আল্লাহ এক জন

নবীজির অঙ্গীকারনামা

খ্রিস্টান সন্যাসীদের প্রতি নবীজির অঙ্গীকারনামা একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সমাদৃত। পৃথিবীর প্রাচীনতম গীর্জাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সেইন্ট ক্যাথরিনের গীর্জা। সিনাই পর্বতের কাছে অবস্থিত সেই চার্চে এই অঙ্গীকারনামা সংরক্ষিত আছে। আপনি অমুসলিম হলেও এই বিষয়টি পড়ে দেখতে পারেন, ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে

ঘটনাটি কি ছিল

৬২৮ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টানদের একদল প্রতিনিধি ঐ গীর্জা থেকে গিয়ে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর নিকট তাদেরকে সুরক্ষা প্রদানের অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি তাদেরকে একটি অঙ্গীকারনামা দেন যেখানে, তাদের অধিকার এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দেশনা ছিল। প্রাচীন এই গীর্জাটি ভ্যাটিকানের মতো প্রাচীন সব কাগজপত্র এবং ঐতিহাসিক ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ করে। তাদের কাছে ১৪০০-১৫০০ বছর আগের সেই দলিলের অনুলিপি এখনো পাওয়া যায়

ভাবানুবাদ

আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বার্তা, যারা খ্রিস্ট ধর্ম ধারণ করে, কাছের এবং দূরের, আমরা তাদের সাথে আছি। আমি, দাসেরা, সমর্থকেরা এবং আমার অনুসারীরা তাদেরকে রক্ষা করবে। কারণ, খ্রিস্টানরা আমার নাগরিক। আল্লাহর নামে বলছি, তাদের অসন্তুষ্টির কারণ হয় আমার অবস্থান এমন যেকোন কিছুর বিরুদ্ধে।  তাদের প্রতি কোন জোর জবরদস্তি নেই। তাদের বিচারকেরা চাকরি হারাবে না, তাদের পাদ্রীরা উপাসনালয় থেকে সরে যাবে না। তাদের ধর্মগৃহ কেউ ভাঙবে না, কোন অনিষ্ট করবে না এবং ঘর থেকে কিছু মুসলিমদের ঘরে নিয়েও যাবে না। কেউ যদি কিছু নিয়ে যায় তার অর্থ সে আল্লাহর সাথে তার ওয়াদা ভঙ্গ করলো আর নবীকে অমান্য করলো। নিশ্চয়ই তারা(খ্রিস্টানরা) আমার সহযোগী এবং যেসব বিষয় তারা অপছন করে সে বিষয়ে আমার দেয়া নিরাপত্তার সনদধারী।  কেউ তাদেরকে ভ্রমণ বা, যুদ্ধ করতে বাধ্য করবে না। মুসলিমরা তাদের জন্য যুদ্ধ করবে। যদি কোন খ্রিস্টান মহিলা মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করে, এটি ঐ নারীর সম্মতি ছাড়া ঘটবে না। গীর্জায় উপাসনা করতেও ঐ নারীকে বাধা দেয়া হবে না। তাদের চার্চগুলোকে সম্মান করা হবে। কেউ তাদের চার্চ সংস্কার বা, পবিত্রতা রক্ষায় বাধা দেবে না। (মুসলিম)জাতির কেউ শেষ দিন (কিয়ামত)পর্যন্ত এই নির্দেশ অমান্য করবে না।  এবারে আপনি ভেবে দেখুন, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) যা বলেছেন তার কতটুকু মুসলিমরা মেনে চলে।

প্রথম এবং শেষ বাক্য আবার পড়ে দেখুন। এতে স্পষ্ট হবে এটি শুধু সেই সময়ের সেইন্ট ক্যাথরিন গীর্জার প্রতি নয়, এটি মুসলিমদের প্রতি সার্বজনীন নির্দেশনা। দেখুন- মূসা নবীর দশটি আজ্ঞা। (তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে  islamcity.org এবং খালিজ টাইমস থেকে, তথ্য নিয়ে আপনাদের কোন দ্বিমত থাকলে মন্তব্য করে জানান)

আরো পড়ুন-

(Visited 3 times, 1 visits today)

এডমিন

Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

যিশু খ্রিস্টের জন্ম ও অন্যান্য

যিশুকে বলা হয় নাজারাথের যিশু। খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা তাকে ঈশ্বরের পুত্ররূপী ঈশ্বর এবং মেসিয়াহ মনে করেন। তিনিই খ্রিস্ট ধর্মের কেন্দ্রীয়

নাস্তিকতাবাদ বা, নাস্তিক্যবাদ আসলে কেমন?

নাস্তিকতাবাদ বলতে আমরা এমন মতবাদকে বুঝি যেখানে ঈশ্বরের বা, কোন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না। এর বাইরে আরো কতগুলো

শিন্টো ধর্ম- জাপানের মানুষের ধর্মবিশ্বাস

শিন্টো ধর্ম বহুঈশ্বরবাদী একটি ধর্ম। শিন্টো শব্দের অর্থ দেবতার পথ। এই ধর্মে সৃষ্টিকর্তাকে বলা হয় কামি। অসংখ্য স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে

Leave a Reply