাপ-১: ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘Fuel Pass’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন। অথবা সরাসরি fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
ধাপ-২: রেজিস্ট্রেশন শুরু ওয়েবসাইটের ‘রেজিস্ট্রেশন’ অপশনে গিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর এবং বিআরটিএ-তে নিবন্ধিত গাড়ির নম্বরটি প্রদান করুন।
ধাপ-৩: ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। সেটি সাবমিট করার পর আপনার নাম, এনআইডি নম্বর এবং একটি পাসওয়ার্ড সেট করে প্রোফাইল তৈরি করুন।
ধাপ-৪: কিউআর কোড সংগ্রহ নিবন্ধন সফল হলে সিস্টেম থেকে একটি ইউনিক QR Code তৈরি হবে। স্মার্টফোন না থাকলে আপনি ওয়েবসাইট থেকে এই কোডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে আপনার সাথে রাখতে পারেন।
৪. ফুয়েল পাস ব্যবহার করে তেল নেয়ার পদ্ধতি
-
পাম্পে যাওয়ার পর অপারেটরকে আপনার কিউআর কোডটি দেখান।
-
অপারেটর তার ডিভাইসে কোডটি স্ক্যান করলে আপনার জন্য বরাদ্দকৃত কোটা বা তেলের পরিমাণ দেখতে পাবেন।
-
তেল নেওয়ার পর আপনার মোবাইলে সাথে সাথে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসবে এবং আপনার কোটা আপডেট হয়ে যাবে।
প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য বিশেষ নোটিশ (নমুনা)
নিচের নোটিশটি গত সপ্তাহের সরকারি নির্দেশনার আলোকে সাজানো হয়েছে:
[প্রতিষ্ঠানের নাম/বিভাগ] তারিখ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬
জরুরি নোটিশ: সকল যানবাহন চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলককরণ
এতদ্বারা প্রতিষ্ঠানের সকল চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এবং ০১ মে, ২০২৬ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সকল প্রাতিষ্ঠানিক যানবাহনে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ‘Fuel Pass’ কিউআর কোড ব্যবহার করতে হবে।
করণীয়: ১. সকল চালককে অবিলম্বে fuelpass.gov.bd পোর্টালে গিয়ে স্ব-স্ব যানবাহনের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ২. নিবন্ধিত কিউআর কোডটি ল্যামিনেট করে গাড়িতে দৃশ্যমান স্থানে অথবা চালকের কাছে রাখতে হবে। ৩. কিউআর কোড ছাড়া কোনো জ্বালানি বিল ভবিষ্যতে হিসাব শাখা থেকে গ্রহণ করা হবে না।
আদেশক্রমে,
প্রশাসন বিভাগ
শেষ কথা
সরকারের এই ডিজিটাল উদ্যোগটি সফল হলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন কমবে এবং অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ বন্ধ হবে। আপনার পরিচিত মোটরসাইকেল চালক বা গাড়ি মালিকদের এই সিস্টেম সম্পর্কে অবহিত করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়তা করুন।
সতর্কতা: ফুয়েল পাস অ্যাপটি শুধুমাত্র গুগল প্লে-স্টোর বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নামান। থার্ড পার্টি কোনো লিংক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
