ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহি এর উপর সাহাবীর শানে বেয়াদবি অভিযোগ ও তার জবাব

play icon Listen to this article
0

ইমাম আবু হানীফা রহ. এর নামে সাহাবীগণের সাথে বেয়াদবির অভিযোগ ও খণ্ডন

 

📒 অভিযোগ: সাহাবীগণের শানে (ইমাম) আবূ হানীফাহ রহ. গোস্তাখী করেছেন।

 

আব্দুল ওয়ারেস বিন সাঈদ বলেন, আমাদেরকে সাঈদ বলেছেন,

 

جَلَسْتُ إِلَى أَبِي حَنِيفَةَ بِمَكَّةَ فَذَكَرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ رَوَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَذَا وَكَذَا، قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: ذَاكَ قَوْلُ الشَّيْطَانِ

 

“আমি মক্কায় আবু হানিফার সাথে বসেছিলাম, যখন সে কিছু উল্লেখ করল, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল: ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – তো এমন এমন বর্ণনা করেছেন।’ (তা শুনে) আবু হানিফা বলল: ‘এটা হচ্ছে শয়তানের বক্তব্য।’” (নাউজুবিল্লাহ্) [আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ: বর্ণনা নং-৪০৩, তারিখে বাগদাদ: ১৫/৫৩৪]

 

📗 জবাব:

 

🧧প্রথম জবাব

 

উক্ত বর্ণনা থেকে মূলত জাল হাদিসের প্রতি ইমাম আবু হানীফা রহ. এর ঘৃণার পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থাৎ ঐ লোকটি উমার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর নামে এমন কথা বর্ণনা করেছে যা তিনি (উমার) কখনোই বলেননি অর্থাৎ তা জাল হাদিস ছিলো। কাজেই তিনি এটাকে শয়তানের মন্তব্য বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যভাবে বলতে গেলে, ঐ হাদীসটি তাঁর দৃষ্টিতে প্রমাণিত ছিলো না। সুতরাং, তাচ্ছিল্য করলেও এর জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। বরং জাল হাদিসকে তাচ্ছিল্য করাটাই ঈমানের দাবি।

 

আর হ্যাঁ, তিনি উমার রা.-কে শয়তান বুঝাননি। বরং জনৈক মাজহূল ব্যক্তির সনদবিহীন দাবীকে শয়তানের বক্তব্য বলেছেন মাত্র! আহলে হাদীসরা তো সনদবিহীন বক্তব্যকে সরাসরি জাল বলে উড়িয়ে দেয়। সুতরাং, আগে নিজের ঘর ঠিক করতে হবে।

 

তাছাড়া কেউ যদি রাসুলের নামে কোনো একটা মিথ্যা কথা বলে অবশ্যই আমরা সেটাকে শয়তানের বক্তব্য বলবো। কারণ, এটা তো মূলত রাসূলের বানীই ছিলো না। তো এখানেও বিষয়টি একই। ঐ লোকটি যে কথাটি বলেছে তা উমার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর বক্তব্যই ছিলোই না। কথাটি হয়তো মিথ্যা নয়তো ভুল ইনফরমেশন ছিলো —যা শয়তান তার মাধ্যমে বানিয়েছে। আর ইমাম আবু হানিফা রহ. বিষয়টি বুঝে গিয়েছিলেন; তাই তিনি শয়তানের বক্তব্য বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

🧧দ্বিতীয় জবাব

 

যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি ইচ্ছে করলে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্য এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর বক্তব্য দু’টোই উল্লেখ করতে পারতেন, তাহলে আমরা বিবেচনা করতে পারতাম যে আসলে কার কথা সঠিক। কিন্তু রাবী তা করেননি। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে এগুলো বানানো কাহিনী। কারণ, রাবীগণ আরো বিস্তারিত তথ্যও বর্ণনা করে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে কেন ইমাম আবু হানিফার বলা মাসআলা এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর বক্তব্য উল্লেখ করা হলো না তা আমাদের বোধগম্য নয়। হতে পারে উভয় বক্তব্য উল্লেখ করলে জালিয়াতি করাটা সম্ভব হতো না।

 

🧧তৃতীয় জবাব

 

যে লোকটি উমার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন সেই লোকটির নাম নেই অর্থাৎ তিনি মাজহূল (অজ্ঞাত ও সাধারণ কোনো লোক)। যদি তিনি প্রসিদ্ধ কেউ হতেন অবশ্যই রাবি তার নাম উল্লেখ করতেন। আর তার নাম উল্লেখ করলে আমরা জানতে পারতাম যে রাবিটি সিকাহ বা গ্রহণযোগ্য কিনা?

 

যেহেতু নাম উল্লেখ করা নেই, সেহেতু আমরা জানতে পারছি না যে রাবী গ্রহণযোগ্য কিনা! খুব সম্ভব ইমাম আবু হানিফা সেই রাবি সম্পর্কে জানতেন যে সে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করতো। তাই তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাছাড়া সে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণনা করার সময় সনদও উল্লেখ করেনি। আর সনদ উল্লেখ না করলে কথা গ্রহণযোগ্য হবে না এটাই স্বাভাবিক।

 

🧧 চতুর্থ জবাব

 

ধরুন, কেউ আমাকে কোনো ধরনের সনদ বা সূত্র ছাড়া বললো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি চার বিয়ে করবে না সে জাহান্নামে যাবে।” এ কথা শুনে আমি যদি বলি “এটা শয়তানের বক্তব্য।” তো এর মানে কি আমি রাসূলের সাথে বেয়াদবি করেছি কিংবা রাসুলের কথাকে শয়তানের বক্তব্য বলেছি?

 

না, বরং আমি এই জাল হাদিসটাকে বা রাসুলের নামে বানানো ‘মিথ্যা কথাটাকে’ই ‘শয়তানের বক্তব্য’ বলেছি। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

 

🧧শেষ কথা

 

ইমাম আবু হানিফাকে কোথাকার কোনো এক অপরিচিত/অজ্ঞাত লোক ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর নামে একটা কথা সনদবিহীন বলে দিলেই তো তিনি মেনে নেবেন না, মেনে নিতে পারেন না, মেনে নেওয়া উচিতও নয়। কেবল ইমাম আবু হানিফা কেন, কেউই মেনে নেবে না।

 

অপর দিকে তিনি যদি ওই লোকের কথা মেনে নিয়ে ফতোয়া দিতেন এতক্ষণে নিশ্চয়ই বিদ্বেষীরা ইমাম আবু হানিফার নামে উল্টো অভিযোগ তুলতো যে তিনি যাচাই-বাছাই করা ছাড়াই কোনো এক অপরিচিত রাবির বর্ণনা গ্রহণ করেছেন; কাজেই এই ফতোয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

 

অতএব, তিনি ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর নামে বানানো ‘জাল হাদিস’কেই ‘শয়তানের বক্তব্য’ বলে অভিহিত করেছেন। এতে সাহাবীর শানে বেয়াদবির কিছুই হয়নি। বরং এভাবে বলাটাই ঈমানের দাবি ছিলো।

 

[ইমাম আবু হানিফার সমালোচনার জবাব সিরিজ]

 

লেখা: লুবাব হাসান সাফওয়ান

 

আরো পড়ুন-


Screenshot 3
বিজ্ঞাপনঃ বই কিনুন, বই পড়ুন

0

লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান

Author: লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান

লুবাব হাসান সাফ‌ওয়ান। ঠিকানা: নোয়াখালী। কর্ম: ছাত্র। পড়াশোনা: আল-ইফতা ওয়াল হাদীস [চলমান] প্রতিষ্ঠান: মাদরাসাতু ফায়দ্বিল 'উলূম নোয়াখালী।

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

আসুন, আমরা পরোপকারী হই

পরোপকার একটি মহৎ গুণ। এটি প্রিয় নবী (সা.) এর সুমহান আদর্শ, খাঁটি মোমিন-মুসলমানের পরিচয়। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আমার

আসুন, আমরা চরিত্রবান হই

আখলাক  আরবি শব্দ। এর অর্থ চরিত্র, অভ্যাস, স্বভাব। চরিত্র ভালো হলে জীবন সুন্দর ও সুখী হয়। মানব জীবনের উত্তম গুণকে

শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার উপায়   পর্ব: ০১ আব্দুল মজিদ মারুফ

আজকের এই পৃথিবী সহ মহাবিশ্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বহু কাল পূর্বে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে তাঁর নিজস্ব
শয়তান কে উপমহাদেশে শয়তানের অনুসারী কারা 15

শয়তান কে? উপমহাদেশে শয়তানের অনুসারী কারা? 

    শয়তান এক অভিশপ্ত নাম যে ছিল ইবলীশ। এই ইবলীশ আল্লাহর আদেশ অমান্য করে ইবলীশ থেকে শয়তানে পরিনত হয়েছিল।

Leave a Reply