নেইমারের আইডল কে

নেইমারের আইডল কে? নেইমারের ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনের অনুপ্রেরণা

0

ফুটবল বিশ্বে নেইমার এক চিরবিস্ময়ের নাম। মাঠের ড্রিবলিং, গতি আর শৈল্পিক গোল করার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। তবে নেইমারের এই শৈল্পিক ফুটবলের নেপথ্যে কাজ করেছে নির্দিষ্ট কিছু কিংবদন্তির প্রভাব। নেইমার একাধিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল রবিনহো এবং ফুটবলের রাজা পেলে-র।

১. প্রধান আইডল: রবিনহো (Robinho)

নেইমারের জীবনের সবচেয়ে বড় আইডল বা আদর্শ হলেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা রবিনহো। সান্তোস ক্লাবে যখন নেইমার তার ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন রবিনহো ছিলেন সেখানকার সুপারস্টার। রবিনহোর ড্রিবলিং করার ভঙ্গি, স্টেপ-ওভার এবং চপলতা নেইমারকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে তিনি শৈশবে হুবহু রবিনহোকে অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন।

নেইমার একবার বলেছিলেন:

“আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন কেবল একজনের খেলার প্রেমে পড়েছিলাম। তিনি হলেন রবিনহো। আমি তার মতো চুল কাটতাম, তার মতো বুট পরতাম এবং তার প্রতিটি মুভ নকল করার চেষ্টা করতাম।”

২. কিংবদন্তি পেলে (Pele)

সান্তোস থেকে উঠে আসা যে কোনো ফুটবলারের জন্য পেলে এক অবিসংবাদিত অনুপ্রেরণার নাম। নেইমারের কাছে পেলেও একজন বড় আইডল। সান্তোসে খেলার সময় নেইমার সবসময় চাইতেন পেলের মতো ক্লাবের জন্য ট্রফি জিততে। পেলের ১০ নম্বর জার্সি নেইমারের গায়ে ওঠার পর তিনি সেই ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা করে চলেছেন।

৩. লিওনেল মেসি (Lionel Messi)

নেইমারের বড় হওয়ার পথে রবিনহো তার আইডল থাকলেও, পেশাদার জীবনে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর মেসির খেলা কাছ থেকে দেখে নেইমার নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন। নেইমার মনে করেন, ফুটবলার হিসেবে পরিপক্ক হওয়ার পেছনে মেসির ভূমিকা অতুলনীয়।


নেইমারের শৈশব এবং ফুটবলে হাতেখড়ি

১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলের মোগি দাস ক্রুজেস শহরে জন্মগ্রহণ করেন নেইমার ডা সিলভা সান্তোস জুনিয়র। তার বাবাও ছিলেন একজন সাবেক ফুটবলার। বাবার হাত ধরেই ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মে। তবে শৈশবে নেইমার কেবল মাঠে নয়, ফুটসালেও দুর্দান্ত ছিলেন। ফুটসালের ছোট জায়গায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পরবর্তী সময়ে তাকে বড় মাঠের দক্ষ ফুটবলারে পরিণত করে।

সান্তোসের সেই দিনগুলো

২০০৩ সালে নেইমার সান্তোসের যুব একাডেমিতে যোগ দেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার অভিষেক হয় মূল দলে। তার খেলায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই পুরনো ‘জিঙ্গো’ স্টাইল লক্ষ্য করা যেত, যা দেখে ফুটবল পণ্ডিতরা তাকে ‘পরবর্তী পেলে’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।


নেইমার কি কেবল ফুটবল খেলেন? তার বহুমুখী প্রতিভা

নেইমার কেবল মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, বরং তার জীবনযাত্রার স্টাইল দিয়েও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তিনি গেমিং, ফ্যাশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমানভাবে সক্রিয়।

  • বিলাসবহুল জীবন: নেইমার তার ফ্যাশন সেন্স এবং ব্যক্তিগত স্টাইলের জন্য পরিচিত।

  • পরোপকার: নেইমার ‘Instituto Projeto Neymar Jr’ নামক একটি সংস্থা পরিচালনা করেন যা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে।

  • গেমিং: তিনি একজন দক্ষ কাউন্টার স্ট্রাইক এবং পাবজি খেলোয়াড়।


নেইমারের ক্যারিয়ারের অর্জন ও পরিসংখ্যান

নেইমার তার ক্যারিয়ারে সান্তোস, বার্সেলোনা, পিএসজি এবং বর্তমানে আল-হিলালের হয়ে খেলেছেন। তার অর্জনের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ:

ক্যাটাগরি তথ্য
জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২
জাতীয় দল ব্রাজিল
পজিশন ফরোয়ার্ড / উইঙ্গার
বার্সেলোনার হয়ে ট্রেবল ২০১৪-১৫ মৌসুম
ব্রাজিলের হয়ে গোল পেলের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ গোলদাতা
আইডল রবিনহো, পেলে

কেন নেইমার বিশ্বের অন্যতম সেরা?

নেইমারের সামর্থ্য নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তার ড্রিবলিং স্কিল নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। তিনি যখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে এগিয়ে যান, তখন তা যেন এক ফুটবলের কবিতা। নেইমার তার ক্যারিয়ারে অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন, চোট তাকে অনেক বড় বড় ম্যাচে মাঠের বাইরে রেখেছে, কিন্তু প্রতিবারই তিনি ফিরে এসেছেন প্রবল প্রতাপে।

নেইমার থেকে বর্তমান প্রজন্মের যা শেখার আছে

নেইমারের ক্যারিয়ার থেকে শেখার সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সৃজনশীলতা। তিনি কখনও বাঁধাধরা নিয়মে ফুটবল খেলেন না। নিজের আইডলদের থেকে তিনি কৌশল শিখেছেন ঠিকই, কিন্তু নিজের একটা স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।


উপসংহার

নেইমারের আইডল রবিনহো বা পেলে হলেও, আজ নেইমার নিজে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ তরুণের কাছে এক আইডল। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর শৈল্পিক মেধা থাকলে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম স্থানে পৌঁছানো সম্ভব।


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

admin

Author: admin

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

ফুটবল বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৫ গোলরক্ষক

ফুটবল বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৫ গোলরক্ষক

ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার হলো "গোল্ডেন গ্লাভস" (Golden Glove)। পুরো টুর্নামেন্টে যে গোলরক্ষক নিজের দক্ষতা, অসাধারণ সেভ এবং
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলার মাসকট ও লোগো- লেখক ডট মি

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগো এবং অফিসিয়াল ম্যাসকটের রহস্য ও অর্থ

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া উৎসব ‘ফিফা বিশ্বকাপ’ আবার দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসে নানা
ফুটবল খেলায় অফসাইড নিয়ম- লেখক ডট মি

ফুটবল খেলায় অফসাইড নিয়ম কি? সহজ ভাষায় অফসাইডের ব্যাখ্যা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হলেও এর একটি নিয়ম নিয়ে দর্শক, এমনকি অনেক সময় খেলোয়াড়দের মধ্যেও তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়। সেটি
বিশ্বকাপ ২০২৬ ব্রাজিল স্কোয়াড- লেখক ডট মি

ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ২০২৬: নেইমারের প্রত্যাবর্তন- ১০ নম্বর জার্সি পরবে কে?

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। বিশ্বমঞ্চের এই মেগা আসরকে সামনে

Leave a Reply