ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়ার জীবনী

play icon Listen to this article
0

ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া।পুরো নাম আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি উবাইদ ইবনি সুফইয়ান ইবনি কাইস আল-কারশি।

বাগদাদে ২০৮হিজরিতে (খৃ.৮২৩)জন্ম গ্রহণ করেন।

পিতা মুহাম্মাদ ইবনু উবাইদ ছিলেন খ্যাতিমান মুহাদ্দিস (হাদিসবিশারদ)।বেশ কয়েকজন আব্বাসী শাসককে ছোটবেলায় পড়িয়েছেন তিনি ;তাদের মধ্যে মু’তাদিদ ও তার ছেলে মুকতাফি বিল্লাহ’র নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ।তিনি ছিলেন অত্যন্ত বাকপটু ;উপদেশ দেওয়ার সময় শ্রোতাদেরকে খুব সহজে হাসাতে ও কাঁদাতে পারতেন।

তার শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন ইসহাক ইবনু রাহওয়াই, কাসিম ইবনু সাল্লাম,তাবাকাত-রচয়িতা ইবনু সাদ,বুখারি,আবূ দাঊদ ও আবূ হাতিম রাযি-রহিমাহুমুল্লাহ।ছাএদের মধ্যে ইবনু মাজাহ্, মুহাম্মাদ ইবনু খালাফ ওয়াকি,ইবনু আবী হাতিম,আবূ বাকর শাফিয়ি ও আবূ আলি ইবনু খুযাইমা’র নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ।

হাদিস ও ইতিহাসশাস্তে তিনি ছিলেন অত্যন্ত উঁচু মাপের এক বিদ্বান। তার মৃতু-সংবাদ ইমাম ইসমাঈল কাযি’র কাছে পৌঁছুলে তিনি বলে উঠেন, ‘আল্লাহ তার উপর রহম করুন!

তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্ঞানের মৃত্যু ঘটল!’কাসীর লিখেছেন,

‘তিনি ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও হাদীসশাস্তের ইমাম ;জ্ঞানের সকল শাখায় তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন।’

অবশ্য জ্ঞানাজনের উদ্দেশে তিনি খুব বেশি সফর করেননি।এ কারণে মুহাদ্দিসদের কেউ কেউ এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তিনি যে যুগে বাগদাদে বেড়ে উঠেছেন, ওই সময় বাগদাদ ছিল ইসলামি জ্ঞানের কেন্দ্র ;বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্বয়ং বিদ্বানরাই সেখানে আসতেন। তাই বাগদাদের বাইরে জ্ঞানাজনের উদ্দেশে খুব বেশি সফরে না যাওয়ায়,ইবনু আবিদ দুনইয়া-রাহিমাহুল্লাহ-এর জ্ঞানর্জনে বিশেষ কোনও ঘাটতি হয়নি।

তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অনেক ;তবে বেশিরভাগের প্রকৃতি হলো ছোট ছোট পুস্তিকার মতো, সংখ্যায় যা শতাধিক। কাল বোকেলমান ও ফুআদ সিজকীনের গ্রন্থাবলিতে তার পান্ডুলিপিগুলোর খুব বেশি তথ্য না থাকলে, অধ্যাপক ইয়াসীন সাওয়াস তার পান্ডুলিপিসমূহের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।সম্প্রতি আট খন্ডের একটি বিশ্বকোষ হিসেবে তার রচনাবলি বৈরুত থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি ৭৩বছর বয়সে ২৮১হিজরিতে(খৃ.৮৯৪)বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।


Screenshot 3
বিজ্ঞাপনঃ বই কিনুন, বই পড়ুন

0

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

আসুন, আমরা পরোপকারী হই

পরোপকার একটি মহৎ গুণ। এটি প্রিয় নবী (সা.) এর সুমহান আদর্শ, খাঁটি মোমিন-মুসলমানের পরিচয়। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আমার

আসুন, আমরা চরিত্রবান হই

আখলাক  আরবি শব্দ। এর অর্থ চরিত্র, অভ্যাস, স্বভাব। চরিত্র ভালো হলে জীবন সুন্দর ও সুখী হয়। মানব জীবনের উত্তম গুণকে

শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার উপায়   পর্ব: ০১ আব্দুল মজিদ মারুফ

আজকের এই পৃথিবী সহ মহাবিশ্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বহু কাল পূর্বে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে তাঁর নিজস্ব
শয়তান কে উপমহাদেশে শয়তানের অনুসারী কারা 15

শয়তান কে? উপমহাদেশে শয়তানের অনুসারী কারা? 

    শয়তান এক অভিশপ্ত নাম যে ছিল ইবলীশ। এই ইবলীশ আল্লাহর আদেশ অমান্য করে ইবলীশ থেকে শয়তানে পরিনত হয়েছিল।

Leave a Reply