আহলে হাদীস বনাম হানাফী মাযহাব —কোনটি মানবো (পর্ব ১)

play icon Listen to this article
0

আহলে হাদীস বনাম হানাফী মাযহাব- কোনটি মানবো? এমন প্রশ্ন অনেকেরই মাথায় আসে। কিন্তু আমি মনে করি, প্রশ্নটি এভাবে আসা উচিত নয় এবং আসাটা সঠিকও নয়। বরং প্রশ্নটি এভাবে হতে পারে যে, মাযহাব চারটি; তো আমি কোনটি মানবো?

সিরিজের সবগুলো লেখা-

 

অর্থাৎ যদি মানার প্রশ্ন আসে, তাহলে চার মাযহাবের যেকোনো একটা মাযহাব মানার প্রশ্ন আসবে। আহলে হাদিস মতবাদ সর্বদা প্রশ্নের বাইরেই থাকবে। কিন্তু এমনটি কেন?

ইনশাআল্লাহ আমরা আজ সে বিষয়েই দলীলভিত্তিক আলোচনা করার প্রয়াস পাবো।

📗 নব্য আহলে হাদীস মতবাদ কেন মানা যাবে না

🧧 ১ম কারণ

আহলে হাদীস কোনো স্বীকৃত মাযহাব/পথ নয় বা এমন কোনো সুশৃঙ্খল ‘স্কুল অফ থটস’ নয় —যার অনুসরণ করা যায়। বলা যায় এটি একটি লাগামছাড়া দল। এদের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম-নীতি বা উসূল নেই। এরা নিজেরা যা বুঝে এর বাইরে অন্য কারো মতামতকে মূল্যায়ন করে না, করতে জানে না। [এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে]

🧧 ২য় কারণ

এদের অধিকাংশ মতামত ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ তিন যুগের স্বীকৃত ও অনুসৃত ইমামগণ (ইসলামিক স্কলারগণের) মতামতের বিপরীতে। তারা অধিকাংশ মাসালাতেই অনুসৃত ইমামগণের বিরুদ্ধাচারণ করে থাকে। তাদের দাবি, অনুসৃত চার ইমাম ভুল ফতোয়া দিয়ে গেছেন, তারা নাকি সত্য জানতে পারেনি। অথচ দ্বীনের ব্যাপারে প্রাথমিক যুগের লোকেরাই অগ্রগণ্য ও সত্যপন্থী হওয়ার পক্ষে স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সার্টিফিকেট বা সাক্ষ্য রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

خَيْرُ النّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَفْشُو الكَذِبُ

সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার যুগের মানুষ। অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ (তাবে’ঈ), অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ (তাবে-তাবে’ঈ), এরপর চারিদিকে মিথ্যা ছড়িয়ে পড়বে। [তিরমীযী: ২৩০৩]

এ হাদিস থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়ে গেলো যে, সত্য ও হক্ব যদি থেকে থাকে, তাহলে কল্যাণ-ঘোষিত সেই তিন যুগেই থাকবে। সেই সোনালী তিন যুগের ইমামগণই হচ্ছে উত্তম ও হক্ব এর ক্ষেত্রে রাসূলের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত। এরপরে ব্যাপকহারে মিথ্যা মিশ্রিত হয়ে পড়বে।

কিন্তু এদের দাবি, তাঁরা সত্য জানতে পারেনি, তাদের অনুসরণ করা যাবে না। তো তাদের দাবি অনুযায়ী সেই সোনালী ও কল্যাণঘোষিত তিন যুগের ইমামগণ যদি সত্য জানতে না পারেন, তাহলে এই মিথ্যা যুগের মানুষেরা কীভাবে সত্যটা জানবে?

ভাবতেই অবাক লাগে, এই নব্য আহলে হাদিসরা মিথ্যার যুগে এসে সত্য যুগের ইমামগণের ফতোয়াকে ভুল বলছে; তাদের ফতোয়াকে কুরআন-হাদিস বিরোধী ফতোয়া বলে চেঁচামেচি করছে। অথচ তাঁরাই ছিলো কুরআন হাদিসের উৎসের অধিক নিকটবর্তী।

চিন্তা করুন, ইমামগণ রাসূলের যুগ থেকে অনেক কাছে থাকা সত্ত্বেও যদি (তাদের দাবি অনুযায়ী) সত্য জানতে না পারেন, তাহলে এরা হাজার বছর পরে এসে কীভাবে সত্যটা জানতে পারবে? অতএব, এদের অনুসরণ করা আর শয়তানের অনুসরণ করা একই কথা। কেনোনা, শয়তান মানুষকে নতুন নতুন পন্থায় ধোঁকা দিয়ে থাকে, আর এটাও একটা ধোঁকা। এটা হচ্ছে কুরআন ও সহীহ হাদীসের নামে ধোঁকা।

কারণ, শয়তান মানুষকে এমন ভাবে ধোঁকা দেয়, যাতে করে মানুষ এটাকে ধোঁকা বুঝতে না পারে। মূলত শয়তান এমন ব্যবস্থা করেছে যে, মানুষ বিষ খাবে তো মধু মনে করেই খাবে, অর্থাৎ কুরআন হাদিস অমান্য করবে তো অনুসরণের নামেই করবে। বুঝতেই পারবে না, কিভাবে তারা কুরআন হাদিস অমান্য করছে।

🧧 ৩য় কারণ

উপরিউক্ত হাদীস থেকে জানা গেলো, পরিপূর্ণ সত্য ও নিষ্ঠা কল্যাণ-ঘোষিত সেই সোনালী তিন যুগেই থাকবে। এরপরে ব্যাপকহারে মিথ্যা মিশ্রিত হয়ে পড়বে।

অতএব, রাসুলের সাক্ষ্য দেওয়া উত্তম ও সত্যের তিন যুগ ব্যতীত পরবর্তী যুগের কোনো মতবাদ অনুসরণ করা যেতে পারে না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তীতের জন্য মিথ্যা মিশ্রণের ভবিষ্যদ্বানী করেছেন। অতএব কেউ সত্য ছেড়ে মিথ্যার দিকে যেতে পারে না।

🧧 ৪র্থ কারণ

জীবিত মানুষগণ মিথ্যা ও ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়।

ইবনু মাস’ঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

،إن كنتم لا بد مقتدين فاقتدوا بالميت ; فإن الحي لا يؤمن عليه الفتنة

যদি (দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে) কাউকে অনুসরণ করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে মৃতদের (পূর্ববর্তী জ্ঞানী/ইমামগণের) অনুসরণ করো। কেননা (তোমাদের সমসাময়িক) জীবিতগণ ফিতনাহ থেকে নিরাপদ নন। [মু’জামুল কাবীর: ৮৭৬৪]

ইবনে মাস’উদ রা. হতে আরেকটি বর্ণনায় আরো পরিষ্কারভাবে এসেছে, তিনি বলেছেন-

عبد الله بن مسعود رضي الله عنه : قال مَن كانَ مُسْتَنًّا ، فَلْيَسْتَنَّ بمن قد ماتَ ، فإنَّ الحيَّ لا تُؤمَنُ عليه الفِتْنَةُ

যে ব্যক্তি কারো অনুসরণ করতে চায় সে যেন মৃতদের অনুসরণ করে। কেননা নিশ্চয়ই জীবিত ব্যক্তি ফিতনাহ হতে নিরাপদ নন। [জামি’উ বায়ানিল ইলম: ২/৯৪৭]

এখান থেকেও বোঝা যায়, আহলে হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। কারণ, এরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জীবিত শায়খদের অনুসরণ করে থাকে; অথচ জীবিতদের অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ জীবিতরা ফিতনাহ থেকে মুক্ত নয়।

🧧 ৫ম কারণ

প্রচলিত আহলে হাদিস মতবাদটি ইসলামের ইতিহাসে দীর্ঘ ১২-১৩ শত বৎসর যাবৎ ছিলোই না। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে “উনিশ শতকের মধ্যভাগে সৈয়দ নজির হোসেন এবং সিদ্দিক হাসান খানের শিক্ষা থেকে উত্তর ভারতে আহলে হাদিস মতবাদ উত্থিত হয়েছিলো।”

তো যদি বলা হয়, প্রচলিত/কথিত আহলে হাদিসের অনুসরণ করতে হবে, তাহলে প্রশ্ন আসে, এই মতবাদটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে দীর্ঘ ১২-১৩ শত বছর মানুষ কিসের অনুসরণ করেছিলো?

🧧 ৬ষ্ঠ কারণ

এই মতবাদে নির্দিষ্ট কোনো ইমাম বা স্কলারের অনুসরণ করা হয় না। বরং প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশি অনুযায়ী যখন যাকে খুশি তাকে অনুসরণ করা হয়। অথচ পবিত্র কুরআনে প্রবৃত্তি ব আপন খেয়ালখুশির অনুসরণ করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

📗 ১ম দলীল

فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ ۚ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

অতঃপর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির (ইচ্ছা/খেয়ালখুশির) অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না। [সূরা আল-কাসাস: ৫০]

📗 ২য় দলীল

إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ ۚ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ ۖ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَبِّهِمُ الْهُدَىٰ

এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে। [সূরা আন-নাজম: ২৩]

📗 ৩য় দলীল

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ۚ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَنْ تَعْدِلُوا ۚ وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا

হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত। [সূরা আন-নিসা: ১৩৫]

📗 ৪র্থ দলীল

يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ

বাংলা অনুবাদঃ হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব, তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাবদিবসকে ভূলে যায়। [সূরা ছোয়াদ: ২৬]

📗 ৫ম দলীল

أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَٰهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَىٰ عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَىٰ سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَىٰ بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না? [সূরা আল জাসিয়া: ২৩]

📗 ৬ষ্ঠ দলীল

فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَا يُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَىٰ

সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশ (ইচ্ছের) অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে। [সূরা ত্বোয়া-হা: ১৬]

📗 ৭ম দলীল

وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَٰكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ ۚ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ۚ ذَٰلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا ۚ فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ

অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে। [সূরা আল আ’রাফ: ১৭৬]

📗 ৮ম দলীল

وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ ۖ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا

আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না। [সূরা কাহফ: ২৮]

📗 ৯ম দলীল

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। [সূরা আন-নযিআ’ত: ৪০]

সম্মানিত পাঠক, উপরিউক্ত আয়াতসমূহে মহান আল্লাহ তা’আলা নিজের ইচ্ছে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। অথচ আহলে হাদিসরা নিজেদের মনমতো ও আপন খেয়ালখুশিমতো যাকে খুশি তাকে অনুসরণ করে।

তারা মুখে বলে, আমরা কুরআন হাদীস ছাড়া কারো অনুসরণ করি না। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, তারা নিজের ইচ্ছা ও খেয়ালখুশিমতো বিভিন্ন শায়খের অনুসরণ করে। একেকজন একেক শায়েখের ভক্ত। আবার দেখা যায়, যে হাদিসটি তাদের মনমতো তারা সে হাদিসটি মানে, আর যে হাদিসটি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায় সে হাদিসকে তারা বিভিন্ন অজুহাতে অমান্য করে। তো এ সবই হচ্ছে প্রবৃত্তির অনুসরণ। আর মহান আল্লাহ তা’আলা প্রবৃত্তির করতে নিষেধ করেছেন।

🧧 ৭ম কারণ

ইবনে তায়মিয়া রহ. বলেন-

ولا يَخْلُو أمْرُ الدّاعِي مِن أمْرَيْنِ: الأوَّلُ: أنْ يَكُونَ مُجْتَهِدًا أوْ مُقَلِّدًا فالمُجْتَهِدُ يَنْظُرُ فِي تَصانِيفِ المُتَقَدِّمِينَ مِن القُرُونِ الثَّلاثَةِ؛ ثُمَّ يُرَجِّحُ ما يَنْبَغِي تَرْجِيحُهُ. الثّانِي: المُقَلِّدُ يُقَلِّدُ السَّلَفَ؛ إذْ القُرُونُ المُتَقَدِّمَةُ أفْضَلُ مِمّا بَعْدَها.

দ্বীনের দায়ী দুই অবস্থা থেকে খালি নয়। হয় মুজতাহিদ (গবেষক) হবে, নাহয় মুকাল্লিদ (অনুসারী)। প্রথম: মুজতাহিদ, মুজতাহিদ যাঁরা হবেন তাঁরা সোনালী ৩ যুগের মনিষীদের রচনাবলী অধ্যয়ন করবেন ও অতঃপর যা প্রাধান্য পাওয়ার উপযুক্ত সেটাকে প্রাধান্য দেবেন। দ্বিতীয়: মুকাল্লিদ, মুকাল্লিদগণ সালাফ (পূর্ববর্তীদের) তাকলীদ (অনুসরণ) করবেন। কারণ, পূর্বের যুগ পরবর্তী যুগের চেয়ে উত্তম ।

এখান থেকেও সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মাণ হয় যে, হয়তো মুজতাহিদ হতে হবে নয়তো সোনালী তিন যুগের ইমামগণের অনুসরণ করতে হবে। এর বাইরে কোন পথ নেই। অতএব, আহলে হাদিস (ইমাম বিহীন) হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।

মাজমুউল ফাতাওয়া: ২০/৯

🧧 ৮ম কারণ

চার মাযহাবের বাইরে অন্য কোনো মতবাদ গ্ৰহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে ইমামগণের ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে।

📗১ম দলীল

ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. এর বিশিষ্ট ছাত্র এবং হাম্বলী মাযহাবের বিশিষ্ট ফক়ীহ আল্লামা ইবনুল মুফলিহ রাহ. স্বীয় গ্রন্থে বলেন,

الإجماع انعقد على تقليدِ كلٍّ من المذاهب الأربعة، وأن الحق لا يخرج عنهم

চার মাযহাবের যে কোন একটির তাকলীদ করার উপর ইজমা সংঘটিত হয়েছে। এবং সত্য এই চার মাযহাবের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। [অর্থাৎ চার মাযহাবের বাইরে কোনো সত্য নেই]। [আল ফুরূ —ইবনুল মুফলিহ: ৬/৩৭৪]

📗 ২য় দলীল

উসুলে হাদীস শাস্ত্রে ইমাম ইবনুস সালাহ রাহিমাহুল্লাহ হচ্ছেন ইবনে হাজার আসকালানী রাহ-এর চেয়ে অগ্রগণ্য! হাদীস শাস্ত্রে ‘মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ’ কিতাবটির অবস্থান কে না জানে! এবং উসূলে হাদীস এর প্রায় সব কটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থই কিন্তু তাঁর লিখিত।

সেই জগদ্বিখ্যাত উসুলে-হাদীসবিদ ইমাম ইবনুস সালাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

لَا يَجُوزُ تَقْلِيدُ غَيْرِ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ

চার ইমাম ব্যতীত অন্য কারো তাকলীদ বৈধ নয়। [ইকদুল জীদ ফী আহকামিল ইজতিহাদ ওয়াততাকলীদ: ৩০। নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ: ১/৪৭]

📗 ৩য় দলীল

শাফেয়ী মাযহাবের বিদগ্ধ ফকীহ আল্লামা যারকাশী রাহ. লিখেন,

وقد وقع الاتفاق بين المسلمين على أن الحق منحصر في هذه الأربعة ، وحينئذ فلا يجوز العمل بغيرها ، فلا يجوز أن يقع الاجتهاد إلا فيها.

এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, হক এ চার মাযহাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং এ চার মাযহাব ব্যতীত অন্য কোনো মাযহাবের অনুসরণ করা বৈধ নয় এবং এ চার মাযহাবের মধ্যেই কেবল ইজতিহাদ করা যাবে। [আল বাহরুল মুহীত: ৮/২৪০]

আল্লামা যারকাশী রাহ.আরো লিখেন,

الدَّلِيلُ يَقْتَضِي الْتِزَامَ مَذْهَبٍ مُعَيَّنٍ بَعْدَ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ، لَا قَبْلَهُمْ

দলীলের দাবি হলো, চার মাযহাবের কোনো একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ করা জরুরী, এর পূর্বের কোনো মাযহাব নয়। [আল বাহরুল মুহীত: ৮/৩৭৪]

📗 ৪র্থ দলীল

ইমাম যাহাবী রহ, বলেন,

لا يكاد يوجد الحق فيما اتفق أئمة الاجتهاد الأربعة على خلافه ، مع اعترافنا بأن اتفاقهم على مسألة لا يكون إجماع الأمة ، ونهاب أن نجزم في مسألة اتفقوا عليها بأن الحق في خلافها

চার ইমাম যে বিষয়ে একমত এর বিপরীতে সঠিক মত পাওয়া যায় না বললেই চলে । যদিও আমরা স্বীকার করি চারজনের ইজমা সরাসরি পুরো উম্মতের ইজমা নয়। তবে তাদের ঐক্যমত হওয়া বিষয়ের বিপরীতে কোনো মাসয়ালায় সঠিক মত আছে এটা জোর দিয়ে বলতে আমরা ভয় করি। সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা: ৭/১১৭

📗 ৫ম দলীল

ইমাম নববী রহ: (মৃ:৫৭৬ হিঃ) রাওযাতুত তালেবীন নামক গ্রন্থে লিখেন— উলামাগন বলেন ইজতেহাদে মুতলাক ইমাম চতুষ্টয় পর্যন্ত খতম হয়ে গেছে, তাই তারা ইমাম চতুষ্টয়ের কোন একজনের তাকলীদ মুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব সাবস্ত করে দিয়েছেন।

📗 ৬ষ্ঠ দলীল

ইমামুল হারামাইন জুয়াইনী রহ. (মৃ. ৪৭৮ হি.) ইমাম চতুষ্টয়ের তাকলীদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ইজমা উল্লেখ করেছেন। [নুরুল হিদায়া হতে সংকলিত পৃ-১০/ ফয়জুল কাদীর: ১/২১০। শরহুল মুহাযযাব নববী: ১/৯১, অধ্যায় আদাবুল মুস্তাফতী)

📗 ৭ম দলীল

ইমাম ইবনে তাহমিয়া রহ. (মৃ: ৭২৮হি.) তিনি বলেন মুসলিম উম্মাহর ইজমা অপেক্ষা করে চার মাযহাবের বিপরীত কোন মাযহাব তৈরী করা বা গ্রহন করা বৈধ হবেনা। [মাজমূউল ফাতওয়া —ইবনে তাইমিয়াহ: ২/৪৪৬]

📗 ৮ম দলীল

ইমাম ইবনে হাজার মাক্কী রহ. তিনি তার নিজের প্রসিদ্ধ কিতাব ফাতহুল মুবীনে বলেন— আমাদের যুগের বিশেষজ্ঞেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইমাম আ‘যম ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক ও আহমদ বিন হাম্বল রহ. এ চার ইমাম ছাড়া অন্য কারো তাকলিদ জায়েয নয়। [ফাতহুল মুবীন: ১৯৬]

📗 ৯ম দলীল

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নজদী। আহলে হাদীসরা দাবি করে থাকেন যে, আব্দুল ওয়াহাব নজদীও লা-মাযহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, চার মাযহাব এর যে কোন একটির তাকলীদ করা যাবে এবং এ চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাব এর অনুসরন করা যাবে না। [তারীখে নাজদ —আলূসী: ৫৪-৫৬, ছিয়ানাতুল ইনসান: ৪৭১]

📗 ১০ম দলীল

শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহ: (মৃ-১১৭৬ হি:) তার সুপ্রসিদ্ধ কিতাব হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগায় লিখেন— চার মাযহাব হক হওয়ার উপর সকল ইমামগণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। [হুজ্জাতুল্লাহিল বালোগা:১-১২৩)

তিনি অন্যত্র বলেন-

ينبغي ان القياس وجوب التقليد لامام بعينه فاذا كان إنسان جاهل في بلاد الهند أو في بلاد ما وراء النهر وليس هناك عالم شافعي ولا مالكي ولا حنبلي ولا كتاب من كتب هذه المذاهب وجب عليه أن يقلد لمذهب أبي حنيفة ويحرم عليه أن يخرج من مذهبه لأنه حينئذ يخلع ربقة الشريعة ويبقى سدى مهملا

নির্দিষ্ট ইমামের (মাযহাবের) অনুসরণ ওয়াজিব হওয়াটা বুদ্ধি-বিবেচনারই দাবী।

কারণ যখন ভারতবর্ষ কিংবা আশেপাশের অন্যান্য দেশসমূহের মানুষজন অজ্ঞ ও মূর্খ ছিল, সেখানে ছিলো না কোনো শাফে’ঈ আলেম না কোনো মালেকী আলেম কিংবা হাম্বলী আলেম। না ছিলো সেসব মাযহাবের কোনো কিতাব। (কেবল হানাফী আলেমগণ ছিলো) কাজেই তাদের উপর ইমাম আবু হানীফার মাযহাবের তাকলীদ করাটা ওয়াজিব হয়ে পড়লো এবং তাদের জন্য তাঁর মাযহাব থেকে বের হওয়া যাওয়া হারাম হয়ে গেলো। কারণ যদি তারা তাঁর মাযহাব না মানে তবে তারা শরীয়তের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাবে আর তাদের আমলগুলো পণ্ডশ্রমে পরিণত হবে। [আল ইনসাফ পৃ: ৬৮-৭৯]

তিনি আরো বলেন-

ان المذاهب الاربعة المدونة المحررة قد اجتمعت الامة او من يعتد به منها على جواز تقليدها الى يومنا هذا.

সংকলিত ও গ্রন্থবদ্ধ এই চার মাযহাবের অনুসরণের বৈধতার উপর আজও পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ অর্থাৎ উম্মাহর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। [হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ১/২৮৬]

📗 ১১তম দলীল

ইমাম মোল্লা জিওন রহ. তাফসীরে আহমদিয়ায় লিখেছেন যে, ইনসাফ হলো চার মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া। এক্ষেত্রে দলীল ও ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।

📗 ১২তম দলীল

বিখ্যাত উসূলে হাদীস বিশারদ ইবনে নুজাইম রহ: (মৃ. ৯৭০ হি.) লিখেন— যে ব্যাক্তি চার ইমামের বীপরীত মত পোষন করবে। সে মুসলিম উম্মাহর ইজমা তথা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত হবে। [আল আশবাহ ওয়ান নাযাইর: ১৩১)

📗 ১৩তম দলীল

আল্লামা শা’রানী রহ: তার বিখ্যাত কিতাব আল মীযানে লিখেন- নিজে পথভ্রষ্ট না হওয়া এবং অপরকে পথভ্রষ্ট না করার জন্য নির্দিষ্ট মাযহাব এর অনুসরন জরুরী।(ইনতেছারুল হক: ১৫৩)

📗 ১৪তম দলীল

ইমাম বুখারী ও মুসলিম এর উস্তাদ। হাদীসের জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজন স্বীকৃত ইমাম বিশেষত হাদীস যাচাই-বাচাই বা জারহ-তা’দীলের অতুলনীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্যাসাগর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহ: অসীম জ্ঞানের অধিকারী সত্বেও তিনি লাগামহীনতার পথ বন্ধ করার লক্ষ্যে ইমামে আ‘যম আবু হানীফার তাকলীদ করে চলতেন। তিনি বলেন- আমার নিকট গ্রহনযোগ্য ক্বিরাআত হামযাহ এর ক্বিরাআত এবং গ্রহণযোগ্য ফিক্বহ ইমাম আবু হানিফার ফিক্বহ। সকল মানুষকেও আমি এর উপর ঐক্যবদ্ধ পেয়েছি। [তারিখে বাগদাদ: ১৩/৩৪৭]

সম্মানিত পাঠক, ইমামগণের উপরিউক্ত বক্তব্যসমূহের মাধ্যমে জানা গেলো, চার মাজহাবের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ অনুসরণ করা যাবে না। আর যারা এ কথাগুলো বলেছেন তারা সকলেই ছিলেন অনেক বড় বড় জ্ঞানী বা ইসলামিক স্কলার। মানুষের জন্য কি উত্তম আর অনুত্তম তাঁরা আমাদের চেয়ে ভালোই বুঝতেন।

অতএব আমরা এ যুগের লোকদের কথা মানার চেয়ে, পূর্ববর্তী ইমামগণের কথা মানাককেই অধিক নিরাপদ মনে করি।

[চলবে]

লেখক: লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান

ছাত্র: মাদ্রাসাতু ফায়দ্বিল ‘উলূম আল-ইসলামিয়্যাহ

 

আরো পড়ুন-

Screenshot 3
বিজ্ঞাপনঃ বই কিনুন, বই পড়ুন

0

লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান

Author: লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান

লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান। ঠিকানা: নোয়াখালী। কর্ম: ছাত্র। পড়াশোনা: আল-ইফতা ওয়াল হাদীস [চলমান] প্রতিষ্ঠান: মাদরাসাতু ফায়দ্বিল 'উলূম নোয়াখালী।

Related Posts

হযরত ওমর (রা.) এর জীবনী

তিমির রাত্রি –‘এশা’র আজান শুনি দূর মসজিদে প্রিয়া-হারা কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়া বিঁধে! আমির-উল-মুমেনিন, তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি –

ইমাম ইবনে তায়মিয়্যাহ রহ. এর দৃষ্টিতে তারাবীর রাকাত-সংখ্যা

ইমাম ইবনে তায়মিয়্যাহ রহ. এর দৃষ্টিতে তারাবীর রাকাত-সংখ্যা   বর্তমানে কোনো কোনো লা-মাযহাব বন্ধু একথা বলতে চাযে যে, ওমর রাদিয়াল্লাহু

তারাবীহ কত রাকাত: বিভ্রান্তি নিরসন —১

তারাবীর রাকাত সংখ্যা নিয়ে সৌদি আরবের বিশিষ্ট সালাফী শায়খদের ফতোয়া   ১. বিন বায রহ. এর ফতোয়া   সৌদি আরবের
হযরত ইব্রাহিম আঃ এর জীবনী- লেখক ডট মি

হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর জীবনী

হযরত ইব্রাহিম (আ.) হচ্ছেন, মুসলিম  উম্মাহর জাতির পিতা এবং একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামের একজন কালজয়ী নবী ও রাসুল। তিনি হচ্ছেন

3 Replies to “আহলে হাদীস বনাম হানাফী মাযহাব —কোনটি মানবো (পর্ব ১)”

    1. ভাইয়া এই ব্যাপারে আলোচনা করতে চাইলে আপনি আমার ফেসবুক পেজ/গ্ৰুপ/প্রোফাইলে যুক্ত যুক্ত হতে পারেন। ফেসবুকে গিয়ে লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান লিখলেই চলে আসবে।

      তবে সংক্ষিপ্ত ভাবে একটা কথা বলি, তারা অধিকাংশ ফতোয়ার ক্ষেত্রেই ৪ ইমামের বিরুদ্ধে।

      1. আহলে হাদীস মতবাদ কেন মানা যাবে না
        🧧৯ম কারণ
        এদের মত ও পথ, মাসআলা-মাসায়েল এবং ফতোয়া ইত্যাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কুরান-হাদীসের বিরোধী। অনেক ভিডিওতেই দেখা যায়, আহলে হাদিসরা কুরআন-হাদীসের বিরোধী ফতোয়া দেয়। তাদের কুরআন-হাদীস বিরোধী জঘন্য কিছু ফতোয়া:

        ১. সাহাবায়ে কেরাম ফাসেক ছিলেন। [আল-বয়ানুল মারসূস: ১৮৪]

        ২. বীর্য পাক। [বুদূরুল আহিল্লাহ: ১৫] ইচ্ছে হলে নাকি খাওয়াও যাবে।

        ৩. অজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে। [আরফুল জাদী: ১৫]

        ৪. গাভীসহ সকল প্রাণীর পস্রাব পবিত্র। [বুদূরুল আহিল্লাহ: ১৪-১৬]

        ৫. নিজের জারয মেয়েকে বিবাহ করা যাবে। [আরফুল জাদী: ১১৩]

        সংক্ষিপ্ততার লক্ষ্যে আমরা এখানে কেবল পাঁচটি কুরআন-হাদীস বিরোধী ফতোয়া উল্লেখ করেছি। এমন অসংখ্য ফতোয়া রয়েছে। আমরা এ নিয়ে আলাদা একটি প্রবন্ধ তৈরি করবো ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply