দ্বিত্ব
বিপ্রতীপ অপু
কী ব্যাপার এমন স্তব্ধ হয়ে বসে আছো ক্যানো? অফিস থেকে ফিরে
নিজের রুমে ঢুকে স্বামীকে রকিং চেয়ারে ঝিম মেরে বসে দুলতে দেখে ঝেঁঝিয়ে উঠলো রোজী। আজ স্বামীকে নিজের আগে ঘরে দেখে একটু অবাকও হলো।
তাড়াতাড়ি ফিরলে যে? অফিসে কোনো ঝামেলা হয়েছে?
ড্রেস চেঞ্জ করতে করতে আবারও প্রশ্ন করলো রোজী। কিন্তু রাজীব নিরুত্তর। আর কথা না বাড়িয়ে চা খাবে কিনা জিজ্ঞেস করে উত্তরের অপেক্ষা না করে সোজা কিচেনে চলে গেল। নিজেরও একটু চা খাওয়া দরকার। অফিসের কাজের চাপ আর বাইরের গরমে বেহাল অবস্থা। চুলায় চায়ের পানি চাপিয়ে সিঙ্কের বাসন-পত্র গুলো ধুয়ে নিলো। তারপর দু’কাপ চা বানিয়ে নিজের কাপটাতে দুটো চুমুক দিল। আহ্ শরীরটা যেন ঝরঝরে হয়ে গেল। স্বামীর ধুমায়িত চায়ের কাপটা রকিং চেয়ারের পাশের টেবিলে রেখে বললো,চা খাও।
এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। ধ্যাৎ! এসময় আবার কে এলো। একরাশ বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলেই হতভম্ব হয়ে গেল রোজী। হাত-পা কাঁপছে। অস্ফুটে মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো,রাজীব তুমি? দরজা খোলা রেখেই এক দৌঁড়ে চলে গেল নিজের রুমে। শূন্য রকিং চেয়ারটা দুলছে। শুধুই দুলছে। চায়ের কাপ ফাঁকা।