কাঠমান্ডু - দরবার স্কয়ার
নির্বাচিত / সাধারণ জ্ঞান

নেপালের রাজধানীর নাম কাঠমান্ডু

5
(1)

নেপালের রাজধানীর নাম কাঠমান্ডু।  ‘জননী জন্মভূমি স্বর্গদপী গরীয়ষী’- এটি নেপালের নীতিবাক্য। রাজতন্ত্র থেকে নেপাল এখন যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক নেপাল। রাষ্ট্রভাষা মৈথিলি এবং নেপালি। একমাত্র এই দেশের পতাকাই ত্রিভূজ আকৃতির। রাষ্ট্রপতি বিদ্যাভান্ডারি এবং প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি। উপরের ছবিতে কাঠমান্ডুর দরবার স্কয়ার দেখতে পাচ্ছেন। চারিদিকে হিমালয় বেষ্টিত এই শহরটিই নেপালের সবচেয়ে বড় শহর। এখানকার মানুষেরা কথা বলে নেপালি এবং নেওয়ারি ভাষায়।

মন্দিরের শহর কাঠমান্ডু

রাজধানীর নামকরণের পেছনেও মন্দিরের একটা ভূমিকা আছে। কাঠমান্ডু নামটি এসেছে একটি মন্দিরের নাম- কাষ্ঠমন্ডপ থেকে, এই মন্দিরটি অবস্থিত দরবার স্কয়ারে। তারা শহরকে বলে মহানগর যার অর্থ ‘মহৎ শহর’। কাষ্ঠমন্ডপ মহানগরের নাম প্রাচীন বৌদ্ধ স্তোত্রগুলোতেও পাওয়া যায়।

এই শহরটির আরেক নাম কান্তিপুর। কান্তি এবং পুর শব্দ দুটির উৎপত্তি সংস্কৃত থেকে। কান্তি অর্থ “সৌন্দর্য্য” বা, “আলোকিত” এবং পুর অর্থ “স্থান”। কাঠামান্ডুকে কখনো কখনো আলোর শহর নামেও অভিহিত করা হয়।

ঐ অঞ্চলের আদিবাসীদের মুখে আরো কিছু শব্দ প্রচলিত রয়েছে। মূল শহরটিকে তারা বলে “ইয়ে দেশ”। এই শহরের উত্তর অংশকে তারা বলে যম্বি এবং দক্ষিণ অংশকে বলে যঙ্গলা। আমরা ণ-ত্ব বিধানে পড়েছি ন এর সাথে ড যুক্ত হলে সংস্কৃত শব্দে ণ হবে। এক্ষেত্রে কিছু দন্ত ন ব্যবহার করতে হবে। কারণ, শব্দটি তদ্ভব, তৎসম নয়।

কাঠমান্ডুর ইতিহাস

নেপালের মন্দিরের সামনে, পশুপতিনাথ
পশুপতিনাথ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। স্বয়ম্ভু পুরাণে উল্লেখ আছে, এই অঞ্চলে ছিল বিশাল এবং গভীর হ্রদ যা সাপে পরিপূর্ণ ছিল। হ্রদ কেটে পানি সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বোধিসত্ত্ব। বনাশূর এসে আবার তা বন্ধ করে ফেলে এবং সব শেষে ভগবান কৃষ্ণ এসে বনশুরকে হত্যা করে সেই হ্রদটি উদ্ধার করেন।

লেচাভি যুগ এবং মল্ল যুগের নানা কীর্তি, দুর্যোগ, ঘাত-প্রতিঘাত এবং সমৃদ্ধির ইতিহাস পেরিয়ে ১৭৬৮ সালে মল্ল যুগের সমাপ্তির মাধ্যমে গোর্খা রাজ্য নেপালের রাজধানী হিসেবে কাঠমান্ডু গৃহীত হয়। পর্যটন শিল্প এবং অর্থনীতিতে নেপালের রাজধানী শহরটি একটি সমৃদ্ধ শহর বলেই বিবেচিত হয়।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে গোর্খা সেনা ছিলো, এখনকার ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও নেপালের গোর্খা সেনা রয়েছে। ব্রিটিশদের পক্ষে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নেপালীরা অংশ নিয়েছিলো। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে, ব্রিটিশদের দখলে সারা বিশ্বের অনেক দেশ থাকলেও তারা নেপাল দখল করার দুঃসাহস দেখায়নি, চুক্তি করেই শান্ত ছিলো।

আরো পড়ুন-

 

 

তথ্যসূত্রঃ 

  1. দেশ পরিচিতি- নেপাল- Studypress
  2. ভারতীয় সেনায় গোর্খা যোগদান নিয়ে আপত্তি- সংবাদ প্রতিদিন


লেখা খুঁজুন

নতুন লেখা প্রকাশ করুন

লেখককে ট্রফি দিন

গড় ট্রফি সংখ্যা 5 / 5. ট্রফি সংখ্যা: 1

কোন ট্রফি নেই! আপনিই প্রথম

(Visited 2 times, 1 visits today)

Leave a Reply

একাকীত্ব

September 4, 2020