বৃষ্টি সংযোগ

0বাহিরে তাকিয়ে দেখি, অবিরাম বৃষ্টি পড়ছে— ঘন বরষা যাকে বলে! বৃষ্টির সাথে আমার আত্মার কেমন এক অজানা সম্বন্ধ।   বৃষ্টি নামলেই ভেতরে জেগে ওঠে এক অনির্বচনীয় অনুভূতি— উপলব্ধির চেষ্টায় থাকি, তবুও বোঝা হয় না ঠিকঠাক।   মাঝে মাঝে ভাবি, এই সম্পর্ক কি বিধাতার নির্ধারণ? নাকি জন্মপূর্ব আত্মাজগতের বন্ধন? কেন জানি মনে হয়, এ সম্পর্ক জনম

শান্তির আহ্বান

1তোমরা কি শুনতে পাও প্রভুর সে বাণী? থাকো শান্তিতে, মিলমিশে সকলে — ধরায় যত মিল-অমিল, বিভেদ হানি, সহাবস্থানে দিশা খোলে।   সূচনাতেই উঠেছিল অভিযোগ এক — “অরাজকতায় ভরবে এ ধরণী, শান্তির নীড়ে আনবে ব্যথা অনবরত, নিজ গৃহ করে তুলবে আগুনে ভস্মবরণী।”   তবু তিনি বলেছিলেন, ‘সৃষ্টি এ শ্রেষ্ঠ, আমার প্রতিনিধি এদের করিবো, আমার রহস্যে যাদের

মানুষ নামের কলঙ্ক

0মানুষ রূপে বনের পশু আছে বাংলা জুড়ে, মিশে গিয়ে মানব মাঝে খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে। পাথর দিয়ে মানুষ মারে ওঁরা পশুর জাত, বাংলাটাকে রাখতে ভালো ভাঙতে হবে দাঁত। এমন দানব ছিলো নাকো প্রাক জাহেলি যুগে, দেখে চেয়ে মরছে ক্যামনে পাথর আঘাত ভুগে। হত্যা যজ্ঞে উল্লাস করে আনন্দে তাই মাতে, বিবেকবোধে বলবে সবে ওঁরা পশুর জাতে। পাথর

রক্তেমোড়া লাশ

0আবু সাঈদ জুলাই মাসের বিপ্লবী ওই বীর, স্বৈরাচারকে রুখতে সবাই উচ্চে রাখে শির। জুলাইয়ের ওই প্রথম প্রহর ছিলো রক্তে লাল, স্মৃতির পাতায় অম্লান রবে জানি চব্বিশ সাল। ছাত্রদলের কন্ঠের ধ্বনি এসো সবাই লড়ি, স্বৈরাচারের গুলির মুখে লাশের ছড়াছড়ি। আবু সাঈদ মুগ্ধের লাশে আগুন জ্বলে বুকে, জীবন বাজি রেখে সবাই যায় দাঁড়িয়ে রুখে। নিরস্ত্র ওই বিপ্লবীদের

তুমি এসো

0তুমি এসো, ক্লান্ত হৃদয়ে বিশ্রাম হয়ে… দিনশেষের নিঃশ্বাসে তুমি হও শান্তির ছায়া, ভাঙা স্বপ্নগুলোকে জোড়া লাগানো একটুখানি আশা।   তুমি এসো, নিরব কথার ভেতরে কিছু বলার মতো হয়ে— আমি অপেক্ষায় আছি, তোমার ভালোবাসার মতো নিঃশর্ত কিছু হয়ে।   — নেশান্তপ্রতীক-আশরাফ 0

বর্ষার খুশি

0বর্ষা এলে সুবাস ছড়ায় কদম কেয়া গন্ধ, কবিরা তাই কাব্য সাজায় লিখে দারুণ ছন্দ। আষাঢ় এলো বর্ষা নিয়ে কদম কেয়া হাসে, বর্ষার জলে ছেলে মেয়ে নৌকা নিয়ে ভাসে। বর্ষা নামে রিমঝিম করে বর্ষা টিনের চালে, পাড়া গাঁয়ের মানুষ ছুটে হাওড় বাওড় খালে। বর্ষায় জলে যায় যে চাষি চারা ধানের ক্ষেতে, পাড়া গাঁয়ের ছেলে মেয়ে খেলায়

স্রোতের কণ্ঠে চন্দ্রাবিষ্ট জ্যোৎস্না

0চাঁদের বিমূর্ত আলোয় ধৌত স্রোতের অন্তর্গত স্তব্ধতা, স্রোতের কণ্ঠে বাজে চন্দ্রাবিষ্ট প্রার্থনার ঝিলিক, অন্ধকারে আলো ফুটথাচর অবিনাশী চুম্বন, জল হয়ে ওঠে ভাষা অনুভবে দ্রবীভূত আত্মা, নীরব বর্ণমালা স্রোতের বুকে চঞ্চল ।দিগন্তের নিবিড় স্তব্ধতায় কণ্ঠ নাভিমূল থেকে জাগে, লেখা হয় নিশীথের জ্যোৎস্নাময় আত্মজৈবনিক, চাঁদের কিরণে কাঁপে তৃষ্ণার গোপন জ্বালা, নদী শোনে— আদি রাগ, দাহ, আর দয়ার

অন্তিম তৃপ্তি

0বিশ্ব মুসলিম শত্রুর সাথে করবে এবার ঘাত, কাল বিলম্ব নয়তো আজি মিলাও হাতে হাত। তৃপ্তি পাবো শুনলে তবে রকেট বৃষ্টির গান, মুসলিম বিশ্ব লড়বে সবে রাখতে সদা মান। পিছু হটার নয়তো মুসলিম দিতে জানে প্রাণ, মিশায় দিবে ধূলোর সাথে নেইতো ওদের ত্রাণ। মসজিদ মেহরাব ভেঙ্গে ওঁরা বিনাশ করে দেয়, গাঁজার কমল শিশু প্রাণের জীবন কেড়ে

প্রভুর বিধান

0দেহের ভিতর অচিন পাখি সদায় করে বাস, নাটাই ধরে টানবে যখন হবে তখন লাশ। প্রহ্লাদ চিত্তে ভবের মাঝে আঁকড়ে যতো ভুল, অন্তর যপে প্রভুর সাধন পাবে মুক্তির কুল। প্রভুর বিধান মানলে সবে থাকবে কিসে ভয়, রোজ হাশরের বিচার দিবস নেকীর পুণ্যে জয়। ঝটকা টানে সাঙ্গ হবে রঙ্গশালা শেষ, আমল গুণে গড়লে জীবন পাবে শান্তির দেশ।

আলোর ঠিকানা

0শূন্য আকাশ চেয়ে রয়, তারা নামে না আজ রাতে। হৃদয় জুড়ে নীরবতা, ভাঙে না কোনো কথার পাতে। পথ চলেছি একা আমি, ছায়া শুধু সঙ্গী হয়ে, তবুও আশায় জ্বলে রাখি আলোর দীপ মনের কোণে। দিগন্ত ডাকে দূরের গানে, পাহাড় কাঁদে শ্রাবণের টানে, তবুও আমি হেঁটে চলি, অজানাকে নিজের জানি। তুমি যদি হও এক চিলতে ধ্রুব, আমি