রক্ত বৃষ্টি – ভাস্কর পাল

0রক্ত বৃষ্টি ভাস্কর পাল   রক্ত ঝরছে – রক্ত ঝরছে ঘন কালো মেঘ গর্জে উঠেছে, চারিদিকে বাজে কাঁসর – ঘন্টা লাল রক্তের বৃষ্টি নেমেছে।   নদী নালা সব টলোমলো জলের বর্ণ রক্তিম সাজিছে, আকাশ সজ্জিত লোহিত মেঘে জলতরঙ্গ কানে বাজে।   থমকে উঠেছে চারপাশ রক্ত বৃষ্টি করছে নাশ! আর্তনাদের ডাক শোনা যায় বিশ্ব মেতেছে ধ্বংসে

বসন্ত প্রেম – ভাস্কর পাল

0বসন্ত প্রেম ভাস্কর পাল   দেখেছি তারে নীল পাহাড়ে খোলা কেশের দোলে, তাহার মায়ার অবুঝ স্পর্শে হৃদয় গেছে হারিয়ে।   নীল যমুনায় নৌকা লয়ে ভাসবো তাহার সনে- কল্পনাতে ঘর বেঁধেছি অগোছালো মনে।   সপ্ততরী ভাসিয়ে দেবো তাহার জন্যে আমি- পায়ের নুপুর কনক বালায় মানায় তাকে ভারী।   বৃষ্টি ভেজা সেই বিকেলে তাহারে কাছে পেলে- বাঁধবো

বারান্দা – ভাস্কর পাল

0বারান্দা ভাস্কর পাল   উত্তর কোণে দেতলার ঘরে আরাম কেদারায় পা দুলিয়ে ঠান্ডা বাতাস সাড়া ফেলে আমার বারান্দার চারিকোণে।   পাখির কুজন যায় যে শোনা ঐ দূরের গাছ গুলোতে- ভেসে যায় কত মেঘ দেখি দূর হতে বহু দূরেতে।   স্তব্ধ হয়ে চিঠি লিখি দূর ঠিকানায় পাঠাবো বলে- নিস্তব্ধতা কাটিয়ে হঠাৎ ফোনের রিংটোনে বেজে ওঠে।  

বনলতা সেন তুমি আছ সারাবেলা

0বনলতা সেনের বাড়িতে আমি কতবার গিয়েছি কেউ জানেনা। বনলতা সেনের বাড়িতে আমি রোজ রাতে যেতাম। সে চুপিচুপি আমার কাছে আসত। এসে বলত, ‘তোমাকে আমি ভালবাসি, তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবনা ‘। একদিন তো আমাকে শর্বতী মিঠা’র গুড় খাইয়ে ছেড়েছিল। আজ সেই বনলতা সেন মারা গেছে, আজ আমি কি করব? আজ আমি তার জন্য প্রার্থনায় বসব? তার

যাত্রা – ভাস্কর পাল

0যাত্রা ভাস্কর পাল   পথে বড্ডো বিপর্যয় উড়িয়া আসে ধূলি স্মরণে স্তম্ভিত ফেলে আসা পথ গুলি- নির্জন আলোতে পাতানো সব পথ যাত্রীরা ছুটে চলে নিজ নিজ গন্তব্যে সব।   আশায় আশায় স্বপ্ন গুলো ভাঙলো কেমন মনের আগোল বাঁধন ভাঙিয়া ছুটে চলে দুমড়ে মুছড়ে ইচ্ছা সকল।   পথের দিশা নেই যে জানা কোণ পথেতে যাওয়ায় মানা!

তব প্রতি – ভাস্কর পাল 

0তব প্রতি ভাস্কর পাল   ওহে অন্তরিত পুষ্প কুঁড়ি, ফুটিয়া ওঠো তুমি চরণও যুগলে স্থান নিয়ে উজ্জ্বল করো ভূমি, নিষ্ঠুর পীড়নে নিংড়ে লও বৃক্ষ রসের ক্ষুধা কত রাগিনী ছন্দ বাঁধে, অমর অমৃতের সুধা।   মৌন শান্তি সু-গম্ভীর তন্দ্রা, চন্দ্র সাঁঝে সজ্জিত অকন্ঠীত সুরের মাধুরী গীতও মাঝে পুজ্জিত। হে জলাধীর স্রোত মায়া স্নিগ্ধ শীতল অজানা ধারা

সময় – ভাস্কর পাল

0সময়  ভাস্কর পাল   সময় কাটছে ছিন্ন বেগে প্রহর গুনছি দ্রুত কত অজানা লুকিয়ে আছে সময়ের ভিড়ে নত; ভোরের শুরু করেছে সূর্য, অস্ত গিয়ে আনছে আঁধার চন্দ্র ছাড়া অমাবস্যা রাত ঘোর কালো অন্ধকার।   ঘড়ির কাটা স্তব্ধ নয়, চলছে একই ভাবে শান্ত শুধু চারপাশটা বেদনা শোনা যাবে, নীল আকাশের মেঘের চলন থেমে যায়নি কভু সময়

হারানো স্মৃতি – ভাস্কর পাল

0হারানো স্মৃতি  ভাস্কর পাল   শহরের সেই ডাকবাক্স গুলো, হারিয়েছে আজ হারিয়েছে আলাদিনের সেই আশ্চর্য প্রদীপ।   রোজই তো হারাচ্ছে! এ আর নতুন কি! বিশ্বাসটাও হারিয়েছে আজ, অন্তরের থেকে।   তুমি – আমি তবু আছি টিকে, এ স্তব্ধতার অচীন বুকে।   বাঙালির কাছে বাংলাই হারিয়েছে আজ বাংলা ভাষাটাকে মিটাচ্ছে, করছে নাশ   নবাগতরা চেনা না

ভালোবাসার প্রতি – ভাস্কর পাল

0ভালোবাসার প্রতি ভাস্কর পাল   বারে বারে আসে বসন্ত, আসে কত গাঁথা; লয়ে যায় উড়ায়ে কত সুখ, আনন্দের মুখরতা।   তুমি আসিয়াছো নিয়ে এক মধুরও ধ্বনি, উঠিল বাজিয়া জল-তরঙ্গ, নিশ্চুপে শুনি।   অঙ্গে অঙ্গে লাগিয়াছে বিরাট স্পন্দন, কাটিয়াছে মধ্যরাতের ঘোর আর্তনাদের ক্রন্দন।   অনন্ত হৃদয় মাঝে, কুণ্ডলীত আসন এ কি শুনি হে, বিচিত্র অন্তরের সুপ্ত

পদতলে – ভাস্কর পাল 

0পদতলে ভাস্কর পাল   থাকিনু তোমার চরণও যুগলে লুটায় মম প্রাণ তোমারও পদতলে দিও মোরে কেবল স্থান।   নির্ভয়ে অর্পণ করি জীবনের সুপ্ত বার্তা গুলি তুমি কেবল শুনিও সময় লয়ে সুপ্ত গল্প খানি।   স্তব্ধতা এনো ঠোঁটের কোণেতে শিথিল হয়ে বসে- আমি চাহিবো তোমা মুখপানে, চাতক পাখির বেশে।   শক্তি মোর অতি অল্প, তুমি দিও