0কবি ভাস্কর পাল কবি মানেই সুর গুলো সব বন্দি করে কলম খাতায়, কবি মানেই দারিদ্রতার চিহ্ন ফোটে বইয়ের পাতায়। কবি মানেই গোছ করা সব হরেক রকম শব্দ পুচ্ছ, কবি মানেই স্নিগ্ধ মধুর মন ভোলানো শান্তি গুচ্ছ। কবি মানেই কি মহান ব্যাক্তি! আসলে-তো মানুষ তিনি, অনুভূতির ঢেউ তুলেছে পেট চালাতে লিখছে যিনি।
Category: বাংলা কবিতা
0বন্দি পাখি ভাস্কর পাল সেই যে এক ছোট্ট খাঁচা জানালার ভেতর জগৎ গাঁথা, সেই খাঁচাতে বন্দি আমি নিজের দেশে একাই দামী। ভোরের বেলায় সূর্যি দেখে আমারো মনেতে বাসনা জাগে, আমিও ডাকবো খোলা গলায় যেই ভাবে সব পাখিরা ডাকে। ডাকতে নেই যে কোনো বাধা তবু স্বরটা গলায় গাঁথা- ভাগ্যটাকে মানিয়ে নিয়ে বন্দি আমি
0অস্ত্র ফেলো ভাস্কর পাল চারিদিকে বোমা-বর্ষণ, বিশ্বযুদ্ধ লাগলো নাকি? ইউরেনিয়ামের বিষাক্ততায় বিস্ফোরণই চলবে কি? অস্ত্র ফেলো – অস্ত্র ছাড়ো ভালোবেসে আগলে ধরো; হরেক রকম যন্ত্রপাতি স্তব্ধ হবে ভালোবাসাতে। ঐ শোনা যায় অশ্রুধ্বনি মাহবাদীর গোলায় প্রাণহানী! দেশের ছেলে ঘরে ফিরলো বাক্স বন্দি ক্যাবিনেতে। তাই বলে কি থাকবে থেমে সন্ত্রাস কিন্তু থামবে না-
0বৃক্ষ কথা ভাস্কর পাল আমরা তো বোবা বলতে পারি না কথা, একই স্থানে স্থির থেকেই বাড়াই সাহায্যের হাতটা। আমার ভাষা বোঝে না কেউ শোনেনা কষ্টের কান্না, প্রয়োজনেতে দিচ্ছি সবই শোষণ করছি বিশুদ্ধতা। নিজের খাদ্য নিজেই বানাই নেই না কারোর সাহায্য, ছায়া দিচ্ছি, খাবার দিচ্ছি তবুও হচ্ছি ধ্বংস। প্রাণ বাঁচানোর রসদ আছে
0সেই প্রভাতে ভাস্কর পাল সেই প্রভাতে পুব আকাশে ওঠেনি তখনও রবি দিগন্তে ছড়িয়ে দিয়েছে কমলা আভার বার্তাটি। পাখির গুঞ্জন যাচ্ছে শোনা আকাশ ভরা স্নিগ্ধ ছায়া কৃষ্ণচূড়ার গন্ধ ভাসে প্রভাতে বইছে মৃদু হাওয়া। গাছের পাতা সবুজ বড্ডো হৃদয়ে এনেছে কোমল স্পর্শ কত পথিক বেরিয়ে পড়েছে খাদ্য – জলের খোঁজে। চাঁদের আলো মৃদু
0সময়ের অবসান ভাস্কর পাল কারো ভাঙছে স্বপ্ন হাজার কেউ দেখছে নতুন করে- টানপিড়নে ভ্রান্ত সময় উদভ্রান্ততায় যাচ্ছে সরে। মধ্যরাতের আকাশ যখন ভাঙছে এসে বুকের মাঝে তখন দেখি অতীতটাই তো বেশ ছিল আজকের থেকে। সন্ধ্যা তারার ঝিল্লি আজ ঝাপসা হয়ে থমকে গেছে মানুষের সেই মনুষত্বটা আদিম যুগেই লুকিয়ে আছে। ভাবুক চোখে ভাবলে
0রাতের নিস্তব্ধতা ভাস্কর পাল রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় অপরূপ এক আলোক সজ্জা, দিগন্তের এই আকাশ জুড়ে লেগেছে এক স্নিগ্ধ মায়া।। দিনের শেষে নিঝুম রাতে কষ্ট ক্লান্তি যায় মুছে- চারিদিকের মিটমিটে তারারা অলস চোখে চেয়ে থাকে। স্তব্ধ সেই বোবা আকাশ অনেক কিছুই প্রকাশ করে- আকাশ হতে মধ্য রাতে কল্পনার এক রেশ নামে।
0রক্ত বৃষ্টি ভাস্কর পাল রক্ত ঝরছে – রক্ত ঝরছে ঘন কালো মেঘ গর্জে উঠেছে, চারিদিকে বাজে কাঁসর – ঘন্টা লাল রক্তের বৃষ্টি নেমেছে। নদী নালা সব টলোমলো জলের বর্ণ রক্তিম সাজিছে, আকাশ সজ্জিত লোহিত মেঘে জলতরঙ্গ কানে বাজে। থমকে উঠেছে চারপাশ রক্ত বৃষ্টি করছে নাশ! আর্তনাদের ডাক শোনা যায় বিশ্ব মেতেছে ধ্বংসে
0বসন্ত প্রেম ভাস্কর পাল দেখেছি তারে নীল পাহাড়ে খোলা কেশের দোলে, তাহার মায়ার অবুঝ স্পর্শে হৃদয় গেছে হারিয়ে। নীল যমুনায় নৌকা লয়ে ভাসবো তাহার সনে- কল্পনাতে ঘর বেঁধেছি অগোছালো মনে। সপ্ততরী ভাসিয়ে দেবো তাহার জন্যে আমি- পায়ের নুপুর কনক বালায় মানায় তাকে ভারী। বৃষ্টি ভেজা সেই বিকেলে তাহারে কাছে পেলে- বাঁধবো
0বারান্দা ভাস্কর পাল উত্তর কোণে দেতলার ঘরে আরাম কেদারায় পা দুলিয়ে ঠান্ডা বাতাস সাড়া ফেলে আমার বারান্দার চারিকোণে। পাখির কুজন যায় যে শোনা ঐ দূরের গাছ গুলোতে- ভেসে যায় কত মেঘ দেখি দূর হতে বহু দূরেতে। স্তব্ধ হয়ে চিঠি লিখি দূর ঠিকানায় পাঠাবো বলে- নিস্তব্ধতা কাটিয়ে হঠাৎ ফোনের রিংটোনে বেজে ওঠে।