সুন্নি কারা উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী

সুন্নি কারা? উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী

0

সুন্নি হচ্ছে ইসলামের মধ্যে সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দল। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশের সুন্নিরা হলো সুফিবাদী সুন্নি। সুন্নি অর্থ রাসুলের সুন্নাতের অনুসারী হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা কুরআন হাদিসের অনুসারী নয়। তাই আমাদের জানা উচিত আমাদের উপমহাদেশের সুন্নিরা কারা এবং তাদের আকিদা কী।

সুন্নি কারা

সুন্নি শব্দটি ইসলামে প্রবেশ করেছে মূলত শিয়াদের বিরোধিতা করার জন্য। শিয়া সম্প্রদায় হচ্ছে যারা নিজেদের মুসলিম দাবি করে। কিন্তু বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায় শিয়াদের মুসলিম বলে স্বীকৃতি দেয় না। তাই যখনই শিয়ারা নতুন তত্ত্ব নিয়ে নিজেদের মুসলিম দাবি করে ইসলামের অন্তর্ভূক্ত হতে চেয়েছে। তখনই মুসলমানরা নিজেদের তাদের থেকে আলাদা করার জন্য সুন্নি পরিচয় ধারণ করে। সুন্নি অর্থ হলো যারা রাসূলের এবং তাঁর সাহাবীদের সুন্নাহর অনুসারী। 

সুন্নি কারা? উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী
শিয়ারা কারবালাকে কেন্দ্র করে দ্বীন পালন করে।

উপমহাদেশে সুন্নি কারা

আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সুন্নিদের পরিচয় একরকম হলেও, আমাদের উপমহাদেশে সুন্নিদের পরিচয় আলাদা। কেননা আমাদের উপমহাদেশে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। তাই এখানে সবাই সুন্নি মুসলমান। কিন্তু এইসব সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে আবার দুটি ধারা বিদ্যমান।

শিয়া বিরোধী সুন্নি মুসলমানদের একদল নিজেদের সুন্নি দাবি করে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত” নামকরণ করেছেন। আর বাকি সুন্নিদের তারা নাম দিয়েছেন “ওহাবী।” যারা নিজেদের সুন্নি রেখে বাকিদের ওহাবী বানিয়েছন তারা একটি হাদিসের আলোকে নিজেদের “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত” দাবি করেন।

প্রসিদ্ধ ঐ হাদিসে এসেছে, রাসুল সাঃ এর উম্মতের মধ্যে ৭৩টি দল হবে। তবে সেখান থেকে একদলই জান্নাতী হবে। তখন প্রশ্ন করা হলো, ঐ একদল কারা? তখন বলা হল, ঐ একদল হলো – যারা রাসূল সাঃ এবং তাঁর সাহাবীদের সুন্নাহর অনুসরণ করবে তারা। অর্থাৎ যারাই রাসূল এবং সাহাবীদের অনুসরণে চলবে তারাই হবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। তথা জান্নাতের অধিকারী।

এই একই হাদিসের উপর ভিত্তি করে সুন্নিরা শিয়াদের বিরোধিতা করে। আবার উপমহাদেশের একটি দল পুরো সুন্নিদের দুই ভাগ করে নিজেদের সুন্নি দাবি করে। আর তারা হলো “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।” কিন্তু এরা নিজেদের সুন্নি দাবি করলেও তাদের ঈমান, আকিদা, আমল, ইবাদতে সুন্নাতের কোনো নিশানা নেই।

তারা সুন্নি নাম দিয়ে মূলত পীর অলি আউলিয়াদের পূজা করে। এই কারণে তারা সুন্নি নাম ধারণ করলেও তাদের সাথে রাসূল এবং তাঁর সাহাবীদের কোনো সুন্নাহর সাদৃশ্য নেই। এই কারণে তাদের বলা হয় সুফিবাদী সুন্নি কিংবা সুফি সুন্নি। আর এইসব মাজার পূজারীরাই হচ্ছে উপমহাদেশের সুন্নি।

সুন্নিদের আকিদা সমূহ 

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি সুন্নি কারা কাদের সুন্নি বলা হয় এবং কেন বলা হয়। একইসাথে আমরা জানলাম উপমহাদেশে সুন্নি কারা কেন তারা নিজেদের সুন্নি পরিচয় দেয় ইত্যাদি। এখন আমরা জানব সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী? কেন তারা ইসলামের মূল আকিদায় নেই। তারা এমন কী কী বিশ্বাস করে যে তারা সুন্নি নয় বরং ইসলাম থেকেই খারিজ হয়ে যায়। নিম্নে ইসলামের  বিভিন্ন মূলনীতি সম্পর্কে সুন্নিদের আকিদা কী তা দেওয়া হল। 

 

সুফি সুন্নিদের আল্লাহ সম্পর্কিত আকিদা

ইসলামে কুরআন এবং হাদিসের আলোকে আমরা আল্লাহর বিভিন্ন গুণ সম্পর্কে জানতে পারি। কিন্তু সুফি সুন্নিরা সেইসব গুণের পাশাপাশি আরও নানান রকম গুণে আল্লাহকে গুণান্বিত করে। 

অহেদাতুল অজুদ বা সর্বেশ্বরবাদ

সুফি সুন্নিদের  আকিদা হচ্ছে সবকিছুর মধ্যেই আল্লাহর অস্তিত্ব বিদ্যমান। অর্থাৎ  পৃথিবীর যাবতীয় জড় ও জীব বস্তু যেমন  গাছপালা, জীবজন্তু,  শিয়াল, কুকুর, পাথর, মূর্তি ইত্যাদি সবকিছুতেই আল্লাহ নিজে রয়েছেন।  যা একটি গ্রীক এবং সনাতন হিন্দু ধর্মের আকিদা। 

এদের মূল কথা হলো, পৃথিবীর যাবতীয় অস্তিত্বের মধ্যেই আল্লাহর অস্তিত্ব বিদ্যমান।

আল্লাহ নিরাকার

সুফি সুন্নিরা মনে করে মহান আল্লাহ‌ নিরাকার। অর্থাৎ আল্লাহর অস্তিত্ব আছে কিন্তু তার কোনো আকার নেই। তাঁর কোনো আকার (হাত, পা, চোখ ইত্যাদি) কল্পনা করা বান্দার জন্য শোভনীয় নয়।

হুলূল বা অনুপ্রবেশবাদ

সুফি সুন্নিদের আকিদা হলো, বান্দার মধ্যে আল্লাহ প্রবেশ করে। অর্থাৎ একজন বান্দা যখন আল্লাহর প্রেমে এতই মশগুল হয়ে যায়, তখন তার প্রেমের কারণে আল্লাহ স্বয়ং ঐ বান্দার মধ্যে প্রবেশ করে। আর তখন আল্লাহ এবং বান্দা একাকার হয়ে যায়। এই আকিদার লালনকারী হচ্ছে গ্রীক পারস্যরা।

আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান

সুফিবাদী সুন্নিরা আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী। অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বত্রই  আল্লাহ‌র শারীরিক অবস্থান বিদ্যমান। সোজা কথায়  পৃথিবীর এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আল্লাহ স্বশরীরে উপস্থিত নেই। এই আকিদা মূলত সনাতনী হিন্দুদের আকিদা।

দুনিয়াতে আল্লাহ‌কে দেখা

সুফি সুন্নিদের গুরুত্বপূর্ণ আকিদা হলো এই  দুনিয়াতে বসেই আল্লাহকে দেখা সম্ভব। এই জন্য একজন মুরিদ বা ভক্ত তার পীরের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। পীর তাকে এমন শিক্ষা দেয় যে, ঐ মুরিদের বাকিবিল্লাহ অর্জন হয়।

আর যখন মুরিদ দিওয়ানা হয়ে বাকিবিল্লাহ স্তরে পৌঁছে যায় তখন তার অন্তর চক্ষু খুলে যায়। এইসময় সে আরশ, কুরছি, লৌহ, কলব, সাত আসমান, জমিন সবকিছুই দেখতে পায়। এইসবের সাথে সাথে সে আল্লাহকেও দেখতে পায়। 

ফানাফিল্লাহ

ফানাফিল্লাহ বা আল্লাহর মধ্যে বিলীন হওয়া সুফি সুন্নিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকিদা। তাদের মতে একজন বান্দা যখন আল্লাহ‌র প্রেমে মত্ত হয়ে যায় তখন সে একসময় আল্লাহ‌র মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। আর এটাকে বলা হয় ফানাফিল্লাহ।

বাকিবিল্লাহ

বান্দা আল্লাহর প্রেমে মত্ত হয়ে ফানাফিল্লাহ অর্জন করে। এই অর্জন যখন স্থায়ী হয়ে যায় অর্থাৎ একজন বান্দা আল্লাহর প্রেমে মত্ত হয়ে যখন আল্লাহ‌র সাথে স্থায়ীভাবে বসবাস করে তখন তাকে বলা হয় বাকিবিল্লাহ। এই পর্যায়ে বান্দা আর আল্লাহর মধ্যে কোনো ফারাক বা পার্থক্য থাকে না। স্রষ্টা এবং সৃষ্টি একে অপরের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। যেমন পানিতে চিনি মেশালে পানি এবং চিনি আর আলাদা করা যায় না। ঠিক তেমনি বান্দাও আল্লাহর সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। আর যখন বান্দা বাকিবিল্লাহ অর্জন করে তখন তার আমলের প্রয়োজন হয়না।

মুমিনের কলব আল্লাহ‌র আরশ

সুফি সুন্নিরা আকিদা হলো প্রতিটি মুমিনের অন্তরে আল্লাহর অবস্থান রয়েছে। আর তাই যে ঠিকমতো পীরের নির্দেশ মেনে তার অন্তরে আল্লাহকে জায়গা দিতে পেরেছে, সে ই আল্লাহঅলা হয়ে গেছে। এই ভিত্তিতে তাদের আকিদা হলো যত কল্লা (মানুষ) তত আল্লাহ। আর তাই মুমিনের অন্তরে আল্লাহ থাকার কারণে পীরকে তারা  সিজদা করে।

মাধ্যম দিয়ে আল্লাহ পাওয়া

সুফি সুন্নিরা মনে করে আল্লাহকে সরাসরি পাওয়া যায় না। তাই তারা সরাসরি আল্লাহকে না ডেকে বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা আল্লাহকে ডাকে। কেননা মাধ্যম ছাড়া ডাকলে তিনি সাড়া দেন না। তাই তাঁর প্রিয় কাউকে দিয়ে, তাকে মাধ্যম বা মধ্যস্তাকারী মেনে আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ দ্রুত সাড়া দেন। আর এই কারণে সুন্নিরা তাদের পীর অলি আউলিয়াদের মাধ্যম করে আল্লাহ‌কে ডাকে। যাতে এইসব অলি আউলিয়াদের উছিলায় বা মাধ্যমে তারা তাদের যাবতীয় কাজ আল্লাহ থেকে হাসিল করতে পারে।

রাসুল ও পীর আউলিয়াদের নিয়ে সুফিদের আকিদা সমূহ

আল্লাহ রাসুল একাকার

সুফি সুন্নিরা বিশ্বাস করে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই,  শুধুমাত্র একটি “মীম” ছাড়া। তাদের বিশ্বাস যে, আহমদ তথা রাসুল আহাদ মানে আল্লাহ। এখন আহমদের “মীম ” সরিয়ে নিয়ে নিলে হয়ে যায় আহাদ। 

সুতরাং আল্লাহ এবং রাসুল এক। আর তাই আল্লাহর যেসব ক্ষমতা বা গুণাবলী রয়েছে তার সবই রাসুলের মধ্যেও আছে। যেমন, রাসুল আল্লাহর নিজস্ব জাতি নূরের তৈরি। অর্থাৎ আল্লাহর শরীর যে নূরের ঠিক সেই নূর থেকেই আল্লাহ তাঁর রাসুল সাঃ কে সৃষ্টি করেছেন।

একইসাথে তিনি হাজির নাজির। অর্থাৎ রাসুল যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় উপস্থিত হতে পারেন। তিনি গায়েব জানেন। অর্থাৎ রাসুল এই সৃষ্টিজগতের সকল গায়েবের খবর রাখেন যতটুকু আল্লাহর রয়েছে।   

শুধু তাইনয় রাসুল সাঃ যেকোনো (জীবিত এবং মৃত) অবস্থায় তাঁর উম্মতের ভালো মন্দ করতে পারেন ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের বিশ্বাস যে, আল্লাহ নিজেই রাসুলের মধ্য  দিয়ে দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছেন। আর রাসুল সাঃ হাজির নাজির হওয়ার কারণে  তাদের মাহফিল গুলোতে রাসুল সাঃ নিজে উপস্থিত হন। তাই সুন্নিরা দাঁড়িয়ে রাসুল সাঃকে সালাম পেশ করেন। তিনি তাদের সালাম নেন এবং জবাব দেন ইত্যাদি। 

রাসুল আল্লাহ‌র জাতি নূরের তৈরি

সুফি সুন্নিরা বিশ্বাস করে আল্লাহ তাঁর নিজের শরীরের নূর থেকে রাসুল সাঃকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাই রাসুল হচ্ছেন নূরের তৈরি। 

রাসুলুল্লাহসহ সকল অলি আউলিয়ারা জীবিত

সুন্নিদের আকিদা হলো রাসুল সাঃ এবং তাদের যত অলি আউলিয়ারা আছেন, তারা সকলেই জীবিত মানুষের মতোই কবরে জীবিত। অর্থাৎ একজন সাধারণ মানুষ দুনিয়ায় যেভাবে রয়েছেন। ঠিক একইভাবেই রাসুল ও তাদের অলিরা কবরে জীবিত অবস্থায় আছেন। এক্ষেত্রে ইসলামী আকিদা হলো রাসুল সাঃ কবরে জীবিত আছেন। এবং তা কখনোই একজন জীবিত মানুষের রূপে নয়। আর অলি আউলিয়ারাও কখ‌নো কবরে জীবিত নয়।

পীরেরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত

সুফি সুন্নিদের আকিদা হলো, আল্লাহর বিভিন্ন গুণ সমূহ তিনি তার অলি আউলিয়াদের মাঝে ভাগ করে দিয়েছেন। তাই এইসব পীর অলি আউলিয়ারা আল্লাহর মতোই পৃথিবীর সব জায়গায় হাজির নাজির থাকতে পারেন। একইভাবে তারা গায়েবের খবরও জানেন। আর তাই তারা তাদের ভক্ত মুরিদদের নানান সাহায্য সহযোগিতা করেন।

আল্লাহর গুণাবলী থাকার কারণে তারা তাদের ভক্ত মুরিদদের যেকোনো বিপদে আপদে ভালো মন্দ করতে পারেন এবং যাদের সন্তান নেই তাদের সন্তান দেওয়ার ক্ষমতাও রাখেন। যেকোনো পীর অলি আউলিয়ারা জীবিত মৃত উভয় অবস্থাতেই  তাদের ভক্তদের ফরিয়াদ আর্জি শুনেন এবং সেইমতো তাদের সাহায্য সহযোগিতা করেন।  

একইসাথে তারা ইসলামী শরিয়তের বাইরেও  বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইবাদত আমল বা শরীয়তের বিভিন্ন হুকুম আহকাম তৈরি করে  এবং ভক্তদের তা মানার ও পালনের নির্দেশ দেন।

হিদায়েতের মালিক পীর

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, হেদায়েতের মালিক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ। আর সুফিবাদী সুন্নিদের আকিদা হলো হেদায়েতের মালিক হচ্ছে পীর। আর তাই যেকোনো মুসলমানকে হেদায়েত পেতে হলে অবশ্যই একজন পীর ধরতে হবে এবং তার মুরিদ হতে হবে। পীরের মুরিদ হওয়া ছাড়া কখ‌নোই হিদায়াত পাওয়া যায় না। যা একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। পবিত্র কুরআনের আলোকে হেদায়েতের অন্যতম মাধ্যম হলো কুরআন।

পীর আউলিয়ারা সুপারিশকারী

ইসলামের আকিদা হলো আল্লাহর কাছে যারা প্রিয় তারা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে কিয়ামতের মাঠে বিভিন্ন কারণে গুনাহগার বান্দাদের পক্ষে সুপারিশ করতে পারবে। এক্ষেত্রে শর্ত হবে যে, যারা সুপারিশ করবেন তারা আল্লাহর প্রিয় এবং অনুমতি প্রাপ্ত হতে হবে। 

একইসাথে যার জন্য সুপারিশ করা হবে তার ঈমান থাকতে হবে এবং সেও আল্লাহর অনুমতি প্রাপ্ত হতে হবে। কোনো প্রকার শর্ত ছাড়া নিঃশর্ত ভাবে কেউ কারো জন্য সুপারিশ পাবে না এবং সুপারিশ করতেও পারবে না। সুতরাং সুপারিশের ব্যাপারটি এতো সহজ বিষয় নয় যে, যে কেউ যাকে যাতে সুপারিশ করতে পারবে।

কিন্তু সুফি সুন্নিদের আকিদা হচ্ছে সুপারিশের বিষয়টি একেবারেই যেন পানি ভাত। তাদের বিশ্বাস হলো, তাদের কথিত যত পীর অলি আউলিয়া আছেন, তারা সকলেই তাদের যেকোনো ভক্ত মুরিদদের কিয়ামতের মাঠে পার করিয়ে দিবেন। এতে তাদের ভক্ত মুরিদরা যতই পাপ করুক কিভাবে ঈমান আকিদাও ঠিক না থাকুক। অথচ তাদের এই আকিদা সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। কেননা সুফি সুন্নিরা হলো পথভ্রষ্ট।

অলি আউলিয়ারা বিপদে উদ্ধারকারী

সুফি সুন্নিদের বিশ্বাস, যেকোনো বিপদে আপদে তাদের পীর অলি আউলিয়ারা তাদেরকে উদ্ধার করতে পারেন এবং করেন। তাই তারা যেকোনো বিপদে পড়লেই তাদের পীর অলি আউলিয়াদের নাম ধরে সাহায্য প্রার্থনা করে।  যা একটি সুস্পষ্ট শিরকি আকিদা। 

মুরিদের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নেন

সুফি সুন্নিদের এবং যারা সুফিবাদী সুন্নি রয়েছে তাদের আকিদা হলো যেকোনো মুরিদ, ভক্ত বা তাদের অনুসারী যত গুনাহই করুক না কেন একজন পীর বা অলি আউলিয়া জীবিত মৃত যেকোনো অবস্থায় ঐ মুরিদ বা ভক্তের সকল গুনাহ আল্লাহ থেকে ক্ষমা করিয়ে নিতে পারেন। আর এই কারণে তাদের যেকোনো অনুসারী পীর বা অলি আউলিয়ার দরবারে গিয়ে তাদের উছিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে মাপ চাইলে আল্লাহ থেকে ক্ষমা পেয়ে যান। 

ফানা ফিস শায়খ

হেদায়েত পেতে হলে আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে কুরআন পড়া এবং জানা। আর সুফিবাদী সুন্নিদের আকিদা হচ্ছে হেদায়েতের জন্য পীরের কাছে ফানা হতে হবে। আর এই ফানা মানে হলো, পীরের সম্পূর্ণ অনুগত হওয়া। অর্থাৎ ভক্ত, মুরিদ কিংবা অনুসারীদের পীরের কাছে এমন অনুগত হতে হবে যে, পীর যা বলে বা পীর যা যা আদেশ নির্দেশ দেয় তা ই মুরিদের জন্য অবশ্যই পালনীয়। 

এমনকি পীর শরীয়তের বিপরীত কিছু করতে বললেও তা মুরিদকে বাধ্যতামূলক পালন করতে হবে। আর এভাবেই মুরিদকে তার পীরের আদেশ নির্দেশ নিঃশর্তভাবে মেনে চলার নামকে  বলা হয় ফানা ফিস শায়খ। অর্থাৎ পীরের কাছে বিলীন হওয়া।

 

সুন্নি কারা? উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী
পীরের হাতে বাইয়াত হওয়া সুন্নিদের একটি অপরিহার্য আকিদা

পীরেরা কাশফ এবং কারামতের অধিকারী 

সুন্নিদের বিশ্বাস হচ্ছে তাদের গুরু, পীর, অলি, আউলিয়ারা নিজেদের  ইচ্ছামত কাশফ, কারামত ইত্যাদি দেখতে এবং দেখাতে পারেন। আল্লাহ তাদের এমন অন্তদৃষ্টি দিয়েছেন যে তারা চাইলেই নিজের  ইচ্ছামতো আল্লাহর আরশ কুর্ছি ইত্যাদিতে পরিভ্রমন করতে পারেন। একইসাথে এইসব ক্ষমতার মাধ্যমে তারা তাদের ভক্ত মুরিদের যেকোনো আশা আকাঙ্ক্ষা জরুরত  পূরণ করতে পারেন। 

অলি আউলিয়াদের সংসদ

সুফি সুন্নিদের বিশ্বাস হলো, এই বিশ্বজাহান আল্লাহ এককভাবে পরিচালনা করেন না। তিনি তাঁর কাজকর্মকে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন লোক নিয়োগ করেন। আর এইসব  লোক গুলো হলো আল্লাহ কিছু খাছ বান্দা। যাদের দিয়ে তিনি একটি কেবিনেট গঠন করেন। আর তারাই পৃথিবীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সেই পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা মোট ৪৪১ জন। যেখানে রয়েছেন নাজীব, নাক্কীব, আবদাল, আওতাদ, কুতুব, গাউসুল আজম ইত্যাদি। তারা আল্লাহর পরামর্শে মানুষের বিপদ আপদ দূর করেন। একইসাথে সৃষ্টজীবের হায়াত, রুযী, বৃষ্টি, বৃক্ষ জন্মানো ও মুছীবত বিদূরণের কাজ সম্পাদন করেন।

বংশপরস্পরায় পীর, অলি, আউলিয়া

সুফিবাদী সুন্নিদের আকিদা হচ্ছে, তাদের পীর অলি আউলিয়ারা বংশপরস্পরায় পীর অলি আউলিয়া হয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে তাদের ঈমান আমলের কোনো প্রয়োজন কিংবা ধার তারা ধারে না। পীরের ছেলে পীর হবে অলি ছেলে অলি হবে এটাই তাদের কাছে স্বাভাবিক এবং এটাই তাদের বিশ্বাস।

ফিরাসাত

ফিরাসাতের সহজ অর্থ হচ্ছে অন্তর্দৃষ্টি। এটা একটা অলৌকিক গুণ। এই গুণের মাধ্যমে সুফি সুন্নিদের যেকোনো পীর অলি আউলিয়ারা তাদের ভক্ত মুরিদদু অন্তরের খবর জানতে পারেন। আর ক্ষমতা দ্বারা যেকোনো পীর তার মুরিদকে দেখেই অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন। 

তাওয়াজ্জু

তাওয়াজ্জুর অর্থ হলো নিক্ষেপ করা। সুফি সুন্নিদের বিশ্বাস হচ্ছে, তাদের পীরেরা ভক্ত মুরিদদের অন্তরে তাওয়াজ্জু দিয়ে থাকেন। এরফলে ঐ মুরিদ যত বড় পাপীই হোক না কেন, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। আর এভাবেই পীরেরা তাদের মুরিদদের তাওয়াজ্জু দিয়ে পাপ মুক্ত করেন। যা রাসুল সাঃ ও করেননি। অথচ এই ক্ষমতা যদি রাসুলের থাকত তাহলে তিনি তাঁর চাচাকে এই তাওয়াজ্জু দিয়ে পাপ মুক্ত করে ঈমানদার বানিয়ে দিতেন। সুতরাং এইসব ভ্রান্ত আকিদা ছাড়া কিছুই নয়।

ঈমান সম্পর্কিত আকিদা

সুফিদের ঈমান নষ্ট হয়না

সুফি সুন্নিদের বিশ্বাস হলো যদি কেউ একবার ঈমান আনে। তাহলে তার ঈমান আর কখনোই নষ্ট কিংবা ভঙ্গ হবে না। যতক্ষণ না সে নিজেকে মুরতাদ কিংবা নাস্তিক ঘোষণা না করে। কেননা তাদের ঈমানের সাথে আমলের সম্পর্ক নাই।

যেকারণে তারা হাজারো শিরক বিদআত করলেও তাদের ঈমান নষ্ট হয়না। 

ঈমানের হ্রাস বৃদ্ধি নেই

সুফি সুন্নিদের আকিদা হচ্ছে, যেকোনো মানুষ একবার ঈমান আনলেই তার ঈমান আর নষ্ট কিংবা কম বেশী হয় না। আর তাই মুখে ও অন্তরে ঈমান এনে আর আমল না করলে কোনো সমস্যা নাই। অর্থাৎ তাদের হিসাবে ঈমান একবার আনলে তার সাথে আমলের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং আমল ছাড়াই যেকোনো ঈমানদার একদিন না একদিন জান্নাতে চলে যাবেন। 

আর এইসব ঈমানদারদের জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের পীর অলি আউলিয়ারাই যথেষ্ট। শুধু তাইনয় তাদের ঈমান এমন মজবুদ যে হাজারো শিরক বিদআত করার পরও তাদের ঈমান নষ্ট হয় না। এইজন্যই সুফি সুন্নিরা বলে,  “নামাজ পড়ি না তো কী হয়েছে? আমার ঈমান তো ঠিক আছে! অথচ রাসুল সাঃ বলেন, যে নামাজ বা সালাত আদায় করে না, তার সাথে কাফেরের সাদৃশ্য। কাফির আর ঈমানদারের পার্থক্য হলো সালাত। 

কুরআন সম্পর্কিত আকিদা

পবিত্র কুরআন নব্বই পারা

আল্লাহ পবিত্র কুরআনকে ত্রিশ পারা হিসাবে নাযিল করেছেন। কিন্তু সুফি সুন্নিদের বিশ্বাস হচ্ছে পবিত্র কুরআন নব্বই পারা। সাধারণ মানুষের কাছে ত্রিশ পারা কুরআনের জ্ঞান আছে। কিন্তু সুফিদের পীর অলি আউলিয়াদের কাছে রয়েছে আরও ষাট পারা কুরআনের জ্ঞান। যাকে বলা হয় বাতেনী ইলম।

এই কারণে সুফি সুন্নিরা পবিত্র কুরআনের অনেক কিছুই মানে না। তাদেরকে পবিত্র কুরআন থেকে দলিল কিংবা রেফারেন্স দিলে তারা তা মানে না। কিংবা তাদের বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে এইসব বাতেনী ইলম তোমাদের কুরআনে নেই। আমরা আমাদের বাতেনী ইলম থেকেই জ্ঞান অর্জন করে এইসব পালন করি। আর তাই তারা ত্বরিকত হাকিকত মারফত ইত্যাদি নানান শব্দ এবং জ্ঞানের চর্চা করে। যা পবিত্র কুরআন হাদিসের কোথাও পাওয়া যায় না। 

কুরআনের জাহেরী ও বাতেনী জ্ঞান 

সুফিবাদী সুন্নিদের আকিদা হলো আল্লাহর রয়েছে দুই ধরনের জ্ঞান। যরা একটি হচ্ছে জাহেরী জ্ঞান বা প্রকাশ্য জ্ঞান। আরেকটি হচ্ছে বাতেনী জ্ঞান বা অপ্রকাশ্য  জ্ঞান। আল্লাহ তার পবিত্র কুরআনে দিয়েছেন জাহেরী জ্ঞান বা প্রকাশ্য জ্ঞান। তাই  যেসব মানুষ শুধু কুরআন পড়ে জ্ঞান লাভ করে, তারা শুধু জাহেরী জ্ঞান বা প্রকাশ্য জ্ঞান লাভ করে।

কিন্তু যারা সুফি সুন্নিদের অনুসরণ করে পীর অলি আউলিয়াদের উছিলা ধরে জ্ঞান আহরণ করে। তথা পীর মুরিদী ধরে জ্ঞানার্জন করে, তারা আল্লাহর অপ্রকাশ্য জ্ঞান বা বাতেনী জ্ঞান লাভ করে। আর এই দুনিয়ায় বাতেনী জ্ঞানের মর্যাদা বেশী। যা  একমাত্র সুফিদের পীর আউলিয়াদের কাছেই রয়েছে। এই জ্ঞানের অধিকারীরাই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানী। 

জান্নাত জাহান্নাম সম্পর্কিত আকিদা

জান্নাত জাহান্নামের জন্য ইবাদত নয়

সুফি সুন্নিদের আকিদা হলো, জাহান্নামের ভয়ে কিংবা জান্নাতের আশায় কোনো ইবাদত বন্দেগী করা যাবে না। কেননা  এইসবের উদ্দেশ্যে ইবাদত করা হয় তা হবে শিরক। অর্থাৎ আল্লাহর জন্য ছাড়া এইসবের জন্য ইবাদতের অর্থ হলো শিরক করা। এর কারণ হচ্ছে জান্নাত জাহান্নাম হচ্ছে আল্লাহর সৃষ্টি। আর আল্লাহর সৃষ্টির জন্য কোনো ইবাদত করলেই তা শিরক। 

মুসলিম হলেই সে জান্নাতী

সুফিবাদী সুন্নিদের বিশ্বাস জন্মগত ঈমানদার হোক আর ঈমান এনে ঈমানদার হোক। যার একবার ঈমান আছে, সে কখনোই চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। অর্থাৎ যেহেতু তারা মুসলিম সুতরাং তারা (শিরক, বিদআত) যত পাপই করুক না কেন, একদিন না একদিন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। 

শরীয়ত সম্পর্কিত আকিদা

শরীয়তের নিজস্ব উৎস

ইসলামে শরিয়তের মূল ভিত্তি চারটি। কুরআন সুন্নাহ ইজমা কিয়াস কিন্তু সুফি সুন্নিদের এইসবের বাইরেও নিজস্ব শরীয়তের উৎস রয়েছে। আর এইসব উৎস থেকে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইবাদত, আমল এবং ইবাদতের নিজস্ব নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে এবং তা পালন করে।

আর এইসব শরিয়তের হুকুম আসে তাদের বিভিন্ন জীবিত মৃত পীর অলি  আউলিয়া ইত্যাদি থেকে। তারা তাদের ভক্ত মুরিদদের বিভিন্ন সময় নানান আকিদা ইবাদত আমল ইত্যাদি দিয়ে থাকে।  

হিদায়েতের বিভিন্ন ত্বরিকার সৃষ্টি

কুরআন হাদিসের মতে হিদায়েতের পথ একটাই আর সেটা হলো ইসলাম। অথচ সুফি সুন্নিদের আকিদা হলো হিদায়াত পাওয়ার জন্য পথ বা রাস্তা কমপক্ষে ১২৬ টি (ভেদে মারেফাত) বা তারও বেশী। আর এইজন্য আল্লাহর যেকোনো বান্দা সুফিবাদে এসে যেকোনো একটি রাস্তা বা ত্বরিকা ধরলেই নাজাত পাবে। 

ইসলামী শরীয়তের প্রতি অনীহা

সুন্নিরা মূলত তাদের পীর অলি আউলিয়াদেরই শরিয়ত সকল হর্তাকর্তা মনে করে। আর তাই তারা ইসলামী শরিয়তের কোনো হুকুম আহকাম মানে না। কিংবা মানতে চায় না। তাদের মতে ইসলামী শরিয়তের চেয়ে তাদের পীর অলি আউলিয়াদের দেওয়া হুকুম আহকাম বেশী জরুরী।

যেকারণে তারা ইসলামী শরিয়তের প্রতি আনুগত্য দেখায় না। তাদের বিশ্বাস যে সুফিরা নিজস্ব ইবাদত পদ্ধতি দিয়েই যখন আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে সেহেতু শরীয়তের আনুষ্ঠানিক ইবাদত তাদের প্রয়োজন নেই। আর এইজন্য তারা কুরআনের দলিল দেয় যে, ইয়াকীন না আসা পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। ইয়াকীন এসে গেলে কোনো ইবাদত নেই।

আর তাই তাদের পীর অলি আউলিয়ারা সেহেতু আল্লাহ প্রাপ্তির ফলে ইয়াকীন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেহেতু তাদের আর শরীয়তের কোনো আনুষ্ঠানিক ইবাদতের প্রয়োজন থাকে না। কেননা সুফি সুন্নিরা শুধুমাত্র আল্লাহ সন্তুষ্টি কামনা করে ইবাদত বন্দেগী করে। তারা কখনোই কোনো ইবাদত জান্নাতের আশায় অথবা জাহান্নামের ভয়ে করে না। 

আমলগত আকিদা

বিদআতের প্রচলন ও আমল

সুন্নিরা কখনোই ইসলামী শরীয়তের অনুসরণে দ্বীন ধর্ম পালন করে না। এই কারণে তারা তাদের পীর অলি আউলিয়াদের দেখানো পথে ঈমান আমল করে। আর তাদের নিজস্ব আমল করার কারণে তাদের আকিদায়  নিত্যনতুন ঈমান আমল যুক্ত হতে থাকে। আর তাই সুন্নিরা বিভিন্ন পীরের আওতায় বিভিন্ন ত্বরিকায় ইবাদত আমলে অভ্যস্ত। এইসব ইবাদত আমল সবই হচ্ছে বিদআতের অনুসরণ।

 

ভক্তি প্রেমে আত্মশুদ্ধি 

সুফি সুন্নিদের প্রধান আকিদা হলো ভক্তি বা প্রেম। তারা আল্লাহকে ভালোবাসা বা আল্লাহর সাথে প্রেম করে আল্লাহ প্রেমিক হতে চায়। আর তাই এই লক্ষ্যে তারা প্রথমে পীরের ভক্তি প্রেমে প্রেমিক হয়ে পরবর্তীতে আল্লাহর প্রেমে আল্লাহ প্রেমিক হয়ে উঠে। আর এভাবেই সুন্নিরা আল্লাহর সাথে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি করে নিজের আত্ম পরিচয় জানতে চায়।

যারা আল্লাহর প্রেমিক হয়ে নিজের কু প্রবৃত্তির  নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তারাই প্রকৃত আল্লাহ প্রেমিক হয়। এই কাজের জন্য তারা পীরের সহচার্যে থাকে। পীরের সহচার্যে থেকে একজন মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধি করাই হচ্ছে সুফিদের উদ্দেশ্য। 

সুফি সুন্নিদের দাবি ইসলামী শরীয়তের যে সব আমল আছে তা পালন করে কখনোই মানুষ তার কু প্রবৃত্তির নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবশ্যই সুফিদের অনুসারী হয়ে পীর অলি আউলিয়াদের হাতে বাইয়াত হতে হবে। এটাই তাদের মূল আত্মশুদ্ধি। 

পীর অলি আউলিয়াদের দরবারে মানত

ইসলামে মানত জায়েজ। কিন্তু কখনোই পীর অলি আউলিয়াদের দরবারে মানত দান সাদকা করা জায়েজ নয়। তারপরও সুন্নিরা পীরের দরবার অলি আউলিয়াদের কবরে মানতে বিশ্বাসী। তাই তারা যেকোনো বিপদে আপদে, সন্তান কামনায়, দুনিয়াবী যেকোনো ইচ্ছাপূরণে পীর আউলিয়াদের নিকট মানত করে আর্জি দেয়। আর পীর অলি আউলিয়ারা ভক্তদের আবদার পূরণ করে দেন বলে তাদের বিশ্বাস। 

সুন্নি কারা? উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী
সুন্নিদের আকিদা হলো মাজারে মানত করলে পীর অলি আউলিয়ারা তাদের আর্জি শুনে তাদের ইচ্ছাপূরণ করে

ইলমে লাদুনীতে বিশ্বাস

ইলমে লাদুনী হলো একপ্রকার গোপন জ্ঞান। যা পীর এবং তার মুরিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এইসব জ্ঞানের সাধনায় তারা এমন এমন জ্ঞান অর্জন করে যা সবার সামনে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। আর এইসব গোপন জ্ঞানের মাধ্যমেই তারা আল্লাহকে ডাকে এবং তাঁর নিকটে যায়। এইসব গোপন জ্ঞানের নাম সুফিরা দিয়েছেন ইলমে লাদুনী। আর এই ইলমে লাদুনী কুরআন হাদীসের কোথাও নেই।

লতিফার আমল

সুফি সুন্নিরা তাদের আধ্যাত্মিকতা সাধনের জন্য  লতিফা নামক কাল্পনিক একটি আমল করেছে। আর এই লতিফা এমন জিনিস যার সাথে জড় জগতের কোন সম্পর্ক নেই। লতিফা বিষয়টি সম্পূর্ণরুপে আধ্যাত্মিক।

তাদের মতে লতিফা হলো মানুষের ক্বলবের  ভিতর অবস্থিত এমন একটি স্থান, যখন বান্দা আল্লাহর যিকিররত থাকে তখন সেখানে আল্লাহর নূর অবতীর্ণ হয়।আর তাই লতিফা হলো এমন একটি বিষয় যা কখনও চোখে দেখা যায় না, কানে শোনা যায় না এবং মস্তিষ্কে কল্পনা করা যায় না। 

সুফিদের মতে লতিফা হল মোট দশটি। তাদের নাম হলঃ কলব, রুহ, শিররুন, খাবী, আকফা, নাফস, আব, আতস, খাক, বাদ লতিফা। 

সুন্নি কারা? উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী
সুন্নিরা বৈরাগ্যবাদে বিশ্বাসী। তাদের মতে ইসলাম পালন করতে হলে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে সন্নাসী হতে হবে

বৈরাগ্যবাদে বিশ্বাসী

সুফি সুন্নিদের মূল আকিদা হলো বৈরাগ্যবাদ। পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্মে বৈরাগ্য জীবনযাপনকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। কিন্তু ইসলামে কখনোই বৈরাগ্যবাদের স্থান ছিলো না এবং নেই। কিন্তু সুন্নিরা আগাগোড়া বৈরাগ্যবাদে বিশ্বাসী।

যদিও পীরেরা মুখে বৈরাগ্যের কথা বলে। কিন্তু তাদের কাজেকর্মে কখনোই বৈরাগ্য লক্ষ্য করা যায় না। বরং তাদের বর্তমান জীবনযাপনে বিলাসিতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্যণীয়।

বার্ষিক ওরস উদযাপন

ইসলামে জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কোনো বার্ষিক অনুষ্ঠান পালনের ইতিহাস নেই। ইসলামে না থাকলেও সুন্নিরা তাদের পীর আউলিয়াদের জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে। এর নাম দিয়েছে তারা ওরস। আর এই ওরসের দিন পীরের ভক্তরা  সবাই একত্রিত হয়। নাচ, গান, ওয়াজ, মাহফিল খানাপিনায় তারা এই উৎসব উদযাপন করে। 

সুন্নি কারা? উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী
সুন্নিরা তাদের পীর অলি আউলিয়াদের জন্মবার্ষিকী এবং মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে ওরস পালন করে।

নাচ গান জায়েজ

ইসলামে সকল প্রকার নাচ গান হারাম হলেও সুফি সুন্নিদের কাছে  নাচ গান করা জায়েজ। শুধু তাইনয় তাদের অনুষ্ঠানে নারীপুরুষ নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে আল্লাহর মনোরঞ্জনের জন্য নাচ গান হই হুল্লোড় করে। সুফি সুন্নিরা শরীয়তের দৈনন্দিন নামাজ কালামের চাইতে নাচ গানের আসরের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করে।

সুন্নি কারা? উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী
সুন্নিরা তাদের ওরস গুলোতে নাচ গানের আয়োজন করে। যেখানে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশাসহ চলে বেহাল্লাপনা।

কবর সম্পর্কিত আকিদা

কবর মাজার সিজদা

সুন্নিরা দৈনন্দিন ইবাদত নামাজ কালাম না করলেও নিয়মিত পীরের দরবারে গিয়ে পীরকে এবং অলি আউলিয়াদের কবরে গিয়ে পীরকে এবং কবরকে সিজদা করে। তাদের আকিদা হচ্ছে পীরের মধ্যে আল্লাহ আছে। তাই তারা তাকে সিজদা করার মাধ্যমে আল্লাহকে সিজদা করে। একইভাবে তাদের বিশ্বাস হচ্ছে অলি আউলিয়ারা কবরে জীবিত।  আর সেই কারণে তারা তাদের কবরকে সিজদা করে।

সুন্নি কারা উপমহাদেশের সুন্নিদের আকিদা সমূহ কী কী 1
সুন্নিদের আকিদা হলো পীর ও মাজারে সিজদা দেওয়া

মৃত অলি আউলিয়ার কবরকে ভয়

সুন্নিদের আকিদা হচ্ছে, মৃত অলি আউলিয়ারা কবরে জীবিত। তারা সেখানে থেকেও মানুষের লাভ ক্ষতি করতে পারেন। আর এই কারণে কখনোই তাদের কবরকে  অশ্রদ্ধা করা যাবে না এবং তাদের  কবরকে যথাযথ সম্মান করতে হবে। এই সম্মান দেখাতে গিয়ে তারা তাদের কবরকে কখনো পিছনে ফেলে না। রাস্তার পাশে মাজার হলে কবরবাসীর ভয়ে তারা গাড়ি নেমে চলাচল করে। মোটকথা যতটুকু না তারা আল্লাহকে ভয় করে, তারচেয়ে দ্বিগুণ ভয় কবরবাসীকে করে। কেননা আল্লাহর কাছে ভুল হলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। কিন্তু কবরবাসীর কাছে ভুল হলে তারা ক্ষমা করেন না।

নফসের জিহাদ

ইসলামে জিহাদ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কেননা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে এবং টিকিয়ে রাখতে জিহাদের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সুন্নিদের আকিদায় এই সশস্ত্র জিহাদ নেই। তাদের কাছে এই জিহাদ বড় নয়। বরং নফসের জিহাদই বড়।

অর্থাৎ তাদের আকিদা হলো শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নফসের জিহাদ করা সশস্ত্র জিহাদের চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা ইহুদী নাসারাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে নারাজ। বিধর্মীরা মুসলমানদের ধ্বংস করে দিলেও সুন্নিদের কিছু যায় আসে না।

সকল ধর্মই সত্য

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে ইসলাম ছাড়া কোনো কিছুই গ্রহণ করা হবে না। সুতরাং এই পৃথিবীতে ইসলাম ছাড়া যাবতীয় ধর্ম পরিত্যাজ্য। অথচ সুন্নিদের আকিদা হলো পৃথিবীর যাবতীয় ধর্মই শুদ্ধ। কেননা তারা মানবতায় বিশ্বাসী।

এই কারণে পৃথিবীর মানুষ যে যেই ধর্মই পালন করুক না কেন, সে যদি সত্যিকারে তার সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করে। তাহলে সে নিশ্চিত পার পাবে। কেননা আল্লাহই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাই তিনি ইচ্ছা করলে সবাইকে জান্নাত দিতে পারেন। সে যেই ধর্মই পালন করুক না কেন।

এই বিশ্বাসের কারণে সুন্নিদের মাজার গুলোতে বিধর্মীদের ভীড় বেশী। তারা সরাসরি কবরবাসীকে সিজদা করে। আর তাদের থেকেই সুন্নিরা কবরকে সিজদা দেওয়া শিখেছে।

শিয়া আকিদার অনুসারী

সুফি সুন্নিদের ঈমান আকিদার মুল গোড়া হচ্ছে শিয়ারা। তাদের পীর অলি আউলিয়াদের যে সিলসিলা রয়েছে, তা সরাসরি শিয়াদের সিলসিলায় পরিচালিত। এই কারণে তাদের যে ইসলামী মুল্যবোধ রয়েছে তার অধিকাংশই শিয়া মতাদর্শী। 

সূচিপত্র


56
বিজ্ঞাপনঃ মিসির আলি সমগ্র ১: ১০০০ টাকা(১৪% ছাড়ে ৮৬০)

0

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী

Author: সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী জন্ম চট্টগ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসের সেই কঠিন সময়ে লেখেলেখির হাতেখড়ি। গল্প, কবিতা, সাহিত্যের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলা পত্রিকায়ও নিয়মিত কলাম লিখেছেন। প্রবাসের সেই চাকচিক্যের মায়া ত্যাগ করে মানুষের ভালোবাসার টানে দেশে এখন স্থায়ী বসবাস। বর্তমানে বেসরকারি চাকুরিজীবী। তাঁর ভালোলাগে বই পড়তে এবং পরিবারকে সময় দিতে।

নিচের লেখাগুলো আপনার পছন্দ হতে পারে

কবিতা আল কোরআনের প্রতীক আফছানা খানম অথৈ

আল কোরআনের প্রতীক আফছানা খানম অথৈ মা আমেনার গর্ভেতে জন্ম নিলো এক মহামানবের, নাম হলো তার মুহাম্মদ রাসুল আসলো ভবের

ফোরাত নদীতে স্বর্নের পাহাড় আফছানা খানম অথৈ

ফোরাত নদীতে স্বর্নের পাহাড় আফছানা খানম অথৈ ইমাম মাহাদী (আ:) আগমনের পূর্বে ফোরাত নদীর তীরে স্বর্নের পাহাড় ভেসে উঠা কেয়ামতের

কবিতা দাজ্জাল আফছানা খানম অথৈ

দাজ্জাল আফছানা খানম অথৈ কেয়ামতের পূর্বে দাজ্জাল আসবে নিজেকে খোদা বলে দাবি করবে, কাফের মুনাফিক যাবে তার দলে ঈমানদার মুমিন

গল্প হযরত মুহাম্মদ (সা:) জীবনের গল্প আফছানা খানম অথৈ

জন্ম:হযরত মুহাম্মদ (সা:) বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা নগরীর কুরাইশ গোত্রে বনি হাশিম বংশে ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।তার পিতার

Leave a Reply