মর্যাদাপূর্ণ সিলেট ১ নির্বাচনী আসন

play icon Listen to this article
0

সিলেট নগরীর সুরমা নদীর উত্তর তীর থেকে গোটা নগরী এবং নগরীর বাইরে উত্তর দিক- ওসমানী বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত সিলেট ১ নির্বাচনী আসন। বলা হয় সিলেট ১ আসনটি মর্যাদাপূর্ণ একটি আসন।

ইসলামের মহান সাধক হজরত শাহজালাল (রহ:) এর স্মৃতিবিজড়িত সিলেট শহর। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আজ-পর্যন্ত এই আসনে যে দলের প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেন সেই রাজনৈতিক দল’ই সরকার গঠন করে। কাজেই উক্ত আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রত্যেক রাজনৈতিক দল’ই নির্বাচনে হাই-প্রোফাইল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। অতীতে আলোচ্য আসনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙনে সুনাম আছে এমন রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচিত হয়ে তাঁদের নিজ নিজ দলীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

সিলেট ১ নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। এরশাদের শাসনআমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে পার্লামেন্ট স্পিকারের পদ অলঙ্কৃত করে গেছেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

এই আসনের জনপ্রিয় বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান সফলতার সাথে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে গেছেন। উল্লেখিত দুজন নেতা’ই সিলেটের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রেখে গেছেন।

এখানে বিগত একযুগ আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি অর্থমন্ত্রীর পদে ছিলেন। উক্ত তিনজন ছাড়াও বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের  অন্যতম নেতৃবর্গ : মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানী। ভাষাসৈনিক আব্দুস সামাদ আজাদ। এ এস এম কিবরিয়া প্রমূখ। এঁরা কেউই আজ আর বেঁচে নেই। তাঁদের ব্যাপারে একটা কথা বলা যায়- পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করে গেছেন।

সিলেট ১ আসনের বর্তমান কান্ডারী আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মোমেন সাহেব মূলত তাঁর ভাই সদ্য প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিত সাহেবের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বর্তমানে রাজনীতি থেকে গণতন্ত্র উদাও হয়েছে। আবুল মাল সাহেব দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের দরুন মুটামুটি খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছিলেন।

আব্দুল মোমেন সাহেব মন্ত্রীত্বের শুরু থেকেই একেরপর এক বিতর্কীত মন্তব্যে জড়িয়ে পড়ছেন। সম্প্রতি নতুন একটি মন্তব্যের কারণে আব্দুল মোমেন সাহেবের উপর দিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

তিনি নাকি ভারতে সফরকালে সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের বলে এসেছেন শেখ হাসিনার সরকারকে যেন তারা টিকিয়ে রাখেন। এই সরকার জণগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করে আসছে। বিতর্কিত এবং বিভিন্ন চাপের মুখে মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সরকার বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।

এমতাবস্থায় আব্দুল মোমেন সাহেবের অফিস বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে “মোমেন সাহেব এধরণের বক্তব্য দেননি, তাঁর বক্তব্য বা মন্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”

বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখানে সচ্ছতার সঙ্গে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। কাজেই আব্দুল মোমেন সাহেবের উচিত হবে- হাসি তামাশার খোরাক না-বনে পদত্যাগ করা।

0

Abdul Mannan

Author: Abdul Mannan

আবদুল মান্নান। জন্ম সিলেটে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার প্রতি তীব্র আকর্ষণ। পড়তে পড়তে টুকটাক লেখার অভ্যাস গড়ে উঠা।

Related Posts

সুলতান মাহমুদ গজনবী কি মাযহাব পরিবর্তন করেছেন

সুলতান মাহমুদ গজনবীর হানাফী থেকে শাফে'ঈ হওয়ার কল্পিত গল্প ও শাফে'ঈদের জঘন্য নোংরামো —১   📗 রূপকথার গল্প • রাজ-রাজড়ার

আহলে হাদীস কারা —১

আহলে হাদীস কারা —১   খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। কলিমদ্দি সলিমুদ্দি, পুব পাড়ার মাছ ব্যাপারী, বাজারের সুদী কারবারী ও বিশেষ

মেমোরি কার্ডে লিখিত পরিমানের চেয়ে কম থাকে কেন?

বর্তমানের আমরা সবাই মোবাইল ফোনে স্টোরেজ ডিভাইস হিসাবে মেমোরি কার্ডকে ব্যবহার করে থাকি। যদিও পূর্বে ডেটা সংরক্ষণ করা হতো বড়
AddText 11 19 05.39.37

পাবলিক প্লেসে মোবাইল ব্যবহারের শালীনতা

আধুনিক ডিজিটাল বিশ্বে দৈনন্দিন জীবনযাপনে মোবাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবন আজ মোবাইল ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ। বিশেষকরে

Leave a Reply