কুরআনের আলোকে ফেরেশতাগণের পরিচয় ও তাদের সৃষ্টি-রহস্য

0

আল-কুরআনে ফেরেশতাগণ

পবিত্র কুরআনে তিনজন ফেরেশতার নাম এসেছে। তাঁরা হচ্ছেন, জিবরাঈল, মিকাঈল এবং মালিক। এছাড়া অন্যান্য আরো অনেক ফেরেশতার আলোচনা এসেছে, তবে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

 

১. জিবরীল/ জিবরাঈল: জিবরাঈলের নাম পবিত্র কুরআনে তিনবার এসেছে। যেমন-

إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا ۖ وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَٰلِكَ ظَهِيرٌ

বাংলা অনুবাদঃ তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর, তবে ভাল কথা। আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে জেনে রেখ আল্লাহ জিবরাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তুত ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী। (সূরাঃ আত-তাহরীম, আয়াতঃ ৪)

আরো এসেছে-

قل مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ. مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ

বাংলা অনুবাদ: যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়, কারণ তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা। আপনি তাকে বলে দিন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু। (সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ৯৭-৯৮)

সুরা শুয়ারার ১৯৫ নম্বর আয়াতে তাঁকে ‘রুহুল আমিন’ অর্থাৎ সৎ-আত্মা উপাধিতে সম্বোধন করা হয়েছে। অনুরূপভাবে সুরা মারিয়ামের ১৯ নম্বর আয়াতে ‘রসুলু রব্বিকি’ তথা তোমার রবের বার্তাবাহক উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

২. মীকাঈল/মীকাল: এ নামটি একবার এসেছে

مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ

(আপনি তাকে বলে দিন,) যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু। (সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ৯৮)

৩. মালিক: এ নামটিও একবার এসেছে

وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ

বাংলা অনুবাদঃ তারা ডেকে বলবে, হে মালেক, পালনকর্তা আমাদের কিসসাই শেষ করে দিন। সে বলবে, নিশ্চয় তোমরা চিরকাল থাকবে।(সূরাঃ যুখরুফ, আয়াতঃ ৭৭)

এই তিনজন সম্মানিত ফেরেশতা ছাড়াও আরো অনেক শ্রেণীর ফেরেশতাদের আলোচনা করা হয়েছে কুরআনে। যেমন, মালাকুল মউত, কিরামান কাতেবীন, মুনকার-নাকীর, হামালাতুল আরশ ইত্যাদি। সামনের আলোচনায় তা বিধৃত করা হচ্ছে।

 

কুরআনের আলোকে ফেরেশতাগণের পরিচয়

এ সম্পর্কে মহাগ্রন্ত আল-কুরআনে এসেছে, ফেরেশতারা হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার বিশেষ বার্তাবাহক বা সংবাদ-প্রতিনিধি। তাদের ছয়টি বা আটটি করে ডানা আছে। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন-

…جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۚ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা অনুবাদ: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর…) যিনি ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহক তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম। (সূরাঃ ফাতির, আয়াতঃ ১)

সূরা হজ্জে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন-

اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ

বাংলা অনুবাদ: আল্লাহ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল (বার্তাবাহক) মনোনীত করেন। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্ব দ্রষ্টা! (সূরাঃ হাজ্জ্ব, আয়াতঃ ৭৫)

ফেরেশতাদের কাজ ও দায়িত্ব

ফেরেশতারা পৃথিবী ও জান্নাত-জাহান্নামের বিভিন্ন কাজকর্মে নিয়োজিত রয়েছে। আল্লাহপাক সূরা তাহরীমের ৬ নম্বর আয়াতে বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ

বাংলা অনুবাদ: মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ…। (সূরাঃ আত-তাহরীম, আয়াতঃ ৬)

 

ফেরেশতাগণ সর্বদা আল্লাহর আদেশ পালন করে চলছে

তারা কখনোই আল্লাহর আদেশ অমান্য করে না। যেমন মহান আল্লাহ পাক রব্বুল ইজ্জত বলেন-

لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

বাংলা অনুবাদ: তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে। (সূরাঃ আত-তাহরীম, আয়াতঃ ৬)

 

ফেরেশতারা সবসময় আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল

পবিত্র কুরআন কারীমে আল্লাহ রাব্বুল ইযযাত বলেন-

يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ

বাংলা অনুবাদঃ তারা (ফেরেশতা) রাত্রিদিন ক্লান্তিহীন তাঁর (আল্লাহর) পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে। (সূরাঃ আম্বিয়া, আয়াতঃ ২০)

অন্য আয়াতে এসেছে

فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْأَمُونَ ۩

বাংলা অনুবাদ: অতঃপর তারা যদি অহংকার করে, তবে যারা আপনার পালনকর্তার কাছে আছে, তারা দিবারাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না। (সূরাঃ হা-মীম সেজদাহ, আয়াতঃ ৩৮)

ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনয়ন

এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন-

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

বাংলা অনুবাদ: রাসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। (সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ২৮৫)

অন্য আয়াতে তিনি আরো বলেন

لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَىٰ حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا ۖ وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ ۗ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ

বাংলা অনুবাদ: সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। (সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ১৭৭)

ফেরেশতাদের শত্রু আল্লাহর শত্রু

সূরা বাকারায় মহান রাব্বুল ইজ্জত বলেন

قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ. مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ

বাংলা অনুবাদ: যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়, কারণ তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা। আপনি তাকে বলে দিন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু। (সূরাঃ আল বাকারা, আয়াতঃ ৯৭-৯৮)

 

ফেরেশতা কিসের তৈরি

এ ব্যাপারে আইশাহ রা. থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে-

عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ خُلِقَتِ الْمَلاَئِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ ‏”‏

আইশাহ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ফেরেশতাদের নুর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে ধোঁয়াশূন্য অগ্নিশিখা থেকে এবং আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে ওই বস্তু থেকে যে সম্পর্কে তোমাদের বর্ণনা করা হয়েছে। [মুসলিম, হাদিস : ৭৩৮৫]

ফেরেশতাদের আকৃতি

ফেরেশতাদের আকৃতির ব্যাপারে হাদীসে এসেছে

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أُذِنَ لِي أَنْ أُحَدِّثَ عَنْ مَلَكٍ مِنْ مَلَائِكَةِ اللَّهِ مِنْ حَمَلَةِ الْعَرْشِ، إِنَّ مَا بَيْنَ شَحْمَةِ أُذُنِهِ إِلَى عَاتِقِهِ مَسِيرَةُ سَبْعِ مِائَةِ عَامٍ

অনুবাদ: জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ যে সকল ফিরিশতা আরশ বহন করেন, তাদের একজনের সঙ্গে আলাপ করার জন্য আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তার কানের লতি থেকে কাঁধ পর্যন্ত স্থানের দূরত্ব হলো সাতশ বছরের দূরত্বের সমান। [আবূ দাঊদ: ৪৭২৭]

 

ফেরেশতাগণের কিছু বৈশিষ্ট্য

ফেরেশতাগণ মানুষের মত পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে মুক্ত।

فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۖ قَالُوا لَا تَخَفْ ۖ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ

বাংলা অনুবাদ: অতঃপর তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হলঃ তারা বললঃ ভীত হবেন না। তারা তাঁকে একট জ্ঞানীগুণী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল। (সূরাঃ আয-যারিয়াত, আয়াতঃ ২৮)

فَلَمَّا رَأَىٰ أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۚ قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمِ لُوطٍ

বাংলা অনুবাদ: কিন্তু যখন দেখলেন যে, আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল-ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। (সূরাঃ হুদ, আয়াতঃ ৭০)

 

ফেরেশতাদের সংখ্যা

আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু এর নির্দিষ্ট সংখ্যা কত তা জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন হাদীস দ্বারা ফেরেশতাদের সংখ্যা লক্ষ লক্ষ কিংবা কোটি কোটি হওয়া প্রমাণিত হয়। যেমন: মি’রাজ সংক্রান্ত হাদীসে এসেছে-

فرفع لي البيت المعمور فسألت جبريل فقال هذا البيت المعمور يصلي فيه كل يوم سبعون ألف ملك إذا خرجوا لم يعودوا إليه آخر ما عليهم

অনুবাদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাত্রে বায়তুল মা’মূর সফরকালে জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? জিবরাঈল বললেন, এটা হচ্ছে বাইতুল মা’মূর, এখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করে। যারা এখানে একবার সালাত আদায় করে তারা দ্বিতীয়বার আর ফিরে আসে না। [বুখারী: ৩২০৭]

অন্য হাদীসে এসেছে-

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سبعونَ ألفَ مَلَكٍ يجرُّونها

ইবনু মাস’ঊদ (রা.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে যে, তার সত্তরটি লাগাম থাকবে এবং সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) প্রতিটি লাগামের সাথে থাকবে, তারা তা টেনে আনবে। [মুসলিম: ৬৯০১, তিরমিযী: ২৫৭৩, সহীহুল জামি: ৮০০১, সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব: ৩৬৬৫, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম: ৮৭৫৮]

অন্যত্র আরও এসেছে-

أطت السماء وحق لها أن تئط، ما فيها موضع أربع أصابع إلى وعليه ملك ساجد

অনুবাদ: আকাশ ভারে কাতরাচ্ছে, আর সে কাতরাতেই পারে। কারণ, তার প্রতি চার আঙ্গুল জায়গায় ফেরেশতারা সাজদাহরত রয়েছে। [সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১৯০]

 

ফেরেশতাদের নামের তালিকা

১. জিবরাঈল/জিবরীল (جبرائيل/جبريل)

২. মিকাঈল/মীকাল (ميكائيل/ميكال

৩. ইসরাফীল (اسرافيل)

৪. মালাকুল মাওত/কথিত আযরাঈল (ملك الموت/عزرائل)

উল্লেখ্য: কুরআন-হাদীসে আজরাইল শব্দটি কোথাও বর্ণিত হয়নি। এই নামে কোনো ফেরেশতা আছে বলেও প্রমাণিত নয়। তবে এর স্থানে ‘মালাকুল মাওত’ শব্দটি এসেছে কিন্তু ‘মালাকুল মাওত’ শব্দটিও কোনো নাম নয় বরং একটি বিশেষণ; তথা প্রাণ সংহারকারী ফেরেশতা।

 

৫. মালিক (مالك)

৬. হারূত (هاروت)

৭. মারূত (ماروت)

৮. মুনকার (منكر)

৯. নাকীর (نكير)

১০. রিদওয়ান (رضوان)

লক্ষ-কোটি ফেরেশতা থাকলেও কুরআন-হাদীস দ্বারা ফেরেশতাদের এ কয়টি মাত্র নাম পাওয়া যায়। এর বাইরেও কিছু নাম প্রচলিত রয়েছে, সেগুলো মূলত ফেরেস্তাদের নাম নয় বরং বিশেষণ এবং স্তর, যেমন:

১১. কিরামুন কাতিবূন

১২. রাকীব

১৩. আতীদ

১৪. হামালাতুল আরশ

১৫. হাফাযাহ

১৬. মালাকুল মাওত (আযরাঈল)

 

কোন ফেরেশতার কী দায়িত্ব

১. জিবরাঈল: তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলদের নিকট ওহী নিয়ে আসতেন।

২. মিকাঈল: তিনি কেয়ামতের পূর্বে শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেবেন।

৩. ইসরাফীল: তিনি বৃষ্টি ও উদ্ভিদের দায়িত্বে রয়েছেন।

৪. মালাকুল মউত: তিনি আল্লাহর আদেশে মানুষের প্রাণ সংহার করেন।

৫. মালিক: তিনি জাহান্নামের রক্ষী

৬. রিদওয়ান: তিনি জান্নাতের রক্ষী

৭. মুনকার-নাকীর: তাঁরা কবরে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করবেন।

৮. হামালাতুল আরশ: তারা আল্লাহর আরশ বহন করেন।

৯. কিরামান কাতিবীন: তারা মানুষের ভালো-মন্দ কর্মসমূহ লিখে রাখেন।

১০. মালাকুল যাবাল: এরা পাহাড়ের উপর নিয়োজিত

প্রশ্নোত্তর পর্ব

প্রশ্ন: প্রধান ফেরেশতা কতজন?

উত্তর: প্রধান ফেরেশতা তিনজন।

 

প্রশ্ন: প্রধান চার ফেরেশতার নাম কী?

উত্তর: ১. জিবরাঈল, ২. মিকাইল ৩. ইসরাফীল

উল্লেখ্য: অনেকে আজরাইলকে আলাদা একজন ফেরেশতা মনে করেন; অথচ এই নামে কুরআন-হাদীসে কোনো ফেরেশতার অস্তিত্ব প্রমাণিত নয়। মূলত মৃত্যুর ফেরেশতাকে মালাকুল মাউত বলা হয়; অর্থাৎ প্রাণ সংহারকারী ফেরেশতা।

 

প্রশ্ন: আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের নাম কী?

উত্তর: আরশ বহনকারী মোট আটজন ফেরেশতা রয়েছেন। কেয়ামতের পূর্বে অর্থাৎ বর্তমানে চারজন ফেরেশতা আল্লাহর আরশ বহন করছেন আর কেয়ামতের দিন আটজন ফেরেশতা আল্লাহর আরশ বহন করবেন। [তাফসীরে ইবনে কাছীর: ৭/১৩০] তবে কুরআন-হাদীসে তাদের নির্দিষ্ট কোনও নাম বর্ণিত হয়নি।

 

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ

বাংলা অনুবাদ: যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তাঁর প্রতি ঈমান রাখে…। (সূরাঃ আল-মু’মিন, আয়াতঃ ৭)

অন্যত্র তিনি বলেন,

وَالْمَلَكُ عَلَىٰ أَرْجَائِهَا ۚ وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ

বাংলা অনুবাদ: (কিয়ামতের দিন) ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। (সূরাঃ আল হাক্বক্বাহ, আয়াতঃ ১৭)

 

প্রশ্ন: দুই কাঁধের ফেরেশতার নাম কী?

উত্তর: কুরআন-হাদীসে দুই কাঁধের ফেরেশতাগণের নামও নির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। তবে বিভিন্ন আয়াত ও হাদীস থেকে জানা যায় আল্লাহ তায়ালা বান্দার আমলের হিসাব-নিকাশ লেখার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির দুই কাঁধে দুইজন করে ফেরেশতা নিয়োজিত করে রেখেছেন। ডান কাদের ফেরেশতা তার নেক আমলসমূহ লিখে রাখেন আর বাম কাঁধের ফেরেশতা তার বদ আমলসমূহ লিখে রাখেন। এভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির কাঁধেই দুজন করে ফেরেশতা রয়েছে। তাদেরকে একসাথে “কিরামান কাতিবীন” বলে অর্থাৎ সম্মানিত লেখকবৃন্দ।

 

লিখনে: লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান

Author: লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান

লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান। ঠিকানা: নোয়াখালী। কর্ম: ছাত্র। পড়াশোনা: আল-ইফতা ওয়াল হাদীস [চলমান] প্রতিষ্ঠান: মাদরাসাতু ফায়দ্বিল 'উলূম নোয়াখালী।

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

কবিতা আল কোরআনের প্রতীক আফছানা খানম অথৈ

আল কোরআনের প্রতীক আফছানা খানম অথৈ মা আমেনার গর্ভেতে জন্ম নিলো এক মহামানবের, নাম হলো তার মুহাম্মদ রাসুল আসলো ভবের

ফোরাত নদীতে স্বর্নের পাহাড় আফছানা খানম অথৈ

ফোরাত নদীতে স্বর্নের পাহাড় আফছানা খানম অথৈ ইমাম মাহাদী (আ:) আগমনের পূর্বে ফোরাত নদীর তীরে স্বর্নের পাহাড় ভেসে উঠা কেয়ামতের

কবিতা দাজ্জাল আফছানা খানম অথৈ

দাজ্জাল আফছানা খানম অথৈ কেয়ামতের পূর্বে দাজ্জাল আসবে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে, কাফের মুনাফিক যাবে তার দলে ঈমানদার মুমিন

গল্প হযরত মুহাম্মদ (সা:) জীবনের গল্প আফছানা খানম অথৈ

জন্ম:হযরত মুহাম্মদ (সা:) বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা নগরীর কুরাইশ গোত্রে বনি হাশিম বংশে ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।তার পিতার

Leave a Reply