বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ
ক্রিকেট খেলা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সেদিন ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ না করলে ক্রিকেট দল আদৌ আজকের অবস্থানে আসতে পারতো কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বিসিবির আয় ছিলো প্রায় ২১৮ কোটি  টাকা। বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডার বাংলাদেশের হয়ে খেলেন, ওভারে ৫ এর উপরে কোন বোলার রান দিলে সেটিকে বেশী মনে হয়, ভারতের সাথে কেন সব ম্যাচে জেতে না, পাকিস্তানের সাথে কেন প্রতি সব ম্যাচ জেতে না এটা আমাদের দুঃখ দেয়।

বাংলাদেশের যখন ওয়ানডে স্ট্যাটাস ছিলো না

১৯৭১ সালে যখন পৃথিবীতে বাংলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয় তখন ইস্ট পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের তিনজন খেলোয়াড় পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসির সহযোগী সদস্যের মর্জাদা লাভ করে। প্রথম আইসিসি ট্রফি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে। রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল ১৯৭৯ সালে প্রথম আইসিসি ট্রফিতে অংশগ্রহণ করে। গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ দল ১৬৮৬ সালে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়।

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা হয়, ঐ একই বছর বাংলাদেশ সফলতার সাথে এশিয়া কাপের আয়োজন করে। এতদিনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল শুধু খেলেই চলেছিল, উল্লেখ করার মতো জয়ের দেখা মেলেনি।

১৯৯৭ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ করে কেনিয়াকে হারিয়ে, যা তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন।

আইসিসি ট্রফি জয়ের গল্প

নিচের ভিডিওতে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের হাইলাইটস দেখুন। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন আকরাম খান।


১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ আই সি সি ট্রফি। পুরো প্রতিযোগিতা কৃত্রিম টার্ফ বসানো পীচে অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে অধিনায়ক আকরাম খানের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে হল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ( সেরা তিনটি দল এই সুযোগ পায় )। বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে শক্তিশালী কেনিয়াকে ১ উইকেটে হারিয়ে আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। একই বছরে বাংলাদেশকে আই সি সি ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ করে।


প্রথম ইনিংস

কেনিয়া দলের ব্যাটসম্যানঃ ব্যাটিং করেছিলেন- আসিফ করিম, সন্দীপ গুপ্ত, কেনেডি ওতিয়েনো, স্টিভ টিকোলো(১৪৭), মরিচ ওদুম্বে(৪৩), থমাস ওদোয়ো, হিতেশ মোদি, টনি সুজি। ব্যাটিং করেননি- ডেভিড টিকোলো, মার্টিন সুজি এবং ব্রজলাল পাতিল।

বোলিং এ সেরা ছিলেনঃ মোহাম্মদ রফিক(৪০/৩), সাইফুল ইসলাম(৩৯/২) এবং খালেদ মাহমুদ সুজন(৩১/২)

কেনিয়া ৫০ ওভার ব্যাটিং করে সেদিন করেছিলো ৭ উইকেটে ২৪১ রান।

দ্বিতীয় ইনিংস

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ২৫ ওভারে বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ১৬৬ রান।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ব্যাটিং করেছিলেনঃ নাইমুর রহমান দুর্জয়, মোহাম্মদ রফিক(২৬), মিনহাজুল আবেদিন নান্নু(২৬), আমিনুল ইসলাম বুলবুল(৩৭), আকরাম খান, এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাসিবুল হোসেন শান্ত। ব্যাটিং করেননি- আতাহার আলী খান।


বোলিং এ সেরা ছিলেনঃ আসিফ করিম(৩১/৩), মরিচ ওদুম্বে(১৮/২), মার্টিন সুজি(২৮/১), থমাস ওদোয়ো(২৭/১), টনি সুজি(২৬/১)

বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৬৬ রান করে ২ উইকেটে জয়ী হয়।

বাংলাদেশ দল জয়ী হলেও এই ম্যাচের ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ ছিলেন ছোট দলের বড় তারকা স্টিভ টিকোলো। 

১৯৯৭ সালের ট্রফি জয়ের পর ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশ দল বিশ্বের অন্যতম সেরা বা, তর্কসাপেক্ষে সেই সময়ের সেরা দল(১৯৯২ এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন) পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরো পৃথিবীকে চমকে দেয়। বাংলাদেশের ২২৩ রানের জবাবে সেদিন পাকিস্তান করেছিল ১৬১ রান। সেদিন পাকিস্তান দলের হয়ে বোলিং করেছিলেন- ওয়াকার ইউনুস, ওয়াশিম আকরাম, আজহার মেহমুদ, সাকলাইন মোস্তাক, শহীদ আফ্রিদি। কিন্তু সেই দিনের উজ্জলতম বোলারের নাম খালেদ মাহমুদ সুজন (৩১/৩)। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন- জাতি বুঝলো না।

খালেদ মাহমুদ সুজন

তথ্যসূত্রঃ

  1. Bangladesh Vs Kenya- 1997
  2. Bangladesh National Cricket Team- Wikipedia
  3. খালেদ মাহমুদের ছবির কৃতিত্ব নুরুন্নবী চৌধুরি এর-ছবিটি Creative Commons Attribution-Share Alike 4.0 International লাইসেন্সের আওতার লাইসেন্সকৃত।


(Visited 7 times, 1 visits today)
0
likeheartlaughterwowsadangry
0

Author

admin@lekhok.me
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

বলোনা.....

September 27, 2020