রাস তাফারি

রাস্তাফারি, মানি এবং ক্রামা ধর্ম

0

এটিকে অনেক সময় রাস্তাফারি উচ্চারণ না করে উচ্চারণ করা হয় রাস তাফারি ধর্ম। এটি একটি আব্রাহামিক ধর্মবিশ্বাস এবং সম্ভবত একমাত্র ইব্রাহিমীয় ধর্ম যেটির উৎপত্তি আফ্রিকার জ্যামাইকায়।

১৯৩০ সালে এই ধর্মের উৎপত্তি, সে হিসেবে এটি একেবারেই নবীণতম ধর্ম। রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবেও এটি গড়ে ওঠে। প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান এবং আফ্রিকান রাজনৈতিক সংস্কৃতি এটির মূল বিশ্বাসের সাথে মিশে আছে।

রাস্তাফারি ধর্মের বিশ্বাস কেমন?

ঈশ্বরে বিশ্বাস অনেকটা খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীদের মত। সৃষ্টিকর্তাকে এরা ডাকে “জাহ” নামে। যিশুতে বিশ্বাস আছে এবং অনেকে মনে করেন যিশু খ্রিস্ট ছিলেন কালো বর্ণের। এরা এদের চুল কাটে না, তাই এই ধর্মের অনুসারীদের দেখলেই দেখবেন বড় চুলের মানুষ।

জ্যামাইকা হচ্ছে নরক, স্বর্গ হচ্ছে ইথিওপিয়া। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী তারা তাদের জন্মভূমি ইথিওপিয়াতে এই কারণেই ফিরে যেতে চায়। দুটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-

  • এরা স্বাস্থ্যসচেতন
  • মদ খায় না।

এটি রাষ্ট্র স্বীকৃত কোন ধর্মবিশ্বাস না। মেয়েদেরকে পুরুষদের অধীনস্থ মনে করা হয়, তারা রাজার দেখাশোনা করে। এরা বিশেষ ধরণের টুপি পরে যা মুসলিম, ইহুদি বা, খ্রিস্টান পোপের টুপির মতো নয়।

মানি ধর্ম

এর উৎপত্তি ইরানে। মানি ধর্ম বেশ পুরনো একট ধর্ম। ২০০-৩০০ খ্রিস্টাব্দের মাঝে ইরানে এই ধর্ম প্রচার করেন মানি নামের এক ভদ্রলোক। এটাকে এখন বিলুপ্ত ধর্ম বলা যায়। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ছড়িয়ে পড়েছিল। চীন পর্যন্ত এর প্রসার ঘটেছিল। এই ধর্মে দুটি পৃথিবীর কথা বলা হয়-

  • আলোকময় পৃথিবী
  • অন্ধকার পৃথিবী

তার মতে, এই দুই ধরণের বিশ্বের সংঘাতে প্রথমে অন্ধকারের জয় হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোকময় পৃথিবী বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হবে। তখনকার সময়ে বুদ্ধ, যিশু, জরুথ্রুষ্ট এদের মতো ধর্মপ্রচারকদের সম্মানের চোখে দেখা হতো এবং অনুসারি ছিল।

মানির মতে তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ নয়। উইকিপিডিয়া অনুসারে- চীনে এখনো এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। এটাকে আলোর ধর্ম নামে ডাকা হয়। কেউ আবার এটিকে ইংরেজী Money বা, বাংলা টাকা ভেবে বসবেন না। টাকা নিয়ে লেখাও পড়তে পারেন- টাকা কথন

ক্রামা ধর্ম

এই ধর্মের উৎপত্তি বাংলাদেশে। এটিকে পৃথিবীর নবীনতম ধর্ম বললে বোধহয় ভুল হবে না। এই ধর্মের ধর্মগ্রন্থের নাম ‘রায়ং খিতি’ বা, ভালো নীতি। বাংলাদেশের ম্রো জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এই ধর্মের অনুসারী। আপনাদেরকে একটি ভিডিও দেখাই-

১৯৮৪ সালে মানলাই ম্রো এই ধর্মের সূচনা করেন। এটি এখন ম্রোদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ধর্ম। এছাড়া তাদের মাঝে খ্রিস্ট ধর্ম এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক আচার- আচরণ প্রচলিত আছে।

আরো পড়ুনঃ
তথ্যসূত্রঃ
ব্যবহৃত ছবিটি কপিরাইটের আওতাধীনঃCreative Common Share alike 2.0 license এর অন্তর্ভূক্ত। ছবিটি তুলেছেন রড ওয়েডিংটন, ছবির উৎস
ঠিক ধরেছেন, ছবিটি Flickr থেকে নেয়া।
0
(Visited 104 times, 1 visits today)

এডমিন

Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

Related Posts

বই রিভিউ: হাদিসের নামে জালিয়াতি

পবিত্র কুরআনের পরে ইসলামি জ্ঞানের দ্বিতীয় ও বিশুদ্ধতম উৎস হলো হাদিস।আমাদের সমাজে বহু হাদিস প্রচলিত আছে।কিন্তু কেউ একটি বাণী শুনিয়ে
আল্লাহ এক জন

খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের প্রতি নবীজির অঙ্গীকারনামা

খ্রিস্টান সন্যাসীদের প্রতি নবীজির অঙ্গীকারনামা একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সমাদৃত। পৃথিবীর প্রাচীনতম গীর্জাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সেইন্ট ক্যাথরিনের গীর্জা। সিনাই
নাজারাথের যিশু

যিশু খ্রিস্টের জন্ম ও অন্যান্য

যিশুকে বলা হয় নাজারাথের যিশু। খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা তাকে ঈশ্বরের পুত্ররূপী ঈশ্বর এবং মেসিয়াহ মনে করেন। তিনিই খ্রিস্ট ধর্মের কেন্দ্রীয়

Leave a Reply