অভিশপ্ত পুতুল

  • অভিশপ্ত পুতুল
    লেখনীতেঃ শাহরিয়ার আবিদ।

ভাইয়া শোন না, “আমার পুতুলের মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে, আর কি সব যেন বলছে, আমার পুতুলটা ঠিক করে দাওনা ভাইয়া।” সামিরার কথাটা শুনে অবাক হয়ে গেলাম৷
কি বলে? কোনো দুষ্টুমি করছে নাতো আমার সাথে। সামিরাতো কখনো মিথ্যা বলে না৷ সামিরাকে ডেকে বললাম
– আচ্ছা ঠিক আছে তোমার পুতুলটা নিয়ে আসো।

-না ওটা আমি আনতে পারব আমার ভয় লাগে৷ (সামিরা)

-আচ্ছা ঠিক আছে চলত দেখি কি হয়েছে তোমার পুতুলের।

– হুম, চল। (সামিরা)

সামিরার সাথে গেলাম। পুতুলটা তার খাটের উপরে পড়ে আছে। পুতুলটাকে হাত তুলে নিলাম। দেখেতো সব আগের মত ঠিকটাক আছে৷ পুতুলটা আমি তিনমাস আগে সামিরার জন্মদিনে তাকে উপহার দিয়েছিলাম। নাহ পুতুলের কিছু হয়নি, হয়ত সামিরা ভুল দেখেছে।

-কোথায় পুতুল থেকে রক্ত পড়ছে নাতো৷ সব ঠিক আছে দেখো৷ (সামিরাকে দেখালাম)
সামিরাকে দেখাতেই সে পুতুল থেকে দূরে সরে গেল। তার ভয় ভাঙাতে পুতুলটা তার আরো কাছে নিয়ে গেলাম। কিন্তু কাজ হলো না। পুতুলটা ওর অনেক প্রিয়। অবশেষে অনেক কিছু করে সামিয়ার মন থেকে পুতুলটাকে নিয়ে ভয় দূর করালাম।

এভাবে আরো কিছুদিন কেটে যায়। সামিরা আবার আগের মত, পুতুলটাকে আদর করে, তার সাথে খেলা করে।

হঠাৎ একদিন..
সম্ভবত সময়টা দুপুরের ২ টার দিকে হবে৷ তখনি সামিরার চিৎকার করার আওয়াজ শুনতে পেলাম৷ দৌঁড়ে গেলাম তার রুমে।
গিয়ে দেখি ঘরের এককোণে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করেই যাচ্ছে অনবরত। কোথাও তেমন অস্বাভাবিক কিছুই দেখলাম না৷ সামিয়ার কাছে গেলাম।
-কি হয়েছে আপুনি?
কাঁপা কাঁপা হাতে আমাকে পুতুলটাকে দেখাল। পুতুলটা মেঝেতে পড়ে আছে। কোথায় পুতুলের কোনো সমস্যা নেই৷ কিন্তু পুতুলটাকে যতই দেখছে সামিরা ততই চিৎকার করে উঠছে। অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে আমি পুতুলটাকে আমার রুমে নিয়ে এলাম। সামিয়াকে দেখে যা মনে হচ্ছে সে ভিষণ রকমের ভয় পেয়েছে । তাই তাকে আর পুতুল নিয়ে তেমন একটা বেশি ঘাটালাম না।

সামিয়াকে কোলে করে নিয়ে ছাদে চলে গেলাম, তার কাছ থেকে জানতে চাইলাম।
-পুতুলটা তোমাকে কিছু করেছে?
হ্যা সম্মতিশোচক মাথা নেড়ে সাই দিল।
-পুতুলটা তোমাকে কি করে?
কথা বলার পর,, সামিরার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখতে পেলাম। খেয়াল করলাম সে বলতে চাইছে। বারবার মুখ লুকচ্ছে আমার বুকের মাঝে। তার মাথায় বুলিয়ে দিয়ে অভয় দেয়ার চেষ্টা করলাম। তাকে কিছুটা স্বাভাবিক করে তোললাম।
এবার ধীরে ধীরে বলছে,,

-পুতুলটার মুখ থেকে রক্ত পড়ে, আমাকে গলা চিপে ধরে, আবার পায়ের নুপুর পড়ে নাচে, তারপর…(সামিরার বলা বন্ধ হয়ে গেল। একটু একটু করে ঘামতে লাগল। )

কিছুক্ষণ পর আমার কাছ থেকে পানি চাইল। তাকে নিচে নিয়ে এসে পানি খাওয়ালাম৷ তারপর বেলকনিতে নিয়ে গেলাম।
-পুতুলটা বলে আমাকে নাকি সে নিয়ে যাবে। তার সাথে না গেলে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে৷ (সামিরা)

কথাগুলো শোনার পর একটু শিউরে উঠলাম। ওর এখনও বয়স সাত পার হয়নি। আর এ বয়সে ও এমন কিছু কল্পনা করতে পারে না। এ ধরনের কল্পনা করার বয়স হলেওতো এটা তার মনের ভুল তাও ধরে নেয়া যেত। কিন্তু ও যা বলছে সেটা বিশ্বাস করার মত নই, আবার অবিশ্বাস করার মতও নই। কারণ সামিরা এসব ধরনের কথা বানিয়ে বলার মত তার এখনো এমন বয়স হয়নি৷ অন্যদিকে ও যা বলছে তেমন কোনো কার্যক্রম এখনো কিছু হতে দেখিনি৷

সামিরাকে মনথেকে এসব দূর করে, তাকে সাহস
জুগিয়ে পুতুলের কথা ভুলিয়ে ভালিয়ে তার খেলার দিকে আবার মনোযোগ দেওয়াতে চেষ্টা করলাম।

এবার আর পুতুলটা তাকে দিলাম না৷ পুতুলটাকে নিয়ে এতই যখন সমস্যা। তাই পুতুলটাকে বাইরে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিলাম।

ঐদিন আর তেমন কোনো সমস্যা হলো না। কিন্তু সমস্যাটা হলো রাতে।
আমার আবার একটা অভ্যাস প্রতি বুধবার রাতে ঢাকা এফ এম এ জীবন গল্প শুনি। সেদিন বুধবার ছিল আমি জীবন গল্প শুনছিলাম। তখন প্রায় রাত বারোটা বাঝে৷ পানি খেতে ওঠি। তখনি আমার চোখ যায় আমার পড়ার টেবিলের দিকে। আমাকে অবাক করে দিল বিষয়টা। দেখি পুতুলটা আমার পড়ার টেবিলের উপর। আমার নিশ্চিত মনে ছিল আমি পুতুলটাকে ফেলে দিয়েছিলাম। তাহলে এখানে এটা কি করে বুঝতে পারলাম না।

কিন্তু আর এত বেশি না ভেবে পুতুলটাকে ফেলেদিলাম আবার৷ পানি খেয়ে এসে দেখি পুতুলটা আবার আমার পড়ার টেবিলে। এবার আবার ফেলে দিলাম৷ মিনিট পাঁচেকের ভিতরে এটা আবার আগের জায়গায় চলে এল। এবার আমার সত্যি সত্যি রাগ হলো পুতুলটার উপরে৷ পুতুলটাকে নিয়ে মেঝেতে ফেলে কিছুক্ষণ লাতিন মারলাম৷ পুতুলটাকে তুলে একটা আছাড় মারলাম। দেখি মাথাটা দেহ থেকে আলাদা হয়ে গেল৷

আর তখন কেউ একজন হেসে উঠল নারী কন্ঠে। হাসি টার শব্দ ক্রমাগত বেড়েই চলছে এতটা বেশি একটা সময় আমার দুহাতে কানটা চেপে ধরতে হলো। কক্ষের চারপাশে দেখলাম কিন্তু কোথাও কেউ নেই । হাসিটা এমন যে আমার রীতিমতো বুকের কাঁপন বাড়িয়ে দিয়েছি৷ প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম। হাসি থামার কোনো লক্ষ্মণ দেখছি না। তাই অজানা সেই হাসির উৎসের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম।

-কে তুমি? কেন এমন করে হাসো?
-হাসার মত কাজ করলে কি না হেসে পারি।(অশরীরী)
আমার মনে হল হাসির শব্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেল?
আমার পুরো শরীর কাঁপছে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না৷ তাই বসে পরলাম পাশে থাকা একটা চেয়ারে।
-কি চাও তুমি?তুমি কোথায়? তোমাকে দেখি না কেন? (তোতলাতে তোতলাতে প্রশ্নটা করলাম)
-আমি, আমি হলাম অভিশপ্ত পুতুল। আমি তোমার খুব কাছেই আছি। (অশরীরী)
-তুমি খুব কাছে হলে তোমাকে দেখিনা কেন?
-আমি চাই না তুমি আমাকে দেখো। আর তুমি খুব সুন্দর। আমাকে তোমার এই কুৎসিত চেহারা দেখাতে চাই না৷ (অশরীরী)
নিজের প্রশংসা শুনে ভালো লাগল কিন্তু পরের মুহূর্তে ভালো লাগাটা হাওয়া হয়ে গেল এ অভিশপ্ত পুতুল এর কাছ থেকে শুনেছি তাই। বাস্তবে কোনো মেয়ে ফিরে থাকাই না। ভূতুড়ে পুতুলটা বলতেছে আমি বাকি সুন্দর। কে জানে আমার কপালে নাকি সত্যি ভূত জুটে যাই।
.
আবার ঐ ভূতুড়ে পুতুলের ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম।
-আচ্ছা তোমার নাম কি?
-আমার নাম মৌহিনি। (মৌহিনি)
-বাহ সুন্দর নাম। কিন্তু কামটা ভালো না।
-কি?? (মৌহিনি)
-নাহ কিছুই না৷
এখন আর তেমন একটা ভয় লাগছে না। তাই তাকে আরেকটা প্রশ্ন করে বসলাম।
-আচ্ছা আমার ছোট বোন মানে সামিরাকে তুমি ভয় লাগিয়েছ তাই না?
-হ্যা। (মৌহিনি)
– ও তোমার কি ক্ষতি করেছে?
-ও কিছু করেনি। শুধু তোমার কাছে বসার একটা বাহানা ছিল। (মৌহিনি)
-ওও… আচ্ছা তাহলে আমার সাথে তোমার কি কাজ??
-অনেক কাজ। (মৌহিনি)
-কি?? ভূতের সাথে আমার কোনো কাজ নেই।
-আসলে আমি তোমার কাছে একটা সাহায্য চাইতে এসেছি। (মৌহিনি)
– না না, ভূত, প্রেতকে আমি সাহায্য করতে পারব না বাবা। কখন যে আমার ঘাড় মটকে দেয় বইলাতো যায় না। আর আমি ছোট থেকেই ভুত প্রেত অনেক ভয় পাই। না না আমার পক্ষে সম্ভব না।
(সোজাসাপ্টা তাকে না জানিয়ে দিলাম।)
-প্লিজ, আমি খুব বিপদে পড়ে এসেছি এখানে। আর আমি ওয়াদা করছি। আমাকে একটু সাহায্য করলে আমি তোমাকে কোনোদিন জ্বালাবো না।
কখনো আসব না আর কখনো না। (মৌহিনি)
.
মৌহিনি শেষের কথাগুলো বলার সময় বোধহয় সে কাঁদছিল আমার এমন মনে হলো৷ তার কথাগুলো আমার বুকের মধ্যে তীর গাঁথার মত গিয়ে গাঁথল।
অবশেষে জানতে চাইলাম…
-কি সাহায্য লাগবে বল ? কিন্তু একটার বেশি সাহায্য করতে পারব না।
-ঠিক আছে?
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে আমার মৃত দেহটা পড়ে রয়েছে। আমি যে মরে গেছি আর কোথায় আমার মৃত দেহ এ খবরটা আমার বাড়িতে একটু জানিয়ে দিলে হবে।(মৌহিনি)
-তুমি মরে গেছ? কিভাবে মরলে তুমি? আর তোমার মা-বাবা জানে না কেন? কে তোমার মা বাবা?
-আমি সম্ভান্ত্র পরিবারের মেয়ে। আমাদের টাকা পয়সার কোনো অভাব ছিল না। কোনো কিছুর না। আমি যখন যা চেয়েছি তা পাইনি এমন কখনো হয়নি। আমি মজা করার জন্য অনেক ছেলের সাথে প্রেম করেছি। প্রেম করেছি বললে ভুল হবে। শুধু প্রেমের অভিনয় করেছি। অনেক ছেলের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করেছি। একটা আমার জন্য আত্নহত্যাও করে। আমি বিষয়টা তেমন বেশি গুরুত্ব দিইনি। কিছুদিন পর একটা ছেলের প্রেমে পড়ে যাই। সত্যিকারের প্রেমে পড়ে যাই। কোনো একটা সময় গিয়ে ছেলেটার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক হয়ে যায়। আমাদের সম্পর্কে হয়নি এমন কিছু নেই। কিছুদিন আগে আমার বিয়ে ঠিক হয়। তখন আমি আর ছেলেট স্বিদ্ধান্ত নি পালিয়ে বিয়ে করব। তাই বাসাতে যা হাতের কাছে পেয়েছি সব নিয়ে গেছি। বেরিয়ে পড়লাম নতুন জীবনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারিনি৷ আমিও যে শুধু মজা নেয়ার জন্য যেমন প্রেম করেছি। ছেলে টাও আমার সাথে শুধু মজা নেওয়ার জন্যই প্রেম করেছে৷ আমাকে ধোকা দিয়েছে আমি যাকে ভালোবাসি সে সহ সাথে তার কিছু বন্ধু আমার উপর অত্যাচার করেছে, ধর্ষণের শিকার হয়৷ আমার সাথে থাকা সব কিচু নিয়ে তারা কেটে পড়ে। আমি কখনো ভাবতে পারিনি আমার সাথে এমন হবে। আমি আমার পাপের ফল পেয়ে গেছি। খুব ভালো করে বুঝে গেছি। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। মানুষের জীবনটা সুন্দর না। তাই আর কি করব বুঝতে না পেরে, আত্মহত্যা করি৷ (মৌহিনি)
-মিস মৌহিনি, তুমি ভুল বলেছ ” জীবনটা অনেক সুন্দর যদি তা সাজাতে পারো। ”
-হতে পারে, তবে আমি হয়ত সাজাতে পারি নি জীবনটাকে। (মৌহিনি)
-তাই হবে। কিন্তু তুমি সামান্য মজা করার জন্য কত জনের জীবন নষ্ট করেছ বুঝে দেখ। প্রেম করতে, ভালোবাসতে কেউ চাই না তবুও এগুলো মনের অজান্তেই হয়ে যাই।
-আমি তার জন্য অনুতপ্ত, খুব লজ্জিত। (মৌহিনি)
-তুমি কি পারবে তাদের মূল্যবান সময়, তার চেয়ে বেশি আত্নহত্যা করা ছেলেটার জীবন ফিরিয়ে দিতে। আর আত্মহত্যা করে কি লাভ হয়েছে তোমার? আত্মহত্যা করার এত ইচ্ছা থাকলে। এভাবে নিজেকে বিসর্জন না দিয়ে মানব কল্যাণে কিছু করতে।


মৌহিনির কোনো উত্তর পেলাম না। সেদিন রাতে আর ঘুম আসল না। সকালে উঠে তেমন কোনো কাজ ছিল না। তাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে দেখলাম অনেকগুলো লাশ পড়ে আছে। সেখান থেকে তিনদিন আগের কোনো মেয়ের লাশ এসেছে কিনা জানতে চাইলাম? একজন লোক দেখিয়ে দিয়ে গেল৷ নাকে রুমাল চাপা দিয়ে গেলাম। মুখের উপর থেকে ঢেকে রাখা কাপড়টা সরালাম। সত্যি মেয়েটা অনেক সুন্দর। জীবিত থাকলে হয়ত। আমি প্রেমে পড়ে যেতাম। এবার বুঝতে পারছি এত ছেলে কেন এর প্রেমের ফাঁদে পা দিত। মৌহিনি তার সৌন্দর্যকে পুঁজি করেই এত গুলোকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছে। আমি তার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। তখনি কে একজন বলে উঠল…
– কি দেখ এভাবে? (মৌহিনি)
-তোমাকে, অনেক সুন্দর ছিলে তুমি।
তার অভিশপ্ত আত্নাটাকে দেখছি না৷ তখন হয়ত তার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেছিল।
উত্তর পেলাম না কিছুই। তারপর সেকান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। মৌহিনির দেয়া তার বাড়ির ঠিকানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম৷
.
আধঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম৷ সুন্দর একটা দুতলা বাড়ি৷ স্বপ্নের মত সুন্দর একটা বাড়ি। মৌহিনির বাবা বোধহয় অনেক শৌখিন মানুষ। খুব সুন্দর আর দূর্লভ প্রজাতির গাছ, লতা পাতা নিয়ে বাড়িটা সাজানো। বাহ অনেক সুন্দর। দরজার সামনে আসতেই বেল বাজালাম। এক ভদ্রলোক এসে দরজা খুলে কি চাই জানতে চাইল।
বললাম
. এটা মৌহিনির বাড়ি?
. হ্যাঁ, কিন্তু কেন? (ভদ্রলোক)
.আমি তার ব্যাপারে কিছু তথ্য দিতে এসেছি।
আমাকে ভেতরে যেতে দিল। ভিতরে দেখলাম বেশ দামি জিনিস পত্র, বেশ দামি পাথর দিয়ে সাজানো বাড়িটা।
. আপনার পরিচয়? (ভদ্রলোক)
. জ্বি আমি গোয়েন্দা বিভাগ থেকে এসেছি৷ কিন্তু মৌহিনির বাবা কি আপনি?
. হ্যাঁ আমি৷ মৌহিনির কি হয়েছে? (ভদ্রলোক)
. ও আজকে চারদিন ধরে নিখোঁজ তাই তো।
.হ্যাঁ।
.আপনার কথাগুলো কিভাবে নিবেন বলতে পারি না৷ কথাগুলো খুব কঠিন হলেও বাস্তব। মৌহিনি আত্মহত্যা করেছে। সে এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে৷

আমি কথাগুলো শোনার পর বুঝতে পারলাম ভদ্রলোক খুব বড়সড় ধাক্কা খেলেন৷ আমি স্পষ্ট দেখেছি তার চোখের কোণে পানিগুলো চিকচিক করছে। আমি আর বেশিক্ষণ বসলাম না ওখানে বেরিয়ে এলাম। মৌহিনিদের সদর দরজা দিয়ে বের হব এমন সময় কেউ একজন৷ আমাকে বলল

– অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। (মৌহিনি)
পেছনে ফিরে তাকালাম। আরেকবার মুগ্ধ হয়ে দেখলাম তাকে অপরুপা সুন্দরী এক মেয়ে। শাড়ি পড়া। চোখের কোণে পানি মুখে হাসি । অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল তাকে। ধীরে ধীরে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল সে। আমিও চলে এলাম।

এখনো আমার মাথায় একটা কথা ঢুকছে না- এই সুন্দরী মেয়েদের মাথায় কি গোবর থাকে নাকি? সত্যি প্রেম বুঝে না। মিথ্যা প্রেমে মজে ওঠে৷

আমি কনফিউজড….

সমাপ্ত…..

(Visited 13 times, 1 visits today)
0
likeheartlaughterwowsadangry
0

Related Posts

বাস্তব জীবন

একটা মানুষ বেচে থাকার জন্য তার যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন। ঠিক তেমনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু সঠিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমাদের

প্রকৃতি ও বিচার ……

বাবা আজকে আমরা খাইতে পাবো ? খুব খিদা পাইছে বাবা আজকে নিয়া আইসো কিছু। সাইমার মা তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে

Leave a Reply