খুকীর আবদার

  চার বছরের খুকী ঘুমায় মা’র গল্প শুনে– ঘুমিয়ে পড়ে, স্বপ্ন দেখে বাবাকে পড়ে মনে।   মাথার উপর মাঝ দেয়ালে টাঙ্গানো বাবার ছবি মা বলেন- ‘সে মস্ত মানুষ তা-র মতন হবি?’   কোথায় আছে বাবা আমার বলোনা একটি বার– এনে দিলে তোমায় দেব পুরো –পুতুলের সংসার।   খেলনা, জামা, গাড়ী, জুতো সব নিয়ে যাও তুমি,

‘’অচেনা পথিক’’

“পথিক তুমি চলেছ কোথায় কোন পাড়াতে ঘর, একটু জিরোও, পথ বন্ধুর কে বা আপন,পর?   স্রোতস্বিনী নদীর মত চলছি অবিরাম– আজন্ম মোর এই নিয়তি বলছ কেন থাম?   ‘’কে তুমি পথিক মুখ চিনিনা কাদের বাড়ী যাবে—‘’ ঘর চিনিনা, যাই বহুদুর পথেই আমায় পাবে।   যুগ যুগান্তর সকল কালে আমার বিচরন, এই পৃথিবীর জন্ম হতে চলছে

এখন ও কি…

  দূর প্রবাসে পাঁচটি বছর যুগের মত লাগে, অর্থবিত্তে ভালই আছি তরল ভাবাবেগে।   অট্রালিকা, উঁচু দালান আকাশ অনেক দূরে– বাদ্য বাজনা, আলোর ঝলক চলছে সপ্তসুরে।   নির্ঘুম এই শহর বুঝি অনেক কথাই বলে, সবই আছে, কি যেন নেই মন কি চায় তা হলে?   নিশীথ রাতে চোখ বুঁজলে কাঁদার গন্ধ পাই– মাটির চুলায় মায়ের

সুযোগ পেলেই–

  পড়ালেখাটা ঠিকঠাক করি স্কুলে যাই রেগুলার, “পরীক্ষাতে কেন গুবলেট কর?” অভিযোগ বাবা মা’র।   ভেবেছি দেখাব সুযোগ পেলেই আমার মাথার জোর, রেজাল্ট দেখেই বুঝবে কেমন— পরীক্ষার উত্তর !   বাবার মাইনেতে মাস চলেনা টানাটানি বারো মাস– মাইনে বাড়াবো বস্‌কে পটিয়ে যদি পাই অবকাশ।   রান্নাঘরের পাকে বাঁধা, মা’র– ঘুরাঘুরির বড় সাধ, সুযোগ পেলেই পড়ব

বাবার আবদার

ব্যস্ত থাকি অফিস কাজে সন্ধ্যা নাগাদ ঘর, এই রুটিনে চলছে-ত বেশ জীবন নিরন্তর।   বাবুর স্কুলের পড়ার বোঝা রোজকার হোমওয়ার্ক– বন্ধু বান্ধব মিলে চলি সামলাই নেটওয়ার্ক।   মা’র ঔষধ, বাবার খরচ মাস শেষে দেই পাঠিয়ে, চিঠি ও লেখা হয়নাত আর সংসার নেই গুছিয়ে।   বাবা, মায়ের অনেক ঋন সবই আমি বুঝি– মাঝে সাঝে আপন মনে

প্রার্থনা

প্রভু, আমায় দাও ” বায়োনিক ওম্যান” এর ন্যায় শক্তিধর বায়োনিক কান, যেন শুনতে পাই অসহায় নির্যাতিতের তাৎক্ষণিক আর্তি, আকাশ বাতাস বিদীর্ণ হাহাকারময় কাকুতি -মিনতি। প্রভু, দাও আমায় “গুপি গাইন বাঘা বাইন” এর সেই যাদুর চাদর, যেথায় চড়ে দুর দুরান্ত পথ ভেদ করে যেন তৎক্ষনাৎ য়েতে পারি নির্যাতিতের পাশে। অসহায় সেই জনের হবো সহায়ক, সকল অপশক্তির

আকাশ…….

কাব্যের শুরু এখানে কাব্যের শেষ এখানেই অজস্র ভালোবাসা এখানে অজস্র কান্নাও এখানেই শব্দের পরে শব্দ আর ছবির পরে ছবি শিল্প আর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয় কত কবি নীল আর সাদার ছন্দে আসে কত স্বপ্ন সুর তবে মাঝে মাঝে কালো ছটায় ঢেকে যায় চাপা যত কান্না স্বপ্ন সেতো বহুদুর পরিধি আর প্রাপ্তি মাপতে গিয়ে কল্পনাতেও হয়না শেষ

কপালকুণ্ডলা ওড়িশা

হায় প্রিয়! কি মন্ত্র মাখিয়াছে তব চাহনি! ভুলিতে পারিনা যে অদৃশ্য তব মুখ খানি ! যে আঁখিতে চাহিলে মম বিজলিয়া চমকায়, এই হৃদয় মম শুধু তব পানেই চায় ! কাঁড়িয়াছো এই মম নজর, কাঁড়িয়াছো মম রাত্রি ঘুম, অন্তরে বাঁজিছে আনন্দ তোমায় লভিবার ধুম ! সংযম-সংবরণে চলিছে না মোর এ প্রাণমন মানিছে না সংস্কার বাঁধা, হৃদয়

এলোমেলো…..

কখনও খুজেছো আধারের শেষ কোথায় ভেবে দেখেছো আলোর সীমানার সমাপ্তি চোখের গভীরের জল কি পারবে মেপে দেখাতে ? পেয়েছো কি কখনও তীব্র রোদের পর এক পসলা বৃষ্টির প্রশান্তি জানি অদ্ভুত এই ক্ষণগুলো এড়িয়ে চলে যাবে স্বল্প সুখের ভাবনায় থাকবেনা তোমার মন জানি তার ছেড়া এই খুদ্র মানুষ আসবেনা কোন কাজে তবুও যদি হয় প্রয়োজন বুঝিয়ে

শ্রমিকের পক্ষে

ও সে অশেষ বিহনে রঙ্গ দহনে ছাই তোদের নিয়তি, অক্ষির সমক্ষে দেখিতাম তোরা ক্লান্তির অত্যাচার কে উপেক্ষা করিয়া দাঁড় বাইতি। যেন মুমূর্ষু প্রান্তে জীবন্ত হইতি জীবন্মৃত হইইয়া, এহেন কাজে নিজেকে ভিজিয়ে মরণ প্রপাত আনতি বহিয়া! ওহে তরঙ্গ জীবন নদেও আঘাত হানিয়া যাইত বিলীন গর্ভে বিলীত রাহী লইয়া সে বড়ই তৃপ্তি পাইত । আসুরিক নৃত্য ক্ষইয়া