ইউটিউব থেকে আয়

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

0

ইউটিউব থেকে আয় করা যায় একথা আপনারা সবাই জানেন। আজকের এই পোস্টে আয় করার উপায় জানাবো। যদি পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারেন তাহলে এই প্রশ্ন আপনার মনে থাকবে না। ভিউয়াররা ইউটিউবের ভিডিও দেখে(আপনার ভিডিও ভালো লাগলে দেখবে), তাদেরকে এড দেখিয়ে গুগোলের আয় হয় এবং সেখান থেকে একটি অংশ যে ভিডিওটি তৈরি করেছে তাকে দেয়া হয়।

যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে

এখান থেকে বিষয়গুলো দেখে নিন। আর যেকোন বিষয়ের উপর ক্লিক করলে পুরো আর্টিকেল না পড়েও শুধু সেই বিষয়টি পড়তে পারবেন। যা থাকছে-

কত ভিউ, সাবস্ক্রাইবার থাকলে মনিটাইজেশন অন করতে পারবো?

একসময় কোন ভিউ, ওয়াচ টাইম, সাবস্ক্রাইবার এইসব শর্ত ইউটিউবে ছিল না- এখন এসেছে। মানুষ যা ইচ্ছা আপলোড করতো- কমিউনিটি গাইডলাইন, কপিরাইট এগুলোর তোয়াক্কা না করে যা রীতিমত অপরাধ।

প্রথমে, ইউটিউব শর্ত দিল ১০০০০ ভিউ থাকলে সে Monetize করতে পারবে। এটাতেও ওরা ঠিকমতো বাটপারদের সাথে পেরে উঠছিল না, তাই নতুন শর্ত আরোপ করে। Account Monetization নামে ইউটিউবের ব্লগে একটি লেখা আছে সেটি পড়ে নেবেন তাহলে এখনকার শর্ত খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।  আপনাদের সুবিধার্থে আমি বলে দিচ্ছি-

  • আপনার একাউন্টে বিগত ১২ মাসে ৪০০০ ঘন্টা ভিউ থাকতে হবে
  • কমপক্ষে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে

এই দুই শর্ত পূরণ করলেই চ্যানেল মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আশা করা যায় পেয়েও যাবেন।

অন্যের নাটক, গান এইগুলো দিয়ে চ্যানেল বানালে পাবেন না। লাইভ ক্রিকেট খেলা দেখানো-এই সব বাদ দিয়ে ইউনিক কিছু নিজে বানান, মাণ খারাপ হলেও যদি লোকে দেখে তাহলে সেটা থেকে আয় করতে পারবেন।

ইউটিউবের টাকা কিভাবে পাব, আমার তো ব্যাংক একাউন্ট নেই?

এইসব চিন্তা আপাতত বাদ দেন। আপনার টাকা গুগোল এডসেন্স এ জমা হলে সেই টাকা তুলতেও পারবেন(রকেটের মাধ্যমেও তোলা যায়)। অনেক পরের ব্যাপার এগুলো। কিভাবে ভিউয়ার বাড়াতে পারেন, Watch Time বাড়াতে পারেন সেটাতে মনঃযোগ দেন। গুগল এডসেন্স এর টাকা বাংলাদেশ থেকে দুইভাবে তোলা যায়-

  • চেকের মাধ্যমে
  • ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে

যেকোন ব্যাংক একাউন্টে টাকা তোলা যাবে, আর ডাচ বাংলা ব্যংক যেহেতু মোবাইল ব্যংকেই আসল ব্যাংক একাউন্ট দেয় তাই, রকেটেও তোলা যাবে। এটা পড়ুন-  বাংলাদেশে এডসেন্স থেকে টাকা তোলার পদ্ধতি কি? আপনার কাজে আসবে। নতুন কিছু জানার জন্য, তার আগে পুরো লেখাটি পড়ে নিতে পারেন। 

ইউটিউবের ভিডিওতে কেন টাকা দেয়?

এটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন। মনে করুন আপনি যেকোন বিষয়ে ভিডিও তৈরি করলেন, প্রচুর লোকজন দেখছে। Associate Adsense Account -এখান থেকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলকে এডসেন্স এর সাথে যুক্ত করলে আপনার চ্যানেল এড দেখানোর উপযোগী হবে যদি শর্ত(Monetization এর শর্ত) পূরণ করেন। এরপর গুগোলের বিজ্ঞাপন আপনার ভিডিওর মাঝে আর সাইডবারে দেখাবে। আমরা যখন এই এডগুলো দেখি তখন সেই এডে ক্লিক করে পণ্য সম্পর্কে জেনে নেই আর বাজার থেকে সেই পণ্য কিনি। এই কারণেই ওরা গুগোলকে টাকা দেয় ঐ বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য। আপনি একটা অংশ পান গুগোলের কাছ থেকে।

ইউটিউবে ১০০০ ভিউতে কত টাকা  দেয়?

হতাশাজনক হলেও সত্যি- বাংলাদেশের মানুষের ভিউতে কম টাকা এডসেন্সের মাধ্যমে পাওয়া যায়। Youtube Creator বা, বাংলা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সবাই কম টাকা পান। এর কারণ বাংলা কনটেন্টে যে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, সেগুলোতে বিজ্ঞাপনদাতারা কম খরচ করে(ওদেরও লাভ কম বলে)। উন্নত দেশের লোকজন যদি আপনার কনটেন্ট দেখে আপনি স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশী টাকা আয় করতে পারবেন।

বাংলাদেশী ইউটিউবাররা গড়ে ১০০০০ ভিউতে ১ ডলার পান, সে হিসেবে ১০০০ ভিউতে ০.১ ডলার পাবেন অর্থাৎ, বাংলাদেশী টাকায় ৮ টাকা।  সেটা বিভিন্ন কারণে কম বা, বেশী হতে পারে। এটা আসলে ভিউয়ের উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে এড দেখানো এবং ভিউয়াররা এডে কতবার ক্লিক করলেন এটার উপর।

ইউটিউব থেকে আয় করা কি হালাল?

এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে ইদানিং অনেক আলোচনা হচ্ছে। কারণ, এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখানো হয় দর্শকের আগ্রহের উপর ভিত্তি করে। এডসেন্স এর পলিসি অনুযায়ী যদিও- বেটিং, ক্যাসিনো, হ্যাকিং, এডাল্ট কনটেন্ট ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় না।

তারপরেও কিছু এডাল্ট এড দেখানো হয় যা থেকে আয় করাকে অনেকেই ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বলে মনে করেন। এটার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি গুগলের হাতে এবং নির্ভর করে ভিউয়ারের আগ্রহের উপর। যিনি ওয়াজ দেখেন তিনিই যদি পর্ণে আসক্ত হন, সেই দায় ভালো কনটেন্ট তৈরি করেন এমন কোন ইউটিউবারের থাকবে কি না আপনি ভেবে দেখুন।

এর একটি সমাধান আমার জানা আছে, গুগল এডসেন্স এর এড ব্লক করে দেয়া যায়।  কোন কোন সাইটের এড আপনি দেখাতে চান না সেটা নির্দিষ্ট করে দেয়া যায়(ইউটিউবের ক্ষেত্রে না হয়ে শুধু ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও হতে পারে)। এটা নিয়ে খোজ নিয়ে দেখতে পারেন।  এডসেন্সে Blocking Control নামে একটি অপশন আছে যেখানে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন ব্লক করে দেয়া যায়। এই অপশনটা ব্যবহার করতে পারেন, আমি মনে করি এই অপশন ব্যবহার করলে তাঁর জন্য ইউটিউব থেকে আয় করা হালাল।

ইউটিউবের বিকল্প ভিডিও শেয়ারিং সাইট

ইউটিউবের বিকল্প

আমরা সবাই ইউটিউবের ভিডিও শেয়ারিং এবং দেখার পদ্ধতির সাথে পরিচিত। এই সাইটটি এতটাই জনপ্রিয় যে, অন্য ভিডিও শেয়ারিং সাইটগুলোর কথা আমাদের চিন্তাতে আসে না। আপনাদেরকে আরো কিছু সাইট সম্পর্কে জানাচ্ছি যেগুলো ইউটিউবের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশে পারে নি, তবে কিছু কিছু দেশে তাদের অল্প হলেও জনপ্রিয়তা আছে-

১. ডেইলিমোশনঃ এটি ইউটিউবের ১ নম্বর বিকল্প যা যোজন যোজন পেছনে পড়ে আছে। ক্রিয়েটর হিসেবে এখানে ৪ জিবি পর্যন্ত আপলোড করতে পারবেন। এখানেও মনিটাইজেশনের পদ্ধতি আছে, এন টি ভি সহ আরো কিছু বাংলা চ্যানেল খুযে পাবেন এখানে।

  • কপিরাইট আর কমিউনিটি গাইডলাইন এখানেও আছে, খুব কড়া না
  • ইউটিউবের মতো ভিডিও দেখা যায়
  • সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও পাবেন

যারা ইংরেজী কনটেন্ট তৈরি করেন তারা ডেইলিমোশনে আপলোড করে দিতে পারেন, এখানেও মনিটাইজ করা যায়।

২. ফেসবুকঃ ফেসবুক এখন বেশ আটঘাট বেধে ব্যবসায় নেমে পড়েছে। ইউটিউব ক্রিয়েটর স্টুডিও এর মতো ফেসবুকেরও ভিডিও ক্রিয়েটর স্টুডিও আছে। কমিউনিটি গাইডলাইন, কপিরাইট গাইডলাইন এগুলোও আছে। ফেসবুক থেকে মাসে ৬০০০০ ডলার আয় করেন এমন ভিডিও ক্রিয়েটরও আছেন

  • ফেসবুকে অটো প্লে থাকায়, ফেসবুক ওয়াচে ভিউ টাইম বেশী হয়
  • বাংলাদেশেও ফেসবুকে ভিডিও ক্রিয়েটরেরা আয় করছেন
  • ইউটিউবের চেয়ে আয় কম হয়, কম্পিটিশনও কম

আমার মতে ডেইলিমোশন এর চেয়ে ফেসবুক অনেক ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।

৩. ভিমিওঃ এটি মূলত মিউজিক যারা করেন তাদের, আর সিনেমা নির্মেতাদের প্ল্যাটফর্ম। ভিডিও হোস্টিং এর জন্য অসাধারণ একটি ওয়েবসাইট। এই সাইটের বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। 

  • ইউটিউবের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে এটি বেমানান
  • নিয়মের অনেক কড়াকড়ি আছে
  • ভিডিও দেখার জন্য খুব ভালো সাইট

বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা কম থাকলেও এই সাইটকে ইউটিউবের বিকল্প হিসেবে ধরে নেয়া যায়।

৪. মেটাক্যাফেঃ এই সাইটের বিশেষত্ব হচ্ছে এটি ইউটিউবের জন্মের আগে থেকেই আছে। ২০০৩ সালে এই সাইটটি যাত্রা শুরু করে। এদের ৪০ মিলিয়ন ভিউয়ার আছে। 

  • ছোট ছোট ভিডিও এর জন্য পরিচিত
  • ভিডিও ক্লিপের জন্য ভালো, বড় ভিডিও এর জন্য নয়
  • মেটাক্যাফে এই ইন্ডাস্ট্রীতে ইউটিউবের চেয়ে বড়(বয়সে)

ইউটিউবের বিকল্প সাইট হিসেবে মেটাক্যাফেকে বিবেচনা করতে পারেন।

৫. ডিটিউবঃ এখানকার ভিডিও এবং ভিডিও কমেন্ট থেকে টাকা আয় করা যায়। ইউটিউব থেকে আয় যারা করছেন তারা এই সাইটটিও ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারেন।

  • এখানে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আয় করা যায়, ভার্চুয়াল কারেন্সি অবশ্য বাংলাদেশে নিষিদ্ধ
  • ভিডিও সেভ করে পরে দেখা যায়
  • এমনিতেই মনিটাইজেশন পাওয়া যায়

যেহেতু এই সাইটে জটিল কোন নীতিমালা নেই, তাই অনেকেই হয়তো এই সাইটটিকে পছন্দ করবেন।

ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য জানা দরকার-

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা দিয়ে শেষ করি, অনুসরণ করলে উপকার পাবেন

  • একটি বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করবেন, একাধিক হলে ভালো ভিউ পাবেন না
  • নিজের যা ভালো লাগে না, তা নিয়ে ভিডিও তৈরি করবেন না। ভালো লাগার বিষয় হলে কোন রিটার্ন না পেলেও অনেকদিন চালিয়ে যেতে পারবেন।
  • সাবস্ক্রাইবার নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নাই, মানুষের ভালো লাগলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এমনিতেই হবে
  • ভিউ নিয়েও চিন্তার দরকার নাই, কনটেন্টের মাণ আর, ভিউ ডিউরেশন নিয়ে ভাবুন

বাংলা ইউটিউব চ্যানেলে খুব কম টাকা পেলেও ভালো মাণের ভিডিওতে প্রচুর ভিউ হয়। একটা কাজ করতে পারেন ইউটিউব CPC এবং ভিউ বাড়ানোর জন্য, একটু কিওয়ার্ড রিসার্চ করে নিন– বাংলা ব্লগের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ পদ্ধতি এই লেখাটি পড়তে পারেন, এটি মূলত ব্লগের জন্য, তবে ইউটিউবেও এটা কাজে দেবে।

সার্চ থেকে আসা ভিজিটরেরা ইউটিউবের ভিডিও বেশী সময় দেখে, তাই এইসব কিওয়ার্ডের ব্যবহার চ্যানেলের রিচ বাড়াবে। ইংরেজী টাইটেল আর Description দিলেও সিপিসি বাড়ার সম্ভাবনা আছে, কারণ বিজ্ঞাপনদাতারা অনেক সময় ইংরেজী কিওয়ার্ড দেখে বিড করেন।

ইউটিউবিং এ আপনার সাফল্য কামনা করছি।

 

আরো পড়ুন-

0
(Visited 89 times, 1 visits today)

এডমিন

Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

আরো লেখা খুঁজুন

আপনার সক্রিয়তা পয়েন্টঃ

Related Posts

গুগল এডসেন্স টিপস

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় [ ২০২১ আপডেট]

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় হচ্ছে এডসেন্স এর নিয়মগুলো মেনে চলা এবং ব্লগ/ ওয়েবসাইটের জন্য অর্গানিক ভিজিটর নিয়ে আসা। গুগল আপনার

ফেসবুক পেজ থেকে আয় করার উপায়।

ফেসবুক পেজ থেকে আয়ঃ ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ থেকে বিপুল পরিমান টাকা আয় করার সুযোগ আছে।আপনি যখন একটি পেজে কারও
ইউটিউব চ্যানেলের নাম নির্বাচন

ইউটিউব চ্যানেলের নাম নির্বাচন

ইউটিউব চ্যানেলের ভালো নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে নামটি যেন ইউনিক এবং সুন্দর হয়। শিক্ষামূলক বা, ইসলামিক বা, অন্য
টুইটার একাউন্ট খোলার নিয়ম

কিভাবে টুইটার একাউন্ট খুলতে হয়?

আপনি চাইলে আলাদা ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করে একাধিক টুইটার একাউন্ট খুলতে পারবেন। কিভাবে খুলতে হয় সেটি ধাপে ধাপে বর্ণনা করবো।

Leave a Reply