ব্লগ ও ব্লগিং

ব্লগ তৈরি করার নিয়ম

ব্লগ তৈরির নানারকম টিউটোরিয়াল এবং নিয়ম অনলাইনে পাওয়া যাবে, অবশ্যই সেগুলোর মাঝে অনেক লেখাই আপনার উপকারে আসবে। তাদের ভেতর কেউ কেউ আছেন যারা মূল বিষয়টি না বুঝেই অন্য ইংরেজী ব্লগ থেকে পড়ে সেটি অনুবাদ করে প্রকাশ করে দিয়েছেন। সেগুলো পরিহার করাই শ্রেয়।

আমি আশা করছি, এই লেখাটির মাধ্যমে আপনাদেরকে কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবো যেটি আপনি জানতেন না, কিংবা, জানলেও এটি পড়ে অনেকটাই নিশ্চিত হতে পারবেন। ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস এবং আরো কিছু ব্লগিং প্ল্যাটফর্মের সাথে আমার পরিচয় আছে।

যারা ব্লগিং করেন, তারা ব্লগস্পট ব্লগে সেকেন্ডারি ব্লগ তৈরি করে অফ পেজ লিংক বিল্ডিং এর কাজ করতে পারেন। ব্লগস্পট হাই অথরিটি ডোমেইন হওয়ায় এটা কাজে লাগবে।

এডসেন্স এবং আয় সম্পর্কেও আমার ধারণা আছে, বাংলা ব্লগিং করে এডসেন্স থেকে কিছু টাকা আয়ও করেছি। নিল প্যাটেল, ব্রায়ান ডিন, র‍্যান্ড ফিশকিন, জুলিয়া ম্যাককয় এরকম কিছু সফল ব্লগারদের লেখা পড়েছি, ভিডিও দেখেছি। Alison এ এস ই ও নিয়ে একটি ছোট কোর্সও করেছি।

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

এর কোন এক বাক্যে উত্তর হয় না। এক টাকাও আয় নাও হতে পারে, মাসে ১০০০ ডলার বা, তার চেয়ে বেশীও হতে পারে। এটি মূলত নির্ভর করে পাঠকদের ক্রয়ক্ষমতার উপর। পাঠকেরা আগে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান, তাই এটিই আগে জানাচ্ছি।

আপনার ব্লগের পাঠকেরা যদি বড়লোক হোন, তাহলে বেশী দামি প্রডাক্টে আগ্রহ থাকবে। গুগল সেই প্রডাক্টের বিজ্ঞাপন দেখাবে আর, আপনার আয় বেশী হবে। তাঁর আগে জেনে নিন- বাংলা সাইট থেকে আয় করার পদ্ধতি।

মনে করুন আপনার ব্লগের পাঠকেরা বেশীরভাগই মধ্যবিত্ত আর, নিম্ন মধ্যবিত্ত- তাহলে নানারকম অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট লিমিটের মাঝে বেশী বা, কম আয় করতে পারবেন(লিমিট ক্রস করতে পারবেন না)।

নিশ বা, ব্লগের বিষয় যদি এমন হয় যে সেটাতে ধনীদের আগ্রহ আছে, তাহলে আপনার ব্লগের এডসেন্স এর CPC=Cost Per Click বাড়বে। গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার বা, অন্যান্য কিছু কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল আছে, এগুলোর মাধ্যমে এমন কিওয়ার্ড খুজে পেতে পারেন যেটাতে ভালো সার্চ হয়, ভিজিট হয় এবং আয়ও বেশী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাংলাদেশে বাংলা ব্লগে ১০০০ পেজ ভিজিটে(এড ভিউ impression আরো বেশী হবে তাতে) গড়ে ১ ডলার পাওয়া যায়(নিজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যদের অভিজ্ঞতা দেখে ধারণা করছি)। ইংরেজী ব্লগের ক্ষেত্রে এটি ১০/২০ ডলারও হতে পারে, কমও হতে পারে। তবে, বাংলার চেয়ে সব সময়ই অনেক বেশী। ঐযে বললাম পাঠকদের ক্রয়ক্ষমতা বেশী।

যেহেতু বেশী ভিজিট, বেশী টাকা পাওয়া যায়- তাই যারা মোটামুটি ইংরেজী লিখতে পারেন তারা ইংরেজীতে লিখতে আগ্রহী হন। বাংলাতে লিখেও অনেকে ভালো আয় করছেন কারণ, এখানে কম্পিটিশনও কম।

ব্লগিং শিখতে পারলে শুধু আর্টিকেল লিখেও আয় করা যায়, এক্ষেত্রেও বাংলার চেয়ে ইংরেজীতে বেশী টাকা আয় করতে পারবেন। একবাক্যে যারা এমাউন্ট বলে দেয় তারা না জেনেই বলে। CPC, CPM এগুলো এক বাক্যে হয় না। মূল ব্যাপার ঐটাই পাঠকদের ক্রয়ক্ষমতা আর, আগ্রহ।

সমাজের পরিবর্তন আনার মতো কোন প্রবন্ধ বা, শিক্ষামূলক কোন লেখা বা, যাই থাকুক না কেন সেটি থেকে আয় করতে পাঠকদেরকে বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে। শিল্পমূল্যের চেয়ে বাজারমূল্যই প্রাধান্য পাবে আয়ের ক্ষেত্রে।

আপনি চাইলে নিজের আনন্দের জন্য, অন্যদের কিছু জানাতে বা, সমাজ পরিবর্তন করতেও লিখতে পারেন। শুধু ধর্মবিদ্বেষ নয়, ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যেও মানুষ ব্লগ লেখে। নিজেকে আধুনিক যুগের প্রাবন্ধিক ভাবতে পারেন।

ব্লগ একাউন্ট কিভাবে খুলবো?

সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ব্লগার(ওয়ার্ডপ্রেস বাদ দিলে)। এটি গুগলের প্রডাক্ট, তাই নির্দ্বিধায় এখানে একটি একাউন্ট খুলতে পারেন। যে সুবিধাগুলো এখানে পাওয়া যাবে-

  • ওয়েবসাইট কখনো অফলাইনে থাকবে না, কম দামী হোস্টিং(দেখুন সেরা দেশী হোস্টিং) এ থাকে
  •  স্পিড ভালো থাকবে যে কারণে, ভিজিটর ভিজিট না করে চলে যাবে না
  • ফ্রি থিম ব্যবহার করা যাবে
  • ব্লগ তৈরি করার জন্য কোন জ্ঞান না থাকলেও চলবে, ছোটখাট বিষয় শিখে নিতে পারবেন
  • ফ্রিতেই একটি সাব ডোমেইন পাওয়া যাবে যার ডোমেইন অথরিটি ভালো
  • SSL Certificate ফ্রি, মানে ব্রাউজারে ভিজিট করলে(https সহ) নিরাপদ দেখাবে(সব সাইটে দেখায় না)

কিছু সমস্যা আছেঃ অনেক ফিচার যোগ করা যায় না, এডিট করে ইচ্ছামতো খুব ভালো ডিজাইন করা যায় না, ডেটাবেজ নাই, ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে নানারকম জিনিস যোগ করা যায় না।

Blogger এ গেলেই খুলতে পারবেন। আমি আলাদা করে বর্ণনা দিতে চাইছি না। গুগলের ব্লগে দেখুন– অনেক ব্লগেই অবশ্য সচিত্র বর্ণনা আছে। শুধু ব্লগের নাম, ডোমেইন নেম আর থিম সিলেক্ট করলেই হয়ে যাবে।

খুব মনঃযোগ দিয়ে পড়ুন

বিশ্বাস করতে কষ্ট হতে পারে কিন্তু, ব্লগের সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে যা উপস্থাপন করতে চাইছেন সেটি ঠিকমতো উপস্থাপন করা বেশী জরুরি। গুগল সার্চে সেই ব্লগটিকে আগে দেখায় যেটি ভিজিটরেরা আগ্রহ নিয়ে পড়ে আর, এক লেখা থেকে অন্য লেখাতে যেতে অর্থাৎ, অন্য লেখাগুলো পড়তেও আগ্রহী হয়।

নতুন যারা ব্লগিং শুরু করছেন, তারা ডিজাইন, ডোমেইন নেম, প্ল্যাটফর্ম(ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস ইত্যাদি) নিয়ে চিন্তাভাবনা কম করে কন্টেন্টে ফোকাস করুন। দিন শেষে ব্লগে ভিজিটরদের জন্য এমন কিছু দিতে পারছেন কি না যা তাদের কাজে লাগে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কিওয়ার্ড রিসার্চ করে ভিজিটর আছে এমন কিওয়ার্ড নিয়ে লিখুন এবং সেটি যেন আপনার আগ্রহের বিষয়ে হয় সেটিও খেয়াল রাখুন। ব্লগার ছাড়া আরো কিছু প্ল্যাটফর্ম-

  • ওয়ার্ডপ্রেস (হোস্টিং আর, ডোমেইন কিনলে এর সব ফিচার ব্যবহার করা যায়। ফ্রিতে দরকার নাই)
  • Wix, Weebly ইত্যাদি আরো অনেক Web 2.0 সাইট আছে যেগুলোতে ব্লগিং করা যায়
  • Medium, Hubpages এগুলোতেও ব্লগিং করা যায়
  • আমাদের এই ওয়েবসাইট লেখক ডট মি বা, আরো অনেক বাংলা সাইটে লিখে প্র্যাকটিস করতে পারেন। কিছু কিছু সাইটে টাকাও পাওয়া যায়

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা হয় ভিজিটরদের জন্য, গুগল বা, সার্চ ইঞ্জিনের জন্য লিখলে গুগল সেটিকে পাত্তা দেয় না। গুগল পাত্তা সেই লেখাকেই দেয় যেটিকে পাঠকেরা পাত্তা দেয়। গুগলকে বোকা বানিয়ে ভিজিটর পাওয়ার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত কেউ সফল হয় নাই।

কিভাবে ব্লগ ডিজাইন করা যায়?

ব্লগ ডিজাইন

গুগল ব্লগার বা, ব্লগস্পট সাইটের ক্ষেত্রে ভালো ডিজাইনের টেমপ্লেট ব্যবহার করলেই ব্লগ ভালো দেখাবে। আমার Soratemplates এর টেমপ্লেটগুলো খুব ভালো লাগে।

টেমপ্লেট যোগ করার পরে Layout এ কিছু পরিবর্তন আনলেই ঠিকঠাক ডিজাইন পেয়ে যাবেন। মূল বিষয় হচ্ছে ডেস্কটপে এবং মোবাইলে সাইট ঠিক মতো দেখা যাচ্ছে কি না। ফ্রি টেমপ্লেট ব্যবহার করলেও হবে।

সিক্রেট টিপসঃ আসলে গোপন কিছু না, অনেকে জানে না। সাধারণভাবে টেমপ্লেট আপলোড দিলে কখনো কখনো ডিজাইন এলোমেলো দেখায়। আপলোড না দিয়ে আরেকটি কাজ করতে পারেন-

আপনারা ব্লগার ড্যাশবোর্ডের Theme এ চলে যাবেন। সেখান থেকে Customize লেখা খুজে পাবেন। ঐটাতে ক্লিক করলে Edit HTML পাওয়া যাবে। Edit HTML অপশনে ঢুকে সব কোড মুছে দিন।

আর, যে টেমপ্লেট ফাইল ডাউনলোড করেছিলেন সেটির .xml ফাইল ওপেন করে সব লেখা কপি করে ঐ যায়গায় পেস্ট করে দিন। তাহলে আর, কখনো এলোমেলো দেখাবে না।

ব্লগস্পট বা, গুগোল ব্লগারের শুরু থেকে শেষ

ব্লগস্পট ব্লগ কিংবা গুগোল ব্লগারে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রয়োজন শুধু একটি গুগোল একাউন্ট। একটি জিমেইল একাউন্ট থাকলেই সেটাতে লগ ইন করে blogger.com এ একই তথ্য ব্যবহার করে লগ ইন করতে পারবেন এবং একটি নতুন ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। যারা ব্লগস্পটে ব্লগ তৈরি করতে পারেন না তারা কেউ যদি এই লেখাটি পড়ে থাকেন,  আপনাদের বলবো কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে আপনাদের সমস্যার কথা আমাকে জানান।  আমি সমাধান দিতে চেষ্টা করবো। আর এই ছবিটি দেখে একটি ব্লগ তৈরি করে নিচের লেখাগুলোও পড়তে থাকুন, কাজে লাগবে। 

blogger

যাদের ব্লগস্পট ব্লগ আছে তাদের জন্য 

এমনিতেই কিছু টেমপ্লেট আপনি ড্যাশবোর্ডের থিম অপশনে গেলে দেখতে পাবেন। নিচের ছবিটি দেখুন-

template

Contemo, Soho এরকম নানান কিছু লেখা দেখতে পাচ্ছেন। এগুলো দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা যাবে। কিন্তু, এগুলোর চেয়ে অনেক বেশী ভালো দেখাবে এমন ব্লগ তৈরি করতে হলে কাস্টম টেমপ্লেট লাগবে, যা গুগোল আমাদের দিচ্ছে না।

ভালো টেমপ্লেট তৈরি করার জন্য HTML, CSS, Javascript জানা লাগে। আমরা যারা সেটা জানি না, তারা অন্য কারো কাছ থেকে টেমপ্লেট কিনে কিংবা, ফ্রিতে Template নিয়ে সুন্দর দেখতে এবং দ্রুত লোড হয় এমন সাইট তৈরি করতে পারি যা এস ই ও ফ্রেন্ডলি, ।  এই বাইরে আরো কিছু বিষয় জানাবো-

  • লোগো এবং ফ্যাভিকন আপলোড
  • কাস্টম ডোমেইন এপ্লাই করা(যেমন .com)
  • ওয়েবমাস্টারে ব্লগ সাবমিট করা
  • কপি প্রটেকশন
  • আরো কিছু যদি জানার থাকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন

১. লোগো এবং ফেভিকন আপলোড

লোগো আপনি নিজে তৈরি করবেন। অনেক ওয়েবসাইটে ফ্রিতে লোগো তৈরি করার সুবিধা দেয়, উইন্ডোজে নানারকম ছোটখাট সফটওয়্যার পাওয়া যায় যা দিয়ে লোগো তৈরি করা যায়। আগের কোন জ্ঞান ছাড়াই এসব জায়গা থেকে কাজ চালানোর মতো লোগো তৈরি করতে পারবেন। 

Screenshot 3

আপনার টেমপ্লেট আলাদা হওয়ায় ড্যাশবোর্ড অন্যরকম দেখালেও, Header আর Favicon লেখা সব জায়গায় পাবেন। ব্রাউজারের এড্রেসবারের উপরে বামপাশে, যেখান থেকে ট্যাব ওপেন করেন সেখানে Favicon দেখায়, এই সাইটেও দেখবেন দেখাচ্ছে। ছোট সাইজের একটি ছবি ১০০*১০০ বা, ২০০*২০০ বা, যা ইচ্ছা, বর্গ আকৃতির ছবি হলেই আপলোড করা যাবে। লোগোর ক্ষেত্রে এসব ঝামেলা নেই, তবে ওয়েবসাইট যাতে সুন্দর দেখায় আর আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে ভিজিটর যাতে করে সঠিক তথ্য পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। 

কাস্টম ডোমেইন এপ্লাই করা 

ব্লগে প্রথমে যে ডোমেইন দেয়া হয় সেটি something.blogspot.com এই আকারের। এখানে যদি আপনি something.com বা, অন্য যেকোন টপ লেভেল ডোমেইন যেমন .info, .org, .net, .site, .club যা কিছু যোগ করতে চান না কেন আপনাকে সেটি কিনতে হবে। কিছু কিছু ডোমেইন ফ্রিতে পাওয়া যায় যেমনঃ co.vu, co.nz, .ga, .tk ইত্যাদি। ফ্রি ডোমেইন ব্যবহার না করার জন্য আমি পরামর্শ দিচ্ছি। গুগোলের কাছে সব ডোমেইনই এক, তবে এগুলো প্রয়োজন ব্রান্ডিং এর জন্য। লোকে যাতে করে আপনার সাইট একনামে চিনতে পারে এই জন্য। এমনিতে কনটেন্টই রাজা। এই সাইটের লেখা যদি আপনার কাজে লাগে তাহলে দেখার প্রয়োজন নেই, ডোমেইন কি আর, হোস্টিং ই বা, কি। নিচের ছবিটি দেখুন-

custom%2Bdomain

 

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন ব্লগস্পট ড্যাশবোর্ডের Setting এ গেলে Publishing এর নিচে Blog Address দেখতে পাচ্ছেন। এখানে 3rd Party Domain যোগ করা যাবে। এখানে আপনার ডোমেইন এড্রেস লিখলেই দেখবেন দুটি জিনিস যোগ করতে বলতে। দুটি Cname, এই দুটির একটিতে আছে- www আর Point to তে আছে ghs.google.com ।

এটি কমন, এছাড়া দ্বিতীয় যেটি আছে সেটি আপনারটা আমি জানি না, এটির মাধ্যমেই কানেক্ট করা হয় আপনার ব্লগের সাথে। এই ভিডিওটি দেখতে পারেন- 

কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, সোজা আপনি যাদের ডোমেইন কিনেছিলেন তাদের ওয়েবসাইটে চলে যান, সেখানে দেখবেন DNS কোথায় আছে, সেখান থেকে DNS এডিট করে এই দুটি Cname আর চারটি A এর ঠিকানা যোগ করতে হবে। করলেই ২৪ ঘন্টার মাঝে আপনি 3rd party Domain এ এই সাইটের মতো টপ লেভেল ডোমেইন যোগ করতে পারবেন।

বুঝতে সমস্যা হলে এত মাথাব্যাথার দরকার নেই, ডোমেইন একটি পোশাকের মতো। আপনি দামি কাপড় পরলেও আপনি হাবলু হাবলুই থাকবেন আর, ইংল্যান্ডের প্রিন্স ময়লা, ছেড়া কাপড় পরলেও সে প্রিন্সই থাকবে। ওয়েবসাইটে কনটেন্ট হচ্ছে রাজা, বাকিসব পোশাক। ভালো কনটেন্ট থাকলে something.blogspot.com এর ঠিকানার মূল্য .com এর চেয়ে বেশী। 

একই ব্লগে একাধিক লেখক যোগ করা

অনেকেই এই অপশনটা ব্যবহার করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করেন না। ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে যেমন একাধিক ব্লগার যোগ করা যায়, গুগোল ব্লগারে তেমন সাইন আপের মাধ্যমে এটা করা যায় না। তবে কারো যদি গুগোলে একাউন্ট থাকে, কিংবা যদি নাও থাকে ইমেইলে তাকে ব্লগে Author হিসেবে এড করা যায়, এমনকি এডমিনও করা যায়।

দুটি কাজ-

  • Add authors  থেকে ইমেইলে ইনভাইটেশন পাঠাবেন
  • যার কাছে পাঠাবেন তিনি ইমেইল ইনবক্স এ গিয়ে সেই লিংকে গিয়ে গ্রহণ করবেন। এরপর থেকে blogger.com এ গেলেই লিখতে পারবে

ওয়েবমাস্টারে ব্লগ সাবমিট করা

গুগোল, বিং, ইয়ানডেক্স, বাইডু ইত্যাদি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইট সাবমিট করতে হবে তা না হলে ওরা আপনার সাইট সার্চে দেখাবে না(দেখালে ব্যাতিক্রম)। গুগোল সবচেয়ে জনপ্রিয়, তুলনামূলক দুর্বল বিং এরপর, Yandex  রাশিয়ান, Baidu চীনা। ওয়েবসাইট সাবমিট করার জন্য একটি একাউন্ট খুলতে হবে(Gmail থাকলে গুগোলে আছে, মাইক্রসফটে থাকলে বিং এ আছে), সাইটম্যাপ সাবমিট করতে হবে আর নিজের সাইটে ওদের মেটা ট্যাগ দেখিয়ে ওদের বুঝাতে হবে এই ব্লগের মালিক আপনি। 

এই সাইটের সাইটম্যাপ https://www.bloggingnseo.xya/atom.xml . ব্লগস্পটের যেকোন সাইটের ক্ষেত্রে শেষে /atom.xml লিখলেই সাইটম্যাপ হয়ে যায়। একটা সমাধান হয়ে গেলো, মেটা নিয়ে আপনার ব্লগার ড্যাশবোর্ডের থীম এর এডিট HTML এ গিয়ে <head> এর নিচে পেস্ট করে দিয়ে save করতে হবে। এরপর গুগোল, বিং বা, যাই হোক ওয়েবমাস্টারে Verify এ ক্লিক করলেই ভেরিফাই হয়ে যাবে। আর কোন কাজ নেই, মাঝে মাঝে রিপোর্ট দেখতে লগ ইন করতে পারেন। 

ওয়েবসাইটে লেখা কপি হওয়া বন্ধ করতে 

এটা একটি সমস্যা বটে, নতুন অনেক ব্লগার যারা নিজেরা দুই অক্ষর লিখতে না পারলেও অন্যের ব্লগের লেখা কপি করে হুবহু পোস্ট করে দিচ্ছে। আপনি শুধু একটি কাজ করুন, আপনার ব্লগের জন্য অন্তত এটা বন্ধ হয়ে যাবে- 

                    

protected by lekhok.me 

 

উপরের কোডটি কপি করে আপনার ব্লগের লেয়াউটে গিয়ে যেকোন জায়গায় একটি HTML/Javascript Gadget যোগ করুন.সেখানে এই কোড পেস্ট করে সেভ করুন। এবার ভিজিট করে দেখুন, আর কেউ কপি করতে পারছে না। 

 ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ তৈরি

আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেসেও ব্লগ তৈরি করে নিতে পারেন। এটি একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা, CMS. এখন ওয়ার্ডপ্রেস সবচেয়ে জনপ্রিয়। কারণ, এটাতে অনেক ফিচার সহজে যোগ করা যায় যা, অন্য প্ল্যাটফর্মে যায় না। CMS ফ্রি কিন্তু এটি ব্যবহার করতে হলে আপনার ডোমেইন, হোস্টিং লাগবে।

গুগল ফ্রিতে সাব ডোমেইন আর, হোস্টিং দেয়, এরকম ওয়ার্ডপ্রেসও দেয়, কিন্তু সেটা দিয়ে সবকিছু করা যায় না। তাই, ভালো হবে, কিনে শুরু করা। এজন্য ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে জানতে হবে।  একটি ব্লগ সাইট তৈরি করা খুব সহজ, এর জন্য সামান্য কিছু বিষয় জানলেই হবে।

আরো পড়ুন-

(Visited 77 times, 1 visits today)

এডমিন

Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

আরো লেখা খুঁজুন

Related Posts

এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়ঃ মিথ এবং বাস্তবতা

নতুন যারা ব্লগিং বা, ইউটিউবিং করে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এই লেখাটি লিখছি। অনেক
এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার প্রধান কারণ

আপনি যদি ব্লগার হয়ে থাকেন, আর আপনার একটি ব্লগ থাকে থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। বাংলায়, ইংরেজীতে বা, যেকোন
আর্টিকেল লেখার নিয়ম গুলো

আর্টিকেল লেখার নিয়ম- অবশ্যপাঠ্য

আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে যদি আপনি যদি প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। অথবা, যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং
অফ পেজ এস ই ও গাইড ২০২১

অফ পেজ এস ই ও গাইড ২০২১

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে অফ পেজ এস ই ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। না বুঝে বাজে ব্যাকলিংক তৈরি করার কারণে

Leave a Reply