বাংলা ব্লগিং

ব্লগ তৈরি করার নিয়ম

ব্লগ তৈরির নানারকম টিউটোরিয়াল এবং নিয়ম অনলাইনে পাওয়া যাবে, অবশ্যই সেগুলোর মাঝে অনেক লেখাই আপনার উপকারে আসবে। তাদের ভেতর কেউ কেউ আছেন যারা মূল বিষয়টি না বুঝেই অন্য ইংরেজী ব্লগ থেকে পড়ে সেটি অনুবাদ করে প্রকাশ করে দিয়েছেন। সেগুলো পরিহার করাই শ্রেয়।

আমি আশা করছি, এই লেখাটির মাধ্যমে আপনাদেরকে কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবো যেটি আপনি জানতেন না, কিংবা, জানলেও এটি পড়ে অনেকটাই নিশ্চিত হতে পারবেন। ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস এবং আরো কিছু ব্লগিং প্ল্যাটফর্মের সাথে আমার পরিচয় আছে।

এডসেন্স এবং আয় সম্পর্কেও আমার ধারণা আছে, বাংলা ব্লগিং করে এডসেন্স থেকে কিছু টাকা আয়ও করেছি। নিল প্যাটেল, ব্রায়ান ডিন, র‍্যান্ড ফিশকিন, জুলিয়া ম্যাককয় এরকম কিছু সফল ব্লগারদের লেখা পড়েছি, ভিডিও দেখেছি। Alison এ এস ই ও নিয়ে একটি ছোট কোর্সও করেছি।

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

এর কোন এক বাক্যে উত্তর হয় না। এক টাকাও আয় নাও হতে পারে, মাসে ১০০০ ডলার বা, তার চেয়ে বেশীও হতে পারে। এটি মূলত নির্ভর করে পাঠকদের ক্রয়ক্ষমতার উপর। পাঠকেরা আগে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান, তাই এটিই আগে জানাচ্ছি।

আপনার ব্লগের পাঠকেরা যদি বড়লোক হোন, তাহলে বেশী দামি প্রডাক্টে আগ্রহ থাকবে। গুগল সেই প্রডাক্টের বিজ্ঞাপন দেখাবে আর, আপনার আয় বেশী হবে। মনে করুন আপনার ব্লগের পাঠকেরা বেশীরভাগই মধ্যবিত্ত আর, নিম্ন মধ্যবিত্ত- তাহলে নানারকম অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট লিমিটের মাঝে বেশী বা, কম আয় করতে পারবেন(লিমিট ক্রস করতে পারবেন না)।

নিশ বা, ব্লগের বিষয় যদি এমন হয় যে সেটাতে ধনীদের আগ্রহ আছে, তাহলে আপনার ব্লগের এডসেন্স এর CPC=Cost Per Click বাড়বে। গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার বা, অন্যান্য কিছু কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল আছে, এগুলোর মাধ্যমে এমন কিওয়ার্ড খুজে পেতে পারেন যেটাতে ভালো সার্চ হয়, ভিজিট হয় এবং আয়ও বেশী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাংলাদেশে বাংলা ব্লগে ১০০০ পেজ ভিজিটে(এড ভিউ impression আরো বেশী হবে তাতে) গড়ে ১ ডলার পাওয়া যায়(নিজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যদের অভিজ্ঞতা দেখে ধারণা করছি)। ইংরেজী ব্লগের ক্ষেত্রে এটি ১০/২০ ডলারও হতে পারে, কমও হতে পারে। তবে, বাংলার চেয়ে সব সময়ই অনেক বেশী। ঐযে বললাম পাঠকদের ক্রয়ক্ষমতা বেশী।

যেহেতু বেশী ভিজিট, বেশী টাকা পাওয়া যায়- তাই যারা মোটামুটি ইংরেজী লিখতে পারেন তারা ইংরেজীতে লিখতে আগ্রহী হন। বাংলাতে লিখেও অনেকে ভালো আয় করছেন কারণ, এখানে কম্পিটিশনও কম।

ব্লগিং শিখতে পারলে শুধু আর্টিকেল লিখেও আয় করা যায়, এক্ষেত্রেও বাংলার চেয়ে ইংরেজীতে বেশী টাকা আয় করতে পারবেন। একবাক্যে যারা এমাউন্ট বলে দেয় তারা না জেনেই বলে। CPC, CPM এগুলো এক বাক্যে হয় না। মূল ব্যাপার ঐটাই পাঠকদের ক্রয়ক্ষমতা আর, আগ্রহ।

সমাজের পরিবর্তন আনার মতো কোন প্রবন্ধ বা, শিক্ষামূলক কোন লেখা বা, যাই থাকুক না কেন সেটি থেকে আয় করতে পাঠকদেরকে বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে। শিল্পমূল্যের চেয়ে বাজারমূল্যই প্রাধান্য পাবে আয়ের ক্ষেত্রে।

আপনি চাইলে নিজের আনন্দের জন্য, অন্যদের কিছু জানাতে বা, সমাজ পরিবর্তন করতেও লিখতে পারেন। শুধু ধর্মবিদ্বেষ নয়, ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যেও মানুষ ব্লগ লেখে। নিজেকে আধুনিক যুগের প্রাবন্ধিক ভাবতে পারেন।

ব্লগ একাউন্ট কিভাবে খুলবো?

সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ব্লগার(ওয়ার্ডপ্রেস বাদ দিলে)। এটি গুগলের প্রডাক্ট, তাই নির্দ্বিধায় এখানে একটি একাউন্ট খুলতে পারেন। যে সুবিধাগুলো এখানে পাওয়া যাবে-

  • ওয়েবসাইট কখনো অফলাইনে থাকবে না, কম দামী হোস্টিং এ থাকে
  •  স্পিড ভালো থাকবে যে কারণে, ভিজিটর ভিজিট না করে চলে যাবে না
  • ফ্রি থিম ব্যবহার করা যাবে
  • ব্লগ তৈরি করার জন্য কোন জ্ঞান না থাকলেও চলবে, ছোটখাট বিষয় শিখে নিতে পারবেন
  • ফ্রিতেই একটি সাব ডোমেইন পাওয়া যাবে যার ডোমেইন অথরিটি ভালো
  • SSL Certificate ফ্রি, মানে ব্রাউজারে ভিজিট করলে(https সহ) নিরাপদ দেখাবে(সব সাইটে দেখায় না)

কিছু সমস্যা আছেঃ অনেক ফিচার যোগ করা যায় না, এডিট করে ইচ্ছামতো খুব ভালো ডিজাইন করা যায় না, ডেটাবেজ নাই, ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে নানারকম জিনিস যোগ করা যায় না।

Blogger এ গেলেই খুলতে পারবেন। আমি আলাদা করে বর্ণনা দিতে চাইছি না। গুগলের ব্লগে দেখুন– অনেক ব্লগেই অবশ্য সচিত্র বর্ণনা আছে। শুধু ব্লগের নাম, ডোমেইন নেম আর থিম সিলেক্ট করলেই হয়ে যাবে।

খুব মনঃযোগ দিয়ে পড়ুন

বিশ্বাস করতে কষ্ট হতে পারে কিন্তু, ব্লগের সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে যা উপস্থাপন করতে চাইছেন সেটি ঠিকমতো উপস্থাপন করা বেশী জরুরি। গুগল সার্চে সেই ব্লগটিকে আগে দেখায় যেটি ভিজিটরেরা আগ্রহ নিয়ে পড়ে আর, এক লেখা থেকে অন্য লেখাতে যেতে অর্থাৎ, অন্য লেখাগুলো পড়তেও আগ্রহী হয়।

নতুন যারা ব্লগিং শুরু করছেন, তারা ডিজাইন, ডোমেইন নেম, প্ল্যাটফর্ম(ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস ইত্যাদি) নিয়ে চিন্তাভাবনা কম করে কন্টেন্টে ফোকাস করুন। দিন শেষে ব্লগে ভিজিটরদের জন্য এমন কিছু দিতে পারছেন কি না যা তাদের কাজে লাগে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কিওয়ার্ড রিসার্চ করে ভিজিটর আছে এমন কিওয়ার্ড নিয়ে লিখুন এবং সেটি যেন আপনার আগ্রহের বিষয়ে হয় সেটিও খেয়াল রাখুন। ব্লগার ছাড়া আরো কিছু প্ল্যাটফর্ম-

  • ওয়ার্ডপ্রেস (হোস্টিং আর, ডোমেইন কিনলে এর সব ফিচার ব্যবহার করা যায়। ফ্রিতে দরকার নাই)
  • Wix, Weebly ইত্যাদি আরো অনেক Web 2.0 সাইট আছে যেগুলোতে ব্লগিং করা যায়
  • Medium, Hubpages এগুলোতেও ব্লগিং করা যায়
  • আমাদের এই ওয়েবসাইট লেখক ডট মি বা, আরো অনেক বাংলা সাইটে লিখে প্র্যাকটিস করতে পারেন। কিছু কিছু সাইটে টাকাও পাওয়া যায়

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা হয় ভিজিটরদের জন্য, গুগল বা, সার্চ ইঞ্জিনের জন্য লিখলে গুগল সেটিকে পাত্তা দেয় না। গুগল পাত্তা সেই লেখাকেই দেয় যেটিকে পাঠকেরা পাত্তা দেয়। গুগলকে বোকা বানিয়ে ভিজিটর পাওয়ার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত কেউ সফল হয় নাই।

কিভাবে ব্লগ ডিজাইন করা যায়?

গুগল ব্লগার বা, ব্লগস্পট সাইটের ক্ষেত্রে ভালো ডিজাইনের টেমপ্লেট ব্যবহার করলেই ব্লগ ভালো দেখাবে। আমার Soratemplates এর টেমপ্লেটগুলো খুব ভালো লাগে।

টেমপ্লেট যোগ করার পরে Layout এ কিছু পরিবর্তন আনলেই ঠিকঠাক ডিজাইন পেয়ে যাবেন। মূল বিষয় হচ্ছে ডেস্কটপে এবং মোবাইলে সাইট ঠিক মতো দেখা যাচ্ছে কি না। ফ্রি টেমপ্লেট ব্যবহার করলেও হবে।

সিক্রেট টিপসঃ আসলে গোপন কিছু না, অনেকে জানে না। সাধারণভাবে টেমপ্লেট আপলোড দিলে কখনো কখনো ডিজাইন এলোমেলো দেখায়। আপলোড না দিয়ে আরেকটি কাজ করতে পারেন-

আপনারা ব্লগার ড্যাশবোর্ডের Theme এ চলে যাবেন। সেখান থেকে Customize লেখা খুজে পাবেন। ঐটাতে ক্লিক করলে Edit HTML পাওয়া যাবে। Edit HTML অপশনে ঢুকে সব কোড মুছে দিন।

আর, যে টেমপ্লেট ফাইল ডাউনলোড করেছিলেন সেটির .xml ফাইল ওপেন করে সব লেখা কপি করে ঐ যায়গায় পেস্ট করে দিন। তাহলে আর, কখনো এলোমেলো দেখাবে না।

একেবারে নতুনদের জন্য ছবিসহ হাতে কলমে দেখিয়ে দিতে পারছি না বলে দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনারা ব্লগারে একটি একাউন্ট তৈরি করে নিজেরা প্র্যাকটিস করুন, সমস্যায় পড়লে সেই সমস্যা লিখে গুগলে সার্চ করবেন তাহলেই পেয়ে যাবেন।

আমি এভাবেই শিখেছি, এবং এখনো মনে করি শেখার এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। সাঁতার শিখতে হলে প্রথমেই পানিতে নামতে হবে। নতুন যেকোন কিছুর ক্ষেত্রেই প্রথমে ভাববেন- আমি কি চাই, এরপর সেটা পাওয়ার জন্য কাজ শুরু করে দিন- একসময় অনেক কিছু শিখে যাবেন।

আজকেই একটি ব্লগ খুলে ফেলুন। Gmail এ একটি একাউন্ট থাকলে সেই তথ্য দিয়েই blogger.com এ লগ ইন করতে পারবেন। এরপর সাধারণ একটি ব্লগ তৈরি করে লিখতে থাকুন। যদি মনে হয় আমার ব্লগে এই জিনিস লাগবে, তখন খুজে বের করে সেটি শিখে যোগ করে নিন।

ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের একটি বিষয় বেছে নেবেন। এরপর সেই বিষয়ের গভীর থেকে গভীরে আলোচনা করবেন। শুধু  Search Console কেন সেরা কিওয়ার্ড প্ল্যানার সেটি আরেকটি লেখায় দেখাবো। 

(Visited 21 times, 1 visits today)
0
likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

টুইটার একাউন্ট

কিভাবে টুইটার একাউন্ট খুলতে হয়?

আপনি চাইলে আলাদা ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করে একাধিক টুইটার একাউন্ট খুলতে পারবেন। কিভাবে খুলতে হয় সেটি ধাপে ধাপে বর্ণনা করবো।
বাংলাদেশের সেরা হোস্টিং কোম্পানি

বাংলাদেশের সেরা হোস্টিং কোম্পানি

বাংলাদেশের হোস্টিং কোম্পানি নিয়ে কথা বলছি এবং তাদের মাঝে সেরা প্রভাইডারকে খুজে বের করার চেষ্টা করছি কারণ, এইসব সাইটে বিকাশ
অন-পেজ-এস-ই-ও-কি

পুরাতন আর্টিকেলের এস ই ও করার পদ্ধতি

ব্লগারেরা সাধারণত নতুন আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে এস ই ও এর ব্যাপারটা মাথায় রাখেন এবং পরে আর সেই আর্টিকেল নিয়ে ব্যাকলিংক
ব্লগের জন্য ফ্রি টেমপ্লেট

সেরা ১০ টি ফ্রি ব্লগস্পট টেমপ্লেট

ব্লগার বা, ব্লগস্পট টেমপ্লেট একটি সাধারণ ব্লগকে অসাধারণ করে তুলতে পারে। ভালো মাণের কাস্টম টেমপ্লেট যোগ করলে ওয়েবসাইটের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি

Leave a Reply