শর্করা জাতীয় খাবার কি কি

শর্করা জাতীয় খাবার কি কি?

0

আজকে আমরা জানবো খাদ্যের প্রধান ছয়টি উপাদানের মধ্যে অন্যতম শর্করা জাতীয় খাবার সম্পর্কে। শর্করা, যাকে ইংরেজিতে কার্বোহাইড্রেট বলা হয়, মানবদেহের শক্তি উৎপাদন ও ক্ষয়ক্ষতি পূরণে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করে। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় শর্করা জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ অন্যান্য যে কোনো খাদ্য উপাদানের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

শর্করা জাতীয় খাদ্য কাকে বলে?

শর্করা জাতীয় খাদ্যকে ইংরেজিতে কার্বোহাইড্রেট বলা হয়। কার্বোহাইড্রেট বলতে যে সকল খাদ্য খাদ্যের মূল উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তাদেরকে বোঝানো হয়ে থাকে। ক্ষুধা মেটাতে আমরা যে সকল খাদ্য গ্রহণ করে থাকি তার বেশিরভাগই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। যেমন: ভাত, রুটি, পাউরুটি, চাল, চিনি ইত্যাদি সবই শর্করা জাতীয় খাদ্য।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা মনে করেন একজন মানুষের দৈনিক গ্রহণ করা খাদ্যের মধ্যে অন্তত ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার হতে হবে। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন, একদিনে আমরা যা খাই তার অর্ধেকের বেশি শর্করা জাতীয় খাবার হয়ে থাকে। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ গ্রাম শর্করা খাওয়া উচিত।

শর্করা জাতীয় খাবার কি কি

শর্করা জাতীয় খাবার কি কি?

আমরা প্রতিনিয়ত যে সকল খাদ্য গ্রহণ করে থাকি তার প্রায় প্রত্যেকটি শর্করা জাতীয় খাবার। আমরা বাঙালি। আমাদের মাছে ভাতে বাঙালি বলা হয়। ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। আমাদের খাবারের থালায় প্রায় সব সময়ই ভাতের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এমনকি সকালে আমরা রুটি কিংবা পাউরুটি গ্রহণ করে থাকি। যা সাধারণত চাল কিংবা গম থেকে বানানো হয়। এই যে আমরা চাল বা গমের খাদ্যগুলো গ্রহণ করে থাকি এগুলো সবই শর্করা জাতীয় খাবার।

একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন আমাদের খাবারের মধ্যে ভাত কিংবা আটার পরিমাণ কিন্তু সবচেয়ে বেশি থাকে। কেননা এ সকল খাদ্যগুলো শর্করা জাতীয় খাদ্য এবং এগুলো আমাদের শক্তি যোগাতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম ও নানা কার্য সম্পাদনে আমাদের বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন, যা শর্করা জাতীয় খাবারগুলো যোগান দিয়ে থাকে।

শর্করা জাতীয় খাদ্য অন্যান অন্যান্য যেকোনো খাদ্যে তুলনায় দামের সস্তা হয় এবং বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যায়। খাদ্যগুণ, প্রয়োজনীয়তা, চাহিদা, সহজ লভ্যতা ইত্যাদি বিবেচনায় সেরা ১৫ টি শর্করা জাতীয় খাদ্যের তালিকা নিম্নে দেওয়া হল:

  • ভাত
  • চালের রুটি
  • গমের রুটি
  • পাউরুটি
  • বিভিন্ন বিস্কুট
  • বিভিন্ন ফলমূল
  • ভুট্টা
  • আলু
  • গরু বা ছাগলের কলিজা
  • আখের রস
  • খেজুরের রস
  • নুডুলস বা পাস্তা
  • কচু
  • চিনি
  • খেজুর

 

শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য কি কি?

অনেক জায়গায় দেখবেন খাদ্যে প্রধান ছয়টি তার উপাদানের মধ্যে একটিকে শ্বেতসার বলে অভিহিত করা হয়। অনেক জায়গায় আবার শর্করা খাদ্যের পরিবর্তে শ্বেতসার নামটি ব্যবহার করে। তো এ দুটি মধ্যে পার্থক্য কোথায়? নাকি দুটি একই জাতীয় খাদ্যকে বোঝায়?

প্রকৃতপক্ষে, শর্করা ও শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যের মধ্যে আলাদা কোনো পার্থক্য নেই। দুইটিই একই জাতের খাদ্যকে বুঝিয়ে থাকে। তবে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য বলতে আঁটা, গম, ভাত, চাল, মুড়ি, পাউরুটি ইত্যাদি খাদ্যকে সাধারণত বোঝানো হয়। আর উক্ত খাদ্যগুলো সহ চিনি ও গ্লুকোজ জাতীয় সকল খাদ্যকে বলা হয় শর্করা।

ভাত আর আলু শর্করা জাতীয় খাদ্যের মধ্যে প্রধান। আমরা এই দুটি খাদ্যকে প্রায় প্রতিদিনই খেয়ে থাকি। এই দুই খাদ্য আবার একে অপরের বিকল্পও বটে। বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিমান আলু ও ধান উৎপাদন হয়ে থাকে।

শর্করা জাতীয় খাবার কি কি?

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে কি হয়?

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। এই তিনটি উপাদান আমাদের দেহের শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রধান কাচামাল। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শক্তি প্রয়োজন। শক্তি ছাড়া আমাদের দেহ বিন্দু পরিমাণও কাজ করতে সক্ষম নয়।

আমরা যদি শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ না করি তবে আমাদের দেহ কাজ করা ছেড়ে দেবে। তাই কেউ যদি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার না খায় তবে তার সম্পূর্ণ দেহ অচল হয়ে যাবে এবং ক্রমে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে। কেননা শক্তি ছাড়া কোনো প্রানী কখনোই চলতে পারে না।

কিন্তু তাই বলে বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা মোটে উচিত নয়। বিজ্ঞানীরা বলেন যে সকল কার্বোহাইড্রেট খাদ্য আমাদের দেহের জন্য ভালো নয়। এমন কিছু কিছু কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যেগুলো খেলে আমাদের শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন চিনি।

চিনি একটি কার্বোহাইড্রেট যা খেলে উপকার তো দূরে থাক বরং শরীরের অপকার হয়। বেশি পরিমাণ চিনি খেলে আমাদের শরীরের ডায়াবেটিস রোগের রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগকে বলা হয় নীরব ঘাতক।

একবার যদি ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে আর এই রোগ থেকে মুক্তির পথ নেই। সারা জীবন এই রোগকে বয়ে চলতে হয়। এমনকি মিষ্টি জাতীয় খাদ্যকেও সারা জীবনের জন্য না বলতে হয়। আবার শর্করা জাতীয় খাদ্য বেশি গ্রহণ করলে পাকস্থলী জনিত নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গ্লুকোজ জাতীয় খাবার কি কি?

গ্লুকোজ এক প্রকার রাসায়নিক অনু, যার প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। অর্থাৎ এটি একটি কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার জাতীয় খাদ্য। গ্লুকোজ শক্তি উৎপাদনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের দেহেও শক্তির যোগানের জন্য গ্লুকোজ অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

আমরা যে খাবার চিনি গ্রহণ করি সেখানেও গ্লুকোজ রয়েছে। তবে খাবার চিনি থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজের কোনো ফুড ভ্যালু নেই। অর্থাৎ বাজারে প্রাপ্ত সাদা চিনি খেলে আমাদের শরীরের কোনো উপকারে আসে না, বরং অপকার হয়।

তাই ডাক্তারেরা সাদা চিনি খেতে আমাদের বারণ করে থাকেন। তাহলে আমরা কোথায় থেকে গ্লুকোজ পেয়ে থাকি? গ্লুকোজের সবচেয়ে বড় সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি জাতীয় ফল।

হ্যাঁ, আমরা যে সকল ফল খেয়ে থাকি তাতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ থাকে। সাধারণত মিষ্টি জাতীয় ফল গ্লুকোজের প্রধান উৎস। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, পেঁপে, পেয়ারা, আতা, ডালিম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ পাওয়া যায়।

মানুষ যে পরিমাণ গ্লুকোজ গ্রহণ করে তার প্রায় পুরোটিই উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত। আমরা উদ্ভিদ থেকে যে ফলমূল পেয়ে থাকি তাতে প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ উপস্থিত থাকে। উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজ আমাদের দেহের জন্য উপকারী।

গ্লুকোজ আমাদের দেহে দ্রুত শোষিত হয় এবং শক্তি জোগায়। ক্লান্তি দূর করতে গ্লুকোজের কোনো জুড়ি নেই। বর্তমানে বাজারে গ্লুকোজ সমৃদ্ধ ড্রিংকস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বাজার থেকে কেনা সাদা চিনি খাওয়া উচিত নয়, এটি আমাদের জন্য ক্ষতিকর।

মুড়ি কি শর্করা জাতীয় খাবার?

বাংলাদেশে অতি জনপ্রিয় একটি খাদ্য মুড়ি। মুড়ি একটি সুস্বাদু, মচমচে ও শুকনো খাবার। অনেকে মুড়ির সাথে তেল, মরিচ ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে উপদেয় খাদ্য হিসেবে এটি গ্রহণ করেন। অনেকেই জানতে চান মুড়ি কি শর্করা জাতীয় খাবার?

হ্যাঁ, মুড়ি একটি শর্করা জাতীয় খাবার। কেননা মুড়ি তৈরি করা হয় ধান থেকে। আমরা ধান ভেজে বিশেষ পদ্ধতিতে মুড়ি প্রস্তুত করি। এদিকে ধান থেকে কিন্তু আমরা চাল পেয়ে থাকি। যা থেকে ভাত রান্না করা হয়। ভাতও একটি শর্করা জাতীয় খাদ্য। তাই আমরা বলতে পারি, মুড়ি একটি শর্করা জাতীয় খাবার।

শর্করা জাতীয় খাবারগুলোর সাধারণত স্ট্রার্চ যুক্ত খাদ্য হয়ে থাকে। এই স্ট্রার্চ আমাদের পাকস্থলী জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান। স্ট্রার্চ মানুষের মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফলে শরীরের অপ্রয়োজনীয় উওপাদান দেহ হতে সহজে বের করে দিতে সক্ষম হয়। তাই বেশি আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের মতো অন্যান্য পাকস্থলী জনিত রোগে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের প্রকাশিত অন্যান্য ফিচার লেখাগুলো পড়ুন–

0

Farhan Mahin

Author: Farhan Mahin

ফারহান মাহিন পড়াশোনা করছেন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

Related Posts

কিশমিশ খাওয়ার উপকারিতা

কিশমিশ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমাদের রান্নাঘরে অতি মিষ্টি জাতীয় একটি খাবার হচ্ছে কিশমিশ। মিষ্টি জাতীয় খাবারে কিশমিশ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আপনি কি জানেন কিশমিশ
চিনির উপকারিতা

চিনির উপকারিতা ও অপকারিতা

ভোজন রসিক বাঙ্গালীর কাছে মিষ্টি জাতীয় খাবার অত্যন্ত প্রিয়। সন্দেশ, দই, রসমালাই, বিভিন্ন কোল্ড ড্রিংক, পায়েস ইত্যাদি পেলে বাঙালিকে আর
বেলের উপকারিতা

বেলের উপকারিতা ও অপকারিতা

বেল একটি খুবই সাধারণ ফল। শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও তেল সমানভাবে জনপ্রিয়। বেল সাধারণত আমরা শরবত বানিয়ে খেয়ে থাকি। গ্রীষ্মকালে
মৌরির উপকারিতা

মৌরির উপকারিতা ও অপকারিতা

আমাদের রান্নাঘরে সবচেয়ে পরিচিত একটি মসলা মৌরি। এটি অতি ক্ষুদ্র বীজ জাতীয় মসলা, যার চাষ সারা বাংলাদেশেই হয়ে থাকে। প্রাচীনকাল

Leave a Reply