বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ

বাংলা ব্লগের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ পদ্ধতি

কিওয়ার্ড রিসার্চ কি?

উত্তরঃ  কিওয়ার্ড রিসার্চ ব্লগিং এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলা ব্লগ যারা লেখেন তারা অনেক সময় কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য ভালো কোন টুল খুজে পান না। এই লেখাটি আসলে তাদের জন্য। আপনি যদি পেশাদার ব্লগার হতে চান, তাহলে সেই বিষয়ে লিখতে হবে যেই বিষয়ের লেখা মানুষ পড়তে চায়

বাংলায় ব্লগিং করতে হলে বাংলা কিওয়ার্ড খুজে বের করার বিকল্প সত্যিই নেই।  এই লেখার মাধ্যমে জনপ্রিয় কিছু টুল সম্পর্কে আপনাদের ধারণা দেব যেগুলো ব্যবহার করে বাংলা ভাষার কিওয়ার্ড খুজতে পারবেন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তরঃ এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ রিসার্চ ছাড়া ভালো মাণের আর্টিকেল লিখে কিছু ভিজিটর পাওয়া যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ঐ বিষয়ে আগ্রহ আছে এমন অনেক ভিজিটর আপনার লেখাটি সারা জীবনে নাও পড়তে পারে। ভিজিটরদের আগ্রহের শব্দগুচ্ছ খুজে পাওয়া এবং ন্যাচারালি ব্যবহার করাটা একজন ব্লগারের জন্য অপরিহার্য।

যেমনঃ আপনি  বাংলায় অনেক সুন্দরভাবে যুক্তি দিয়ে একটি লেখা লিখলেন- উপন্যাস নিয়ে যেখানে  কপাল্কুন্ডলা  আর দেনা পাওয়া নিয়ে আলোচনা করলেন। কিন্তু,  একজন পেশাদার ব্লগার লিখবে উপন্যাস, বরফ গলা নদী, পথের পাঁচালি, দেবী এগুলো সম্পর্কে। কোনটিতে সার্চ কত হয় সেটা জানলেই বেশী পাঠকের কাছে পৌছানো যাবে। 

কিওয়ার্ড কত প্রকার?

মূলত দুই প্রকার- Short Tail আর, Long Tail. যেগুলো এক বা, দুই শব্দে সেগুলোকে শর্ট টেইল কিওয়ার্ড বলে। আর যেগুলো ৩ বা, তার চেয়ে বেশী শব্দে সেগুলোকে লং টেইল বলে। যেমনঃ article- শর্ট টেইল write article in four easy steps- লং টেইল।

লং টেইলের সুবিধা হচ্ছে একটি আর্টিকেল লিখেই র‍্যাংক করানো যায়। শর্ট টেইলও র‍্যাংক করে, তবে এর জন্য অনেক বড় আর্টিকেল লিখতে হয়। এবং বেশীরভাগ সময় অনেকগুলো আর্টিকেল লিখলে তারপর র‍্যাংক করে।

বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলের তালিকা-

(তালিকা থেকে ক্লিক করে যেকোন টুল সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন, এর সবগুলোই ফ্রি ব্যবহার করা যায়, এবং বাংলা কিওয়ার্ড খুজে বের করা যায়)

বাংলা ব্লগের কিওয়ার্ড রিসার্চ কতটা কঠিন?

এটা আসলে কঠিন না, বরং ইংরেজী ব্লগের তুলনায় অনেক সহজ। বাংলা কিওয়ার্ডে সিপিসি কম, ভিজিটর কম এবং একইসাথে কম্পিটিশনও কিন্তু কম। আমি পাঁচটি টুলের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবো, যা যথেষ্ট হবে ফ্রিতে কিওয়ার্ড খোজার জন্য-

১. গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার(Google Keyword Planner)

আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি এর চেয়ে ভালো কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল আপনি খুজে পাবেন না, কারণ এটা গুগলের। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন এক্সপার্টের কাছে জিজ্ঞাসা করলেও সে বলবে এটা ব্যবহার করতে। এখানে মাসে এভারেজ কত সার্চ হয়, সিপিসি কত, ডিফিকাল্টি কেমন এগুলো সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। কোন কিওয়ার্ডে মাসে কত সার্চ বাংলা ভাষার জন্য হয় সেটি এখান থেকে অনায়াসে খুজে পাবেন। যা যা করা উচিত-

  • যেকোন বিষয় লিখে সার্চ দিন
  • বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষা সিলেক্ট করে দিন
  • সার্চ ভলিউম আছে এমন একাধিক শব্দের কিওয়ার্ডস খুঁজুন
  • ঐ কিওয়ার্ডস সার্চ করে দেখুন, কম্পিটিশন সম্পর্কে ধারণা পাবেন
  • প্রথম লেখাগুলো পড়ুন,  এরপর সেরা লেখাটি লিখে ফেলুন

আগে আমি নিজেও একটু ভুল করতাম, সেটি হচ্ছে যে লেখায় সার্চ হয় না বললেই চলে কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা ভালো বিষয়, সেটা নিয়ে লিখতাম। এরপর প্রথম পাতার প্রথমে সার্চে চলে আসলেও ভিজিটর শূণ্য। দেখে নিন আপনার বেছে নেয়া শব্দগুচ্ছ লিখে সার্চ হয় কি না। চেষ্টা করবেন যত বেশী শব্দের কিওয়ার্ড নেয়া সম্ভব সেটা নিতে।

ওয়েবসাইটঃ Google Keyword Plannar

২. SEMScoop

বাংলা ব্লগিং এর জন্য SEMscoop একটা ভালো অপশন হতে পারে। এখানে মাসে কত ভিজিট হয় সেটা দেখার পাশাপাশি খুব ভালোভাবে কম্পিটিটরদের নিয়ে রিসার্চ করতে পারবেন। কত শব্দে লিখলে প্রথম পাতায় আসা সম্ভব সেটাও জানতে পারবেন।  সমস্যা হচ্ছে এরা দিনে তিনটা সার্চ করতে দেয়। আপনার যদি একাধিক একাউন্ট থাকে তাহলে প্রতিটি একাউন্টে দিনে তিনটা করে কিওয়ার্ড সার্চ করতে পারবেন। যেভাবে ব্যবহার করবেন-

  • কিওয়ার্ড লিখে সার্চ দিন এবং কম্পিটিশন স্কোর দেখুন
  • কিওয়ার্ড সাজেশন দেখুন
  • কম্পিটিটরদের ওয়েব এড্রেস দেখুন
  • কমপক্ষে কত শব্দে লিখেল র‍্যাংক করাতে পারবেন সেটি দেখুন এবং লিখে ফেলুন

ওয়েবসাইটঃ SEMScoop

3. Keywordtool.io(কিওয়ার্ড টুল ডট আই ও)

কম সময়ে গুগলের দেখানো সাজেশনগুলো বর্ণমালাভিত্তিক সাজানো অবস্থায় এখানে পাবেন। যেকোন কিছু লিখে সার্চ দিলে আরো যেসব সাজেশন দেখায় সেগুলো সব এই টুলের মাধ্যমে দেখা যাবে। যারা অলস তারা ইউনিক ব্লগ টাইটেল খুজে পেতে এই টুলটি ব্যবহার করতে পারেন। লং টেইল কিওয়ার্ডের জন্য এটা সেরা। যা করবেন-

  • কিওয়ার্ড লিখে সার্চ দেবেন এবং কি সাজেশন দেখায় দেখবেন
  • আপনার পছন্দ করা লেখার মাঝে এই সাজেশনগুলোর কয়েকটা সাব হেডিং হিসেবে ব্যবহার করবেন
  • এবারে সেরা পাঁচটি লেখা পড়ে তাঁর চেয়ে ভালো মাণের কিছু লিখে ফেলুন

ওয়েবসাইটঃ https://keywordtool.io/

৪. উবারসাজেস্ট(Ubersuggest- Neil Patel)

নিল প্যাটেলের এই টুল কতদিন ফ্রি থাকবে জানি না, তবে এখনো ফ্রিতে ব্যবহার করা যায় এবং অনেক উপকারী একটা টুল। এখানে এভারেজ মাসে কত সার্চ হয় সেটা সহ, কম্পিটিশন স্কোর, কম্পিটিটরদের ব্যাকলিংক, সোস্যাল শেয়ার এগুলো সব দেখা যায়। সমস্যা একটাই এখানে গুগল একাউন্ট দিয়ে লগ ইন করার পরে বিস্তারিত দেখা যায় এবং দৈনিক সার্চের একটা সীমাবদ্ধতা আছে(ফ্রি একাউন্টের ক্ষেত্রে)। যা করবেন-

  • বাংলাদেশী বাংলা সিলেক্ট করে নিবেন
  • সার্চ ভলিউম এবং কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি দেখবেন
  • কম্পিটিটরদের ব্যাকলিংক এবং সোস্যাল শেয়ার দেখবেন
  • সেই সাইটগুলো ভিজিট করে ধারণা নেবেন এবং নিজের লেখাটা লিখবেন

ওয়েবসাইটঃ Ubbersuggest

৫. গুগল সার্চ(Simple Google Search)

হ্যাঁ, সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনের কথাই বলছি।  আপনি উপরের টুলগুলো ব্যবহার করে যখন ধারণা পাবেন মাসে কতগুলো সার্চ হচ্ছে তখন কেমন আর্টিকেল লিখতে হবে সেটা জানতে গুগল সার্চ ব্যবহার করতে হবে। সার্চ ইঞ্জিন থেকে আপনি বুঝে নিতে পারবেন আপনার আর্টিকেলের লেয়াউট কেমন হওয়া উচিত, কেমন তথ্য এবং ছবি,ভিডিও, ব্যাকলিংক, সোশ্যাল শেয়ার ইত্যাদি দরকার। এটা সেরা টুল হতে পারে। যা করতে হবে-

  • সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দিয়ে দেখবেন কি রিকমেন্ডেশন দেখাচ্ছে
  • প্রথম সাইটগুলো ভিজিট করে কম্পিটিটরদের সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নেবেন
  • ৩/৪ টি রিকমেন্ডেশন এর টপিক আর্টিকেলের মাঝে রাখবেন
  • আর্টিকেলের মাঝে ঐ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত লিখবেন

ওয়েবসাইটঃ Google

পড়ুন-

এডসেন্স এর বিকল্প

Ezoic নিয়ে একটু বলি– এটা হচ্ছে এমন একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা আপনার আয় বাড়িয়ে দিবে। এডসেন্স এর ১০০০০+ পেজ ভিউ থাকলে এখান জয়েন করা যায়(এরা গুগল সার্টিফাইড পার্টনার)। এরা এডসেন্স এর পাশাপাশি অন্য নেটওয়ার্কের এডও দেখায়। আপনি যদি দুইটাকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করেন তাহলে আরো ভালো বুঝতে পারবেন-

একজন ব্লগার- $8 পেয়েছেন Adsense এ, সেখানে Ezoic এ একদিনে তিনি $26 পেয়েছেন। বাংলা ব্লগে এত বেশী না হলেও আপনার প্রতি ১ হাজার ভিজিটে গুগলে $1 পেলে Ezoic এ $3 পেতে পারেন(লকডাউনে একটু কমে গেছে)।

Ezoic এ জয়েন করুন

এর বাইরে ফ্রিতে ওয়েবসাইট হোস্ট ও করতে দেয় এমাজন ক্লাউডে, হোস্টিং এর টাকাটাও বেঁচে যাবে। আপনিও জয়েন করতে পারেন। Payoneer এ টাকা তোলা যায়, ২০ ডলারেও পেমেন্ট পাওয়া যায়। আমিও ব্যবহার করি, এবং আমার অভিজ্ঞতা এখন পর্যন্ত ভালো। AI বা, Artificial Intelligence ব্যাবহার করে মনিটাইজ করে, আর এডসেন্স এর এডও দেখায় যদি সেটা Profitable হয়(ওরাই ঠিক করে নেবে কি এড দেখাবে)।

আরো পড়ুন- এডসেন্স পাওয়ার উপায়

5e6adcf5b838c

ওয়েব রিসার্চ কি?

অনেকে কিওয়ার্ড রিসার্চ এর সাথে ওয়েব রিসার্চকে গুলিয়ে ফেলেন, তাই আলাদা করে এ সম্পর্কে বর্ণনা দিচ্ছি। এটি মূলত ওয়েবসাইট রিসার্চ করে কোন তথ্য বের করে আনা

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে ওয়েব রিসার্চের অনেক কাজ পাওয়া যায়। অনলাইন বিজনেস, ব্লগিং বা, ইন্টারনেটের তথ্য প্রয়োজন এমন যেকোন কাজের সাথে সংশিষ্ট ব্যক্তিরা এরকম দক্ষ লোকদের খোজে যারা তাদের প্রয়োজনীয় কোন তথ্য খুজে এক্সেল, অন্য কোন স্প্রেডশীট বা, নোট আকারে তাদেরকে পৌছে দিতে পারবে।

এই কাজ যারা করে তাদেরকে ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট বা, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বলতে পারেন। তবে, ওয়েব রিসার্চে দক্ষ ব্যক্তিদের বাজার মূল্য রয়েছে। আপনারা চাইলে এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন।

শেষ কথাঃ পৃথিবীতে কোন রিসার্চ টুল নেই যা শতভাগ ঠিক রেজাল্ট দিতে পারে। তবে, সবগুলো টুল সম্পর্কে আপনি এই বিশ্বাস রাখতে পারেন যে তারা আপনার সাথে প্রতারণা করবে না।

আপনি যেকোন টুল দিয়েই রিসার্চ করেন না কেন লাভবান হবেন। আর, সেরা আর্টিকেল লেখার কোন বিকল্প নেই।  ব্লগিং আনন্দময় হোক।

 

(Visited 109 times, 1 visits today)

আরো লেখা খুঁজুন

Related Posts

এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়ঃ মিথ এবং বাস্তবতা

নতুন যারা ব্লগিং বা, ইউটিউবিং করে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এই লেখাটি লিখছি। অনেক
এডসেন্স থেকে পাওয়া টাকা

গুগল এডসেন্স একাউন্ট ব্যান হওয়ার প্রধান কারণ

আপনি যদি ব্লগার হয়ে থাকেন, আর আপনার একটি ব্লগ থাকে থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। বাংলায়, ইংরেজীতে বা, যেকোন
আর্টিকেল লেখার নিয়ম গুলো

আর্টিকেল লেখার নিয়ম- অবশ্যপাঠ্য

আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে যদি আপনি যদি প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। অথবা, যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং
অফ পেজ এস ই ও গাইড ২০২১

অফ পেজ এস ই ও গাইড ২০২১

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে অফ পেজ এস ই ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। না বুঝে বাজে ব্যাকলিংক তৈরি করার কারণে

Leave a Reply