খড়কুটোর বাসায় নিখুঁত হস্তশিল্পের সৌন্দর্য

0

মৃদু রোদের আলতো ছোঁয়ায়, আবছা আলোয় যখন চারশাপ জেগে ওঠে, তখনই শুরু হয় ছোট্ট প্রাণিদের কন্ঠে মিষ্টি গুঞ্জন। কেউ কান পেতে শোনো এই সুমিষ্ট গান। কারো দিনের শুরু হয় পাখির কিচিরমিচির শব্দে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো বা রাতেও তারা অনবরত গান গেয়ে চলে। ক্লান্তি নেই, বিরাম নেই। ছোট ছোট ধ্বনি তুলে আলোড়ন তোলে হৃদয়ের তারে। আধুনিকায়নে অভ্যস্ত গোটা শহর যখন যান্ত্রিক কোলাহল আর শব্দ দূষণে ব্যস্ত —তখনি পাখির কন্ঠ নিঃসৃত মনোমুগ্ধকর সুর মুখরিত করে পরিবেশ। নিসর্গে ফেরায় প্রাণের পরশ, সজীবতা আসে প্রকৃতিতে।

বলছিলাম শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুখরিত এই ক্যাম্পাসটিতে বেড়েছে প্রাকৃতিক আশীর্বাদপুষ্ট নানান প্রজাতির পাখির আনাগোনা। এখানে বিভিন্ন সময় পাখির কলতান বিমোহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

পাখির স্বাচ্ছন্দ্য বসবাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষভাবে একটি জায়গার নামকরণ করা হয়েছে—‘পাখি চত্বর’। আইআইইর ভবন সংলগ্ন এই চত্বরটি একসময় ছিলো অতিথি পাখির মিলনমেলা। এছাড়া বর্ষার সময় খেজুর গাছে বাসা বোনে বাবুই পাখি। খড়কুটোর নিখুঁত গাঁথুনিতে গড়ে ওঠে বাবুই পাখির সংসার। বাসাগুলো তাদের তৃপ্তিময় পরিশ্রম আর নিখুঁত হস্তশিল্পের অনন্য প্রতিচ্ছবি।

শুধু পাখি চত্বরেই নয়, ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে অবাধ বিচরণ এই ছোট প্রাণিদের। অবাধ বিচরণ বলছি কারণ হাতে বন্দুক কেউ এদের তাড়ায় না। কিংবা খাঁচাবন্দি করার ফাঁদও পাতে না। আপন মনে গান গায়, তৃপ্তিভরে খুঁজে ফেরে আহারে। শুধু ছবি তুলতে গেলেই সাবধান! টের পেয়ে মূহুর্তেই উড়ে পালিয়ে যায়। যেন গোপন সৌন্দর্যের মতো রক্ষা করে নিজেদের।

আবাসিক হল থেকে শুরু করে ডরমেটরি ভবন, মীর মুগ্ধ সরোবর, রঙিন গাছপালার ফাঁকফোকর— সবখানে উড়ে বেড়ায় পাখিরা। দোয়েল,শালিক, কোকিল, ঘুঘু, ডাহুক, ফিঙে, পেঁচা, বাবুইসহ নানা প্রজাতির পাখির মিলনমেলা। সন্ধ্যায় ডরমেটরি ভবন সংলগ্ন এলাকায় পাখির কিচিরমিচির নাড়িয়ে তোলে প্রকৃতিকে। যেন গানের মাধ্যমে দলবদ্ধভাবে কিছু জানাতে চায় তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ল্যাম্পপোস্টও এখন তাদের দখলে। ছোট ল্যাম্পশেডের মধ্যে শৈল্পিক ধৈর্যের প্রমাণ দেয় তারা। একবার তো দীর্ঘ ছুটিতে ইবির জুলাই-৩৬ হলেও দেখা গিয়েছিল একটি ঘুঘু পাখির সংসার। বাসাটিতে রঙিন পাখির সাদামাটা বসবাস যেন কোনো নির্জন এলাকায় শান্তির সংসার। এভাবেই সারাবছর নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা জীবন্ত রাখে ক্যাম্পাসকে।

পাখি — প্রকৃতির এক অনবদ্য সৃষ্টি, সুন্দর নিদর্শন। প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা অপূর্ব রঙিন চিত্র। নীরবে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করে, মানবজাতির বন্ধুরুপে এগিয়ে আসে। গোটা পৃথিবী যখন কৃতিত্ব নিতে ব্যস্ত, তখন এরা আপন মনে সাজিয়ে তোলে প্রকৃতিকে। ক্যাম্পাসে পাখির আনাগোনা মুগ্ধ করুক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। যান্ত্রিক জীবনে বজায় রাখুক কোমল প্রকৃতির ছোঁয়া। প্রকৃতি সেজে উঠুক পাখির ঠোঁটের কারুকার্যে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ পাখিরাই শেখাতে পারে নির্লোভ সৌন্দর্য রচনা।


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

Shamima rahman

Author: Shamima rahman

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

হাসির হাট

হৈ-চৈ আর হাসির চোটে ঘুম উড়েছে ভাই, এমন মজার কাণ্ড শুনে হাসেনি কেউ নাই। মথুর বাবু হাসতে গিয়ে খেলেন বিষম

সত্যের জয় বার্তা

দেশের মানুষ অপরাধীর স্বচ্ছ বিচার চায়, ভুল করেছে যে মানুষটি কঠিন শাস্তি পায়। আইন সবার জন্য সমান নিয়ম মেনে চলে,

ভাসমান সত্য

ওল্টায় পাতা স্মৃতির খাতা চ্যানেল জুড়ে ঝড়, কয়েক দিনেই কর্পূরের মতো উবে ক্ষোভের জোর। নতুন খবর আসার সাথে পুরনো হয়

অভিমানের নীল উত্তর

প্রিয় মেঘবতী, ধূসর ধোঁয়ায় অনুভূতি ওড়াইনি আমি একটুও, বরং তোমার দেওয়া দীর্ঘশ্বাসগুলো বুকে জমিয়ে— আজো একলা আকাশ হয়েই বেঁচে আছি।

Leave a Reply