রসুন-উপকারী একটি মসলা

রসুনের উপকারিতা ও অপকারিতা

বাঙালির রান্না রসুন ছাড়া ভাবাই যায় না। রসুনের উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে এই লেখাটিতে আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করবো। আমরা সাধারণভাবেই ধরেই নেই যে রসুন খুব উপকারী একটি খাবার। সব ক্ষেত্রে কিন্তু তা সত্য নয়।

রসুনের চপ, যেকোন মসলায় রসুন ব্যবহার, মাংস বা, খিচুড়িতে একটা আস্ত রসুন না হলে চলেই না। এতে রয়েছে নানারকম ভিটামিন, পেন্টোথেলিক এসিড, সেলেনিয়াম ইত্যাদি। ক্যান্সার প্রতিরোধে সেলেনিয়াম এর ভূমিকা রয়েছে।

চুলের জন্য রসুন

রসুনের রস চুল পড়া রোধ করে, চুলকে খুসকি এবং জীবাণুমুক্ত করতেও সাহায্য করে। রসুনের অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে রয়েছে জিঙ্ক এবং কপার। এই দুটি উপাদান মাথার তালুর রক্ত চলাচল বাড়ায়। এর ফলে এটি চুলের গোড়ার রোগগুলোও দূর করার ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

আপনি সরাসরি রসুনের রস মাথায় মাখতে পারেন। এছাড়া, অলিভ ওয়েল, তেল এবং ডিমের সাদা অংশের সাথে মিশিয়েও মাথায় ব্যবহার করা যায়। এছাড়া শুকনো রসুনের গুড়া কন্ডিশনারের সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।

রসুন গিলে খেলে কি হয়?

বিশেষ কিছুই হয় না। চিবিয়ে খেলে যেমন ফল পাবেন গিলে খেলেও আশা করা যায় একইরকম ফল পাবেন। হাইপারটেনশন এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে রসুন। আবার, স্ট্রেস থেকে অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়। তাদের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে যাবে যদি রসুন খান।

একইসাথে চীন এবং জাপানে উচ্চ রক্তচাপের অষুধ হিসেবে রসুন ব্যবহার করা হয়। তাই, আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে প্রতিদিন এক কোয়া রসুন খেতে পারেন। পানি দিয়ে গিলে খাওয়ার সুবিধা হচ্ছে, মুখে রসুনের গন্ধ থাকবে না।

রসুনের উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই মিসর, ব্যবিলনীয়, রোমান, গ্রীক বিভিন্ন সভ্যতায় রসুনের ব্যবহার ছিল ঔষধ হিসেবে। ধারণা করা হয় Allicina নামের এক ধরণের উপাদান আছে রসুনে যা রোগ সারাতে সাহায্য করে। চলুন এর উপকারিতা গুলো দেখে নেই-

১. আমরা জানি বেশী ক্যালরি গ্রহণ করলে বেশী পরিশ্রম করতে হবে, তা না হলে মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রসুন এমন একটি খাবার যাতে ক্যালরি কম, কিন্তু দরকারী পুষ্টি উপাদান বেশী।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে কাচা রসুন। ছোটখাট রোগ সারাতেও সাহায্য করে

৩. রক্তচাপ থেকে অনেক রোগ হতে পারে যেমন হার্ট এটাক। এগুলো থেকে রসুন আপনাকে রক্ষা করতে পারে, কারণ এটি রক্তচাপ কমায়

৪. শরীরের উপকারি কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং অপকারী কোলেস্টেরল কমায়

৫. রসুন আপনাকে চিরযৌবন দান করবে না, তবে বুড়িয়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করবে। কারণ এতে আছে এন্টি অক্সিডেন্ট

৬. এতে আছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি ভাইরাল গুণ। যা ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হয়

৭. রসুন সেক্সে বা, যৌন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এমনটা সরাসরি বলা যায় না। তবে, রক্ত চলাচল সাবলিল করে, এটা সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

৮. এটি হাড়ের শক্তি বাড়ায়। বয়স্ক মানুষদের হাড়ের দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে

৯. শরীরে অনাকাঙ্খিত ফোলা দূর করে

১০. আলজেইমারস এবং ডিমেনশিয়ার রোগীদের জন্য খুব উপকারী একটি খাবার

আপনি চাইলে কালোজিরা বা, মধুর সাথে রসুন খেতে পারেন। এতে অনেক রকম উপকার পাবেন। হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে, রক্ত চলাচলা স্বাভাবিক রাখবে।

রসুনের ক্ষতিকর দিক

প্রতিটি খাবারেরই অপকারিতা রয়েছে। সাধারণত দুটি ক্ষেত্রে মানুষের জন্য কোন খাবার ক্ষতির কারণ হয়। একটি হচ্ছে যদি মাত্রারিক্ত খাওয়া হয়। আর, দ্বিতীয়টি হচ্ছে, যদি কোন রোগ থাকে। চলুন অপকারিতাগুলো দেখে নেই-

১. বেশী খেলে রসুনে থাকা এলিসিনের কারণে যকৃতের ক্ষতি হয়। তাই, বেশী খাবেন না

২. রসুন স্ট্রেস কমায় এটি সত্যি, গ্যস্ট্রিকের সমস্যা কমায়। তবে, এতে থাকা সালফার আপনার ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে

৩. এতে বমিভাব হতে পারে। স্ট্রেস কমিয়ে গ্যস্ট্রিকে সমস্যা কমাতে পারে, তবে কিছু উপাদান আছে যা আবার গ্যস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজের কারণও হতে পারে

৪. মুখে দুর্গন্ধ বাড়ায়। আপনার আশেপাশের মানুষের এই দুর্গন্ধে বিরক্ত হতে পারে

৫. এটি রক্ত পাতলে করে। তাই কোন অষুধ সেবন করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে

৬. গর্ভবতী নারীর জন্য রসুন না খাওয়াই ভালো, এতে সমস্যা হতে পারে

৭. বেশী রসুন খাওয়ার কারণে রক্ত পাতলা হয়। চোখের মাঝে রক্তক্ষরণ বেড়ে অন্ধত্বের দিকে যেতে পারে

সুতরাং, বেশী পরিমাণে রসুন খাওয়া শুরু করবেন না। আর, কোন অসুখ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। অন্যথায়, ভবিষ্যতে আরো বড় সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই, আগে থেকেই সতর্ক হোন।

রসুনের ভর্তা রেসিপি

উপকরণঃ  রসুন, পেয়াজ, পেয়াজ পাতা, কাচামরিচ, শুকনো মরিচ, ধনেপাতা, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, লবণ।

ভর্তা বানানোর পদ্ধতিঃ

প্রথমে রসুনের কোয়াগুলো ভালো করে ভেজে নিন। ভাজা হয়ে গেলে নামিয়ে তা চটকে ভর্তা করে নিন। এবারে সয়াবিন তেল দিয়ে শুকনা মরিচ আর, পেয়াজ কুচি ভেজে ফেলুন। এরপর হালকা বাদামী হয়ে গেলে রসুন, কাচামরিচ কুচি আর, লবণ দিয়ে দিন।

এরপর ধনেপাতা আর, পেয়াজ পাতা কুচি পাত্রে ঢেলে দিন। চুলা বন্ধ করুন আর, সরিষার তেল দিয়ে নাড়াচাড়া করে নামিয়ে আনুন। এই ভর্তা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হবে। গরম ভাতের সাথে রসুনের ভর্তা পেলে আর, কি লাগে…

আপনারা অবশ্যই কাচা রসুন খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারের সচেতন থাকবেন। তাহলে, আর এটি নিয়ে কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। যেকোন খাবারের উপকারিতাগুলো পাওয়া যায় পরিমিত পরিমাণে খেলে

 

আরো পড়ুন-

 

(Visited 51 times, 1 visits today)

এডমিন

Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

আরো লেখা খুঁজুন

Related Posts

রান্না করার মেথি

মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা

শরীরের শর্করা নিয়ন্ত্রনে রাখা, কিডনি ভালো রাখা ইত্যাদি হচ্ছে মেথির উপকারিতা। এছাড়া কিছু অপকারিতাও আছে। এই লেখাটিতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চুলের
অশ্বগন্ধ্যা ফল

অশ্বগন্ধার উপকারিতা ও অপকারিতা

এর ইংরেজী নাম হচ্ছে- poison gooseberry, winter cherry বা, Ashwagandha. এই লেখাটিতে অশ্বগন্ধার উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে কিছু তথ্য দেয়ার
ডাবের পানি

ডাবের পানির উপকারিতা ও অপকারিতা

ডাবের পানি, নারকেল জল, নারকেলের পানি যাই বলুন না কেন, এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। সাধারণত কচি অবস্থায় বলা হয় ডাব,
ময়দার উপকারিতা

ময়দার উপকারিতা ও অপকারিতা

ময়দা দিয়ে তৈরি করা অনেকরকম খাবার আমরা খাই। এই লেখাটিতে ময়দার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করবো। আটা

Leave a Reply