গল্প জোর করে ভালোবাসা হয় না আফছানা খানম অথৈ

0

জোর করে ভালোবাসা হয় না

আফছানা খানম অথৈ

সুরভি অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী খুব কিউট, স্মার্ট,ভদ্র নম্র,রুচিশীল।ক্রাশ খেয়েছে কত শত ছেলে তার কোন হিসেব নেই। সে কোন ছেলেকে পাত্তা দিচ্ছে না,লাভ লেটার প্রেমের প্রোপোজ কোনকিছু তার মন গলাতে পারছে না। সে মনে মনে বলে এমন যদি হয় ছেলেদের নোংরামি তাহলে মেয়েরা লেখাপড়া করবে কিভাবে যত্তসব পাগল ছাগল।একদিন ছাত্রনেতা বাপ্পী তার পথ রোধ করে বলে,
“এক্সিউজ মি” সুরভি দাঁড়াও।
সুরভি আর এগুতে পারলো না, থমকে দাঁড়ালো।তারপর বাপ্পী হাটু গেড়ে একটা লাল গোলাপ এগিয়ে দিয়ে বলল,
সুরভি l love you.
প্লিজ সুরভি না করো না।আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।তুমি আমার জান,প্রাণ আত্না,দেহ শক্তি বল সব সব।
সুরভি খিলখিল করে হেসে উঠে বলে,
বাপ্পী ভাই মনে হয় তুমি পাগল হয়ে গেছ?
হ্যাঁ আমি পাগল হয়েছি,শুধু তোমার প্রেমের জন্য।তুমি আমাকে ভালোবাসা দাও।,সব ঠিক হয়ে যাবে।
সরি বাপ্পী ভাই আমাকে ক্ষমা কর।আমি এসব প্রেম ভালোবাসার ভিতরে নেই।
কোনকিছু শুনার অপেক্ষা না করে সুরভি হনহন করে তার সামনে দিয়ে চলে গেল।বাপ্পী পেছন থেকে ডাক দিলেও সুরভি সেই ডাকে সাড়া দিলো না।ছাত্রনেতা বাপ্পী সুরভিকে ভালোবাসে তাই অন্য কেউ আর প্রেমের প্রোপোজ করাতো দূরের কথা তার দিকে মুখ তুলে তাকাতে ও সাহস করেনি।যাক সুরভি মোটামুটি ইভটিজিং’র হাত থেকে রেহাই পেল।সে এখন কলেজে আসলে ছেলেরা ভদ্রভাবে তার দিকে তাকায় আবার অনেকে ভাবী বলে ডাকে।একদিন বাপ্পীর কয়েকজন বন্ধু মিলে সুরভিকে বলল,
হাই ভাবী কেমন আছেন?
সুরভি ক্ষেপে উঠে বলল,
স্টুপিড রাস্কেল কে তোদের ভাবী,আর একদিন এমন কথা বলেছ তো মরেছ,আমি প্রিন্সিপাল সারের কাছে কমপ্লেইন করব।
প্লিজ সুরভি শুন,বাপ্পী ভাই তোমাকে অনেক ভালোবাসে।ছাত্রনেতা বলে তুই তাকে ঘৃণা করছিস এইতো,আসলে বাপ্পী ভাই ছাত্রনেতা হলেও সে খুব ভালো একজন মানুষ।চেহারা চুরুত আচার আচরণ স্বভাব চরিত্র সবদিকে সে ভালো।এমন একটা ছেলে হাজারে ও একটা হয় না।তুই ওর ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখ।
শাহিন ভাই শুন,বাপ্পী ভাই ভালো না মন্দ, তা আমি জানি।তোমাকে ওর হয়ে আর গুন গাইতে হবে না।প্রথম বারের মতো ক্ষমা করলাম,দ্বিতীয় বার এমন কথা বলেছ তো মরেছ।”দি কেয়ারফুল” এমন কথা যেন আর কখনো না শুনি।
কড়া সতর্ক সংকেত দিয়ে সুরভি বাসায় ফিরে গেল।এদিকে বাপ্পী শয়নে শফনে জাগরেনে শুধু সুরভিকে নিয়ে ভাবে।তার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তার মন প্রাণ ব্যাকুল ।সুরভির পিকচার দিয়ে তার শোভার ঘর সাজিয়ে রেখেছে।ঘুমে কিংবা জাগরনে সে দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলোর সাথে নিজে নিজে কথা বলে,কিস করে,হাসি ঠাট্টা করে।এমনিভাবে চলছে বাপ্পীর দিনগুলো।রোজ রোজ কলেজে ভালোবাসার কথা বলতে চাইলে ও সুরভি তাকে পাত্তা দেয় না।শুধু তাই নয় তাকে সর্বদা এড়িয়ে চলে।রোজ রোজ ফুল আর গিফট নিয়ে সুরভিকে দেয়ার জন্য ছুটে যায়,কিন্তু পারে না।একদিন সুযোগ পেয়েছে অমনি সামনে দাঁড়িয়ে বাপ্পী বলে,
I love you সুরভি I love you.
সুরভি এগিয়ে চলে।বাপ্পী আবার ও তার সামনে গিয়ে একই বাক্য পেশ করে।এবার সুরভি থমকে দাঁড়ায়। তারপর কড়া ভাষায় বলে,
প্লিজ বাপ্পী ভাই আপনি আমার পিছু ছাড়ুন।আমি কখনো আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না।
কেনো সুরভি আমার অপরাধ কী?
আপনার কোন অপরাধ নেই।
তাহলে আমাকে ভালোবাসতে পারবে না কেনো?
বাপ্পী ভাই আমি এসব ভালোবাসাবাসি পছন্দ করি না।
কেনো ভালোবাসা কী পাপ?
না পাপ হবে কেনো?ভালোবাসা পূণ্য,শুধু রাস্তাঘাটে পুকুর পাড়ে,পার্কে প্রকাশ্য দিবালোকে নোংরামি,আর সুযোগ বুঝে দেহ…।
তারপর প্রেগন্যান্ট হলে অস্বীকার করা,ছুড়ে ফেলা দেয়া।শুধু তাই নয়,এককভাবে মেয়েদেরকে দোষী করা,আর ও বলে মেয়েরা খারাপ ছেলেদের বিছানায় যায় কেনো ইত্যাদি ইত্যাদি।আর এজন্য আমি তোমাদের এসব নোংরা ভালোবাসাবাসি পছন্দ করি না।আপনি আমাকে ভুলে যান।
সুরভি চাইলে সবকিছু ভুলা যায় না।তুমি আছ আমার হৃদয়ে, সারাজীবন থাকবে।আমি কখনো তোমাকে ভুলতে পারবো না।তাছাড়া আমি তোমাকে বিয়ে করবো,নোংরামি করবো কেনো।তুমি শুধু একবার হ্যাঁ বল,তানা হলে আমি সুইসাইড় করবো।
আপনার যা ইচ্ছা তাই করেন।আমি আপনার ডাকে কখনো সাড়া দেব না।
এটাই কি তোমার শেষ কথা।
হ্যাঁ এটাই আমার শেষ কথা?
তাহলে তুমিও শুনে রাখ,আমি তোমার ভালোবাসা চাই,যে কোন মূল্যে।
প্রয়োজন হলে তুলে নিয়ে তোমাকে বিয়ে করবো।
তবুও আপনি আমার ভালোবাসা পাবেন না।কারণ মাস্তান ছেলেদের কখনো আমি পছন্দ করি না।তাছাড়া জোর করে কখনো ভালোবাসা হয় না।
কিছু কড়াকথা বলে সুরভি হনহন করে তার সামনে দিয়ে চলে গেল।সুরভির বাবা গভ:মেন্ট কলেজ টিচার মা হাই স্কুল টিচার।দুভাই বোন সুরভি বড় সৌরভ ছোট।সুরভি অসময়ে শুয়ে আছে মা এগিয়ে এসে মেয়ের পাশে বসলো।তারপর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
কিরে মা অসময়ে শুয়ে আছিস যে,শরীর খারাপ?
জ্বী না মা।
তাহলে শুয়ে আছিস কেনো?
এমনি ভালো লাগছে না তাই।
সুরভি আমি একজন শিক্ষিত মা,তাছাড়া মা সন্তানের মুখের দিকে তাকালে বুঝতে পারে সে কী সুখে আছে,না দু:খে আছে,আমার মনে হয় তুই কিছু একটা লুকাচ্ছিস।সত্যি করে বলতো মা কি হয়েছে?
মা আজ কদিন ধরে একটা ছেলে আমাকে খুব ডিস্টার্ব করছে?
বলিস কী,এতদিন বলিসনি কেনো?আমি আজই তোর বাবাকে বলে ইভটিজিং মামালা দায়ের করবো।
প্লিজ মা শান্ত হও।এই জন্যতো তোমাদেরকে বলিনি।ছেলেটি সাধারণ না,ছাত্রনেতা, মাস্তান, এদেরকে ক্ষ্যাপালে হিতে বিপরীত হবে।
তাই বলে সব অন্যায় সহ্য করবো?
না করে কি উপায় আছে।তাছাড়া ছাত্রনেতা মাস্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করা আর না করা সমান কথা।
মানে..?
মা তুমি এত সহজ ব্যাপারটা বুঝলে না।ধর তুমি ওদের বিরুদ্ধে মামলা করলে। পুলিশ দায়িত্ব ও কর্তব্যের খাতিরে তাকে এরেস্ট করলো।উপর থেকে হ্যালো আসল তাকে ছেড়ে দেয়া হলো।এরপর সে আর ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল।তখন কি করবে?
তাই বলে আমরা চুপ করে থাকব?
মা নাটক মুভিতে দেখ না,ভিলেন সব সময় ভিলেন থাকে।কখনো স্বভাবের পরিবর্তন হয় না।নায়িকাকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইলে নায়ক এসে উদ্ধার করে।কিন্তু বাস্তবে কখনো এমন ঘটনা কি দেখেছ,কোন পুরুষ এমন বীরত্ব দেখাতে।কোন নারীকে মাস্তান বখাটের হাত থেকে বাঁচাতে?আদৌ না।
এটা শুধু নাটক মুভির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বাস্তবে নয়।বাস্তব বড় কঠিন।তাই বলছি মামলা করার দরকার নেই।কপালে যা আছে তাই হবে।
মেয়ের যুক্তি সঙ্গত কথার কাছে মা হেরে গেল।তারপর স্বামীর সঙ্গে এই ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করলো।স্বামী আবীদ সাহেবের ও এককথা ইভটিজিং মামলা করবে।স্ত্রী সবকথা স্বামীকে বুঝিয়ে বললেন।আবীদ সাহেব মোটামুটিভাবে শান্ত হলেন।
এদিকে সুরভিকে একান্ত আপন করে পাওয়ার জন্য বাপ্পীর মন প্রাণ ব্যাকুল।সব চেষ্টা তার ব্যর্থ হলো।কোন রকমে সুরভিকে তার প্রেমের ফাঁদে ফেলতে পারছে না।কোন রকমে সুরভি তাকে ভালোবাসতে রাজী হচ্ছে না।এবার সে বাধ্য হয়ে চলে গেল সুরভির বাবার কাছে।তাকে দেখা মাত্রই আবীদ সাহেব বললেন,
বাপ্পী তুমি?
জ্বী স্যার আমি।
কেনো এসেছ?
কোন দ্বিধা দ্বন্ধ ছাড়া বাপ্পী উত্তর দিলো,
স্যার আমি সুরভিকে ভালোবাসি,তাকে বিয়ে করতে চাই?
কড়া কিছু বললে বাপ্পী রেগে যাবে।তাই সুন্দর সাবলীল ভাষায় আবীদ সাহেব বললেন,
দেখ বাবা এখনো আমরা সুরভির বিয়ে নিয়ে ভাবিনি।কারণ সামনে তার ফাইনাল এক্সাম।আগে এক্সাম শেষ হোক তারপর…।
স্যার তাহলে এখন এনগেজমেন্ট হয়ে যাক।
না বাবা এক্সাম শেষ না হতে আমি কিছুই করতে পারবো না।তাছাড়া সুরভি আধুনিক শিক্ষিতা মেয়ে তার ওতো মতামতের দরকার আছে নাকি?
স্যার আমি বুঝতে পেরেছি সুরভিকে আমার সঙ্গে বিয়ে দেবেন না এইতো।তা সরাসরি বলে দিলেতো পারেন,এতো বনিতার কি আছে।চলি এবার আমার ব্যবস্থা আমি করবো।
বাপ্পী ক্ষমতাধর মাস্তান যে কোন সময়ে অঘটন ঘটাতে পারে। তাই সুরভিকে কিছু দিনের জন্য কলেজে যেতে বারণ করেছেন প্রফেসর বাবা আবীদ সাহেব।এর ফাঁকে সুরভির জন্য ভালো একটা বিয়ের প্রস্তাব আসল।ছেলে গেজেটেড অফিসার, ঘর বর সবই ভালো।আবীদ সাহেব যদিও মেয়ে বিয়ে দিতে রাজী ছিলেন না,কিন্তু এখন ঠিক রাজী হয়ে গেলেন।কারণ বাপ্পী যে কোন মূহূর্তে অঘটন ঘটাতে পারে তাই।বাপ্পীর ভয়ে সুরভির বিয়ের আয়োজন তার মামার বাসায় করলেন।বিয়ে বাড়ি আনন্দ উল্লাসে মুখরিত।সুরভিকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে কনের আসনে বসানো হলো।বর আসার ঠিক আধা ঘন্টা পূর্বে বাপ্পী তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলো।গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভিতরে ঢুকল।লোকজন ভয়ে সরে গেল।আর এই সুযোগে বাপ্পী সুরভিকে জোর করে নিয়ে আসতে চাইলে বাবা-মা দুজনে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বাঁধা দেয়।বাপ্পী আর দেরী না করে দুজনের বুকে গুলি ছুড়ে মারল।দুজন ঘটনাস্থলে মারা গেল।সুরভিকে নিয়ে বাপ্পী তার বাসায় ফিরে আসে।বিয়ে পড়ানোর জন্য তাকে জোর জবর দস্তি করা হচ্ছিল।সুরভি কোন উপায় না দেখে নিজেকে রক্ষা করার জন্য হাতে বন্ধুক তুলে নিলো।তারপর বলল,
তোমরা কেউ সামনে এগুবে না।আমি এক্ষণি গুলি ফায়ার করবো।
বাপ্পী নাছোড় বান্দা সে কৌশলে বন্ধুক হাতিয়ে নিতে চাইল।তখনি সুরভি নিজের মাথায় নিজে গুলি ফায়ার করে দিলো।সে কাত হয়ে পড়ে গেল।বাপ্পী এগিয়ে এসে বলল,
সুরভি তুমি একি করলে নিজেকে শেষ করে দিলে?
সুরভি বহু কষ্টে উত্তর দিলো,
আমি বলেছি না “জোর করে ভালোবাসা হয় না”, তবুও জোর করলে কেনো?
এই কথাগুলো বলার পর সুরভির কণ্ঠ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেল।সুরভি মারা গেল।পর পর তিনটা খুন পুলিশ কি আর থেমে থাকে বাপ্পীকে এরেস্ট করে হাজতে নিয়ে গেল।লাশ পোস্ট মর্টেম ছাড়া দাফন করার অর্ডার করলো থানা কর্তৃপক্ষ।
ঃসমাপ্তঃ


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

Afsana Khanam

Author: Afsana Khanam

লেখক

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

গল্প চেয়ারম্যানের মেয়ে আফছানা খানম অথৈ

চেয়ারম্যানের মেয়ে আফছানা খানম অথৈ মেহেরপুর একটি সুন্দর গ্রাম।এই গ্রামে কিছু অদ্ভুত নিয়মকানুন চালু আছে,যা অন্যকোন গ্রামে নেই।এই গ্রামে নারীরা

গল্প মেয়েরা ও মানুষ আফছানা খানম অথৈ

গল্প মেয়েরা ও মানুষ আফছানা খানম অথৈ রানু বউ হয়ে এসেছে চার পাঁচ মাস হলো।এরই মধ্যে তার স্বামী স্কলারশিপ এর

গল্প মেয়ে সাক্ষী আফছানা খানম অথৈ

মেয়ে সাক্ষী আফছানা খানম অথৈ আবিদ হায়দার বেড়াতে এসেছে গ্রামে তার বন্ধু ফুয়াদ'র বাসায়।অবশ্য সে একা না,তার সঙ্গে আছে,বন্ধু সজল

গল্প বন্ধ্যা আফছানা খানম অথৈ

গল্প বন্ধ্যা আফছানা খানম অথৈ আলেয়া বউ হয়ে এসেছে চার বছর হলো।এখনো মা হতে পারেনি। এজন্য রীতিমতো তাকে কটু কথা

Leave a Reply