নক্ষত্র পতন বা, উল্কাপাত কাকে বলে?

নক্ষত্র পতন, তারা খসা বা, উল্কাপাত যাই বলি না কেন এটি খুব সাধারণ ঘটনা। ছোটবেলায়, আকাশের একটি বড় তারা হঠাৎ নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরে যেতে দেখে ভয় পাওয়া মানুষদের আমি দেখেছি। ঐ যে আগুনের দলা উড়ে যাচ্ছে, জ্বিন- ওরে আল্লা। 

সৌরজগতের গ্রহগুলোর বর্ণনা এই লেখাটিতে দেয়ার চেষ্টা করবো। তার আগে, উল্কাপাত বা, নক্ষত্র পতন নিয়ে কিছু কথা বলে নেই। হঠাৎ এভাবে আকাশের তারার  ছুটে যাওয়া যেন খসে পড়ছে- এটাকেই বলে নক্ষত্র পতন বা, তারা খসা।

উল্কাপাত কেন হয়?

এটি কি কোন জ্বিন ভয় দেখানোর জন্য করে, নাকি স্বাভাবিকভাবেই ঘটে। স্বাভাবিক বস্তুগত ঘটনা হলে এর কারণই বা কি? চলুন জেনে নেয়া যাক-

ইংরেজীতে উল্কা শব্দের অর্থ Meteor বা, Fireball(আগুনের দলা)। Asteroid এর চেয়ে Meteoroid গুলো হয় আকারে ছোট(আমরা যেগুলো আকাশে দেখি সেগুলো Micrometeoroid)। এটি মূলত সিলিকন, অক্সিজেন, নিকেল, আয়রণ এই উপাদানগুলো দিয়ে গঠিত হয়।

যখন দ্রুত বেগে এই পিন্ডগুলো পৃথিবীর আকর্ষণে(অভিকর্ষ বলের প্রভাবে) ছুটে আসে তখন আগুন জ্বলে এবং এগুলোকে তারার মতো দেখায়, এগুলো তারা না। এগুলো হচ্ছে মহাকাশের উচ্ছিষ্ট বস্তু, কোন কাজের না। পৃথিবীতে অনেক সময় পুরোপুরি না পুড়ে যাওয়া বস্তুও চলে আসে। মহাজাগতিক এইসব ধুলিকণা বা, সৌরজগত, কোন তারকা, গ্রহ, উপগ্রহের অংশ নয় এমন  বস্তুগুলোকেই উল্কা বলে। ইংরেজীতে উল্কাকে বলা হয় Shooting Star বা, Falling Star.

ছোটবেলায় একবার সিনেমাতে আগুনের বৃষ্টি দেখে পরের রাতেই স্বপ্নে দেখেছিলাম, আগুনের বৃষ্টি হচ্ছে। আমি সেই আগুনের বৃষ্টির মাঝে কিভাবে বেচে থাকবো সেটি নিয়েই ভয়ে জড়সড়, এরপর ঘুম ভেঙে গেল– সেইবার বেচেই গেলাম। News24 এর এই খবর তো আবার আমাকে ভয় পায়িয়ে দিচ্ছে।

উল্কাপাত খুব সাধারণ একটি ঘটনা, তাই এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নাই

সৌরজগতের গ্রহগুলোর চিত্রসহ বর্ণনা

সূর্যকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকারে ঘুরছে আটটি গ্রহ। সূর্য্য থেকে দূরত্ব বিবেচনায় আমাদের পৃথিবী তিন নম্বরে। বাকিগুলো হচ্ছে- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।

সৌরজগতের চিত্র

আমরা ছোটবেলায় প্লুটোসহ পড়েছিলাম। সম্প্রতি দেখা গেছে প্লুটোকে আসলে গ্রহের মর্যাদা দেয়া যায় না। এটা নেপচুনের কক্ষপথে ঘোরে বলেই সম্ভবত এই মর্জাদা রদ করা হয়েছে।

বুধ

সূর্যের নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার। একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৮৮ দিন। এখানে বৃষ্টি, বাতাস, পানি নেই, বায়ুমন্ডল নেই, উপগ্রহও নেই।

শুক্র

এই গ্রহকে আমরা শুকতারা আর, সন্ধ্যাতারা নামে চিনি। এটি তারা নয়, তবুও বাংলা ভাষায় একে তারা বলে ডাকি(সেতো উল্কাকেও ডাকি)। সূর্য্য থেকে দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। ২২৫ দিন সময় লাগে একবার সূর্যকে ঘুরে আসতে। ঘাড়ত্যাড়া গ্রহ, সবাই পাক খায় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে, এই ব্যাটা পাক খায় পূর্ব থেকে পশ্চিমে।

পৃথিবী

আমর থাকি পৃথিবীতে। এটি সূর্য থেকে দূরত্বের হিসেবে তৃতীয়। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড লাগে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে। আমরা এমন জায়গায় থাকি যেখানে বায়ুমন্ডল আছে, অক্সিজেন আছে, নাইট্রোজেন আছে, গাছপালা আছে, পানি আছে, প্রাণ আছে।

মঙ্গল

সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার। এই গ্রহকে নিয়ে ‘প্রাণের অস্তিত্ব আছে’ এমন গুজব ছড়াতে অনলাইন পোর্টালগুলো সবচেয়ে বেশী পছন্দ করে। একবার সূর্যকে ঘুরে আসতে আমাদের প্রায় ডাবল সময় নেয়- ৬৮৭ দিন। ফোবস এবং ডিমোস এই গ্রহের উপগ্রহের নাম।

শনি

জ্যোতিষীদের প্রিয় একটি গ্রহ, এর ভয় দেখিয়ে ভালোই কামানো যায়। আকারে দুই নম্বর এই  সূর্য থেকে গ্রহটির দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার। এর ৬২ টি উপগ্রহ আছে।  একবার সূর্যকে ঘুরে আসতে প্রায় ৩০ বছর সময় নেয়।

ইউরেনাস

সূর্য থেকে এর দূরত্ব ২৮৭ কোটি কিলোমিটার। ৮৪ বছরে একবার সূর্যকে ঘুরে আসে। ২৭ টি উপগ্রহ আছে। এরও শনির মতো বলয় আছে, উজ্জ্বল না বলেই হয়তো সেগুলো নিয়ে ভাগ্যগণনার ব্যবসা চলে না।

নেপচুন

সূর্য থেকে এর দূরত্ব ৪৫০ কোটি কিলোমিটার। এটি আয়তনে ৭২ টি পৃথিবীর সমান, দূরে বলে ছোট ভাববেন না। বায়ুমন্ডলে মিথেন আর, এমোনিয়া আছে। এর উপগ্রহ আছে ১৪ টি।

(Visited 1 times, 1 visits today)
এডমিন
Author: এডমিন

বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি

likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর সাথে সমন্বিত চেতনার সম্পর্ক কি?

কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর সাথে কোয়ান্টাম মেথডের সম্পর্ক নিয়ে হয়তো অনেক লেকচার আপনারা শুনেছেন( অন্তত যারা এই মেথডের চর্চা করেন)। বাংলাদেশের

কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন সম্পর্কিত কিছু কথা

কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন এখন বেশ আলোচিত এবং আকর্ষণীয় একটি বিষয়। এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি না, তবে প্রাথমিক কিছু ধারণা দিতে

Leave a Reply