ধর্ষণ

ধর্ষণের জন্য কী আসলেই নারীর পোশাক দায়ী?

0

অভিযোগ: নারীদের পোশাক দ্বারা প্রভাবিত/তাড়িত হয়ে পুরুষেরা নারীদের,শিশুদের ও পশুপাখিদের ধর্ষণ করে।
উত্তর: আপনি কোনো কিছু দ্বারা তাড়িত হয়ে কোনো অপকর্ম ঘটালেই “তাড়না যোগানো” ব্যক্তি,বস্তু অথবা ঘটনাটিকে দায়ী করতে পারবেন না।ততক্ষণ পারবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না “তাড়না” যোগানো ব্যক্তিটি,বস্তুটি,ঘটনাটি “Morality” ব্রেক করে।

উদাহরণ দিয়ে বুঝাই

খুব সহজ দু’টি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাকঃ

ঘটনা ১, নাসির ও রিয়াজ সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।বয়সে নাসির ২ বছরের বড় হবে।তো নাসির আজকাল রিয়াজের উপর খুবই ক্ষিপ্ত।ঠিক কি কারণে ক্ষিপ্ত সে বুঝতে পারে না।আস্তে আস্তে সে বুঝতে শুরু করলো যে রিয়াজের হাঁটার ভঙ্গি,বচন ভঙ্গি কিছুই তার কাছে ভালো লাগে না।ইদানিং রিয়াজের ড্রেসআপও পছন্দ হচ্ছে না নাসিরের।নাসির ঠিক করলো একদিন রিয়াজকে পিটুনি দিবে।এবং একদিন দিয়েও দিলো।

উপরের ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে নাসিরের “Unconscious Mind/Subconscious Mind” রিয়াজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পছন্দ করে না।তাই সে রিয়াজের উল্লেখিত “আচরণ” দ্বারা “তাড়িত” হয়ে রিয়াজকে পিটুনি দিলো।এখানে কিন্তু রিয়াজের বিন্দুমাত্র দোষ নেই।কিন্তু রিয়াজের আচরণ নাসিরকে তাড়িত করেছে বা প্রভাবিত করেছে রিয়াজকে পিটুনির জন্য অথবা পিটুনি দিতে অথবা রাগান্বিত করতে।
সুতরাং ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী বলাটা,রিয়াজের পিটুনি খাওয়ার জন্য রিয়াজকে দায়ী বলারই সমতুল্য।

পড়ুন- গণতন্ত্র কি?

ঘটনা ২, বাকের মিয়া মাইনে পেয়েছে।সে মাইনে নিয়ে বাসায় ফিরবে অমনি করে কিছু ছিনতাইকারী তাকে ছুরি ঠেকিয়ে সবগুলো টাকা নিয়ে গেলো।এখানে ছিনতাইকারীরা “বাকের মিয়ার টাকা” দেখে তাড়িত হয়ে ছিনতাই কার্য ঘটালো।কিন্তু টাকা বহনকারীর কি এখানে দোষ রয়েছে?

কিন্তু ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী যুক্তিতে আমরা বলতে পারি বাকের মিয়া কেন “টাকা” নিয়ে ঘুরবে?তার টাকা নিয়ে হাঁটাই উচিৎ না! আসলে তার মাটিতেই হাঁটা উচিৎ না!সে সুপারম্যান এর মত করে আকাশে উড়ে উড়ে বাসায় যাবে যাতে কেউ ছিনতাই করতে না পারে।উঁহু ছিনতাইকারীরা যদি আকাশ পথেও হামলা চালায়?আসলে তার টাকা নিয়েই হাঁটা উচিৎ না!

সুতরাং, বলা যাচ্ছে ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী বলাটা ছিনতাইয়ের জন্য “রাস্তায় টাকা নিয়ে হাঁটা” দায়ী বলারই সমতুল্য।

সর্বশেষ বলতে চাই

মানুষ জন্মগতভাবে কিছু নেগেটিভ Impulse নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। একজনের হয়তো রাস্তায় সুন্দরী মেয়ে দেখলে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করবে,তার সাথে যৌন সম্পর্ক করতে ইচ্ছে করবে। একজনের হয়তো কাওকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করবে।এরকম ইচ্ছে জাগতেই পারে।

কিন্তু আপনার এসব ইচ্ছে জাগলেই আপনি এগুলো করতে পারবেন না।আপনাকে এ থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যখন আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন ঠিক তখনই আপনি মানুষ।ঠিক তখনই আপনি সভ্য। অন্যথায় অসভ্য,বর্বর,অমানুষ।আর সভ্য সমাজ আপনার জন্য নয়

পড়তে পারেন-

0

Related Posts

বর্তমান প্রজন্মের অবক্ষয়

পৃথিবী সৃষ্টির পর নানা বিপর্যয় নানা আবর্তন বিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল মানব জাতির। তারপর কেটে গেছে যুগের পর যুগ। এখন

আশা

আচ্ছা! মানুষ আশাহত হয় কেন? এত আশাই বা করে কেন অন্যের কাছ থেকে কিংবা মানুষ কেন অন্য একজন নৃকে কেনই
106210120 150895546608397 3217571511384176693 n

মানসিক প্রতিবন্ধিতা নির্মূল করতে চাই – পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও উপযুক্ত ভালোবাসা

মানসিক প্রতিবন্ধিতা নির্মূল করতে চাই - পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও উপযুক্ত ভালোবাসা -----ম্যাকি ওয়াদুদ আদিকাল থেকেই আমরা মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বাস
কোরআন অনুবাদের ইতিহাস

গিরিশচন্দ্র সেন বিতর্ক

পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ভাই গিরিশচন্দ্র সেন- এই তথ্যটি আমাদের সবার জানা। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে প্রথম অনুবাদক

One Reply to “ধর্ষণের জন্য কী আসলেই নারীর পোশাক দায়ী?”

  1. খুব ভালো লিখেছেন। আমিও আপনার সাথে একমত। ধর্ষণের ক্ষেত্রে পোশাক প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে, যদি পোষাক দেখে ধর্ষকের ধর্ষণ প্রবণতা তৈরি হয়।
    অর্থাৎ, অপরাধীর আচরণকে স্বাভাবিক ধরে নিয়ে অপরাধের স্বীকার যে হচ্ছে তাকে দোষারোপ করাটা সমর্থনযোগ্য নয়।

Leave a Reply