কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি / নির্বাচিত / পদার্থ বিজ্ঞান

কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন সম্পর্কিত কিছু কথা

কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন এখন বেশ আলোচিত এবং আকর্ষণীয় একটি বিষয়। এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি না, তবে প্রাথমিক কিছু ধারণা দিতে চলেছি যেটি সবার কাছেই বোধগম্য হবে বলে আশা করছি। এই কম্পিউটেশন এর পেছনে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ধারণা কাজ করে। আগে ছিল বিট এর হিসাব আর কোয়ান্টাম কম্পিউটারে চলে আসে কিউবিট এর হিসাব।

আমরা সবাই জানি – কম্পিউটার হিসাব করে ০ আর ১ দিয়ে। অনেকেই লজিক গেট নিয়ে পড়াশোনা করেছেন- AND Gate, OR gate, Not gate- এগুলোতে ইনপুট হিসেবে ০ এবং ১ ব্যবহার করা হয় এবং ফলাফল হিসেবে বিভিন্ন আউটপুট পাওয়া যায়। আমরা যেসব কম্পিউটার ব্যবহার করি সেগুলোতে বিট ব্যবহার করা হয়। ৮ বিটে ১ বাইট, ১০২৪ বাইটে ১ কিলোবাইট, ১০২৪ কিলোবাইটে ১ মেগাবাইট। এইসব হিসাব মোটেও আমাদের অজানা নয়।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটা কোর্স করার সময় কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন নিয়ে আমি পড়েছিলাম, কোনরকমে পাস করার জন্য পড়েছিলাম।  আগ্রহ নিয়ে পড়িনি, তাই ঠিকমত বুঝতে পারিনি। আপনাদের চোখে ভূল ধরা পড়লে কমেন্ট করা জানাবেন

কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন এর ক্ষেত্রে কিভাবে হিসাবটা হয়?

এটাই আমাদের মূল প্রশ্ন। এক্ষেত্রে বিট দিয়ে হিসাব করা হয় না, এর বদলে হিসাবটা করা হয় কিউবিট(qbit) দিয়ে। কিউবিটের ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার দুটি ধারণা সুপারপজিশন এবং এন্টেঙ্গেলমেন্ট কে বিবেচনা করা হয়। ০ এবং ১ এর বদলে ০ কিংবা ১ থাকার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা হয়। ব্যাপারটা হয়ত এখন আগের চেয়ে জটিল মনে হচ্ছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার মূলত তৈরি হয় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের উপর ভিত্তি করে। সুপারপজিশন এবং এন্টেঙ্গেলমেন্ট সম্পর্কে ধারণা দেই-

সুপারপজিশনঃ একই সাথে একটি কণা বিভিন্ন অবস্থায় থাকতে পারে। যেমনঃ ইলেকট্রনের স্পিন, এঙ্গুলার মোমেন্টাম ইত্যাদি। স্পিনের ক্ষেত্রে স্পিন আপ এবং ডাউন এই দুটি স্পিন থাকে। দুইটারই সম্ভাবনা আছে, আমরা জানি না কোনটা হবে।

এন্টেঙ্গেলমেন্টঃ এই ব্যাপারটা ভৌতিক, অস্বাভাবিক এবং অবাক হওয়ার মতো। Entangled কণাগুলো একটি অপরটির সাথে জড়িত। দুটি কণাকে যদি পৃথিবীর দুই প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে আলাদাভাবে প্রত্যেকটির স্পিন আপ এবং ডাউন যেকোনটি হতে পারে। কিন্তু একটির স্পিন যা হবে সেটির উপর অপরটির স্পিন নির্ভর কর, যেন তারা কোনভাবে কানেক্টেড। কেন এই ঘটনা ঘটে কেউ জানে না, কিন্তু ঘটে এটা সত্যি।


কোয়ান্টাম কম্পিউটার এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যবহার করে কাজ করে। এখনকার কম্পিউটারগুলোতে যে Encryption পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো হ্যাক করা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের জন্য ডালভাত। আর, Quantum Encryption পদ্ধতিতে তথ্য এখনকার চেয়ে অনেক বেশী নিরাপদ থাকবে।

 

আইনস্টাইন কিন্তু কোয়ান্টাম ফিজিক্স সহজে মানতে পারতেন না, অস্বীকার করার মত ভালো যুক্তিও তার কাছে ছিলো না। Daniel M.Greenberger বলেছেন,

“আইনস্টাইন বলতেন, যদি কোয়ান্টাম মেকানিক্স সত্যি হয়ে যেত, তাহলে পুরো পৃথিবী পাগল হয়ে যেত । আইনস্টাইনই ঠিক, পৃথিবী পাগল হয়ে গেছে”

স্রোডিঞ্জারের বিড়াল – কোয়ান্টাম মেকানিক্সে বেশ আলোচিত এবং জনপ্রিয়


 

তথ্যসূত্রঃ

  1. https://en.wikipedia.org/wiki/Quantum_computing
  2. https://en.wikipedia.org/wiki/Quantum_entanglement
  3. https://jqi.umd.edu/glossary/quantum-superposition

(Visited 15 times, 1 visits today)
1
likeheartlaughterwowsadangry
0

Author

admin@lekhok.me
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply