রাসূলের (সা.) আদর্শ এবং অনুসরণই হচ্ছে ইসলাম

play icon Listen to this article
0

ইসলাম হচ্ছে ওহী বিশিষ্ট সুশৃঙ্খলিত এবং আদর্শিক একমাত্র ধর্ম। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন এবং রাসূলের জীবনাদর্শ (হাদিস ও সুন্নাহ) এই দুই মিলিয়েই হচ্ছে পরিপূর্ণ ইসলাম। পবিত্র কুরআনকে অনুসরণ করতে হলে অবশ্যই রাসূলের জীবনাচরণকে প্রতিটি মুমিনের জীবনে প্রতিফলিত করাতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহর (সা.) পরিপূর্ণ জীবনাচরণই হচ্ছে ইসলামের মডেল। 

 

রাসূলুল্লাহর (সা.) ভালোবাসা এবং জীবনাদর্শ ব্যতীত কোনো মুসলিম দাবিদার পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। কেউ নিজেকে মুসলিম দাবি করে ইসলামের আচার অনুষ্ঠান পালন করতে চাইলে; অবশ্যই তার ইবাদত ও আমলে রাসূলুল্লাহর নির্দেশিকা থাকতে হবে। রাসূল (সা.) যা যা তাঁর উম্মতের জন্য নির্দেশ এবং নিষেধ করে গেছেন; তার ব্যতিরেকে কেউ নতুন কিছু (সওয়াবের আশায়) পালন করলে তা কখনোই আল্লাহ্ মেনে নিবেন না। আল্লাহ্ সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেন, “রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহন কর এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হাশর: আয়াত  ৭)

 

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে যা যা তাঁর সাহাবীদের (রা.) করতে বলেছেন এবং যা যা করতে নিষেধ করেছেন তা আমাদের মেনে চলতে হবে। আর রাসূলকে মেনে চলাটাই হচ্ছে সম্পূর্ণ ইসলাম। যারা রাসূলকে আদর্শরূপে গ্রহণ করতে পারবে তারাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র পরীক্ষায় কৃতকার্য। আল্লাহ্ বলেন, “আর যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের  আনুগত্য করে আল্লাহ্কে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য।”(সূরা নুর : আয়াত ৫২) 

 

এই কারণে আল্লাহ্‌র বাণী পবিত্র কুরআনের পর, ইসলামে অনুকরণীয় এবং অনুসরণীয় একমাত্র ব্যক্তি হচ্ছে রাসূল (সা.)। সুতরাং আমরা যা-ই ইসলামের নামে পালন করি না কেন, তা রাসূলের আদর্শে সমর্থিত হতে হবে। আল্লাহ্ বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর জীবনের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ; যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহ্কে বেশি স্মরণ করে।’ (সূরা আহযাব : আয়াত ২১)

 

অর্থাৎ আমাদেরকে  ঈমান , আমল, আকীদাসহ সম্পূর্ণ জীবনযাপনে পরিপূর্ণভাবে রাসূলকে অনুসরণ করতে হবে। আমাদের ইবাদতসমূহ যদি রাসূলের (সা.) সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত না হয়, তবে তা কখনোই আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না। রাসূলের সহিহ সুন্নাহ ছাড়া নিজের খেয়াল-খুশি (প্রবৃত্তির অনুসরণ) বা অন্যের অনুসরণ অথবা পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসরণ কখনোই ইসলাম সমর্থন করে না। এমন করলে সেটা হবে প্রবৃত্তির  অনুসরণ। আল্লাহ্ বলেন, “অতঃপর তারা যদি (হে রাসূল) আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ্ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না। (সূরা কাসাস: আয়াত ৫০)

 

সুতরাং রাসূলের নির্দেশিত পথ ছাড়া  নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা যাবে না। যে-ই নিজের খেয়াল-খুশির তথা প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে সে-ই হবে পথভ্রষ্ট। আল্লাহ্ কখনোই জালেমকে সঠিক পথ দেখান না। আর সকল পথভ্রষ্টের শেষ ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। 

 

শুধু তাইনয় আল্লাহ্কে ভালোবাসা ছাড়া কেউ  কখনোই ঈমানদার হতে পারে না। আর আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে পূর্বশর্ত হিসাবে আল্লাহ্ নিজেই ঘোষণা করছেন, ‘(হে রাসূল! আপনি) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ কর; তাহলেই আল্লাহ্ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ্ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু।’ (সূরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১)

 

এই আয়াতে কত সুন্দর করে আল্লাহ্ বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তাঁর ভালোবাসার পূর্বশর্তই হচ্ছে তাঁর রাসূলকে অনুসরণ। প্রতিটি মুসলিমের জীবন হতে হবে রাসূলের অনুসরণে তাঁর আদর্শে পরিপূর্ণ। হোক সেটা ইবাদত, আমল কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপন। সুতরাং রাসূলের অনুসরণ  বিহীন জীবনযাপন সেটা মরুভূমির ন্যায়। যে ব্যক্তির জীবনে রাসূলের অনুসরণ নেই সে ব্যক্তি কখনোই ঈমানদার হতে পারে না। 

 

সুতরাং নিজেদের মুসলিম দাবি করলে অবশ্যই আমাদের জীবনযাপনে রাসূলের প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর  কর্মকাণ্ডের ছায়া থাকতে হবে। যারা নিজেদের জীবনে রাসূল (সা.) কে প্রাধান্য দিতে পেরেছেন তারাই সত্যিকারের প্রকৃত ঈমানাদার হতে পারবে। 

 

একটি ভ্রান্তির অবসান

আমাদের সমাজে অনেক নামধারী মুসলমান আছে। যাদের ঈমান, আকিদা, আচার, আচরণ, ইবাদত, আমলে কোথাও রাসূলের আদর্শ নেই । অর্থাৎ তাদের ঈমান এবং আমল গুলো নিজেদের খেয়াল-খুশি বা অন্যের শেখানো পদ্ধতিতে পরিচালিত। যা রাসূলুল্লাহর (সা.) আনিত ইসলামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ন নয়। আমাদের উপমহাদেশে যে ইসলাম পালন করা হয় তা হচ্ছে সুফিবাদী ইসলাম সুফিবাদ এমন একটি মতবাদ যা ইসলামের মূল মানদন্ড থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলামে যেকোনো ইবাদত বা আমল পালন করতে চাইলে অবশ্যই তা কুরআন এবং রাসূলের সুন্নাহ দ্বারা সরাসরি স্বীকৃত হতে হবে। আজ উপমহাদেশে ইসলামের নামে সুফিবাদীরা  যাকিছু পালন করছে, তার স্বীকৃতি রাসূলের আদর্শে নেই। রাসূলুল্লাহর আদর্শে যা থাকবে না তা কখনোই প্রকৃত ইসলাম নয়। 

 

সুতরাং ইবাদত ও আমলের নামে সুফিবাদীরা যেসব নতুন নতুন বিদআত সৃষ্টি করেছে তা কখনোই প্রকৃত ইসলাম নয়।  আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (সা.) কখনোই এইসব মেনে নিবেন না। রাসূল (সা.) বলেন,‘যে এমন ইবাদাত করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য হিসাবে গণ্য হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৪৫৯০)

 

রাসূল (সা.) আরো বলেন- “নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পদ্ধতি। আর নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে শরীয়াতে নতুন কিছু সৃষ্টি করা, এবং প্রত্যেক নতুন সৃষ্টি (বিদ’আত) হচ্ছে ভ্রষ্টতা। (মুসলিম-৭৬৮)

 

অন্য হাদিসে এসেছে ,”যে আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়”। (বুখারীঃ ৫০৬৩)

 

এইসব হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে রাসূল (সা.) নির্দেশ দিচ্ছেন যে, কেউ নিজের মতো বা অন্যের দেখানো নতুন কোনো ইবাদত পালন করলো; যে ইবাদতের কোনো নির্দেশনা রাসূল (সা.)  বা তাঁর সাহাবীগণ (রা.) দেননি। সেইসব  ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয় বরং পরিত্যাজ্য।

 

ঈমান আকিদাসহ যেকোনো ইবাদত ও আমল তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। যখন তা আল্লাহর রাসূলের অনুসরণে এবং অনুকরণে পালন করা হবে। প্রবৃত্তির অনুসরণ, পূর্বপুরুষদের অনুসরণ বা অধিকাংশের অনুসরণ কখনোই প্রকৃত ইসলাম নয়। অতএব নিজেদের পরিপূর্ণ ঈমানদার দাবি করতে চাইলে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ অনুসরণ, আনুগত্য এবং অনুকরণ করতে হবে। সুতরাং রাসূলের (সা.) আদর্শ এবং অনুসরণই হচ্ছে পরিপূর্ণ ইসলাম।

 

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী 

পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম। 

0

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী

Author: সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী জন্ম চট্টগ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসের সেই কঠিন সময়ে লেখেলেখির হাতেখড়ি। গল্প, কবিতা, সাহিত্যের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলা পত্রিকায়ও নিয়মিত কলাম লিখেছেন। প্রবাসের সেই চাকচিক্যের মায়া ত্যাগ করে মানুষের ভালোবাসার টানে দেশে এখন স্থায়ী বসবাস। বর্তমানে বেসরকারি চাকুরিজীবী। তাঁর ভালোলাগে বই পড়তে এবং পরিবারকে সময় দিতে।

Related Posts

কীভাবে আল্লাহর তাওহিদ ক্ষুন্ন হয়

তাওহিদ কী? কীভাবে আল্লাহর তাওহিদ ক্ষুন্ন হয়

তাওহিদ কী? কীভাবে আল্লাহর তাওহিদ ক্ষুন্ন হয়   ইসলামই একমাত্র ওহি বিশিষ্ট ধর্ম, যেখানে আল্লাহ তাঁর সমস্ত গুণাবলীর সাথে কাউকে
পরিপূর্ণ ঈমানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

ঈমান কী, পরিপূর্ণ ঈমানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

ঈমান কী, পরিপূর্ণ ঈমানের বিস্তারিত ব্যাখ্য ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর পূর্ণ বিধানে আনুগত্য করা। এই পরিপূর্ণ বিধানকে  মুখে স্বীকৃতি, অন্তরে বিশ্বাস

আল্লাহর কাছে যারা সফল

আল্লাহ জ্বীন এবং মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। এই ইবাদতের দ্বারা তিনি দেখতে চান কারা কারা সত্যিকারের বিশ্বাসী, 

শিরক কী, মানুষ কীভাবে শিরক করে

শিরক কী, মানুষ কীভাবে শিরক করে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে স্রষ্টা অর্থাৎ  আল্লাহ তার কোনো ক্ষমতাতেই কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করেননি।

Leave a Reply