শুনুন ১০ টি আদিবাসী গান

যাদের ভাষা বাংলা নয় এমন কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গান এখান থেকে শুনতে পারবেন।  এবং গান তাদের সংস্কৃতির একটি অচ্ছেদ্য অংশ। আপনাদেরকে আজ ১০ টি আদিবাসী গান শোনাবো। এই গানগুলো হয়তো আপনাকে একটি ভিন্ন জগতে নিয়ে যাবে, জন্ম দেবে নতুন উপলব্ধির।

আদিবাসী গান

বাংলা ভাষার যেমন সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে, নানা ধরণের গান রয়েছে। তেমনি  ছোট ছোট আদিবাসী গোষ্ঠীরও রয়েছে মুগ্ধ হয়ে শোনার মতো গান। এরকম দশটি গান আপনাদের জন্য উপস্থাপন করছি-

আপনারা যে গান শুনতে চান সেই লেখাটিতে ক্লিক করলেই এই লেখাটির সেই অংশে আপনাকে নিয়ে যাবে।

 

১. চাকমা গানঃ

উত্তন পেগে মেগে মেগে,  এই গানটি সত্যিই উপভোগ্য, অভূতপূর্ব-

 
কথাঃ অমরশান্তি চাকমা,
সূরঃ রঞ্জিত দেওয়ান
গেয়েছেনঃ অপি করিম

যে গানটি এখানে শোনাচ্ছি এটা মূল শিল্পীর নয়, ইউটিউবে অনেক চটকদার কাভারের ভীড়ে অপি করিমের গাওয়া গানটি প্রশংসিত হয়েছে। এর চেয়ে ভালো সম্ভবত শুধু মূল শিল্পীর গাওয়া গানটি। শুনতে পারেন- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে মান্না দের গান

২. মারমা গানঃ

বাংলাদেশের বৃহৎ আদিবাসী গোষ্ঠীর একটি মারমা। এদের বাস মূলত বান্দরবানে। ম্রাইমা(মায়ানমার) থেকে মারমা শব্দের উৎপত্তি। নিজস্ব বর্ণমালা নেই( তারা বার্মিজ বর্ণমালা ব্যবহার করেন), তবে কথা বলার ভাষাটা নিজস্ব।  মগ/মারমাদের গান এবং নাচ দেখুন-

বীরবিক্রম খেতাব পাওয়া একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা ইউ কে চিং মারমা এই জনগোষ্ঠীর একজন ব্যক্তি ছিলেন।

৩. ত্রিপুরা গান

ভারতের একটি রাজ্য রয়েছে যার নাম ত্রিপুরা, বাংলাদেশের কুমিল্লাও এক সময় ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিলো। ১৯৪৯ সালে ত্রিপুরা ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়। বাংলাদেশে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রায় মানুষেরা কুমিল্লা, নোয়াখালি এবং চট্টগ্রামে বাস করেন। তাদের ভাষ ককবরক। সুন্দর একটি গান শুনুন-

পড়তে পারেন- সিলেটি ভাষা কি বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ভাষা?

৪. ম্রো গান

ম্রো জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা মুরং নামেও পরিচিত। নিজেদেরকে মারুচা বলে পরিচিয় দেয়া এই জনগোষ্ঠীর ম্রো নামের অর্থ মানুষ(একবচন), এবং বহুবচনে সেটি হবে মুরং। বান্দরবানে বসবাসকারী দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ম্রো। মায়ানমারে তাদের আদি নিবাস ছিলো, এখন বাংলাদেশ, ভারত এবং মায়ানমারে বসবাস করেন। এরা মূলত প্রকৃতি পূজারি হলেও বৌদ্ধ ও খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীও এদের মাঝে রয়েছে।

 

৫. সাঁওতাল গান

সাঁওতাল বা, সান্তাল বলে পরিচিত এই জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস পৃথিবীর আদি মানব ছিলেন পিলচু বুড়ো এবং মানবী পিলচু বুড়ি। তাদের সাত জোড়া সন্তান থেকে সান্তাল নামের উৎপত্তি। সাঁওতালি ভাষা ২২ ডিসেম্বর ২০০৩ ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়, এই দিনটিকে তারা ভাষা দিবস হিসেবে পালন করে।   বাংলাদেশের সাঁওতালদের নাচ দেখুন এবং গান শুনুন।

পড়তে পারেন- বাংলা নববর্ষ প্রচলন করেন কে? আকবর/বিক্রম

৬. মণিপুরী গান

এই জনগোষ্ঠীর রয়েছে সমৃদ্ধ ভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য। মূলত বাংলাদেশ এবং ভারতে এদের বাস। ভারতের একটি রাজ্য রয়েছে মণিপুর নামে। মৈতৈ, পাঙন এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী এদের তিনটি শাখা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও মণিপুরীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভিবাজার, সুনামগঞ্জ এই অঞ্চলে এদের বাস। ঢাকায় মণিপুরীপাড়া নামে একটি এলাকা রয়েছে যেখানে মূলত এই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বাস করেন।

 

৭. গারো গান

গারোরা বাংলাদেশ এবং ভারতে বাস করেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীই গারো এবং খাসিয়া। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, মৌলভিবাজার এলাকায় এরা বাস করেন। নিজেদেরকে এরা মান্দি বা, মানুষ বলে পরিচয় দেন। এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই এখন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী, তাদের প্রাচীন ধর্মের নাম সাংসারেক। এদের প্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে গরুর মাংস, শূকরের মাংস এবং শুটকি। গারো আদিবাসীদের নাচ, গান দেখুন-

আরো পড়ুন- হিন্দি ভাষার উৎপত্তি কিভাবে হয়?

৮. খাসিয়া গান

খাসিয়াদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, বিয়ের পরে ছেলেরা শশুরবাড়িতে থাকে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী খাসিয়া।বাংলাদেশের খাসিয়ারা প্রধানত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাস করে।

গানটির কথা লিখেছেন ও সূর করেছেন আপকিরমেনখেম তামসং এবং গেয়েছেন- কের ওয়েরবা ও খিয়েংকার মাইলিংগপ।

 

৯. বম গান

বম শব্দের অর্থ বন্ধন। তারা নাচ, গান, শিকার, খাওয়া দাওয়া, যজ্ঞ সব কিছু একসাথে করেন। এরা মূলত বান্দরবান এবং রাঙামাটিতে মাস করেন। এদেরকে মারমা ও রাখাইনরা বলেন লাংগি। এই জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছেন। কারো অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে চেরাউ গান গাওয়া হয়। এই গানটি চেরাও কি না জানি না, তবে বেশ উপভোগ্য-

১০. লুসাই গান

বাংলাদেশের একটু ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী লুসাই। এদের বাস বাংলাদেশ, ভারত এবং মায়ানমারে। এরা বর্তমানে খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী, বসবাস লুসাই পাহাড়ের আশেপাশে। বাংলাদেশের লুসাই পাহাড়ের নাম এই জনগোষ্ঠীর নামেই। জনশ্রুতী আছে চীনের রাজা  তার বাবার সাথে মতের অমিলের কারনে মায়ানমারে চলে আসেন এবং বর্তমান মায়ানমার, মিজোরাম(ভারত), চট্টগ্রামে(বাংলাদেশ) রাজত্ব করতে থাকেন। তাদেরই বংশধরেরা এখনকার লুসাই নামের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে টিকে আছে।

গান তো অনেক শুনলেন এবার বরং লুসাই বাঁশ নৃত্য দিয়ে শেষ করি-

আশা করছি- আদিবাসী গান শুনে আপনার ভালো লেগেছে। নিচে কমেন্ট করে আপনার অনুভূতির কথা আমাদের জানাতে পারেন।

(Visited 20 times, 1 visits today)
1
likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে মান্না দের গান

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণ পরিচয় বইটি পড়েননি এমন বাঙালি বোধহয় খুজে পাওয়া যাবে না। আজকে আপনাদেরকে বিদ্যাসাগরকে নিয়ে দুটি গান শোনাতে

Leave a Reply