পৃথিবীতে কেবল ক্ষুধাই সত্য

0
পৃথিবীতে কেবল ক্ষুধাই সত্য, জঠরের অন্নলোলুপ আর্তি নয়,
সত্তার আদিম অনিবার্যতা,অস্তিত্বতত্ত্বের অনিবার্য উপপাদ্য,
নিজেকে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন অভাবের দর্শনে দীক্ষিত,
প্রাপ্তির সকল অলংকার বিলাসের ক্ষণস্থায়ী উপাখ্যানে বিলীন।

ক্ষুধা দেহ ধর্মের সীমানা অতিক্রমে চেতনার অন্তঃসলিলে গোপন বিস্তার;
মনস্তত্ত্বের অন্তঃসলিলে ইহার অনির্বচনীয় বিস্তার,
আকাঙ্ক্ষা–অপ্রাপ্তি–অধিকারলিপ্সার সমাসবদ্ধ অগ্নিসঞ্চারে
মানুষ ক্রমাগত অতিক্রম করে নিজস্ব সীমানা।

দুধহীন শিশুর দৃষ্টি  নিঃশব্দ, মহাবিশ্ববিদারী আর্তনাদ;
প্রাচুর্যের প্রাসাদে অতৃপ্তির অলিখিত অনুযোগ;
উভয়ই ক্ষুধার দ্বিবাচনিক স্বর,
একটি বাঁচার জন্য, অন্যটি অধিকারের অবসানহীন বিস্তার।

পূর্ণতা প্রতারণার সূক্ষ্ম অলঙ্কার
প্রাপ্তির পূর্ণ পাত্রেই অপ্রাপ্তির অণুজীব সুপ্ত থাকে;
অর্জনে উপলব্ধি করে অভ্যন্তরীণ শূন্যতার গহ্বর
অপরিমেয়, অনন্ত, অনির্বাপিত।

সভ্যতা নিজেকে  প্রতিষ্ঠিত করেছে ক্ষুধা-নিবারণের যুক্তিতে,
যুক্তিই নির্মাণ করেছে বৈষম্যের শিলাস্তম্ভ;
একদল তৃপ্তির অতিভারে অবনত,
অন্যদল অনাহারের প্রস্তরময় প্রান্তরে নির্বাক বিলীন।

ক্ষুধা নৈর্ব্যক্তিক নয়, দ্বিবাচনিক প্ররোচনা;
একদিকে জীবনধারণের মৌলিক নীতি,
অন্যদিকে লালসার অন্তহীন সম্প্রসারণ;
একটি মানুষকে সীমায় আবদ্ধ করে রক্ষা করে,
অন্যটি সীমাভঙ্গের উন্মত্ততায় ডেকে আনে ধ্বংস ।

পৃথিবীতে কেবল ক্ষুধাই সত্য, গতি, সৃজন,  বিনাশের আদিম সূত্র;
বাকি সব, যশ, ঐশ্বর্য, প্রভা, প্রতিষ্ঠার অলংকৃত উপকরণ,
সময়ের অনিবার্য ক্ষয়ে বিলাসের ক্ষণস্থায়ী প্রতিমূর্তি,
সত্তা ক্ষুধাকে অনুধাবন করে, শেখে অস্তিত্বের গভীরতম ব্যাকরণ ।


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

Azahar Raza

Author: Azahar Raza

কবি আজাহার রাজা—একজন স্বতন্ত্র কাব্যশিল্পী ও মননশীল চেতনার বাহক। তাঁর কবিতায় গভীর চিন্তার প্রবাহ ও শুদ্ধতার স্পন্দন এক অনন্য সৌন্দর্যের সন্ধান দেয়। তাঁর কাব্যচর্চা জাগতিক বাস্তবতার গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে যায় দর্শন, আত্মোপলব্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের গভীরে। প্রতিটি শব্দের নিপুণ ব্যবহারে তিনি বুনেন এক অলৌকিক নৈবেদ্য, যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে। তাঁর লেখনীতে শুদ্ধতা, ঐশ্বরিকতা ও মানবিকতার মেলবন্ধন এক মহাজাগতিক অনুরণন সৃষ্টি করে, যা প্রতিটি রচনাকে স্বতন্ত্র উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে।

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

বিবেক-অন্ধ জাতি

কালিমার ওই মর্ম বেদীন ওরা বুঝলো ঠিক। বিপথগামী জাতির প্রতি ছড়াল শত ধিক। এই কালিমার নিশান রেখে অন্য নিশান ধরে,

শিক্ষক ও সংস্কৃতি

সংস্কৃতি যে মনের আলো জাগায় নতুন দীপ্তি, তা ছাড়া কি শিক্ষকতায় আসবে মনের তৃপ্তি? মনন মাঝে শিল্প নাচে মেটায় প্রাণের

অন্তরালে তুমি

প্রভু তুমি সব জায়গায় আছো জানি তাও, পাগল হয়ে তোমায় খুঁজি একটু দেখা দাও। বুকের মাঝে আছো প্রভু জীবন-স্বামী হয়ে,

অনুতাপের সিজদা

সারা জীবন সিজদা দিলাম প্রভুর পাওয়ার তরে, আসল সিজদা হয়নি দেওয়া রইলো কাযা পড়ে। বাহির পানে রইলো নজর ভেতর ছিল

Leave a Reply