লাল কোলবালিশ

1

এক ছেলে আর এক মেয়ে। একে অপরকে খুব ভালোবাসে। একদিন ছেলেটি গেল মেয়েটির বাড়ি, মেয়েটির সঙ্গে দেখা করবে বলে। বাড়ি গিয়ে ছেলেটির মনটি খুব খারাপ হলো, কারণ ছেলেটি দেখল যে মেয়েটির একটি (নীল) কোলবালিশ আছে, কিন্তু ছেলেটির কোনো কোলবালিশ নেই। তাই ছেলেটি মেয়েটিকে তার মনের কথা বলে দিলো: তার একটি টুকটুকে লাল কোলবালিশ চাই। মেয়েটি তার কথায় রাজি হয়ে গেল। বললো বিয়ের পর মেয়েটি সেই টুকটুকে লাল কোলবালিশ তৈরী করে দেবে। কিন্তু ছেলেটির বা মেয়েটির-কারোর তর সইল না। তাই মেয়েটি সেদিন থেকেই কোলবালিশ বানানো শুরু করে দিলো। আহা, শিমুল তুলার টুকটুকে লাল কোলবালিশ, কার না ভালো লাগে।

অবশেষে ছেলেটির আর মেয়েটির-দুজনেরই বিয়ের দিন চলে এলো। মেয়েটি তার মালামালের সঙ্গে কোলবালিশটিও ব্যাগে উঠিয়ে ফেলল। বাসররাতে মেয়েটি যখন তার ব্যাগ থেকে কোলবালিশটা বের করল, ছেলেটি কিছুতেই তা মেনে নিতে পারল না। ছেলেটি চেয়েছিল লাল কোলবালিশ, আর এ তো গাঢ় গোলাপি কোলবালিশ। তাই ছেলেটি বললো এই কোলবালিশ তার চাই না, সে কোলবালিশ ছাড়াই থাকবে, আর মেয়েটির সাথেও কথা বলবে না। মেয়েটি ছেলেটিকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলো, এটি লাল কোলবালিশ, গোলাপি কভার দিয়ে আবৃত। কিন্তু ছেলেটি কিছুতেই এটি বুঝতে রাজি হলো না। এভাবেই রাত শেষ হয় হয় অবস্থা। এর কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে আজানের শব্দ এলো এবং ছেলেটি ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। বেশ কিছু সময় পর ছেলেটি বাড়ি ফিরে নিজের ভুল স্বীকার করল। বললো যে এই কোলবালিশের ওপর দুজনেরই অধিকার আছে। কিন্তু মেয়েটি এ কথায় রাজি হয়নি। সে বলেছে যে ছেলেটির এই কোলবালিশের ওপর কোনো অধিকার নেই। এরপর ছেলেটি নানাভাবে মেয়েটিকে বোঝানোর চেষ্টা করলো যে তার ভুল হয়ে গেছে এবং এমনটি আর কখনো হবে না। কোনো কোনো রাতে ছেলেটি শুয়ে শুয়ে কাঁদত, ঘুমাতো না। কিন্তু এত কিছু করার পরও মেয়েটির মন গলেনি।

অবশেষে একদিন বাইরে থেকে সেই একই শব্দ আসার পর ছেলেটি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল, আর ফিরল না।
কিছুদিন পর জানা গেল, সেই ছেলেটি ‘মরে গেছে’। তখন মেয়েটি খুব কাঁদতে লাগলো এবং এই সবকিছুর জন্য নিজেকে দায়ী করতে লাগলো। মেয়েটি সারাদিন ঠিকমতো কিছুই করতে পারলো না। রাতেও মেয়েটি নিজের বুকে কোলবালিশ আঁকড়ে ঘুমাতে পারেনি।

পরদিন সকালে জানা গেল, ছেলেটি মরেনি। ছেলেটি মেয়েটির কাছে ফিরে এলো, এবং দুজনেই নিজেদের ভুল স্বীকার করলো। মেয়েটি বললো, আজ থেকে কোলবালিশের ওপর ছেলেটির অধিকার নেই। ছেলেটি বললো, কোলবালিশের ওপর তার অধিকার না থাকলেও মেয়েটির ওপর তার অধিকার আছে। এই বলে ছেলেটি মেয়েটিকে চুমু দিলো এবং তাকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটি হাসলো, এবং বললো যে আজ থেকে কোলবালিশের ওপর দুজনেরই অধিকার আছে। ছেলেটি বললো যে মেয়েটির লাল কোলে লাল কোলবালিশটি আরো ভাশো মানাবে (ঘটনাচক্রে সেদিন মেয়েটি লাল শাড়ি পরেছিল, এবং কোলবালিশের আবরণও ছিল না)। এরপর থেকে ছেলেটি মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতো, এবং সকল খুনসুটির সময় কোলবালিশ তাদের দুজনের কোল দখল করে রাখতো। এভাবেই শুরু হলো এই দম্পতির নতুন জীবন।

1

rezwan noor

Author: rezwan noor

Related Posts

লেখক ডট মি এর নতুন লেখা

লাইকা 😭tragedy 😭

.                                            #লা_ই_কা রাফিয়া নূর পূর্বিতা ++++...............☺️☺️..................+++ #লাইকাপর্ব১-আড্ডা পর্ব ©Rafia Noor Purbita #WriterRafiaNoorPurbita সন্ধ্যার নীড়,উড়ে যাচ্ছে বিষাদের প্রজাপতি,কখনো বা মন খারাপের
লেখালেখি

ছোট গল্প লেখার ৮ টি নিয়ম

শিক্ষণীয় বা, উপভোগ্য কোন ক্ষুদে গল্প, অণুগল্প বা, ছোট গল্প লেখার ক্ষেত্রে এই আটটি নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন। আমরা এই
বিড়ালের কান্না

ছোট গল্প- বিড়ালের কান্না

বিড়ালের কান্না আর্নেস্ট হেমিংওয়ে   হোটেলে দুজন আমেরিকান দম্পতি এলেন। এখানে এসে তারা পরিচিত কাউকে দেখতে পেলো না ।দুই তলায়

Leave a Reply