পঞ্চপান্ডব কারা

পঞ্চপান্ডব আসলে কারা? চলুন জেনে নেই

পঞ্চপান্ডব মূলত প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারতে ধর্মের পক্ষে থাকা পাঁচ ভাইকে বলা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডবের ধারণাটাও সেখান থেকেই এসেছে। কুরু বংশের রাজা পাণ্ডুর পাঁচ পুত্রকে পান্ডব বলা হতো। তারা দুর্যোধন, দুঃশাসন সহ কৌরবদের ১০০ ভাইয়ের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন। 

শব্দটি বাংলা সাহিত্যের পাঁচজন বিখ্যাত কবিকে বুঝাতে ব্যবহৃত হয় যারা স্বমহিমায় অন্যদের চেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে এমন পাঁচজন ক্রিকেটার হচ্ছেন- সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

এই লেখাটিতে তিন ধরণের পঞ্চপান্ডব এবং বাংলা ভাষার পঞ্চকবির পরিচয় পাবেন। লেখাটি বড় তাই, চার ভাগে ভাগ করেছি। নিচের লিস্ট থেকে যেকোন অংশ পড়তে পারবেন-

ক্রিকেটে মাশরাফি অবসর নিয়েছেন, বাকি চারজন এখনো জাতীয় দলে খেলছেন। অনেক ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো অবদান তাদের প্রত্যেকেরই ছিলো।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপান্ডব

 বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপান্ডব

espncricinfo তে এই পাঁচ জনকে নিয়ে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো, সেখানে এদের বলা হয়েছিল Fav Five.  চলুন একে একে পাচজনের ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান এবং পরিচয় জেনে নেই(২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত)-

সাকিব আল হাসান

প্রায় এক দশক ধরে সাকিব আল হাসান ছিলেন ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডার।  ১৯৮৭ সালে মাগুরায় জন্ম নেয়া সাকিবের বর্তমান বয়স ৩৩, ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে ওয়ানডে এবং ২০০৭ সালে ভারতের সাথে টেস্ট অভিষেক হয়। সাকিব প্রথম টি টুয়েন্টি খেলেছিলেন ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান।

টেস্টঃ ৫৬ ম্যাচে ৩৯.৪ গড়ে ৩৮৬২ রান করেছেন। ২১০ উইকেট নিয়েছেন ৩.০১ ইকনমি রেটে

ওয়ানডেঃ ২০৬ ম্যাচে ৩৭.৯০ গড়ে ৬৩২৩ রান করেছেন। ২৬০ উইকেট নিয়েছেন ৪.৪১ ইকনমি রেটে

টি টুয়েন্টিঃ ৭৬ ম্যাচে ২৩.৭০ গড়ে করেছেন ১৫৬৭ রান। ৯২ উইকেট নিয়েছেন ৬.৮১ ইকনমি রেটে

উইজডেন তাকে এই শতাব্দির সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় ২ নম্বরে রেখেছে।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

নড়াইলের ছেলে মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলে শুরু করেন ২০০১ সালে। তখন তার বলের গতি অন্য সবার চেয়ে বেশী ছিল বলে তাকে ডাকা হতো নড়াইল এক্সপ্রেস নামে। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে ৪৯ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব তিনি দেখিয়েছিলেন যা, ঐ বছরে বাংলাদেশের এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ ছিল।

টেস্টঃ  ৩৬ ম্যাচে ৭৮ উইকেট নিয়েছেন ৩.২৪ ইকনমি রেটে

ওয়ানডেঃ  ২২০ ম্যাচে ২৭০ উইকেট নিয়েছেন ৪.৮৮ ইকনমি রেটে

টি টুয়েন্টিঃ ৫৪ ম্যাচে ৪২ উইকেট নিয়েছেন ৮.০৪ ইকনমি রেটে

মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ কয়েকটি বড় দলের সাথে সিরিজ জিতেছে এবং বিশ্বকাপে আন্ডারডগ থেকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করেছে। আক্রমণাত্মক ক্যাপ্টেন্সিতে তিনি সফলতা পেয়েছেন। ইঞ্জুরি থেকে বারবার মাঠের খেলায় ফিরে আসার কৃতিত্ব তিনি ছাড়া বিশ্বের আর কোন ক্রিকেটার দেখাতে পারেননি। ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার অবসরের পর সাংসদ হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছেন।

মুশফিকুর রহিম

২০০৫ সালে জাতীয় দলে মুশফিকুর রহিমের অভিষেক হয়। মাহমুদুল্লাহর ভাইরা মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্যাপ্টেন, তিনি টেস্টে সবচেয়ে সফল ক্যাপ্টেন। পৃথিবীর একমাত্র উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন।  সাঙ্গাকারা নিঃসন্দেহে একজন কিংবদন্তী উইকেট কিপার এবং ব্যাটসম্যান, কিন্তু তিনি উইকেট কিপার হিসেবে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করেননি। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছিলেন।

টেস্টঃ ৭০ ম্যাচে ৩৬.৮ গড়ে ৪৪১৩ রান করেছেন।

ওয়ানডেঃ ২১৮ ম্যাচে ৩৬.৩০ গড়ে ৬১৭৪ রান করেছেন।

টি টুয়েন্টিঃ ৮৬ ম্যাচে ২০ গড়ে করেছেন ১২৮২ রান

যে ম্যাচে শচীন টেন্ডুলকার সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করেছিলেন, সেই ম্যাচটি শক্তিশালী ভারত ক্রিকেট দলের সাথে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে এবং ব্যাটিং নৈপূণ্যে বাংলাদেশ দল জিতেছিল। এরকম আরো অনেক ইনিংস তিনি খেলেছেন যা তাকে অনন্য করে তুলেছে, উইকেট কিপিং ক্যারিয়ারে ডিসমিসালের ডাবল সেঞ্চুরিও তিনি সম্পন্ন করেছেন।

তামিম ইকবাল খান

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সর্বকালের সেরা ওপেনারের নাম তামিম ইকবাল খান। তিনি সম্পর্কে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের ভাতিজা। কোন ম্যাচে বাজে খেললেই বাংলাদেশের দর্শকদের এই সম্পর্কের কথা মনে পড়ে। তামিম ইকবাল এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছিল ২০০৭ সালে।

টেস্টঃ ৬০ ম্যাচে ৩৮.৬ গড়ে ৪৪০৫ রান করেছেন

ওয়ানডেঃ ২০৭ ম্যাচে ৩৬.৭০ গড়ে ৭২০২ রান করেছেন

টি টুয়েন্টিঃ ৭৮ ম্যাচে ২৪.১০ গড়ে করেছেন ১৭৫৮ রান

উইজডেনের বিচারে একবার(সারা বিশ্বের মধ্যে) বর্ষসেরার তকমা জেতা তামিম ইকবাল বিশ্বের সেরা বামহাতি ওপেনারদের একজন। যারা এই প্রজন্মের আগের ক্রিকেট দেখেছেন তারা জানেন, বাংলাদেশ দলের খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই দেখা যেত কয়েক উইকেট নাই, তামিম ভালো শুরু এনে দেয়ার কাজটা যে ভালো পারেন তা এখন প্রমাণিত।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

ময়মনসিংহের ছেলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০০৭ সালে এবং টেস্ট অভিষেক হয় ২০০৯ সালে। লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করেন অনেকবার তিনি বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছেন এবং কয়েকবার জয়ের স্বাদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরিটি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এর। ২০১৫ বিশ্বকাপে ৭৩ এভারেজে ৩৬৫ রান করেছিলেন যা ছিল অতিমানবীয়।

পড়ুন- প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

টেস্টঃ ৪৯ ম্যাচে ৩১.৮ গড়ে ২৭৬৪ রান করেছেন। ৪৩ উইকেট নিয়েছেন ৩.৪৪ ইকনমি রেটে

ওয়ানডেঃ ১৮৮ ম্যাচে ৩৩.৬০ গড়ে ৪০৭০ রান করেছেন। ৭৬ উইকেট নিয়েছেন ৫.১৭ ইকনমি রেটে

টি টুয়েন্টিঃ ৮৭ ম্যাচে ২৪.২০ গড়ে করেছেন ১৪৭৫ রান। ৩১ উইকেট নিয়েছেন ৭.২৯ ইকনমি রেটে

বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান স্কোরার ক্রিকবাজের করা টুর্নামেন্টের সেরা দলেও জায়গা করে নিয়েছিলেন

মহাভারতের পঞ্চপান্ডব এর কাহিনী

মহাভারতের পঞ্চপান্ডবের কাহিনী

মহাভারতের পঞ্চপান্ডব ছিলেন পাণ্ডুর পাঁচ পুত্র- যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল এবং সহদেব। মুনি দুর্বাসার দেয়া বর কাজে লাগিয়ে কুন্তি ও মাদ্রী সন্তান লাভ করেছিলেন।

পাণ্ডুর ক্ষেত্রজ পুত্র ছিলেন তারা পাঁচজন, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল তাদেরই পিতৃকূলজাত ভাই, ১০০ জন কৌরব। তারা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন।

কুরু বংশ তালিকা

রাজা কুরু ছিলেন সংবরণ এবং তপতীর পুত্র। তার বংশধরদের কৌরব বলা হয়। আসলে সবার বংশই ছিল কুরু বংশ, তাই সবাইকেই কৌরব বলা যায়। তবে, দুর্যোধন এবং তাদের ১০০ ভাইকেই কৌরব বলা হয়-

১০০ জনের নামের তালিকা

পঞ্চপান্ডবের বাবার নাম পান্ডু তাই তাদেরকে পান্ডব বলা হয়। দ্রৌপদী ছিলেন পাঁচ ভাইয়ের এক স্ত্রী। পঞ্চপান্ডব শিক্ষালাভ করেছিলেন কৃপা এবং দ্রোণাচার্যের কাছ থেকে।

চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

যুধিষ্ঠির

ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির জীবনে একটি মিথ্যা বলেছিলেন, সেটিও নিশ্চিতভাবে মিথ্যা বলা যায় না। কারণ- অশ্বথামা হত, ইতি গজ(আস্তে) বলেছিলেন যখন তখন বাদ্যের বাজনায় সেটি শোনা যায় নি। কোন অন্যায় না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যুধিষ্ঠির

ভীম

বায়ুপুত্র ভীম ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী। তার অসীম শক্তি আর, বিশাল দেহের কারণে অনেকেই তাকে বোকা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান, মহাভারত সেরকম কিছু বলে কি না জানি না। তবে, কর্ণ এবং ভীষ্মের মতো তীরন্দাজের সাথে যুদ্ধেও ভীম তার দক্ষতার সাক্ষর রেখেছিলেন

অর্জুন

ইন্দ্রপুত্র অর্জুন ছিলেন লক্ষ্যে অটল, অবিচল। অর্জুনকে কৃষ্ণের দেয়া উপদেশবাণীই হিন্দু ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গীতা। কৃষ্ণসারথি অর্জুন ছিলেন দ্রোণাচার্যের শ্রেষ্ঠ ছাত্র আর, মহাভারতের উজ্জলতম চরিত্রগুলোর একটি।

পড়ুন- হিন্দু ধর্ম, ধর্ম গ্রন্থ, ইতিহাস এবং অন্যান্য

নকুল

অশ্বিনীপুত্র নকুল ছিলেন সবচেয়ে সুদর্শন। তিনি ছিলেন সেরা ঘোড়সওয়ার, আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ এবং অসি চালনায় পারদর্শী। নকুল বীরত্বের সাথে কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছিলেন এবং জয়লাভ করেছিলেন। পরে তিনি মাদ্রের রাজা নিযুক্ত হন।

সহদেব

সহদেব ছিলেন লাজুক ও বিনয়ী। অসি ও রথ চালনায় তার দক্ষতা ছিল, সহদেবের আরেক নাম ছিল মহারথী। ভগবত পুরাণ অনুসারে তিনি কৃষ্ণকে উপদেশ দিয়েছিলেন কিভাবে যুদ্ধ থামানো যায়। তার সমাধানটি ছিল, কৃষ্ণকে বেধে রেখে, পান্ডবদের এবং দুর্যোধনকে বনে পাঠিয়ে কর্ণকে রাজা করে দেয়া

হস্তিনাপুরের রাজা ছিলেন পান্ডু। অভিশাপজনিত কারণে তিনি স্বাভাবিক নিয়মে পুত্রলাভ করতে পারছিলেন না। তখন দেবতাদের বরে তার স্ত্রী কুন্তি ও মাদ্রী এই পাঁচটি সন্তান লাভ করে। এরা সবাই পাণ্ডুর ক্ষেত্রজ পুত্র।

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চকবি

একই সাথে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক ছিলেন আধুনিক যুগের এমন পাঁচজন কবিকে একসাথে বাংলা সাহিত্যের পঞ্চকবি বলা হয়। তারা হচ্ছেন-

  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
  5. এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

অনেকে আবার পঞ্চকবি এবং পঞ্চপান্ডবকে গুলিয়ে ফেলেন। মনে রাখার একটি পদ্ধতি হচ্ছে কবিদের মাঝে ঠাকুরমশাই নিজেই আছেন, আর, পান্ডবেরা তার বলয় থেকে মুক্ত। আপনারা চাইলে অন্য যেকোন পদ্ধতিতে মনে রাখতে পারেন। চাকরির পরীক্ষার জন্য যারা পড়তে চান তারা প্রত্যেকের সম্পর্কে বই থেকে আলাদাভাবে পড়ুন, ব্লগের একটি আর্টিকেল হয়তো আপনাদের জন্য যথেষ্ট নয়।

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব বলে পরিচিত কবিরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে গিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন। এই পাঁচজন কবি হচ্ছেন- অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাস, বিষ্ণু দে এবং সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। তারা সবাই কল্লোল পত্রিকায় লিখতেন। এই পঞ্চপান্ডবেরাই আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা করেছিলেন। শুধু রবীন্দ্রবলয়ের কথা বললে তাদেরকে খাটো করে দেখা হবে, মৌলিকত্ব এবং মাণে তাদের রচনা সত্যিই অসাধারণ ছিলো।

বিসিএস, ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারী চাকরির পরীক্ষার্থীদের এই অংশ কাজে লাগবে(১/২ টি প্রশ্ন আসে)। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেই-

অমিয় চক্রবর্তী

কবিদের কবি অমিয় চক্রবর্তী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯০১ সালে। তিনি ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, রবীন্দ্রনাথের, মহাত্মা গান্ধীর এবং একজন আমেরিকান লেখক থমাস মেট্রনের। তিনি হাওয়ার্ড, বোস্টন এবং আরো কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য এবং প্রাচ্য ধর্ম বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি সান্নিধ্যে এসেছিলেন আইনস্টাইন, বার্নার্ড শ, রবার্ট ফ্রস্ট প্রমুখের। পিঁপড়ে কবিতায় তিনি লিখেছিলেন-

আহা পিঁপড়ে ছোটো পিঁপড়ে ঘুরুক দেখুক থাকুক
কেমন যেন চেনা লাগে ব্যস্ত মধুর চলা —
স্তব্ধ শুধু চলায় কথা বলা —
আলোয় গন্ধে ছুঁয়ে তার ঐ ভুবন ভ’রে রাখুক,

আহা পিঁপড়ে ছোটো পিঁপড়ে ধুলোর রেণু মাখুক

বুদ্ধদেব বসু

বাংলা সাহিত্যে সত্যিকারের প্রতিভার অধিকারী বলে যদি কেউ থেকে থাকেন তিনি বুদ্ধদেব বসু, তার স্ত্রীর নাম ছিল প্রতিভা। প্রগতি এবং কল্লোল পত্রিকাকেন্দ্রীক কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ইংরেজী ভাষায় লিখে ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা থেকেও প্রশংসা পেয়েছিলেন। গোপালগঞ্জের বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে নম্বর পেয়েছিলেন তা এখনো ঐ বিষয়ে সর্বোচ্চ(সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)। তিনি অনেকগুলো প্রেমের কবিতা লিখেছিলেন-

ওগো চপল-নয়না সুন্দরী
তোলো মোর পানে তব দুই আঁখি,
মম শিয়রের কাছে গুঞ্জরি’
গাও সকল অগীত সঙ্গীতে

কল্লোযুগের সূচনাকারী কল্লোল পত্রিকায় পনেরো বছর বয়সে বুদ্ধদেবের কবিতা ছাপা হয়েছিলো। বাংলা কবিতায় আধুনিক কাঠামো প্রবেশ করাতে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

জীবনানন্দ দাস

জীবনানন্দ দাসকে অনেক নামেই ডাকা হয়- রুপসী বাংলার কবি, প্রকৃতির কবি, নির্জনতম কবি, শুদ্ধতম কবি নানা অভিধায় নানা সময়ে তাকে ভূষিত করা হয়েছে। চরম দারিদ্র্যের মাঝে সময় কাটানো এই বরিশাইল্যা মৃত্যুর পরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন।

এখন পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তার কমতি নেই। বাংলা কবিতার জগত জীবনানন্দ দাসকে ছাড়া অপূর্ণতায় ভোগে। কবিতার কথা জীবনানন্দ দাসের লেখা একটি প্রবন্ধ। এছাড়া গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস তিনি লিখেছিলেন।

তার মা কুসুমকুমারী দাসের লেখা আদর্শ ছেলে কবিতাটি এখনও শিশুদের অবশ্যপাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। জীবনানন্দ লিখেছিলেন,

আমার এ-গান
কোনোদিন শুনিবে না তুমি এসে—
আজ রাত্রে আমার আহ্বান
ভেসে যাবে পথের বাতাসে,
তবুও হৃদয়ে গান আসে।

বিষ্ণু দে

পটলডাঙার বিষ্ণু দে ছিলেন একজন কবি ও চলচ্চিত্র সমালোচক। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্যপুরষ্কার ‘জ্ঞানপীঠ’ লাভ করেছিলেন। বেটোফেনের নাইন্থ সিম্ফনির মূর্ছনায় প্রণতি রায়চৌধুরীর সাথে তার প্রণয় ঘটেছিল। তিনিও ছিলেন কল্লোল পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ একজন লেখক।

বামপন্থী দর্শন এবং টি এস এলিয়টের ভক্ত বিষ্ণু দে মাও সে তুঙের কবিতাও অনুবাদ করেছিলেন।  সোভিয়েত ল্যান্ড এওয়ার্ড পাওয়া এই ব্যক্তি ছবিও আঁকতেন। তিনি লিখেছিলেন-

সে কবে গেয়েছি আমি তোমার কীর্তনে
কৃতার্থ দোহার |
পদাবলী ধুয়ে গেছে অনেক শ্রাবণে ;
স্মৃতি আছে তার |

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

বাংলা কবিতায় ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। কল্লোল যুগের অন্যতম কবি ছিলেন সুধীন্দ্রনাথ। জীবনানন্দ দাস তাকে আধুনিক বাংলা কাব্যের নিরাশাকরোজ্জল চেতনা বলেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াশোনা করার সময়ে কোন পরীক্ষাই তিনি দেন নি

এর আগে অবশ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর পত্রিকা সবুজপত্র সম্পাদনার কাজও তিনি করেছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। যাদবপুর এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যাপনা করেছেন। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন-

তবু রবে অন্তশীল স্বপ্রতিষ্ঠ চৈতন্যের তলে

হিতবুদ্ধি হন্তারক ক্ষণিকের এ আত্মবিস্মৃতি;

তোমারই বিমূর্ত প্রশ্ন জীবনের নিশীথ বিরলে

প্রমাণিবে মূল্যহীন আজন্মের সঞ্চিত সুকৃতি

(Visited 77 times, 1 visits today)
2
likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সেদিন ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ না করলে ক্রিকেট দল আদৌ আজকের অবস্থানে আসতে পারতো কি না তা নিয়ে
প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট

প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৭৫

প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয় ইংল্যান্ডে। ৮ টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত খেলায় জয়ী দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন আমরা ওয়ানডে বলতে

ক্রিকেটে আউট এবং আইসিসির নতুন নিয়ম

বর্তমান ক্রিকেটে আউট দশ প্রকার বলবো নাকি এগারো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। লন্ডনভিত্তিক বিবিসি ইউকে এবং উইকিপিডিয়া বলছে ১০

চর্যাপদ কথন

বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ লেখা হয়েছে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দির মধ্যে। এই সময়ে বাংলায় পাল রাজাদের রাজত্ব ছিল। পাল

Leave a Reply