বাস্তব জীবন

0

একটা মানুষ বেচে থাকার জন্য তার যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন। ঠিক তেমনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু সঠিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমাদের জীবনে এমন কিছু ভুল আছে যেই ভুল গুলোর জন্য আমাদের সারাজীবন কাদতে হয়। আজকে বাস্তব জীবনের একটা অভিজ্ঞতা তুলে ধরবো। জীবনের অভিজ্ঞতা কোন ধারাবিবরণীতে নয়। জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা কঠিন কাজ। কিছু কিছু মানুষের জীবনে এমন কিছু গল্প আছে যা গল্প-উপন্যাসের চেয়েও আরও কঠিন। উপন্যাসের মধ্যে লেখক ইচ্ছা করলে যখন-তখন যে কোনো চরিত্রকে মেরে ফেলতে পারেন। আবার হিরো ও বানিয়ে ফেলতে পারেন আর তারা তাই করেনও করে থাকেন। আপনি খুবই আগ্রহ নিয়ে একটি উপন্যাস পড়বেন অথবা নাটক দেখবেন। কিন্তু লেখকের হাতেই সব কিছু তিনি যেভাবে সাজাবেন সেভাবে শেষ হবে। কিন্তু বাস্তব হলো দুরূহ।

মানুষের জীবন বিভিন্ন অধ্যায়ে ভাগ হয়ে থাকে। কোনো অধ্যায় হয় খুব সুখের আবার কোনো কোনো অধ্যায় হতে পারে খুবই দুঃখের। কেননা নিয়তি আমাদের হাত নেই গল্পের লেখকের মতো আমরা চাইলে যেকোন কিছু করতে পারবো না। কোনো অধ্যায় আবার এই দুই সুখ-দুঃখের অনুভূতির সংমিশ্রণে অনেক সময় ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে। একজন মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো অন্যদের জন্য আনন্দ অথবা দুঃখের দৃশ্য বয়ে নিয়ে আসে। অন্যের দুঃখে আমরা দুঃখিত হই আবার অন্যের আনন্দে আমরা আনন্দিতও হই। আমরা কখনও নিজে নিজের সুখ দেখতে পাই না অন্যের সুখ দেখে নিজেদের মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজি। একমাত্র মানুষই অন্যের সুখ দুঃখ ভাগ বণ্টন করতে পারে। আর কোনো প্রাণী তা করতে পারে না। অনেক সময় জীবনের ঘটে যাওয়া দৃশ্যগুলো চোখের সামনে বাস্তবের মতো ভেসে ওঠে। জীবনে চলার পথে আমাদের অনেক কিছুই দেখতে হয়।

আমি যখন ক্লাস এইটে প্রথম ভর্তি হই তখন আমার এক স্যার বলেছিলেন তোমাদের কিন্তু অনেক পড়তে হবে কেননা তোমাদের জেএসসি পরিক্ষা দিতে হবে। তখন অনেক পড়েছিলাম এবং ক্লাসে প্রথম সারির ছাত্রদের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু নিয়তি যে আমাদের হাতে নেই তার প্রমান পাই পরিক্ষার সময়। দুইটা পরিক্ষা দেওয়ার পর আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে যাই পরের পরিক্ষাগুলো ঠিকমতো দিতে পারি নাই। যার ফলে বছর শেষে আমার রেজাল্ট কার্ডে একবিষয় পেল চলে আসে। তখন ই বুঝতে পারি জীবনের বাস্তবতা কী? যারা আমার আমার কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে পিছনের পরিক্ষাগুলোতে পাশ করেছিলো এখন তারা আমার সিনিয়র আর আমি তাদের জুনিয়র হয়ে গেলাম। তবে আমি তখন ভেঙে না পড়ে নিজের সাথে যুদ্ধ করে ঠিকে ছিলাম বলে আজ আমি বলতে পারি কিছুটা হলেও অই রেজাল্টের পরে আমি বুঝতে শিখেছি জীবনের বাস্তবতা কি?

কিছু ভালবাসা, কিছু স্মৃতি আর কিছু কষ্ট আছে যা মানুষের সবসময় মনে থাকবে। কিন্তু সবছেয়ে বড় কথা হল ‘সম্মান’ যেটা সবকিছুতেই আবশ্যক।আমাদের জীবনের কিছু ঘটনা থাকে যা শেয়ার করলে অনেকেই শুনে কিন্তু নিজের মত করে বুঝতে চায় না। মানুষের জীবনে অনুশোচনা করার মত অনেক ঘটনাই থাকে যা নিজেকে তিলে তিলে পুড়িয়ে মারে। আমি মনে করি একটি ব্যক্তি ভুল করলে তার প্রতি সমাজের রূঢ় আঙুল না উঠিয়ে ভুলটা শুধরে দেয়া যদি তাও সম্ভব না হয় অন্তত ভুলটা ধরিয়ে দেয়া কিংবা তাকে অনুশচনার সুযোগ দেয়া।  অতীত কোন ঘটনা অনুশোচনাকে কেন্দ্র করে জীবনকে থামিয়ে দেয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেননা অতীতকে যে পরিবর্তন করা যায় না তা ধ্রুব সত্য। তাই অতীতকে অনুশোচনার মাধ্যমে বর্তমানকে শুধরে ভবিষ্যতকে আলোকময় করার চেষ্টা করা উচিৎ। আর এটাই বুদ্ধিমানরা করে থাকে। আর জীবনে নিজের নেওয়া কোন সিদ্ধান্তকেই ছোট করে দেখা ঠিক না, কেননা তোমার জীবন তোমার দুনিয়া। তোমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে অন্যের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার চেয়ে নিজের সিদ্ধান্তে বার বার হোছট খাওয়াটা অনেক ভালো। নিজের পৃথিবী, নিজের ইচ্ছা, নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে চলতে হবে তবেই একজন মানুষ সফল হবে। সামনে অবারিত সম্ভাবনার হাতছানি, এইতো সময় এগিয়ে যাওয়ার সুন্দর-সুখী জীবনের পানে।

0
(Visited 79 times, 1 visits today)

Related Posts

Quora কি?Quora ব্যাবহারে সুবিধা কি কি?-টেকনো এক্সট্রা

কুয়ারা হচ্ছে একটি প্রশ্ন উত্তর ভিত্তিক ওয়েবসাইট।যেখানে একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করে থাকেন আরেকজন ব্যবহারকারী সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।সারা পৃথিবীর

সি প্রোগ্রামিং এর কাজ কী?সি এর ইতিহাস ও বৈশিষ্ট-টেকনো এক্সট্রা

সি প্রোগ্রামিং ভাষা খুবই সহজ,বোধগম্য এবং কোড গুলো খুবই সাবলীল।এটি ১৯৭০ সালে ডেনিশ এম রিচি বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরিতে বসে UNIX

ফেসবুক পেজ খোলার নিয়ম ২০২১

বর্তমান সময় ফেসবুকের ব্যাবহার বিপুল পরিমানে বেড়ে গিয়েছে।সেই সাথে ফেসবুক ও নিত্য নতুন টেকনোলজি যুক্ত করেছে।ব্যবসা-বাণিজ্য,সামাজিক যোগাযোগ ছারাও অন্যান্য কাজে
বিজ্ঞাপন লেখার পদ্ধতি

বিজ্ঞাপন লেখার ৫ টি নিয়ম

একটি বিজ্ঞাপনকে কার্যকরী করে তুলতে হলে এমনভাবে লিখতে হবে যাতে পাঠক সেটির প্রতি আকৃষ্ট হয়, আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং পণ্য

Leave a Reply