#গল্প
কাবিন ব্যবসা
আফছানা খানম অথৈ
#education #school #summerfun #storytelling
শিল্পপতি আরিফ হায়দার সবেমাত্র ব্যবসার হাল ধরেছেন।বিদেশ থেকে ডিগ্রী নেয়া আরিফ হায়দার বাবার মৃত্যুর পর বাবার ব্যবসা বুঝিয়ে নিয়েছেন।অফিস কক্ষে বসে আছেন।খুব ক্লান্তি লাগছে, তাই চায়ে চুমু দিয়েছেন।ঠিক সেই মূহুর্তে ফেসবুক ওপেন করতে দেখতে পেলেন,একটা বিজ্ঞাপন। জরুরী ভিত্তিতে একমাত্র কন্যা সুমার জন্য সুদর্শন, শিক্ষিত স্টাবলিষ্ট পাত্র চাই।আগ্রহীরা যোগাযোগ করবেন নিচের নাম্বারে।
আরিফ হায়দার আর দেরী করল না।সেই নাম্বারে কল করল।একটা মেয়ে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করল।সে আর অন্য কেউ না,পাত্রী নিজেই। দু’জনের মাঝে আলাপ পরিচয় হলো।তারপর থেকে দুজনে নিয়মিত কথাবার্তা বলে।এক পর্যায়ের একে অপরের মাঝে ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা তৈরী হয়।দুজন দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
এদিকে আরিফ হায়দারের বিয়ের জন্য তার মা পাত্রী দেখা শুরু করে।আরিফ হায়দার ভাবল,মায়ের পছন্দের আগে সে তার নিজের পছন্দের কথা বলবে।তাই তড়িতগতিতে সুমার সাথে দেখা করে।সুমাকে তার পছন্দ হয়।তাই দেরী না করে সে সরাসরি বিয়ের কথা বলে।সুমাও রাজী হয়।কিন্তু শর্ত একটা সে পারিবারিকভাবে নয়,গোপনে বিয়ে করবে।আরিফ হায়দার পড়ল মহাবিপদে।এটা কি করে সম্ভব।একমাত্র ছেলের গোপনে বিয়ে,মা মানলে তো?সে মহাটেনশনে পড়ে যায়।
তার টেনশন দেখে সুমা বলে,
জান কী ভাবছ?
না মানে কিছু না।
তোমার মুখ দেখলে বুঝি কিছু একটা ভাবছ।বলো না কী হয়েছে?
না মানে আমি চাই পারিবারিকভাবে বিয়ে হোক।
আমার মা বাবা মানবে না।
কারণ কী?
কারণ হলো,বিদেশে সেটেল এক ডাক্তারের সাথে বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।তুমি যদি বিয়ে কর,আজই করতে হবে।তা না হলে বাবা সেই ডাক্তারের সঙ্গে বিয়ে দেবেন।
সত্যিই বলছ?
হুম জান সত্যিই।
আরিফ হায়দার ভাবল সত্যিই।তাই আর দেরী না করে চলে গেল কাজী অফিসে। তারপর বিয়ে করে সরাসরি চলে আসল বাসায়।
হঠাৎ ছেলের পাশে বউ বেশে একজনকে দেখে মায়ের চোখ উপরে উঠে গেল।তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
মেয়েটি কেরে?
সরি মা তোমাকে না জানিয়ে আমি একটা ভুল করেছি।
কী ভুল করেছিস?
মা তোমাকে না জানিয়ে আমি বিয়ে করেছি।
বলিস কী?
জ্বি হ্যাঁ মা সত্যিই।
তার পরিচয়?
আমেরিকান প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের একমাত্র কন্যা সুমা হোসেন।
তা গোপনে বিয়ে করার কারণ কী?
আমরা দুজন দু’জনকে ভালোবাসি। কিন্তু তার বাবা অন্যত্র বিয়ে দিতে চাই।তাই গোপনে বিয়ে করেছি।ওকে মেনে নাও মা।ওহ খুব ভালো মেয়ে।
একমাত্র ছেলে না জানিয়ে বিয়ে করেছে।মায়ের মনে একটু হলেও আঘাত লেগেছে।তবুও ছেলের সুখের কথা চিন্তা করে মেনে নিয়েছে।তাছাড়া সুমাও দেখতে অনেক সুন্দরী। যাক আপাতত বউ শ্বাশুড়ির মিল হলো।
সুমা কিন্তু ভালো মেয়ে না। ফাঁদে পেলে ছেলেদের বিয়ে করে।তারপর মোটা এমাউন্ট কাবিন নিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়।তারা এমনভাবে ভালোবাসার অভিনয় করে, ছেলেরা বুঝতে পারেনা,এটা আসল না নকল?সুমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।সে এমনভাবে ভালোবাসার অভিনয় করেছে,আরিফ হায়দার বুঝতে পারেনি,এটা যে প্রতারণা।তাই বিশ লাখ টাকা কাবিনে তাকে বিয়ে করেছে।
যাক সকাল হয়েছে,আরিফ হায়দার ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হলো।তারপর বউকে জাগাতে সে রাগাম্বিত হয়ে বলল,
এত সাজ সকালে কেউ ঘুম থেকে উঠে?
মা ডাকছে নাস্তা করতে উঠ?
না আমি এখন উঠব না।
আস্তে বলো,মা শুনবে তো?
শুনলে কী হবে?
কী হবে মানে?নতুন বউ এভাবে কথা বলে নাকি?
তো কীভাবে বলে?
ভদ্রভাবে কথা বলো?
তুমি আমার ঘুমের ডিস্টার্ব করলে,,রাবিশ।
কী আমি রাবিশ?
রাবিশ না হলে কেউ এত সকালে ঘুম থেকে বউকে জাগায়?
আরিফ হায়দার দেখল বউয়ের ভাবমুর্তি ভালো না। তাই আর কথা না বাড়িয়ে নাস্তা করে অফিসে চলে গেল।
অফিসে বসে বসে বউয়ের কথা ভাবছে।নতুন বউয়ের এমন আচরণ মেনে নিতে পারছে না।বারবার তার কথাগুলো মনে পড়ছে।
এদিকে ঘটে গেল আরেক কাণ্ড।সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে যাচ্ছে,তবুও বউ উঠছে না।এবার বাধ্য হয়ে বউকে জাগাল শ্বাশুড়ি। অমনি শুরু হলো বউ শ্বাশুড়ির মাঝে তুমুল ঝগড়া।কেউ কাউকে ছাড় দিলো না।ইচ্ছেমত নতুন বউ শ্বাশুড়িকে গালমন্দ করল।নতুন বউয়ের এমন আচরণ শুনে শ্বাশুড়ি তো অবাক।সঙ্গে সঙ্গে ছেলের কাছে ফোন করে সব জানাল। ছেলেতো অবাক,এ আমি কি বিয়ে করলাম।সকালে আমার সাথে ঝগড়া,এখন আবার মায়ের সাথে,ব্যাপার কী?সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সে ভাষায় ফিরে আসল।তারপর বউকে সত্য মিথ্যা জিজ্ঞাসা করতে,সে আর ও রেগে আগুন।কিছুতেই তার রাগ থামছে না।স্বামী সাধ্যমত চেষ্টা করছে বউকে থামানোর জন্য।কিন্তু সে থামছে না।এক পর্যায়ে স্বামী তাকে কড়া ধমক দিয়ে বলছে,
স্টপ,তুমি থামবে,নাকি আমি…।
থামলে কেন বলো,কী করবে?
একথা বলে সে স্বামীর জামার কলার চেপে ধরে ধস্তাধস্তি শুরু করে দিলো।স্বামী সহ্য করতে না পেরে কষে দিলো চড়।এক চড়ে সে কাত হয়ে পড়ে গেল।সেখান থেকে উঠে উত্তেজিত হয়ে স্বামীকে মারার জন্য তার গায়ের দিকে যাচ্ছে।তখনি স্বামী তাকে থামানোর চেষ্টা করছে,কিন্ত পারছে না।অবশেষে মা ছেলে দুজন মিলে তাকে থামাল।এবার সে মারমুখী হয়ে বলল,
তোর মতো অপদার্থ স্বামীর সংসার আমি করব না।
কারণ কি?
কারণ তুমি একটা অপদার্থ, মায়ের কথায় উঠবস কর।বউকে সম্মান দিতে জাননা।মায়ের কথায় বউয়ের গায়ে হাত তোল।আমার এমন স্বামীর দরকার নেই।
এখন তুমি কি চাও?
আমি ডিভোর্স চাই।আমার কাবিনের বিশ লাখ টাকা দিয়ে দাও।আমি চলে যাচ্ছি।
তার মানে তুমি বিয়ের নামে কাবিনের ব্যবসা করছ?
বেশি প্যাঁচাল করোনা।আমার কাবিনের টাকা দিয়ে দাও।আমি চলে যাচ্ছি।
এতক্ষণে আরিফ হায়দার বুঝতে পেরেছে।এটা বিয়ে না,প্রতারণা।বিয়ের নামে এরা কাবিনের ব্যবসা করছে।তাই বিয়ের প্রথম দিন বিনা কারণে ঝগড়া বাঁধিয়ে ডিভোর্স চাইছে।সে আর বাড়াবাড়ি না করে,একজন উকিলের সহায়তা নিয়ে তার বিশ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে দুজন সেপারেট হয়ে যায়।
বি:দ্র: গল্পটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা। বর্তমানে কিছু সুন্দরী মেয়ে বিয়ের নামে কাবিনের ব্যবসা করছে।সাবধান ভাইয়েরা বিয়ে করতে একটু জেনেশুনে করবেন।ফেসবুকের প্রেমে পড়ে জীবন ধ্বংস করবেন না।
