বাংলা আর্টিকেল রাইটিং

বাংলা আর্টিকেল রাইটিং পেশা হতে পারে!

অনলাইনে বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার নানারকম পদ্ধতি আছে। বিভিন্ন সাইট থেকে গল্প, কবিতা লিখেও আয় করা যায়। আবার, নিজের ব্লগে লেখা পাবলিশ করেও এডসেন্স এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এই লেখার মাধ্যমে আপনাদেরকে এই বিষয়ে ধারণা দিতে চেষ্টা করবো।

মূলত প্রবন্ধ প্রকাশ করে ব্লগারেরা অর্থ উপার্জন করে থাকেন। তবে আপনি চাইলে, গল্প, উপন্যাস, কৌতুক, কবিতা যেকোন কিছু প্রকাশ করতে পারেন। পূর্বশর্ত হচ্ছে ঐ ধরণের লেখার প্রতি পাঠকের আগ্রহ থাকতে হবে, আর লেখার মাণও ভালো হতে হবে- তা না হলে কেউ পড়বে না। লেখার মাণ ভালো করতে আর্টিকেল বা, গল্প লেখার ব্লগ গুলোতে লিখে প্র্যাকটিস করতে পারেন।

সূচিপত্রঃ

শুরুতে আপনার উচিত হবে, ব্লগের লেখার কার্যকর ধরণটা রপ্ত করা। এজন্য আয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে লেখার মাণ ভালো করার দিকে মনোযোগী হতে হবে, এতে করে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য পাবেন।

লেখালেখি করে আয় করার ওয়েবসাইট

ইংরেজীতে অনেক ওয়েবসাইট আছে যেগুলো থেকে লেখালেখির মাধ্যমে টাকা আয় করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এবং ফেসবুকের অনেক গ্রুপে আর্টিকেল লেখার কাজ পাওয়া যায়

Upwork, Fiverr, Seolerks এরকম সাইটগুলো ছাড়াও শুধু লেখালেখির জন্য  iwriter, watch culture, developer tutorial এইসব সাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। এর বাইরে Medium, Quora, Hubpages এগুলো থেকেও এফিলিয়েটের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

দেখতে পারেন-

এইসব প্যাচাল বাদ দিয়ে বাংলা কিছু সাইট খুজে পেয়েছি সেগুলোর তালিকা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। মনে রাখবেন, লেখার পদ্ধতি জানতে হবে এবং মাণও ভালো হতে হবে। যাদের জন্য লিখছেন তাদের লাভ না হলে আপনাকে টাকা দেবে না। চলুন সাইটগুলো দেখি-

  • অর্ডিনারি আইটি
  • প্রিয় ডট কম
  • বাংলা ভাইভ
  • খলিফা নেটওয়ার্ক

এছাড়া আরো অনেক ওয়েবসাইট আছে যেগুলোতে নতুন কনটেন্টের প্রয়োজন। আপনার লেখার মাণ ভালো হলে (১০০-১৫০০) টাকা বাংলা আর্টিকেলের জন্য পেতে পারেন

এইসব সাইটে এবং ফেসবুকের বিভিন্ন আর্টিকেল রাইটিং গ্রুপের মাধ্যমে বাংলায় লিখে বিকাশে পেমেন্ট পেতে পারেন।

লেখক ডট মি তে লেখার জন্য আমরা কোন টাকা  দেই না(লেখক-পাঠকের সংখ্যা এবং জনপ্রিয়তা এখনো কম), তবে ভালো মাণের লেখা প্রকাশ করলে এখানেও লেখার অফার পেতে পারেন। আর, হ্যাঁ-  এফিলিয়েট থেকে বা, নিজের পণ্যের প্রচার করেও এখান থেকে আয় করতে পারেন।

পত্রিকায় লিখে আয়

বাংলাদেশে এখন প্রচুর অনলাইন পোর্টাল আছে, এছাড়া পত্র-পত্রিকার ওয়েবসাইট তো আছেই। যেসব পত্রিকা অফলাইনে জনপ্রিয় সেগুলো অনলাইনেও বেশ জনপ্রিয়। ঐসব পত্রিকায় লিখেও আপনি আয় করতে পারেন। যেহেতু ওদের অনেক ভিজিটর আছে, তাই অন্য সব সাইটের চেয়ে পত্রিকায় লিখলে টাকাটাও বেশী পাবেন বলে আশা করা যায়।

আর, এমনিতে যদি পত্রিকায় লেখা পাঠাতে চান তাহলে তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে পত্রিকায় লেখা পাঠানোর নিয়ম জেনে নিন। প্রথম আলো পত্রিকার কিশোর আলোতে লেখা পাঠানোর ইমেইল এড্রেস হচ্ছে- [email protected] । আগে প্রকাশিত হয়েছে এমন লেখা ওরা প্রকাশ করে না, তবে নিজের নতুন লেখা ওদের কাছে পাঠাতে পারেন।

গান লিখে আয়

অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা গানের লিরিক্স লেখার জন্য টাকা দেয়। আপনি যদি ইংরেজীতে ভালো গান লিখতে পারেন, তাহলে এইসব সাইট থেকে আয় করতে পারবেন। বাংলাদেশে এরকম কোন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আছে বলে আমার জানা নেই। তবে, বাংলাদেশী মিডিয়া কোম্পানিগুলোতে খোজ নিতে পারেন। ইংরেজী যেসব সাইটে আয় করা যায় সেগুলো হচ্ছে-

  • Nashville
  • Tunecore
  • Songbay
  • Soundbetter ইত্যাদি।

 

আর্টিকেল লেখার পদ্ধতি

তৈরি করার নিয়ম

একাডেমিক আর্টকেল এবং ব্লগের আর্টিকেল লেখার নিয়ম আলাদা, তবে যেকোন একটিতে দক্ষতা থাকলে অন্যটি রপ্ত করা সহজ। আপনারা একাডেমিক লেখায় যেমন বড় বড় প্যারা আকারে লিখে অভ্যস্ত ব্লগের লেখা লক্ষ্য করলে দেখবেন এটি তেমন না। কারণ, ব্লগের বাউন্স রেট এবং ভিউ ডিউরেশন বাড়ানোর জন্য

প্রতিটি লাইনেই পাঠককে আকৃষ্ট করা হয়। যেমনঃ

  • ১/২ টি বাক্যেই একটি প্যারাগ্রাফ শেষ হয়
  • বোল্ড, ইটালিক, ব্লককোট, বুলেট পয়েন্ট এগুলোর মাধ্যমে লেখাকে আকর্ষণীয় করা হয়
  • লেখার মাঝে ছবি এবং ইনফোগ্রাফিক থাকে
  • H1, H2, H3, H4 ইত্যাদি নানারকম হেডিং ব্যবহার করা হয়
  • ইন্টারনাল এবং এক্সটার্নাল লিংক থাকে

 

কেউ যদি মনে করে লেখাটা তো ভালো, পরে পড়বো- সে আর কখনোই আসবে না, অন্য সাইটে উত্তর খুজে নেবে। তাই আপনাকে প্রথমেই পাঠককে আকৃষ্ট করতে হবে। আর অন পেজ এস ই ও সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভালো হয়। একটি লেখার মাঝে  রিলেটেড ৪/৫ টি কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। সেগুলোর উল্লেখযোগ্য সার্চ ভলিউম থাকতে হবে।  কিওয়ার্ডগুলো ন্যাচারালি ব্যবহার করতে হবে, লেখার অংশ হিসেবে কিওয়ার্ড থাকবে।

আর্টিকেলের লেখার পদ্ধতি এবং এস ই ও যদি জানেন। এবং প্রথম পেজের লেখাগুলোর চেয়ে তথ্য বা, যুক্তিতে সেরা লেখা লিখতে পারেন যার লেন্থ হবে ৭০০, ১০০০ বা, ২০০০ শব্দের বেশী তাহলেই একজন ব্লগ লেখক বা, আর্টিকেল রাইটার হিসবে আপনি আয় করতে পারবেন। নিজের ব্লগেই হোক আর, অন্যের ওয়েবসাইটেই হোক এই যোগ্যতার কোন বিকল্প নেই।

বাংলা সাইট থেকে আয় করার পদ্ধতি

নিচে ১০ টি পদ্ধতি নিয়ে লিখেছি, এর যেকোন পদ্ধতিতে ওয়েবসাইট খুলে টাকা আয় করতে পারবেন। সব পদ্ধতির ক্ষেত্রে শর্ত একটাই, অনেক বড় সংখ্যায় ভিজিটর থাকতে হবে। ১০০-২০০ ভিজিটর থাকলেও কম পরিমাণে আয় করতে পারবেন, পেশা হিসেবে নিতে পারবেন না।

আমরা জানি এডসেন্সই (এখন) বাংলা সাইটের প্রধান আয়ের মাধ্যম, তবে অন্যগুলোও যাচাই করে দেখতে পারেন।  ইংরেজীতে লিখলে যা আয় করা যায় তার তুলনায় বাংলা ব্লগের আয় নগণ্য। ব্লগে ভালো সংখ্যায় ভিজিটর পেলে নিচের পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করতে পারেন

আপনার শুধু দরকার- ভিজিটর, ভিজিটর এবং ভিজিটর। এর জন্য বড় লেন্থের, ভালো মাণের আর্টিকেল। প্ল্যান করে লেখা শুরু করুন।

১. এফিলিয়েট মার্কেটিং করে

ব্লগিং বা, লেখালেখিকে যারা পেশা হিসেবে নিয়েছেন তাদের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যাপারটা হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠান বা, দোকানের পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে কমিশন নেয়া। পেশাদার ব্লগারেরা এমনভাবে তাদের ব্লগ পোস্ট লিখেন যে পাঠকেরা সেটা মুগ্ধ হয়ে পড়ে এবং কোন পণ্যের লিংক থাকলে সেই পণ্যও কেনে।

উদাহরণঃ বাংলাদেশে- দারাজ, বিডিশপ, হোস্টিং বিক্রির সাইটগুলো এবং আরো কিছু সাইট এই সুবিধা দেয়। এর বাইরে এমাজনের প্রডাক্টও বিক্রি করতে পারেন। বাংলাদেশে যেহেতু এমাজনের ব্যবসা আপাতত নেই, প্রবাসী বাংলাদেশীরা আপনার ব্লগে দেয়া লিংক থেকে কিনলে কমিশন পাবেন।

২. গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে

বাংলাদেশে এই পদ্ধতিটাই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এফিলিয়েটের ঝামেলায় না গিয়ে বাংলাদেশী ব্লগারেরা সাধারণত বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে পছন্দ করেন। নিজের কোন ব্লগ বা, ওয়েবসাইটে যদি ভালো সংখ্যায় ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি গুগল এডসেন্স বা, কোন সাইটের সরাসরি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারবেন। ১০০ ডলার আয় হলে গুগল পেমেন্ট দেয়। এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। দেখুন- এডসেন্স পাওয়ার সহজ উপায়

উদাহরণঃ গুগল এডসেন্স, মোবাইল অপারেটরদের বিজ্ঞাপন, নতুন কোন পত্রিকা, ই-কমার্স সাইটের বিজ্ঞাপন ইত্যাদি।

বাংলাদেশ থেকে গুগল এডসেন্স এর টাকা রকেটেও তোলা যায়, আর ব্যাংকে তো যাবেই। দেখুন- বাংলাদেশ থেকে এডসেন্স এর টাকা তোলার পদ্ধতি

৩. নিজের পণ্য বিক্রি করে

অনলাইনে এখন অনেকেই ই কমার্স ব্যবসা শুরু করেছেন। লকডাউনে এটি আরেকটু বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আপনার যদি কোন পণ্য থাকে এবং আপনি লেখালেখির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌছাতে পারেন, তাহলে খুব সহজেই সেই পণ্যের সুবিধার কথা সবার কাছে পৌছে দিয়ে বিক্রি করে আয় করতে পারেন।

উদাহরণঃ অনেকেই খাটি মধু, খাটি ঘি, কালোজিরার তেল, প্রক্রিয়াজাতকৃত মাছ, শুটকি ইত্যাদি বিক্রি করেন। একটি বাংলা ওয়েবসাইট থাকলে এই কাজটি আরো সহজ হয়।

৪. জনপ্রিয়তা বিক্রি করে

হ্যা, জনপ্রিয়তাও বিক্রি করা যায়। মোটিভেশনাল স্পিকারদের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন যারা তাদের লেকচারের জন্য টাকা নেয়। দেখবেন এরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পণ্য বিক্রি করে না, জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সেলফ ব্রান্ডিং এর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করে সেটার মাধ্যমে আয় করে। অনেক ইউটিউবারের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।

উদাহরণঃ সোলাইমান সুখন, আয়মান সাদিক ইত্যাদি।

৫. সেবা বিক্রি করে আয়

অনলাইনে কোন সেবা বিক্রি করা যায়। অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা অনলাইন সেবা বিক্রি করে। ওয়েব ডিজাইন, ফেসবুক পোস্ট বুস্টিং, মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি নানা ধরণের সেবা আছে যেগুলো ব্লগ বা, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করা সম্ভব।

উদাহরণঃ ফেসবুকে অনেক পেজ পাবেন, গুগলে সার্চ দিলেও অনেক ওয়েবসাইট পাবেন যারা বিভিন্ন রকম অনলাইন সেবা বিক্রি করে নিয়মিত টাকা আয় করছে।

৬. স্পন্সরড পোস্ট

আপনি টেকটিউনসে এরকম পোস্ট দেখতে পাবেন। এগুলো আসলে বিজ্ঞাপন পোস্ট। ব্লগার বা, লেখক হিসবে আপনার জনপ্রিয়তা থাকলে টাকার বিনিময়ে পোস্ট প্রকাশ করতে পারেন। জনপ্রিয় ব্লগগুলোতে এরকম পোস্ট প্রকাশ করা হয়

উদাহরণঃ কোরাতে কিছু লেখা দেখবেন এগুলো আসলে বিজ্ঞাপন লেখা। লেখার মাধ্যমে তারা তাদের কাস্টমার জোগাড় করে। আপনার কোন বাংলা ব্লগের ভালো জনপ্রিয়তা থাকলে সেখানেও অনেকে এই ধরণের পোস্ট প্রকাশ করতে আগ্রহী হবে। টেকটিউনসে আছে।

৭. সাবস্ক্রিপশন অপশন ব্যবহার করে

অনেক লেখক আছে তারা এতটাই জনপ্রিয় যে, কোন ব্লগে যদি টাকার বিনিময়ে একাউন্ট তৈরি করে তাদের লেখা পড়তে হয় তারপরেও অনেকেই সেটা পড়বে। আপনার লেখাও যদি এরকম মূল্যবান হয় তাহলে আপনিও আপনার একটি ব্লগ তৈরি করে সেখানে এরকম টাকা দিয়ে একাউন্ট তৈরি করে লেখা পড়ানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। অনলাইনে অনেক কোর্সের ওয়েবসাইট পাবেন যারা এই কাজটাই করে।

উদাহরণঃ শিক্ষক ডট কম নামে একটি ওয়েবসাইট আছে যারা ফ্রিতেই কোর্স করার সুযোগ দেয়, তবে টাকা নিয়ে ভালো মাণের কোর্স করায় এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে। আইটি কোর্সগুলোই বেশি দেখি। ইংরেজীতে এডেক্স, এলিসন, ফিউচারলার্ন, ইউডেমী ইত্যাদি সাইটে প্রচুর কোর্স পাওয়া যায়। আপনি একজন শিক্ষক হলে এরকম একটি সাইট চালু করতে পারেন।

৮. বই বিক্রি করে আয়

ফেসবুকে কিছু জনপ্রিয় গ্রুপে কিছু নতুন লেখকদের দেখবেন লেখালেখি করে। এদের উদ্দেশ্য বইয়ের প্রচার এবং বিক্রি বাড়ানো। আপনার কোন বই থাকলে ব্যক্তিগত ব্লগ বা, কোন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেটিকে আরো বেশী মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারেন।

উদাহরণঃ অনেক বই বিক্রির অনলাইন ওয়েবসাইট আছে– রকমারি অন্যতম একটি। একটি সাইট দেখেছিলাম নীলক্ষেতের সব বই অনলাইনে বিক্রি করে।

৯. বিশেষজ্ঞ মতবিনিময় সভা করে

আপনি হয়তো কোন একটি বিষয়ে এতটাই অভিজ্ঞ যে এক ঘন্টা আপনার কাছে প্রশ্ন করে সেই বিষয় সম্পর্কে জেনে নেয়ার জন্য টাকা খরচ করতে লোকজন রাজী হবে। এক ঘন্টার মতবিনিময়ের আয়োজন করতে পারেন। এবং সেখানে যোগ দিতে হলে টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এরকম অপশন রাখতে পারেন।

উদাহরণঃ কিছু কিছু ওয়েবিনার দেখতে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করেন। চাকরির পড়াশোনা বিষয়ক বা, বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক এরকম কিছু অনলাইন উদ্যোগ প্রায়শই দেখা যায়।

১০. প্রিমিয়াম কনটেন্ট তৈরি করে আয়

কিছু অনলাইন নিউজপেপার পাবেন যারা এই অপশন ব্যবহার করে। প্রথম আলোর ই পেপারেও এই অপশন আছে। আপনাকে টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে তারপর পড়তে হবে। আপনার ব্লগেও কিছু লেখা এরকম রাখতে পারেন যার জন্য সাবস্ক্রাইব করে পড়ার অপশন থাকবে।

উদাহরণঃ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় এরকম অপশন দেখেছি। প্রথম আলোর ই পেপারেও এরকম প্রিমিয়াম কনটেন্ট আছে। মূল্যবাণ কিছু থাকলে আপনার ব্লগেও এরকম অপশন চালু করা যেতে পারে।

ব্লগার থেকে টাকা আয় করার উপায়

ইনকাম

গুগোলের একটি সেবা আছে blogger.com ঠিকানায়। ব্লগার থেকে টাকা আয় করার সুযোগ আছে। কোন টাকা খরচ ছাড়াই খুব সহজ উপায় অবলম্বন করে আপনি এটি করতে পারেন। এছাড়া ওয়ার্ডপ্রেস আরেকটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম, এর জন্য হোস্টিং, ডোমেইন কিনতে হয়।

ব্লগারে যে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় সেটি স্ট্যাটিক, ওয়ার্ডপ্রেসের মতো ডায়নামিক না। অনেক ফিচার এখানে যোগ করতে পারবেন না। তবে, ফ্রি .blogspot.com সাব ডোমেইন ছাড়াও আপনি চাইলে অন্য কোন টপ লেভেল ডোমেইন যোগ করে নিতে পারবেন, সুন্দরভাবে নিজের লেখা ব্লগ পোস্ট উপস্থাপন করতে পারবেন।

ব্লগারের যা কিছু সুবিধা-

  • কোন টাকা খরচ নেই
  • ১০০% আপটাইম। সার্ভার কখনো ডাউন হবে না(গুগলের প্রডাক্ট বলে কথা)
  • সাইটের স্পিড ভালো থাকবে, খুব বেশী ভারি কোড নেই
  • আকর্ষণীয় টেমপ্লেট ব্যবহার করা যাবে

যারা ব্লগিং করার কথা ভাবছেন এটি তাদের জন্য খুব ভালো একটি অপশন। জেনে নিন ব্লগ একাউন্ট কিভাবে খুলবেন।  লেখার মাণ, কিওয়ার্ড রিসার্চ এবং সেটি আর্টিকেলে ব্যবহার এগুলোই বেশী গুরুত্বপূর্ণ। সাইটের ডিজাইনে বেশী সময় নষ্ট না করাই ভালো, সব ডিভাইসে ঠিকমতো লেখা পড়া গেলেই চলবে।

আর, গুগল এডসেন্স সহ যেকোন বিজ্ঞাপন বা, এফিলিয়েট লিংক আপনি ব্লগারের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলায় যে কোন বিষয়ে আর্টিকেল লিখে আয় করার সাইট যারা খুজছেন, তাদের জন্য আমার কিছু পরামর্শ আছে। আপনি আগে ২/৩ সপ্তাহ প্র্যাকটিস করে মূল বিষয়টা শিখে নিন। কাউকে ফ্রিতে আর্টিকেল অফার করতে পারেন। যেভাবে শিখবেন-

  • ব্লগের লেখা পড়ে(অবশ্যই যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাদের)
  • ইউটিউব ভিডিও দেখে(অভিজ্ঞদের)
  • নিজে একটি সাইট তৈরি করে কিছুদিন প্র্যাকটিস করে

শেখার পরে মার্কেটপ্লেসে প্রফাইল তৈরি করে ফেলুন, কাজ পেয়ে যাবেন। ক্লায়েন্ট খুশি হলে আজীবন কাজ পাবেন একজনের কাছ থেকেই। ওয়েব ডিজাইন, এস ই ও, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন এগুলো একজনের আজীবন লাগে না। আর্টিকেল সব সময় লাগে।

শেষ কথাঃ

জনপ্রিয়তা থাকলে ১০ টি কেন, ১০০ পদ্ধতিতে বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা আয় করা যেতে পারে। এবং সেটা নিজের ব্লগে বা, জনপ্রিয় কোন মাল্টিব্লগিং সাইট বা, লেখালেখির সাইটের মাধ্যমেও সম্ভব।

আপনার প্রয়োজন জনপ্রিয়তা অর্জনের মতো লেখার যোগ্যতা এবং নিজের জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম খুজে নেয়া।

(Visited 173 times, 1 visits today)

আরো লেখা খুঁজুন

Related Posts

এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়ঃ মিথ এবং বাস্তবতা

নতুন যারা ব্লগিং বা, ইউটিউবিং করে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এই লেখাটি লিখছি। অনেক
এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার প্রধান কারণ

আপনি যদি ব্লগার হয়ে থাকেন, আর আপনার একটি ব্লগ থাকে থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। বাংলায়, ইংরেজীতে বা, যেকোন
আর্টিকেল লেখার নিয়ম গুলো

আর্টিকেল লেখার নিয়ম- অবশ্যপাঠ্য

আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে যদি আপনি যদি প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। অথবা, যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং
ইউটিউব চ্যানেলের নাম নির্বাচন

ইউটিউব চ্যানেলের নাম নির্বাচন

ইউটিউব চ্যানেলের ভালো নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে নামটি যেন ইউনিক এবং সুন্দর হয়। শিক্ষামূলক বা, ইসলামিক বা, অন্য

Leave a Reply