বাংলাদেশে এডসেন্সের টাকা

বাংলাদেশে এডসেন্স থেকে টাকা তোলার পদ্ধতি কি?

0

বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় লিখলেও এখন এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়া যাচ্ছে এবং এটি থেকে ব্লগাররা আয়ও করছেন, ইউটিউব তো রয়েছেই। বাংলাদেশ থেকে এডসেন্স থেকে টাকা তোলার ব্যাপারটা এই কারণেই উপস্থাপন করলাম যে, অন্যান্য দেশের মত অনেকগুলো অপশন বাংলাদেশে নেই।

এডসেন্স থেকে বাংলাদেশে টাকা তোলার পদ্ধতি

দুটি পদ্ধতিতে এডসেন্স বাংলাদেশে টাকা দেয়-

  1. ব্যংক চেক
  2. ব্যাংক ট্রান্সফার(Wire Transfer)

যারা কম্পিউটার ব্যবহার করছেন তারা বামপাশে Payments নামে একটি অপশন পাবেন। সেটি সিলেক্ট করলে ডানপাশে দেখতে পাবেন How you get paid. সেখান থেকে Manage Payment Method এ গিয়ে সেখান থেকে আবার Add Payment method এ যাবেন।

যারা চেকে টাকা নিতে চান তাদেরকে শুধু ঠিকানা দিলেই হয়। তবে ব্যাংক একাউন্টে টাকা নেয়াটাই ভালো(চেক ভাঙ্গানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগতে হয়)। যেকোন ব্যাংক একাউন্টে টাকা নেয়া যাবে, তবে বেসরকারী ব্যাংকগুলোতে দ্রুত টাকা আসে।

রকেটে এডসেন্স এর টাকা তোলা যাবে

যাদের অন্য ব্যাংক একাউন্ট নেই কিন্তু ডাচ  বাংলার মোবাইল ব্যাংক একাউন্ট রকেট আছে তারাও রকেটের মাধ্যমে এডসেন্সের টাকা আনতে পারবেন, বিকাশে সম্ভবত পারবেন না- কারণ ওরা ব্যাংক একাউন্ট দেয় না।

রকেটের মাধ্যমে টাকা পেতেও Wire Transfer এ গিয়ে ব্যাংক একাউন্ট যার নামে তাঁর নাম, একাউন্ট নাম্বার, SWIFT Code এগুলো সব দিতে হবে। SWIFT Code কি দেবেন এটি নিয়ে সংশয় থাকলে পার্শ্ববর্তী ডাচ বাংলার ফাস্ট ট্রাকে গিয়ে শুনে আসতে পারেন।

এডসেন্স এর টাকা পেতে সাধারণত ৩ মাস সময় লাগে। যখন আয় হয় তার পরের মাসে ঐ টাকাটা একাউন্টে জমা হয়। তার, পরের মাসে গুগল টাকাটা পাঠিয়ে দেয় – পেতে আরো কিছুটা সময় লাগে, মোবাইল একাউন্টে সাধারণ ব্যাংক একাউন্টের চেয়ে ১০-১৫ দিন বেশী সময় লাগতে পারে।

এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়া কত কঠিন?

খুব একটা কঠিন না, একটু চেষ্টা করলেই পাওয়া যাবে। যারা এপ্রুভাল পান নি তারা এই লেখাটা পড়তে পারেন- এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার উপায়। কঠিন হচ্ছে, ভালো মাণের আর্টিকেল লেখা এবং সেগুলোর মাধ্যমে পাঠককে সন্তুষ্ট করা বা, গুগল সার্চ থেকে অনেক পরিমাণে ভিজিটর পাওয়া যা, প্রকারান্তরে আপনার আয়কে বাড়িয়ে দেবে। ইউনিক এবং মোটামুটি ভালো মাণের আর্টিকেল, মোটামুটি ভালো ডিজাইনের ওয়েবসাইট, সার্চ থেকে কিছু ভিজিটর এগুলো থাকলেই এপ্রুভাল পেয়ে যাবেন, বাংলা ভাষায় ইংরেজীর চেয়ে সহজে পাওয়া যায়(৩ মাস, ৬ মাস ২৫/৫০ আর্টিকেল এগুলো গুগল মানে না)।

আপনার যদি মনে হয় কোন বিষয় সম্পর্কে আপনি জানেন, অন্যদের জানানোর মতো অনেক কিছু আছে, কোন বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে, তাহলে এডসেন্স থেকে আয় করতে এবং টাকা তুলতে আপনার কোন সমস্যা হবে না।

ব্লগের আয় কিসের উপর নির্ভর করে?

এডসেন্সের ক্ষেত্রে ব্লগের আয় মূলত নির্ভর করে RPM এবং CPC এর উপর। একটি ব্লগের কনটেন্ট, ভিজিটর, মাণ ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনদাতারা গুগলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখায়। তারা যখন বিড করে,  সেটি আপনার সাইটের সাথে মিলে গেলে আপনার সাইটে ঐ বিজ্ঞাপনগুলো দেখানো হয়। এতে আয় বেশী বা, কম হতে পারে।

১০০০ এড ভিউ এর জন্য একটা এমাউন্ট পাবেন, আবার এডে ক্লিক হলে বা, সেখান থেকে আরো কোন সুবিধা বিজ্ঞাপনদাতা পেলে বেশী টাকা পাবেন। আপনি হচ্ছেন প্রকাশক আর, বিজ্ঞাপনদাতা মার্কেটার। দুজনেই চাচ্ছেন লাভজনক ব্যবসা করতে।

পাঠকদের আগ্রহ আর, ক্রয়ক্ষমতা বেশী হলে সেই ব্লগে আয় বেশী হয়। এই কারণেই বাংলা ব্লগে কম আর, ইংরেজী ব্লগে আয় বেশী হয়। কিওয়ার্ড রিসার্চ করে কনটেন্ট তৈরি করলে কোন কিওয়ার্ডে কেমন ভিজিটর এবং আয়ের সম্ভাবনা আছে সেটা জানা যায়। সাদামাটাভাবে বাংলা ব্লগে CPC- $0.04 গড়ে ধরে নিতে পারেন। নিশ্চিত কোন এমাউন্ট নেই, ব্লগের নিশের উপর নির্ভর করে। ইউটিউব ভিডিও এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

গুগল এডসেন্স ব্যাংক একাউন্ট

সম্প্রতি এই লকডাউনে ইসলামিক ব্যাংক দ্রুত টাকা দিচ্ছে বলে ব্লগার এবং ইউটিউবারেরা জানিয়েছেন। জনপ্রিয় কিছু ব্যাংক অনেক দেরীতে টাকা দিচ্ছে। তবে, আপনি যেকোন বাংলাদেশী ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করেন না কেন, টাকা পাবেন।

সরকারী ব্যাংকগুলোতে সাধারণত সবচেয়ে বেশী দেরি করে। তাই, বেসরকারী কোন একটি ব্যাংকে একাউন্ট খোলাটাই বোধহয় ভালো হবে। আর, আপনার যদি Payoneer একাউন্ট থাকে তাহলে আপনি চাইলে Ezoic এ এপ্লাই করতে পারেন।

Ezoic হচ্ছে একটি MCM কোম্পানি(সম্ভবত)। এরা এডসেন্স, গুগল এড ম্যানেজার এবং আরো অনেক এড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির এড দেখায়। এবং টাকা দেয় Payoneer এ। এডসেন্স এর চেয়ে কিছু দিক দিয়ে অনেক ভালো-

  • ২০ ডলার তোলা যায়
  • আর্টিসিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে রেভিনিউ বাড়িয়ে দেয়(গুগোলের ইন্টিলিজেন্সের সাথে আরো কিছু যোগ করে)
  • ফ্রিতে এমাজন ক্লাউডে ওয়েবসাইট হোস্ট করতে দেয়
  • RPM এর চেয়ে বেটার হচ্ছে EPMV যা সরাসরি আপনার আয় ক্যালকুলেট করে

(এখন পর্যন্ত সবাই এদের কাছ থেকে বেশী আয় করতে পেরেছে এডসেন্স এবং গুগল এড ম্যানেজার এর চেয়ে)। এরকম বলা যায়- ইজোইক> গুগল এড ম্যানেজার> এডসেন্স

মাসে ১০,০০০+ পেজভিউ থাকলেই আপনি আবেদন করতে পারবেন। ২৪ ঘন্টার মাঝে এপ্রুভাল পেয়ে যাবেন। এরপর ezoic কিভাবে সাইটে ইমপ্লিমেন্ট করতে হয় সেই ব্যাপারে ২/৩ টা ছোট কোর্স করে, ইমপ্লিমেন্ট করে ফেলতে পারবেন। মূলত nameserver চেঞ্জ করলেই হয়ে যায়।

এরপর ক্রোমের একটি Extension ব্যবহার করে এড বসাতে হয়(এড বসানোর সময় ড্যাশবোর্ড থেকে লগআউট করে নিবেন)। নিচের ব্যানার থেকে একাউন্ট খুলুন, তাহলে আমিও কিছু কমিশন পেতে পারি-

5e6adcf5b838c
এর চেয়ে ভালো কিছু বিকল্প হচ্ছে- Adthrive, Mediavine- তবে সেগুলোর জন্য USA এর ট্রাফিক লাগে। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের জন্য এটাই আপাতত সেরা বিকল্প। এরা এডসেন্স এর বিজ্ঞাপনও দেখায়, যদি সেটা সবচেয়ে প্রোফিটেবল হয়, তা না হলে অন্যটা। আপনি শুধু একবার অপটিমাইজ করলেই হবে।

 

আরো পড়ুন-

0
(Visited 39 times, 1 visits today)

এডমিন

Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

আরো লেখা খুঁজুন

আপনার সক্রিয়তা পয়েন্টঃ

Related Posts

গুগল এডসেন্স টিপস

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় [ ২০২১ আপডেট]

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় হচ্ছে এডসেন্স এর নিয়মগুলো মেনে চলা এবং ব্লগ/ ওয়েবসাইটের জন্য অর্গানিক ভিজিটর নিয়ে আসা। গুগল আপনার
এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়ঃ মিথ এবং বাস্তবতা

নতুন যারা ব্লগিং বা, ইউটিউবিং করে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এই লেখাটি লিখছি। অনেক
এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার প্রধান কারণ

আপনি যদি ব্লগার হয়ে থাকেন, আর আপনার একটি ব্লগ থাকে থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। বাংলায়, ইংরেজীতে বা, যেকোন
আর্টিকেল লেখার নিয়ম গুলো

আর্টিকেল লেখার নিয়ম- অবশ্যপাঠ্য

আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে যদি আপনি যদি প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। অথবা, যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং

Leave a Reply